Main menu

এ পিস অব ‘সাউথ অব দ্য বর্ডার, ওয়েস্ট অব দ্য সান’ বাই হারুকি মুরাকামি

এইটা জাপানিজ রাইটার হারুকি মুরাকামি’র ‘সাউথ অব দ্য বর্ডার, ওয়েস্ট অব দ্য সান’ উপন্যাসের একটা অংশের অনুবাদ। উপন্যাসের শুরুর দিকের অংশ না এইটা। উপন্যাসের ধারাবাহিকতা বাদ দিয়াও এইটারে একটা আলাদা গল্প হিসাবে পড়া যায়। আমি এই অংশটা কেন অনুবাদ করলাম? মুরাকামি আমার প্রিয় রাইটার বইলা? না। এই অংশটুকুর সাথে নিজের মিল থাকার সম্ভাবনা আছে বইলা? তাও না। উপন্যাসের আগে পরে বাদ দিয়া এইটা যে গল্প হয় সেইটা ভালো লাগছে। ইন্টারেস্টিং গল্প মনে হইছে।–মৃদুল শাওন
———————–
ইজুমি’র সম্পর্কে আরো খোঁজ-খবর এবং সে এখন কোথায় থাকে এইসব আমি জানতে পারলাম আমার এক পুরাতন স্কুল-বন্ধুর মাধ্যমে। ‘ব্রুটাস’ ম্যাগাজিনে সে ‘টোকিও বার গাইড’ নামে একটা ফিচার পড়ছিল। ওইখানে আমার ছবি দেখছে। জানতে পারছে ‘আওইয়ামা’তে আমি দুইটা বার চালাই। একদিন সন্ধ্যায় আমি যেইখানে কাউন্টারে বইসা আছি, সে আইসা বললো- “হাই, কেমন চলতেছে?” সে আমার সাথে দেখা করার জন্যই আসছে এমন কোন ব্যাপার ছিলনা। সে জাস্ট তার বন্ধুদের সাথে ড্রিঙ্ক করতে আইসা আমার কুশল জানতে আসছে। আমারে ‘হাই’ বলতে আসছে।সে বললো “ আমি এই বারে অনেকবার আসছি। এইটা আমার অফিসের কাছেই। আমি চিন্তাও করি নাই তুমি এইটার মালিক। কত ছোট এই দুনিয়া!”

হাইস্কুলে থাকতে আমি নিজে খুব একটা ভালো ছাত্র ছিলাম না। নিজেরে বহিরাগত মনে হইত। কিন্তু সে ভালো রেজাল্ট করত। খেলাধুলায়ও ভালো ছিল। মানে, স্টুডেন্ট কাউন্সিলে উদাহারণ হিসাবে পাওয়া যায় এমন ধরনের ছাত্র। সে ছিল হাসিখুশি ধরনের, নিজেরে জাহির করতে চাওয়া টাইপ না। সব মিলাইয়া ভালো একটা ছেলে। ফুটবল টিমেও তার দারুণ পারফরমেন্স ছিল। কিন্তু এখন ওজন বাইড়া গেছে, চিবুক অনেক মোটা হইয়া গেছে। স্যুটের সেলাইগুলা একদম টানটান হইয়া আছে।

সে জানাইলো- ক্লায়েন্টদের এন্টারটেইন করতে করতে এইরকম হইছে। “বড় কোম্পানিগুলা ভীষণভাবে সামনে যাইতে চায়। তোমারে ওভারটাইম করতে হবে, ক্লায়েন্টদের খুশি রাখতে হবে, চাকরিতে ট্রান্সফার তো আছেই। কাজ খারাপ হইলে জাস্ট লাথি দিয়া বাইর কইরা দিবে। তুমি আবার তোমারটা ঠিকঠাক মত করলে তারা চাপ বাড়াবে। যেই ধরনের কাজ, তা ভদ্রলোকের করা উচিত না।

