Main menu

ফারনান্দো পেসোয়া’র কবিতা

ফারনান্দো পেসোয়ারে বলা হয় ‘দ্যা ম্যান হু নেভার ওয়াজ’। কারণ তিনি একটা গতানুগতিক লাইফ বলতে যা বোঝানো হয় অইটারে তার লিটারেরি প্রজেক্টের জন্য স্যাক্রিফাইস করছিলেন। তিনি প্রায় ৭৫টা অল্টার ইগো নিয়া লেইখা গেছেন আর নামগুলারে তিনি ‘ছদ্মনাম’ বইলা ডাকতে চান নাই। কারণ ‘ছদ্মনাম’ ডাকলে অই ‘ব্যক্তি’গোর স্বাধীন ইন্টেলেকচুয়াল সত্তারে অস্বীকার করা হয়। তিনি এগুলারে ডাকতেন ‘হেটেরোনিম’। আবার তার ‘পেসোয়া’ নামের অর্থও আসলে পারসন। তো এমনে তিনি তার হেটেরোনিম আর স্বনামরে পুরা একাকার কইরা ফেলান। এমনকি জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও। ছোটবেলা থেকাই তিনি চুপচাপ একলা টাইপের ছিলেন। কোন সোশ্যাল গ্রুপে ছিলেন না। কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়ালেখা করেন নাই। তিনি টানা তিরিশ বছর লিসবনে ভাড়া করা রুমে থাইকা থাইকা লেখালেখি করেন। অট্টুকই উপার্জন করেন যা তার লিখতে লাগে। আর তার লেখায় পুরা দুনিয়াটা ঘুইরা বেড়ান। ‘আ লিটল লার্জার দ্যান দ্যা এনটায়ার ইউনিভার্স’ বইটা তার নিজের নাম ও তার তিন প্রাইমারি অল্টার ইগো আলবার্তো কায়্যিরো, আলভারো দ্যা ক্যাম্পস, রিকার্দো হেইস এর নামে লেখা মেজর কবিতাগুলার সংকলন। পেসোয়া একাধারে কবি, অনুবাদক, সমালোচক, প্রকাশক, দার্শনিক ছিলেন। অনুবাদের ক্ষেত্রে কবিতার মূল বক্তব্য আর ভার্বাল রিদম ধইরা রাখারে তিনি গুরুত্ব দিছেন। চব্বিশ-পঁচিশের দিকে তিনি কিছু স্পিরিচুয়াল প্র‍্যাক্টিস করতে গিয়া নানারকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন এবং মানুষরে তিনি এগুলা সম্পর্কে লেইখা জানান ওইসময়। তিনি এমনও বলছেন যে তার চেহারা চারটা আলাদা আলাদা চেহারায় পরিণত হইতেছে আর আয়নায় তিনি তা দেখতে পাইতেছেন। থিওসোফিস্ট বইপত্র অনুবাদ করতে গিয়া তার স্পিরিচুয়ালিটির চর্চা ব্যাপক হয়। যদিও তিনি নিজেরে পরবর্তীতে নিওপ্যাগান আখ্যায়িত করেন।

পেসোয়া তার একটা ইন্টারভিউতে কইছেন,”আমি ম্যাটারিয়ালিস্ট বা ডেইয়িস্ট বা অন্য কিছুই না। আমি এমন একজন মানুষ যে একদিন জানালা খুলছিলো আর এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা আবিষ্কার করছিলো যে ‘নেচার আছে’। আমি দেখছিলাম গাছ, নদী আর পাথরগুলা সত্যিই আছে৷ আমার আগে কেউ এইটা ভাবে নাই।

আমি দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা কবি ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার ভান করিনা। আমি এমন একটা আবিষ্কার করছি যার পাশে অন্য সব আবিষ্কার বাচ্চাদের খেলা। আমি মহাবিশ্বরে নোটিস করছি। গ্রীকরা তাদের সব ভিজুয়াল তীক্ষ্ণতা নিয়াও এতখানি করেনাই।”

