Main menu

রুমির আরো কয়েকটা কাহিনি

 

রুমির কাহিনিগুলি লেখা শুরু করছিলাম গতবছর (২০১৬-তে)। চিটাগাংয়ে ঘুরতে গিয়া ‘RUMI Selected Poems’ বইটা কিনছিলাম। Coleman Banks এর অনুবাদ করা [লগে John Moyne, A.J.Arberry আর Reynold Nicholson আছিলেন]। পেঙ্গুইন বুকস বইটা ছাপাইছিলো ১৯৯৯-এ, এর আগে হার্পার কলিন্স ছাপাইছিলো ১৯৯৫-এ। আমি পাইছি ২০০৪ এর রিপ্রিণ্ট ভার্সনটা। ইংলিশ অনুবাদে কাহিনিগুলি কবিতার ফরম্যাটে লেখা। কবিতা বলতে যেইরকম একটা অস্পষ্টতারে মিন করে সেইটারে এভয়েড করতে চাইছি আমি এইখানে। ফর্মটারে এতোটা প্রায়োরিটি দেয়ার কিছু আছে বইলা মনেহয় নাই।

এমনিতে কয়েকটা নিউজে দেখছি গত কয়েকবছর ধইরা রুমির কবিতা আম্রিকাতে বেস্টসেলার। অনেক মানুষ কিনেন, পড়েন। বাংলাদেশেও লালন, সুফীজম জিনিসগুলি পপুলার হওয়ার কারণে রুমির টেক্সটগুলি রিলিভেন্ট হয়া উঠার কথা। কিন্তু যেই জায়গা থিকা রুমি’রে সাবস্ক্রাইব করার প্রাকটিসটা আছে সেই জায়গাটাতে আমার কিছু অবজারভেশন আছে। পয়লা জিনিস হইলো, ফিলোসফিক্যাল বেইজটা। রুমির কবিতার ফিলোসফি’টা তো ঠিক বস্তুর বিচার না; বরং বস্তুগুলি, ঘটনাগুলি ইশারা খালি, বিচার হইতেছে ভাব-এর। তো, বস্তুর এই দুনিয়ায় ভাব-এর কথা শুনতে তো ভালোই লাগে। মানে, বস্তুর যে মনোটনি সেইটা থিকা টেম্পোরারি ওয়ে-আউটই একটা। ফিলোসফিক্যাল আলাপ ঠিকাছে, কিন্তু সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নাই। এইরকম। দুসরা হইলো, বলার জায়গাটা। কাহিনিগুলির অথেনসিটি নিয়া কোন পেরেশানি নাই। অনেক সময় র‌্যাশনাল প্রগেশনও মিসিং। এর এগেনেস্টে যা হয়, কোন রিগ্রেশনও নাই। কাহিনিগুলি ইটসেলফই হইতেছে প্রমাণ। তেসরা, অনুবাদের জায়গাটা। রুমি নানান জায়গা থিকা কাহিনিগুলিরে নিছেন, মোল্ড করছেন, তারপর নিজের ফরমেশনে আনছেন। আমি এইরকমকিছু করি নাই। মেইনলি ইংরেজি টেক্সটটারেই ফলো করার ট্রাই করছি। কিন্তু এর ভাব’টাই বাংলা-ভাষারে নতুন কইরা ফিল করার কিছু স্পেইস ক্রিয়েট করতে পারতেছিলো মনেহয়, পুরাপুরি পারা যায় নাই, যট্টুকই পারা গেলো, থাকলো।

হয়তো আরো অল্পকিছু এডিট করা লাগতে পারে। কিন্তু মোটামুটি এইটাই ফাইনাল ড্রাফট।

ই.হা.