জানা গেল তার অফিস ‘আওইয়ামা’তেই, রাস্তার ওইপারে। আঠারো বছর পরে স্কুল-ফ্রেন্ডদের দেখা হইলে যেসব বিষয়ে সাধারণত কথা হয়, আমাদেরও সেরকম কথা হইল। আমাদের কাজ, বিয়ে, কয়টা বাচ্চা, আমাদের পরিচিতদের খোঁজখবর। তখন সে ইজুমি’র কথা বললো।

“একটা মেয়ে ছিলনা, তার সাথে তুমি ঘুরতে যাইতা। সবসময় একসাথে থাকতা দুইজন। কি যেন ……. ওহারা …. নাম।”

“ইজুমি ওহারা।” আমি বললাম।

“ঠিক, ইজুমি ওহারা” সে বলল। “বেশিদিন হয় নাই আমি তারে দেখছি।”

“টোকিওতে?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বিস্মিত হইয়া।

“না, টোকিওতে না, তায়োহাসিতে।”

“তায়োহাসি?” আমি আরো অবাক হইয়া জিজ্ঞেস করলাম। “তুমি বলতেছ আইচি এলাকার ‘তায়োহাসি’?”

“ঠিক তাই।”

HM-South(UK)Paper

“আমি ঠিক বুঝতেছিনা। তোমার সাথে তার তায়োহাসিতে কেন দেখা হইছিল? ওইখানে কি করত সে?”
মনে হইল সে আমার গলার স্বরে জেদ এবং কঠিন কিছু বুঝতে পারছে। “আমি জানিনা” সে সাহস কইরা বলল।

“আমি শুধু তারে সেখানে দেখছি। কিন্তু বলার মত কিছু না আসলে। এমনকি আমি শিউরও না এইটা সে ছিল”

সে আরেকটা কড়া ওয়াইল্ড টার্কি অর্ডার করল। আমি ভদকা জিমলেট খাইতেছিলাম।

“বলার মত কিছু না থাকলেও আমি কেয়ার করিনা। আমি জানতে চাই”

“ওয়েল…..” তার মধ্যে দ্বিধা। “আসলে আমি বলতে চাইতেছি, মাঝে মাঝে আমার মনে হয় এই ধরনের কিছু ঘটে নাই আসলে। আজব একটা ফিলিং। যেন আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু এইটা সত্যি ছিল। বুঝাইয়া বলা কঠিন”

“কিন্তু এইটা তো ঘটছে, ঠিক?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

“হুম” সে বলল।

“তাহলে আমারে বলো”

সে হাল ছাইড়া দিল এমন ভঙ্গি কইরা এক সিপ ওয়াইল্ড টার্কি খাইলো।

“আমি ‘তায়োহাসি’ গেছিলাম কারণ আমার ছোটবোন ওইখানে থাকে। ‘নাগয়া’তে আমার একটা বিজনেস ট্রিপ ছিল। আর শুক্রবার ছিল তাই ভাবলাম রাতটা ওর ওখানে থাকি। সেইখানে আমি ইজুমিরে দেখছি। আমার বোনের ফ্ল্যাট যে ব্লকে সেই ব্লকের লিফটে ছিল সে। আমার মনে হইলো- এই মহিলার চেহারায় সেই ওহারা মেয়েটার মলিন একটা ছাপ আছে। কিন্তু তারপর মনে হইল- না, এইটা হইতে পারেনা। এত জায়গা থাকতে ‘তায়োহাসি’তে আমার বোনের বাসার লিফটে তারে দেখব, এমন হওয়ার চান্স নাই। তার চেহারা আগের থেকে অনেক আলাদা মনে হইতেছিল। আমি বুঝিনা, কেন আমার এত তাড়াতাড়ি মনে হইল ওইটা সে। আমার ধারণা আপনাআপনিই এইটা মনে হইছে”

“কিন্তু সে ইজুমি ছিল। ঠিক?”

সে মাথা ঝাঁকাইলো। “আমার বোন যে ফ্লোরে থাকে সেও একই ফ্লোরে থাকে। আমারা একসাথে লিফট থিকা বের হইয়া করিডোর দিয়া একই দিকে যাইতেছিলাম। সে আমার বোনের ফ্ল্যাটের দুই দরজা পিছনের ফ্ল্যাটে ঢুকল। আমি কৌ্তূহল থিকা তার দরজার নেমপ্লেট চেক করলাম। লেখা ছিল- ওহারা”

“সে তোমারে লক্ষ্য করছে?”