সঠিক বেঠিকের হিসাব বাদ দিয়া ফারনান্দো পেসোয়ার ব্যাপারে আমার যে জিনিসটা খুব ইন্টারেস্টিং লাগে তা হইলো- মোটামুটিভাবে একটা ‘আইডেন্টিটি’তে থাকার যে কম্ফোর্টটা পায় মানুষ সোশ্যালি বা পারসোনালি, লেখার জন্য অইটারেই বিসর্জন দিছিলেন তিনি। পেসোয়া তার লাইফের কোশ্চেনগুলারে ভিন্ন ভিন্ন ক্যারেক্টার দিয়া ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিমায় ডীল করছেন। বলা যায় তার লিটারেরি আইডিয়াগুলার সাথে তার ব্যক্তিজীবন যেমনে মিইশ্যা রইছে অইটা ভালোই রেয়ার। তার লেখায় এই ব্যাপারটা আছে যে কোনকিছুরেই কিছু ভাবা যাবে না, যা তাই। যা যেমন তারে তেমনভাবেই দেখতে হবে, অর্থ আরোপ করা যাবেনা। কোনকিছুরে কজালিটির মধ্যে, ফরমুলার মধ্যে ঢুকানো হইলো তারে রিডিউস করা। তার লাইফেও তিনি নিজের পুরা ব্যক্তিত্বরেই এমন খণ্ডবিখণ্ড কইরা রিয়েলিটিতে ক্রিয়েট কইরা রাইখা গেছেন যে, মনে হয় এইটা বেশ অশান্তিদায়ক হয়ার কথা বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে৷

তার লেখকসত্তার যাপনটা ভালোই প্যাশনেট আর সাহসী কারণ তিনি সব ধরণের এনার্জি নিয়া লিখছেন। এক চিঠিতে তিনি বলতেছেন,”আমি এই তিনজনের নামে কেমনে লেখি? কায়্যিরোর নামে আমি লেখি যখন অপ্রত্যাশিতভাবে পুরাদস্তুর ইন্সপিরেশন আসে, আমি জানিওনা বা সন্দেহও করিনা যে আমি লিখবো। একটা এবস্ট্রাকট মেডিটেশনের পর রিকার্দো হেইস কবিতার মধ্যে কনক্রিট শেইপ দেয় অই ধ্যানটারে। ক্যাম্পস- যখন আমি লেখার প্রচণ্ড ইম্পালস অনুভব করি কিন্তু জানিনা কি লিখতে হবে।”

প্লুরালিস্ট ছিলেন পেসোয়া। কোন মতাদর্শেই সাবস্ক্রাইব করার ব্যাপারটা উনি উনার লেখায় যেমনে এড়াইতে বলছেন ওই ভাসানটা উনি নিজেরেও ভাসায় রাখছেন বইলা মনে হয়। খালি উনার কবিতাগুলা পড়তে পড়তে মনে হয়, ‘নেচার’রে ‘নেচার’-এর মত দেখতে উনার যে জোর প্রদানটা, এমন স্ট্যাটিক না তো কিছু, ডায়নামিকই। ‘নেচার’, ‘স্বাভাবিক’ বইলা আমরা যা কিছুরে ডাকি তারমধ্যেও জিনিসপত্র যুক্ত হওয়ার বা অন্য আরেকটা রূপ পাওয়ার ব্যাপার আছে। অই ব্যাপারটারে তো ‘আনন্যাচারাল’ বলা যায় না। তো উনার কবিতাগুলা কনসিকুয়েন্সগুলারে বা ‘থাকা’গুলারে তাকায় তাকায় দেখা নিয়া একটা পোয়েসি ক্রিয়েট করে। যেমন একটা কবিতায় উনি বলতেছেন, “সবাই বলে দুনিয়া এমন না হইয়া ওমন হইলে ভালো হইতো। আমি বলি যে তাইলে তো দুনিয়াটা ওই ওমনই (বা আরেকটা ‘এমন’) হইতো।” কিন্তু পারটিসিপেট না করার ব্যাপারটা আসলে অই কনসিকুয়েন্স দেখাটারেও রিডিউস করার কথা। একটা ক্রিয়েট করা ‘পিস’ই দিতে পারে, বাট আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইমোশন বা এক্সপেরিয়েন্স সবকিছুরে ‘ভুল’ভাবে বা ‘রিডিউসিং’ভাবে ব্যাখ্যা করার বা চিন্তা করার মাঝ দিয়া আসে মনে হয়; যা পেসোয়া বার বার মানা কইরা গেছেন তার কবিতায়। তবে একটা পোয়েটিক দেখা, দেইখা যাওয়া, থাইমা গিয়া আসলেও কিছুরে দেখা বা একটা নির্মোহতার ভাব তার কবিতাগুলা ইনজেক্ট করতে পারে।

এই কবিতাগুলার মধ্যে প্রথম সাতটা উনার ‘আ লিটল লার্জার দ্যান দ্যা এনটায়ার ইউনিভার্স’ সংকলনের প্রথম বই ‘দ্যা কীপার অফ শীপ’ এর কিছু মেজর মনে হওয়া কবিতা। আর শেষ কবিতাটা ‘দ্যা শীপার্ড ইন লাভ’-এর।

 

মাসিয়াত জাহিন
………………………………………………………….

