Main menu

লিডিয়া ডেভিসের ৪টা ফ্ল্যাশ ফিকশন

লিডিয়া ডেভিসের একটা ইন্টারভিউর বইয়ের ইন্ট্রোতে উনার কয়েকটা ছোট ফিকশন তরজমা করছিলেন কে এম রাকিব। এইখানে সেই ফিকশন কয়টা রাখা হইলো, আলাদা কইরা। পড়তে পারেন।

………………………………………………………


আম্রিকান লিটারেরি ফিকশনের সবচেয়ে বেপরোয়া, নিরীক্ষা-প্রধান ধারার অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী ডেভিস।  

এমি হেম্পেল, লরি মুর, হেলেন সিম্পসন, জন শেফার্ড, গ্যারি লুটস, লুসি করিন, কেলি লিংক, স্যাম লিপসাইটসহ অনেক নামী লেখক লিডিয়ার স্টাইল আর নিরীক্ষা অনুসরণে গল্প লিখছেন, আরও অনেকে লিখতেছেন।  [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ডেভিসের গল্প পড়লে আপনার মনে হইতে পারে, এইভাবেও গল্প লেখা যায়? গল্প হইতে পারে?  অদ্ভুত তো!   

যদিও বড় সাইজের গল্প বা উপন্যাসও তার আছে, বেশিরভাগ গল্প খুব ছোট, এমনকি দুই একটা এক বাক্যেও। তার গল্প প্রায়ই প্লটলেস, কিন্তু বোরিং না। ডেভিসের লেখা উইটি, চমকপ্রদ এবং সংক্ষিপ্ত। ফানি তবে লল ফানি না, এক ধরণের বুদ্ধির দীপ্তি সবসময় তার লেখায় খেলা করে।

তবে কি ডেভিস কব্জির সার্কাস দেখান খালি? ভাষার জাগলারি? মজার ব্যাপার হইলো, ঠিক তেমনটাও  বলা যায় না। যদিও ভাষায় তার দখল অসামান্য, ভাষা বা স্টোরিটেলিং-এ গিমিক দেখানোর চেষ্টা তার নাই।   

খুবই মামুলি ঘটনা, বা বিষয়ে হাজির করেন তিনি দুর্দান্ত সব পর্যবেক্ষণ। পাঠকরে নিয়া যান, জেনগল্পের মতো ইন্সট্যান্ট  এপিফেনিতে, এক ধরণের ম্যাজিক মুহূর্তে। লেখকের লেখা না পড়লে, বর্ণনা দিয়া বুঝানো কঠিন যে সে কেমন লেখে। এইখানে পাঠকদের বোনাস হিসেবে তার ফ্ল্যাশ ফিকশনের অনুবাদ দিলাম।   

………………..

ভয়

আমাদের এলাকার একজন নারী, রোজ সকালবেলা ঘর থিকা দৌড়ায়া বাইরে আসে৷ তার ওভারকোট বাতাসে উড়তে থাকে, মুখটা ফ্যাকাসে। সে চিল্লাইতে থাকে, ‘জরুরি! খুব জরুরি বিষয়!’ আর আমাদের মধ্য থিকা কেউ একজন তারে জড়ায়ে ধরে, যতক্ষণ না সে শান্ত হয়। আমরা জানি এইগুলা সে বানায়া বলতেছে; আসলে তার কিছুই হয় নাই। 

অস্থির হয়া তার কাছে একবারের জন্যেও ছুটে যায় নাই, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নাই, তাও যাই। কারণ আমরা বুঝি, চুপ কইরা থাকতে থাকতে আমাদের, এমনকি আমাদের ফ্যামিলি আর বন্ধুবান্ধবদেরও সব শক্তি ফুরাইছে।  


উপকূলীয় ঝড়

পকূলীয়  ঝড়ের মতো, আমিও, একদিন হইতে পারি, ‘সাজানো-গোছানো।’ 

 

মা 

মেয়েটা একটা গল্প লিখল। তার মা বলল, তবে তুমি একটি উপন্যাস লিখলে কত্তো ভাল হইতো! মেয়ে পুতুলের ঘর বানাইল একটা। কিন্তু  সত্যিকারের ঘর বানাইলে কত ভালই না হতো!- তার মা বলল। বাবার জন্যে মেয়ে বানাইলো ছোট্ট একটা বালিশ। মা তখন বলল, একটা লেপ বানাইলে আরো কাজের হইতো না? মেয়ে বাগানে ছোট্ট একটি গর্ত খুড়ল। একটা বড় গর্ত খুড়লে কত ভালো হইতো! -এইবার মেয়েটার মা বলল। মেয়েটা বিশাল একটি গর্ত খুড়ে তার মধ্যে ঘুমায়ে পড়ল। মা বলল, তবে অনন্তকাল ঘুমায়ে থাকলে কেমন হয়?  

 

হেড, হার্ট

হৃদয় কান্দে।

মাথা হৃদয়রে হেল্পানোর চেষ্টা করে।

মাথা হৃদয়রে বলে:
ভালোবাসার মানুষরে তুমি হারায়ে ফেলবা। তারা সবাই চইলা যাবে। এমনকি দুনিয়াটাও চইলা যাবে, একদিন।

হৃদয়, তখন একটু ভালো ফিল করে।

কিন্তু মাথার এইসব কথা, হৃদয়ের কানে বেশিদিন থাকে না।

মনে রাখায় হৃদয় এখনও কাঁচা।

আমি তাদের ফিরা পাইতে চাই, হৃদয় বলে।
মাথা ছাড়া হৃদয়ের কেউ নাই।
হেল্পাও, মাথা। হৃদয়রে হেল্প করো। 

 

 

The following two tabs change content below.
কে এম রাকিব

কে এম রাকিব

গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য