সে মাথা নাড়লো। “আমরা একই ক্লাসে ছিলাম, কিন্তু কখনো কথা বলি নাই। আর তাছাড়া আমার ওজন তখনকার চাইয়া আরো চল্লিশ পাউন্ড বাড়ছে। সে আমারে চিনে নাই”

“কিন্তু সত্যিই কি এটা ইজুমি ছিল?” আমি বললাম। “আর ওহারা তো বেশ কমন একটা নাম। আর অনেক লোকই থাকতে পারে ওর মত দেখতে”

“আমারও একই জিনিস মনে হইতেছিল। তাই আমি আমার বোনরে জিজ্ঞেস করছি। আমার বোন ভাড়াটিয়াদের নামের লিস্ট দেখাইলো। তুমি তো জানো, রঙ করা বা অন্যান্য খরচ ভাগের জন্য এরকম লিস্ট বানায়। সব ভাড়াটিয়াদের নাম ওইটাতে ছিল। আর ওইখানেই ছিল ইজুমি ওহারা। তার স্থায়ী ঠিকানাসহ। এইরকম একই কম্বিনেশনের তো অনেকজন থাকতে পারেনা। নাকি?”

“তার মানে দাঁড়ায়, ও এখনো একা”

“আমার বোন তার সম্পর্কে কিছু জানেনা” সে বলল। “ইজুমি ওহারা ওই ব্লকের সবচাইয়া রহস্যময় মহিলা। কেউ তার সাথে কখনো কথাও বলে নাই। করিডোরে কেউ যদি তারে হ্যালো বলে, সে জাস্ট ইগনোর করে। বেল বাজাইলেও সে কোনো উত্তর দেয়না। ওই বিল্ডিং এর পপুলার হিসাবে বিবেচিত হওয়ার মত না সে”

“তাহলে এইটা ও না” আমি হাইসা মাথা নাড়লাম। “ইজুমি তো ওরকম না। ও সবসময় বাইরে যাইতেছে, স্মাইলিং থাকতেছে এই ধরনের”

“হুম। তাই মনে হয় ঠিক। এটা অন্য কেউ সম্ভবত” সে বলল। “একই নামের অন্য একজন। এই সাবজেক্ট চেইঞ্জ করি”
“কিন্তু ইজুমি ওহারা ওইখানে একা একা থাকে?”

“মনে হয় তাই। কেউ তার ওইখানে কাউকে যাইতে দেখে নাই। কারো কাছে কোন ক্লুও নাই সে কি কাজ করে। পুরাটাই রহস্য”

“ওয়েল, তোমার কি মনে হয়?”

“কোন ব্যাপারে?”

“ওর ব্যাপারে। এই ইজুমি ওহারা, যে একই নামের অন্যকেউ বা অন্যকেউ না। তুমি তো লিফটে ওর চেহারা দেখছ। কি মনে হইছে? ওরে স্বাভাবিক দেখাইছে?”

সে কিছুক্ষণ ভাবলো। তারপর উত্তর দিল- “আমার মনে হয় স্বাভাবিক”

“কিভাবে তুমি বলতে পারতেছ স্বাভাবিক?”

সে তার হুইস্কির গ্লাস একটু ঝাঁকাইলো। একটু ধাতব ধরনের শব্দ হইল। “ন্যাচারালি, তার বয়স বাড়ছে তো। আফটার-অল, তার বয়স এখন ছত্রিশ। তোমার মেটাবলিজম আস্তে কাজ করে। তাই খুব বেশি পাউন্ড বাড়ে নাই। কিন্তু আর তো হাইস্কুল-স্টুডেন্ট হওয়ার উপায় নাই”

“হুম” আমি বললাম। 

“আমরা সাবজেক্টটা চেইঞ্জ করিনা ক্যান। এইটা খুব সম্ভবত অন্য কেউ”