The Keeper of Sheep

১.

যদি আমি পুরা দুনিয়াটার মধ্যে দাঁত ডুবাইতে পারতাম
আর আসলেই স্বাদ গ্রহণ করতে পারতাম
আমি এক মুহূর্তের জন্য বেশি সুখী হইতাম।

কিন্তু আমি সবসময় সুখী হইতে চাইনা।
মাঝেমাঝে অসুখী হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
সব দিন তো আর ঝলমল করে না
আর বৃষ্টি যখন দুর্লভ,
আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি।

তাই আনন্দের সাথে বেদনা
এত স্বাভাবিক আমার কাছে
যেমন পাহাড় আর সমতল।
পাথর আর ঘাস।

দরকার হইলো শুধু শান্ত আর সহজ হওয়া
সুখ আর অসুখের মধ্যে।
এমনে অনুভব করা যেন অনুভব করা হইলো দেখা।
এমনে চিন্তা করা যেন চিন্তা করা হইলো হাঁটা।
আর যখন মৃত্যু আসে তখন মনে রাখা যে :
প্রতিটা দিন এমনেই হারায় যায়।
আর সূর্যাস্ত খুব সুন্দর।
আর সুন্দর যেই রাতটা বাকি থাইকা যায়।

এইটা এমনি আর আমি এইটা এমনেই চাই।

 

২.

সাজসজ্জাওলা বাগানের বেচারি ফুলগুলি!
ওদের দেখলে মনে হয় ওরা পুলিশরে ডরায়।
কিন্তু তাও এরা এত সত্য যে,
প্রথম মানবের প্রথম দৃষ্টিতে ধরা পড়ার সময়
যেমন ছিলঃ আদি, বন্য
এখনো অইভাবে অই রঙেই তারা ফোটে।

অই মানুষটা এত আচ্ছন্ন ছিল ওদের দেইখা!
আর অনেক সাবধানে ছুঁইছিলো
ধীরে-

যাতে আংগুল দিয়াও ফুলগুলা দেখতে পারে।

৩.

কখনো কখনো, একদম সঠিক আলোভরা দিনগুলাতে,
যখন জিনিসপত্র যতদূর সম্ভব বাস্তব মনে হয়,
আমি ধীরে নিজেরে জিজ্ঞেস করি
কেন কোনকিছুর উপরে সৌন্দর্য আরোপ করি আমি।

ফুলের কি কোন সৌন্দর্য আছে নাকি?
ফলের?
নাঃ তাদের খালি রং, আকার আর অস্তিত্ব আছে।
সৌন্দর্য এমন কিছুর নাম যার কোন অস্তিত্ব নাই;
কিন্তু আমি
সবকিছু আমারে যে আনন্দ দেয়
তার বিনিময়ে সবাইরে দেই এই ‘সুন্দর’।

এর একদম কোন মানে নাই।

তাইলে আমি জিনিসপত্র নিয়া ক্যান বলিঃ এরা সুন্দর?

হ, এমনকি আমার, যে খালি
বাঁইচা থাকা দিয়া বাঁইচা থাকে,
মানবজাতির ধোঁকাগুলার সাথে সাক্ষাত হয়;
যেই জিনিসগুলার শুধু অস্তিত্বই আছে
তাদের ব্যাপারে মিথ্যা থাকে কতগুলা,
আর সাক্ষাত হয় ওদের সাথে আমার।

কত কঠিন এইটা?
আমরা যা শুধু তাই হওয়া?
আর যা দেখা যায় শুধু তাই দেখা?

 

৪.

আজকে বিকালে একটা বাজ
আকাশের ঢাল বায়া গড়ায় পড়লো
য্যান বিশাল একটা পাত্থর।

কেউ একটা টেবিলক্লথ
উঁচা কোন জানালা থেইকা ঝাড়া দিলে
যেমন খাবারের গুড়াগুলা পইড়া,
(যেহেতু তারা একলগে পড়ে)
একটা শব্দ তৈরি করে –
এমন কিছুর মতো লাগে।

বৃষ্টি হিশহিশ মার্কা তড়িঘড়ি শব্দ করতে করতে
আকাশ বাইয়া পড়ে আর রাস্তাগুলা
আন্ধার করে-

আকাশে আলোর ঝিলিক দেয়া বাজটা যখন
আশপাশরে দুমড়ায় আর বায়ুরে ধাক্কায়,
মনে হয় যে অদ্ভুত বড় কোন মাথা
মাথা নাইড়া বলতেছে ‘না’।

