Main menu

বইয়ের ইন্ট্রু: আমার মনেহয় একজন মানুষের ইমাজিনেশন তার রেসের ভিতর থেকে আসা অভিজ্ঞতার রেজাল্ট – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।।

নভেম্বর ২০১৯ এ বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি পাবলিকেশনের ব্যানারে হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউর বইটা ছাপানো হইতেছে। বইয়ের অনুবাদক তৌকির হোসেনের ইন্ট্রু এইটা।

……………………………………………………………

হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউ নিছিলেন জর্জ প্লিম্পটন, ১৯৫৮ সালের বসন্তে। তার চার বছর আগে তিনি নোবেল পাইছিলেন, তিন বছর পরে তিনি শটগান দিয়া শুট কইরা সুইসাইড করবেন। মাঝখানের এই পিরিয়ডে হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ— প্যারিস রিভিউয়ের বদৌলতে নেয়া হইছিলো। রিভিউয়ের লোকজন ১৯৫০ থেকে শুরু করছেন বুড়া হইয়া যাইতেছে, হইতেছে, হইয়া গেছেন বা বিখ্যাত কিংবা এসটাবলিশড রাইটারদের ইন্টারভিউ নেওয়ার কাম। এই কাজ করতে করতে তেনারা দেখলেন, এই ইন্টারভিউগুলা একেকটা হইয়া উঠতেছে আর্ট। সেগুলা নেওয়ার ধরণ, রাইটারের বর্ণনা, এছাড়া কিভাবে একটা ফিকশন ‘হইয়া উঠে’ তার ব্যাপারে ইন ডেপথ এনালাইসিস, প্যারিস রিভিউয়ের এই সেগমেন্টের অন্যরকম লিটারেরি ভ্যালু তৈরি করছে। রাইটারের কথা কওনের সাইকোএনালাইসিসের ভিতর দিয়া আপনি দেখতে পারবেন কিভাবে আর্ট, আর্ট হইয়া উঠে।

সেই সুবাদে আমি এই দফায় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ ট্রান্সলেট করলাম আরকি। ট্রান্সলেট বললেই তো আর ট্রান্সলেট হইয়া যায় না। এইটা একটা প্রসেস। একটা লানলি প্রসেস। যেকোন লেখালিখিই, হেমিংওয়ের মতে লানলি একটা কাম। রেমন্ড কার্ভার, যার ইন্টারভিউ ১৯৮৩ তে নেয়া হইছিলো, তার ভাষায়, যখন আমি একটা শব্দ লিখি না বা লেখা হইতেছে না তখন আমার ঘুম হয় না ঠিকমতো, ভাল্লাগে না কোনকিছুই। যখন আমি একটা শব্দ লিখি, যখন অইটা লিখতেছি, সেই মোমেন্টটা খুব লানলি একটা সময়। একই জিনিস হেমিংওয়ের মধ্যে অন্যভাবে আমরা আবিষ্কার করি। সো, যখন আমি ট্রান্সলেট করতেছিলাম, তখন একটা লম্বা টাইমের জন্যে আমি হেমিংওয়ের সাথে ছিলাম, কী কী বলতেছেন তার একটা ভিডিও আমার চোখের সামনে ভাসতেছিলো। আমি ডুব দিছিলাম, হেমিংওয়ের ফিকশানে চিন্তা ক্যামনে কাজ করে সেই রিডিং-এর ভিতরে। এবং এই সময়ে আমারে একাই থাকতে হইছিলো।

হেমিংওয়ে, আর্ট বা যেকোন রাইটিং এর ব্যাপারে খুব পার্সোনাল। এই বিষয় তার কাছে একটা স্যাক্রেড বস্তু। পারতপক্ষে তিনি এই ইন্টারভিউ নেওনের ব্যাপারে রাজি ছিলেন না। পুরাটা টাইম আপনি তার বিরক্তি দেখতে পারবেন, রেজিস্ট্যান্স প্রতিটা কথায়। সরাসরি উত্তর দিতেছেন না, দূরে চলে যাইতেছেন কোন কোন প্রশ্নে। অনেক সময় এড়ায়ে অন্য কোন আন্সার দিতেছেন। কনশাসলি কোন কোন কথা বলতেছেন বা বলতেছেন না। একটা আলাদা পৃথিবী নিজের ভিতরে নিয়া হেমিংওয়ে লেখালিখি কইরা গেছেন। এবং এই কাজ তিনি ক্যামনে ক্যামনে করতেন এইটার একটাই উত্তর হইতে পারে— তিনি না কইরা থাকতে পারেন নাই।