আমি হাত দুইটা কাউন্টারের উপর রাইখা সোজা তার মুখের দিকে তাকাইলাম। “দেখো, আমি জানতে চাইতেছি। আমারে জানতে হবে। হাইস্কুল ছাড়ার একদম আগে দিয়ে ইজুমির সাথে আমার ব্রেক-আপ হয়। ব্যাপারটা ছিল আগলি। আমি ওরে অনেক বেশি হার্ট করছি। তারপর থেকে আমার জানার কোনো উপায় ছিলনা ও কেমন আছে। কোনো আইডিয়া ছিলনা ও কোথায় আছে, কি করতেছে। সো, আমারে একদম নিখাদ সত্যটা বলো। এইটা ইজুমি ছিল, তাইনা?”

সে মাথা ঝাঁকাইলো। “এইভাবে দেখলে, হ্যাঁ, অবশ্যই এইটা সে-ই ছিল। আমি স্যরি যে এভাবে তোমারে বলতে হইতেছে”

“তাহলে, অনেস্টলি, ও কেমন ছিল?”

সে কিছুক্ষণের জন্য নীরব হইয়া থাকলো। “প্রথমত আমি চাই তুমি একটা জিনিস রিয়ালাইজ করো। ওকে? আমি তার সাথে একই ক্লাসে ছিলাম। এবং মনে হইত সে অনেক আকর্ষণীয়। দারুণ একটা মেয়ে ছিল। দারুণ ব্যক্তিত্ব, সুইট। তীব্র সুন্দরী ঠিক না, তবে আকর্ষণীয়। ঠিক?”

আমি হ্যাঁ বললাম।

“তুমি আসলেই চাও আমি সত্যি কথা বলি?”

“বলো” আমি বললাম।

“তোমার তা ভালো লাগবেনা”

“আমি কেয়ার করিনা। তুমি জাস্ট সত্যটা বলো”

সে মুখভর্তি হুইস্কি নিল। “আমি সবসময় তোমাদের দুজনরে একসাথে দেইখা জেলাস ছিলাম। আমিও ওরকম একজন গার্লফ্রেন্ড চাইতাম। এখন আমি সব বলতে পারি। আমি তারে কখনো ভুলি নাই। আমার স্মৃ্তিতেও তার চেহারা ভাসতো। তাই লিফটের মধ্যে আঠারো বছর পরেও আমি তারে ঠিক চিনতে পারছি। আমি যা বলতে চাই- তার সম্পর্কে আমার খারাপ কিছু বলার কোনো কারণ নাই, তুমি জানো। এটা আমার জন্যও একটা শক ছিল। আমি এই সত্যটা নিজের কাছেও স্বীকার করতে চাই নাই। আমারে এইভাবে বলতে দাও- সে আর আকর্ষণীয় নাই”

আমি ঠোঁট কামড়াইয়া ধরলাম। “কি বুঝাইতে চাইতেছ?”

“ওই ব্লকের ফ্ল্যাটগুলার বেশিরভাগ বাচ্চারা তারে দেইখা ভয় পায়”

“ভয়?” আমি রিপিট করলাম। স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাইয়া ছিলাম। সে নিশ্চয় ভুলভাবে কথাটা বলছে। “কি বলো! ওরে ভয় পায়?”

“আমরা বাদ দেইনা ব্যাপারটা। এইভাবে আমি এই ব্যাপারে কথা বলতে চাইতেছিলাম না”

“এক সেকেন্ড- ও কি করে? বাচ্চাদের কিছু বলে?”

“আমি তো আগেই বলছি সে কাউরেই কিছু বলেনা”

“তাহলে বাচ্চারা তার চেহারা দেইখাই ভয় পায়?”

“ঠিক তাই” সে বলল।

“ওর কি মুখে কোনো ক্ষতচিহ্ন বা এই জাতীয় কিছু আছে?”

“কোনো দাগ নাই”

“তাহলে তারা কেন ভয় পায়?”