জানিনা ক্যান (কারণ আমি ভীত ছিলাম না)
আমি সেন্ট বারবারার কাছে কায়মনে প্রার্থনা করা শুরু করছিলাম;
য্যান আমি কারো বুড়া একটা খালা, চাচী।

আহারে!
সেন্ট বারবারার কাছে দোয়া কইরা আমার এত পাতলা লাগছিলো!
যতটা আমি ভাবি নিজেরে তার চেয়েও-

আমার সাধারণ আর ঘরোয়া লাগছিলো
এত- য্যান আমি সারাজীবন
একটা বাগানের দেয়ালের মতো শান্তিতে সহজে কাটাইছি,
চিন্তা আর ফিলিংস নিয়া;
যেমন একটা ফুল থাকে তার রং আর গন্ধ নিয়া।

নিজেরে লাগছিলো এমন একজন যে
সেন্ট বারবারায় বিশ্বাস করতে পারে।
আহা! সেন্ট বারবারায় বিশ্বাস করতে পারা!

(যারা ওর উপর বিশ্বাস করে তারা কি মনে করে
সেন্ট বারবারা আমাদের মতো? আর তারে চোখে দেখা যায়?
আচ্ছা ওরা আসলে বারবারারে নিয়া কি ভাবে?)

(কি লজ্জা!
ফুল, গাছ আর ভেড়ারা সেন্ট বারবারারে নিয়া কি কিছু জানে?
একটা গাছের ডাল,
যদি চিন্তা করতে পারতো
জীবনেও সাধু, দেবদূত, এঞ্জেলগো আবিষ্কার করতো না।
এটা ভাবতো যে বজ্রের আলোটা সূর্য
আর শব্দটা খালি হঠাৎ একটা শব্দই
যেটা অই আলো থেইকা শুরু হয়-
সবচেয়ে সোজা লোকগুলাও
কেমন ইতর বিভ্রান্ত আর গাধা,
গাছপালার সহজ আর সুন্দরতার আশেপাশে থাইকাও-
আহহারে!)

আর এই সবকিছু ভাবতে ভাবতে
আমার আনন্দের বোধ কমতে লাগলো আবার
আমি বিষণ্ণ, হতাশাগ্রস্ত আর এলোমেলো হইয়া গেলাম;
এমন একটা দিনের মতো
যখন একটা বজ্রপাত পুরা দিনটারে ধমকায় যায়,
বলে, ‘আসতাছি’।

তারপর রাতেও আর আসে না।

 

৫.

খালি প্রকৃতিই ঐশ্বরিক।
আর সেটা ঐশ্বরিক না।

যদি আমি মাঝে মাঝে প্রকৃতিরে নিয়া
এমনভাবে কথা বলি যে সে একটা মানুষ,
তার কারণ আমি খালি মানুষের ভাষা ব্যবহার কইরাই তারে নিয়া কথা বলতে পারি।

যেই ভাষা সবকিছুরে
নাম দেয়, গুণ দেয়, দোষ দেয়।

কিন্তু কোনকিছুর তো কোন নাম বা গুণাবলি নাইঃ
সবকিছু শুধু সবকিছুই।
আর আকাশ বিশাল।
দুনিয়া বিস্তৃত।
আমাদের হৃদয় একটা হাতের মুঠার মতো।

আমি খুবই ভাগ্যবান যে আমি কিছুই জানিনা।
সত্যিকারে এইটাই আমি।
আমি সবকিছুরেই আনন্দে দেখি
জানার মধ্যে জানি যে
সূর্যটা ‘আছে’।

 

৬.

কিছু না ভাবারে আমার এত স্বাভাবিক মনে হয়
যে আমি মাঝে মাঝে একলা একলা হাসা শুরু করি-
আমি ঠিক জানিনা কি নিয়া
কিন্তু..
মনে হয় যারা ভাবে অই মানুষগুলারে নিয়াই।

আমার দেয়াল আমার ছায়ারে নিয়া কি ভাবে?
মাঝে মাঝে আমি এইটা নিয়া ভাবি যতক্ষণ না পর্যন্ত
আমি বুঝি যে আমি ভাবতাছি-
তারপর আমার খুব বিরক্ত লাগে আর আমি আওলায়ে যাই
যেন আমার পায়ের পাতাগুলা ঘুমায় ছিলো।