————————————————————————————-

খাবারের বস্তা ।। পোলাপাইনদের লগে খেলতেছিলেন যেই শেখ ।। একজন পুরুষ আর একজন মহিলা তর্ক করতেছে।। কোয়াজিনে ট্যাট্টু আঁকা ।। মুহাম্মদ আর বিরাট পেটুক ।। মেডিটশনের পরে ।। দরজায় দাঁড়ানো দরবেশ ।। খলিফা ওমর আর বুড়া কবি ।। বাতাসের ভিতরে থাকা ডাঁশ-মশা ।। আয়াজ আর রাজা’র মুক্তা ।। ছোলা রান্ধা ।। ছোটবেলার দোস্ত ।। ইঁদুর আর উট ।। প্রেমের কুত্তাগুলি ।। নউশা ।। মুসা আর ভেড়ার-রাখাল।। রুটি-বানানি ।। নাইটিঙ্গেল ।। রোগা গাধা নিয়া যিশুর কথা।। মাইনষের সততা ।।  দালকাকের মেসেজ ।। আয়না পালিশ করা ।। লড়াইয়ের ময়দানে ।। রাজা আর হেরেমের বান্দী আর কবিরাজ ।। একটা গোপন মজমা ।। তুমি সর্বনাম ।।

——————————————————————————————

 

খাবারের বস্তা

একদিন একজন সুফি দেখলেন যে, খালি একটা খাবারের ঝোলা একটা পেরেকের মধ্যে ঝুলতেছে। উনি নিজের শার্ট খুইলা ছিঁড়তে লাগলেন, কইতে থাকলেন, যার কোন খাওনের দরকার নাই, তার আবার কিসের খাওন! খিদার দাওয়াই এইটা! তার জ্বলুনি বাড়তে লাগলো আর অন্যরাও আইসা উনার লগে জয়েন করলো। প্রেমের-আগুনে চেঁচাইতে লাগলো, ফোঁপাইতে লাগলো।

এক লোক যাইতেছিলো সাইড দিয়া, কইলো, “আরে, এইটা তো একটা খালি বস্তা।”

সুফি কইলেন, তফাত যা যেইটা আমরা চাই না সেইটাই আমরা চাই তুই তো বেটা দিওয়ানা না

একজন দিওয়ানার খাওয়ার জিনিস হইলো রুটির লাইগা তার প্রেম, রুটি’টা না। এমন কেউ নাই যে সত্যিকারের ভালোবাসে, তার থাকাটারে ভালোবাসে। থাকাথাকি নিয়া দিওয়ানাদের কোন কারবার নাই। পুঁজি ছাড়াই অরা সুদ আদায় করে। কোন ডানা ছাড়াই সারা দুনিয়া উইড়া বেড়ায়। কোন হাত নাই, তারপরও মাঠ থিকা খেলার বল নিয়া আসে। ওই দরবেশ রিয়ালিটির গন্ধ শুঁকতে পাইছিলেন। এখন উনি খাঁটি চোখ দিয়া বস্তাটা বুনতেছেন। কোনকিছু না-থাকার মাঠে দিওয়ানা যারা তারা তাঁবু টানাইতে পারে। ওই মাঠে তারা সবাই একই কালার। একটা কোলের বাচ্চা তো যেই গোশত রান্ধা হইছে তার টেস্ট বুঝতে পারে না। একটা আত্মার কাছে খাওয়া ছাড়া ঘ্রাণটাই হইতেছে খাওন। একজন মিশরীয়’র কাছে নীল নদ তো ময়লা। একজন ঈসরাইলি’র কাছে, ক্লিয়ার। একজনের কাছে যেইটা মহাসড়ক, আরেকজনের কাছে মহামারী সেইটা।

 

পোলাপানদের লগে খেলতেছিল যেই শেখ

একটা ইয়াং পোলা এর-ওরে জিগাইতেছিল, “আমার একজন এলেমদার লোক খুঁইজা বাইর করা দরকার। আমার একটা পেরেশানি চলতেছে।” লগে খাড়ানো একটা লোক কইলো, “এই শহরে আর কোন বুদ্ধিমান লোক নাই ওই লোকটা ছাড়া, যে ওইখানে পোলাপানদের কাঠি দিয়া ঘোড়া দৌড়ানি খেলতেছে। উনার আছে রাতের আকাশের মতোন ধারালো, আগুনের অর্ন্তদৃষ্টি আর বিশাল আব্রু, কিন্তু এইটারে উনি পোলাপানদের খেলার পাগলামির মধ্যে লুকায়া রাখেন।”

ইয়াং পোলাটা তখন বাচ্চাটার কাছে গিয়া কইলো, “আব্বা, আপনে তো একটা বাচ্চা হইয়া আছেন, আমারে একটা গোপন কথা বলেন।” “তফাও যাও। আজকা গোপন কথা বলার দিন না।” “কিন্তু প্লিজ! আপনে এমনেই আপনের ঘোড়ায় চড়েন। একটা মিনিট টাইম দেন খালি আমারে।” শেখ উনার ঘোড়া দৌড়ানি থামাইলেন। “তাড়াতাড়ি কও। আমি বেশিক্ষণ এইটা থামাইয়া রাখতে পারবো না। ওপপস। এইটা কিন্তু তোমারে লাত্থি মারবো। এই ঘোড়াটা পাগলা আছে!”