সে তার হুইস্কি শেষ কইরা গ্লাসটা কাউন্টারে নামাইয়া রাখলো। এবং বেশ কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকাইয়া থাকলো। তার মধ্যে কিছুটা চঞ্চলতা দেখলাম এবং কিছুটা কনফিউজড মনে হইল। কনফিউশন ঠিক না, কিন্তু তার এক্সপ্রেশনে কিছু একটা ছিল। তার চেহারা থিকা আমি মনে করতে পারলাম স্কুলে সে দেখতে কেমন ছিল। সে একটু দূরে কিছুক্ষণ তাকাইয়া থাকলো, যেন দেখতেছে একটা ঝর্ণা থেকে পানি পড়তেছে, পানি প্রবাহিত হইয়া যাইতেছে। শেষে বলল- “ আমি এইটা ভালো ব্যাখ্যা করতে পারব না। তাছাড়া, আমি চাইও না। সো আমারে আর কিছু জিজ্ঞেস কইরোনা। ওকে? পুরাটা বোঝার জন্য তোমার নিজের চোখে দেখতে হইত। যে আসলে দেখে নাই, সে কোনোভাবেই বুঝবেনা”

ভদকা জিমলেটে চুমুক দিয়া আমি মাথা নাড়লাম, আর কিছু না বইলা।

তার গলার স্বর অনেক শান্ত ছিল। কিন্তু আমি জানতাম আরো কোনো প্রশ্ন তারে নীরব কইরাই রাখবে।
দুই বছর ব্রাজিলে সে কাজ করছে, সে সম্পর্কে বলা শুরু করল। “তুমি বিশ্বাস করবানা, এত জায়গা থাকতে সাও পাওলোতে জুনিয়র হাইস্কুলের একজনের সাথে আমার দেখা হইছিলো। টয়োটাতে কাজ করে, ইঞ্জিনিয়ার”

তার কথা আমার পাশ দিয়া বাতাসের মত যাইতেছিল। সে যাওয়ার সময় আমার কাঁধে হাত রাখলো, “সময় মানুষরে অনেকভাবেই বদলাইয়া দেয়, তাইনা? আমি জানিনা তোমার আর তার মধ্যে ঠিক কি ঘটছিল। কিন্তু যাই ঘটুক, এটা তোমার দোষ ছিলনা। কোনো না কোনোভাবে সবারই এই এক্সপেরিয়েন্স আছে। এমনকি আমারও। সিরিয়াসলি। আমিও এ ধরনের অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়া গেছি। কিন্তু এই ব্যাপারে তোমার কিছু করার নাই। অন্য একজনের জীবন তার জীবন। তুমি দায়িত্ব নিতে পারবানা। এইটা এমন যে, আমরা যেন একটা মরুভূমিতে আছি। তোমারে শুধু এর সাথে অভ্যস্ত হইয়া যাইতে হবে। এলিমেন্টারী স্কুলে থাকতে তুমি ওই ডিজনি ছবি দেখছিলা- ‘দ্য লিভিং ডেজার্ট’?”

“হ্যাঁ” আমি উত্তর দিলাম।

“আমাদের পৃথিবীও ঠিক ওইরকম। বৃষ্টি হয় এবং ফুল ফোটে। বৃষ্টি না হইলে ওগুলা শুকাইয়া যায়। পোকাদের টিকটিকি খাইয়া ফ্যালে, টিকটিকিদের খাইয়া ফ্যালে পাখি। কিন্তু শেষপর্যন্ত এদের সবাই মারা যায়। মারা যায় এবং শুকাইয়া যায়। এক জেনারেশন মারা যায়, আরেক জেনারেশন সেই জায়গা নেয়। এইভাবে চলে। অনেকরকম ভাবে বেঁচে থাকা যায়। এবং অনেকরকম ভাবে মারা যাওয়া যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে তেমন একটা পার্থক্য হয়না। যা থাকে তা হইল একটা মরুভূমি। একটা ডেজার্ট।

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
মৃদুল শাওন

মৃদুল শাওন

জন্ম হইছে ১৯৯০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর, টাঙ্গাইলে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন।
মৃদুল শাওন

লেটেস্ট ।। মৃদুল শাওন (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য