কোন বস্তু অন্য বস্তুরে নিয়া কি ভাবে?
কিছুই কিছুরে নিয়া ভাবে না তো।
পৃথিবী কি জানে নাকি তার মধ্যে কত গাছ আর পাথর আছে?
যদি জানতো তাইলে পৃথিবী হইতো একটা মানুষ
আর তাইলে সে করতো মানুষের মতো আচরণ;
আর পৃথিবী থাকতো না সে।

কিন্তু এইসব কিছু দিয়া আমার কি?
আমি যদি এইগুলা নিয়া ভাবতাম
আমি বৃক্ষ আর চারাগুলারে দেখা বন্ধ কইরা দিতাম।
আর দেখা বন্ধ কইরা দিতাম পৃথিবীরে।

খালি নিজের চিন্তাগুলারে দেখতে থাকতাম…

আমি দুখী হইয়া একটা অন্ধকার কোণায় পইড়া থাকতাম।

যেমনে আমি আছি
কিছু না ভাইবা
আমার আকাশ আর পৃথিবী আছে।

 

৭.
স্যালাড

আমার থালার মধ্যে সৃষ্টির উপাদানগুলার কী উৎসব! গান!
উদ্ভিদেরা আমার বোন, বসন্তের সঙ্গী,
অইসকল সাধু-সন্ত ওরা যাগোর কাছে প্রার্থনা করেনা কেউ।

ওগোরে কাইটা আমাদের টেবিলে আনা হয়,
আর হোটেলগুলাতে গেস্টরা চ্যাঁচাইতে চ্যাঁচাইতে আসে, গায়ের মধ্যে কম্বল বাইন্ধা
অর্ডার দেয়, “স্যালাড!”

ভাবে না যে এইজন্য দুনিয়ারে তার
সতেজতা আর প্রথম সন্তানদের দিয়া দিতে হয়-
প্রথম সবুজ হরফগুলা দিয়া দিতে হয়
প্রথম জীবন্ত উজ্জ্বল জিনিসগুলা দিয়া দিতে হয়;
যাগোরে দেখছিলো নূহ নবী
যখন পানি সরছিলো
পাহাড়গুলা উইঠা দাঁড়াইছিলো;
ভিজা আর সবুজ!
আর আকাশে উদয় হইছিলো কবুতর,

রংধনু
ধীরে
হারায় যাইতেছিলো…

 

The Shepherd In Love

৮.

আমার দৃষ্টি একটা সূর্যমুখীর মতো টলটলা।
আমার নিয়ম হইলো ডানে বায়ে তাকায় রাস্তা দিয়া হাঁটা
আর কখনো পিছনে তাকানো,
আর প্রতি মুহূর্তে আমি যা দেখি তা হইলো
যা আমি কখনো দেখিনাই
জিনিসপত্র খেয়াল করার ব্যাপারে আমি খুবই ওস্তাদ
আমার অবাক হওয়ার ক্ষমতা ওই নবজাতকের মতন;
যে খেয়াল করছে সে আসলেও, মানে আসলেও জন্মাইছে।
প্রতি মুহূর্তে আমার মনে হয় একটা নতুন জগতে আমি জন্মাইলাম…

আমি একটা ডেইজির মতো জগতটায় বিশ্বাস করি
কারণ আমি এইটা দেখি কিন্তু ভাবি না এটা নিয়া
কারণ ভাবা হইলো না বোঝা।
দুনিয়াটারে আমাদের ভাবার জন্য বানানো হয়নাই
(চিন্তা করার মানে হইলো চোখগুলা নষ্ট তোমার)
এরে বানানো হইছে এরদিকে তাকাইতে আর
এর সাথে সমঝোতায় থাকতে।

আমার কোন দর্শন নাই, আমার অনুভূতি আছে..
যদি আমি প্রকৃতি নিয়া কথা বলি এই কারণে না যে আমি জানি এইটা কেমন
বরং এই কারণে যে আমি এইটারে ভালোবাসি।

শুধুই এইটার জন্য।

যারা ভালোবাসে তারা জানেনা তারা কেন ভালোবাসে
কি ভালোবাসে আর ভালোবাসা কি
ভালোবাসা হইলো চিরন্তন শিশুত্ব
আর একমাত্র শিশুত্ব হইলো না ভাবা।

 

 

The following two tabs change content below.

মাসিয়াত জাহিন

মাসিয়াত জাহিন। ১৯৯৯ এর অক্টোবরে জন্ম। ঢাকায় থাকেন। বুয়েটে সিভিল এঞ্জিনিয়ারিং নিয়া পড়েন। সাহিত্য ও দর্শন নিয়া আগ্রহী। কবিতা লেখেন ও অনুবাদ করেন।

Latest posts by মাসিয়াত জাহিন (see all)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য