ইয়াং পোলাটা বুঝলো যে এইরকম পাগলামির জায়গায় সে তার সিরিয়াস কোশ্চেনটা করতে পারবো না, তো সে জোকস করলো, “আমি তো বিয়া করতে চাই। এই মহল্লায় কি কেউ এইরকম আছে যারে আমি বিয়া করতে পারি?” “এই দুনিয়াতে তিন টাইপের মাইয়া আছে। দুইজন হইলো বেদনার জিনিস আর একজন হইলো আত্মার ধন। পয়লাজনরে যখন তুমি বিয়া করবা শে পুরাটাই তোমার। সেকেন্ডজন অর্ধেক তোমার আর শেষের জনরে তুমি একটুও পাইবা না। হইছে, এখন যাও এইখান থিকা, ঘোড়াটা তোমার মাথায় লাত্থি দেয়ার আগে সরো। সরো রে ভাই!”

শেখ ঘোড়ায় চড়তে চড়তে পোলাপানদের সাথে চইলা যাইতে থাকলেন। ইয়াং পোলাটা চেঁচায়া কইলো, “এই মাইয়াদের নিয়া আমারে আরেকটু বলেন!” শেখ তার বেতের ঘোড়ায় কইরা কাছে আসলেন, “তোমার পয়লা প্রেমের কুমারী হইলো পুরাটাই তোমার। শে তোমারে খুশি করবো, তার সাথে তুমি পুরা ফ্রি থাকবা। বাচ্চা ছাড়া বিধবা হইলো দুসরা জন। সে আধাটা তোমার। তেসরা যিনি, শে তোমার কাছে কিছুই না, তারও বিয়া হইছে, একটা বাচ্চা আছে। তার পয়লা হ্যাজবেন্ডের সাথে তার এইটা বাচ্চাটা হইছিল, আর তার সব প্রেম তার এই বাচ্চাটার লাইগা। তার সাথে তোমার কোন কানেকশনই হইবো না। হইছে, এখন খেয়াল করো। পিছনে যাও। আমি আমার বদমাইশটারে ঘুরাইয়া নিবো এখন।” সে চাবুক দিয়া জোরে একটা বাড়ি দিলো আর যাইতে যাইতে লগের পোলাপানদের ডাকতে লাগলো।

“আরেকটা কোশ্চেন ওস্তাদ!” শেখ ঘুরলেন, “আবার কি? তাড়াতাড়ি কও! ওই পাড়ের ঘোড়সওয়ারের এখন আমারে দরকার। আমার মনেহয় আমি প্রেমে পড়ছি।” “এইটা কি খেলা আপনে খেলতেছেন? আপনি আপনার জ্ঞান-বুদ্ধি ক্যান লুকায়া রাখতেছেন?” “এইখানের লোকজন খালি আমারে দায়িত্বে বসাইতে চায়। অরা চায় যাতে আমি হাকিম, ম্যাজিস্ট্রেট বা সব কিতাবের ইন্টারপ্রেটার হই। আমি জানি আমি এইসবকিছু চাই না। আমার যা আছে সেইটা নিজেরেই নিজে এনজয় করতে চায়। আমি হইলাম আখের লাঠি আর একইসাথে আমি তার মিষ্টিটা খাইতেছি।”