তার জীবনের লম্বা একটা সময় যুদ্ধ, স্ট্রাগল, অসুস্থতার ভিতর দিয়া গেছে। দুইবার প্লেন ক্র্যাশ করার পর ইনজুরড হইলেও বাঁইচা ফিরছিলেন। কয়েকবার শক ট্রিটমেন্ট দেয়া হইছিলো শেষের দিকে। ডিপ্রেশন, লাইফ নিয়া অস্বস্তি তাড়া করে ফিরছিলো হেমিংওয়েকে নানাভাবে। এই স্ট্রাগলের একটা ছাপ আপনি তার লেখার ভিতরেও পাইবেন। লাইফ কিভাবে বিভিন্ন রাইটারের পুরা ক্যারেক্টার শেপে ভূমিকা রাখে তার একটা ইম্পর্ট্যান্ট ইনসাইট পাওয়া যাইতে পারে সম্ভবত। এবং আরও সম্ভবত, রাইটারদের তাদের নিজেদের কাজের বাইরে আর কোন পার্সোনাল লাইফ থাকা পসিবলও না। কারণ, এইটাই, মানে লেখা— যা আনকনশাসলি, রাইটারের ভিতর যা যা আছে, তা সুতা দিয়া টাইনা টাইনা বাইর কইরা নিয়া আসে। (মিডিয়াম.কমে স্টিভ নিউম্যানের ‘ডেথ অফ আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’ নামে একটা সুন্দর লিখা পাইবেন, যদি তার সুইসাইড নিয়া জানার খায়েশ থাকে।)

ট্রান্সলেশনের বিচারে একটা জিনিস বন্ধুবান্ধব যারা পড়তেছেন, তাদের ভ্রু কুচকাইতে পারে। এক, ভাষা; যার ব্যাপারে নতুন কইরা কিছু বলার নাই। আপনার ঢাকাই ভাষা, অপ্রমিত ভাষা, ‘অশুদ্ধ’ ভাষা নানান ট্যাগের প্রতি ‘অস্বস্তি’ থাকতেই পারে। কিন্তু, এমন একটা ভাষা যা আমরা রাস্তাঘাটে, আড্ডায়, ফেসবুকে ইনফর্মালি ইউজ করি তা দিয়া লেখালেখির মতো কাজ ক্যানো করা যাবে না, তা আমার বুঝে আসে না। অন্তত এই ইনফর্মাল ভাষায়ই পুরা ইন্টারভিউটা ট্রান্সলেট করা হইছে। এই ইন্টারভিউটা নেওয়াও হইছিলো ইনফর্মালি, জানায়ে রাখলাম। সেই বলা শব্দগুলার একটু কাটছাঁট কইরা প্লিম্পটন সাহেব ছাপাইছিলেন। আর, লাস্ট টিপস— এই ইন্টারভিউ পড়ার জন্যে হেমিংওয়ে যদি নাও পইড়া থাকেন সমস্যা নাই। হেমিংওয়ের লেখা না পইড়াও আপনার এইটা পড়তে কুনো সমস্যা হবার কথা না।

 

তৌকির হোসেন

১৪ অক্টোবর, ২০১৯

আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।

……………………………………………………………

বইটা রকমারি’তে প্রি-অর্ডার করতে পারেন:

https://www.rokomari.com/book/191552/the-art-of-fiction

এই বইটাসহ বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি সিরিজের পয়লা কিস্তির ৬টা ইন্টারভিউ’র বই প্রি-অর্ডারে কিনতে পারেন, এই লিংকে:

https://www.facebook.com/103006071146144/posts/103248241121927/

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
তৌকির হোসেন

তৌকির হোসেন

জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য