এলেম এমনে পাওয়া যায় না। যার আছে সে সবসময় চিন্তায় থাকে অডিয়েন্স এইটা লাইক করবো কি করবো না। এইটা হইতেছে পপুলার হওয়ার টোপ। যেই জানা তর্ক থিকা আসে সে তার কাস্টমার চায়। তার কোন আত্মা নাই। একটা রেসপন্স করতে থাকা ক্রাউডের সামনে খুবই তেজি আর খু্ব এর্নাজেটিক আর নেতাইয়া পড়ে যখন কেউ থাকে না তার সামনে। আসল কাস্টমার তো হইলো খোদা। তোমার খোদা-প্রেমের মিষ্টি আখ তাড়াতাড়ি চাবাও, আর পোলাপানদের মতো খেলতে থাকো। রেডবাড ফুলের মতোন তোমার চেহারায় গোলাপি রোশনাই ফুটতে থাকবো তখন।

 

একজন পুরুষ আর একজন মহিলা তর্ক করতেছে

এক রাতে, মরুভূমিতে এক গরিব বেদুঈন মহিলা তার জামাইরে এই কথা বলতেছিল, “সবাই কত সুখী আর সবাই কত উন্নতি করতেছে, খালি আমরা ছাড়া! আমরার কোন রুটি নাই। মশলা নাই্। কোন মাটির কলস নাই। তেমন কোন জামা-কাপড়ও নাই। রাতে গতরে দিবার লাইগা কোন কম্বলও নাই। আমরার ভাবা লাগে যে গোল চান্দটা হইতেছে একটা কেক। আমরা ওইটা ধইরা খাইতে চাই! এমনকি ফকিন্নিরাও আমরারে দেখলে শরম পায়। সবাই আমরারে এভয়েড করে।

আরবের মরদ’রা জবরদস্ত যোদ্ধা হয়, আর তোমারে দেখো, আজাইরা ঘুইরা বেড়াইতেছো! যদি আমারার ঘরে কোন মেহমান আসে তাইলে সে ঘুমাইলে তার কাছ থিকা সবকিছু চুরি কইরা রাখতে হইবো। কেডা তোমার ওস্তাদ, যে তোমারে এই রাস্তায় নিয়া আসছে? এক মুঠ মসুরের ডাইলও নাই ঘরে! দশ বছরের সংসারে কিছুই নাই, এই হইলাম আমরা!” শে আরো কইতেই থাকলো। “খোদাতালার তো কম নাই, আমরা অবশ্যই কোন ভন্ডরে ফলো করতেছি। কেডা আমরারে নিয়া যাইতেছে? কোন ভন্ড, যে সবসময় কইতে থাকে, কালকা, কোন এক বেহেশতি রোশনি আইসা তোমরারে ধন-সম্পদ দিয়া যাইবো, আগামীকালকা। আর সবাই জানে, সেইটা কখনোই আইবো না। যদিও আমার ধারণা, এইটা খুব কমই ঘটে, তারপরও মাঝে-মধ্যে তো এইরকম হয় যে, একটা ভন্ড ভক্ত তার ওস্তাদরে ছাড়াইয়া যাইতে পারে। তারপরও আমি জানতে চাই এই ক্ষতি দিয়া আমরা কি পাইলাম।”

শেষমেশ, জামাইটা রিপ্লাই করলো, “আর কতোক্ষণ ধইরা তুমি টাকা-পয়সার লাইগা আর টাকা-পয়সার উন্নতি পাওয়ার লাইগা কমপ্লেইন করবা? আমাদের জীবনের স্রোত ত অনেকটাই পার কইরা ফেলছি আমরা। এই ক্ষণস্থায়ী জিনিসের লাইগা আক্ষেপ কইরো না। ভাইবা দেখো, জীব-জন্তুরা কেমনে থাকে। ডালে থাকা ঘুঘুটা শুকরিয়া আদায় করতেছে। পাপিয়াটা কি সুন্দর গান গাইতেছে। ডাঁশ-মশাটা। হাতিটা। প্রতিটা বাঁইচা থাকা জিনিস খোদাতালার রহমতে আছে। যেই কষ্টগুলি তুমি পাইতেছো ওইগুলা খোদার পয়গাম। ওদের কথা শোনো। এদেরকে মিষ্টি বানাও। রাতটা তো শেষ হয়া যাইতেছে। তুমি তো একসময় ইয়াং ছিলা, আর সবুর মানতা। এখন খালি তুমি টাকা-পয়সার কথা ভাবো। তুমিই তো ছিলা সেই টাকা-পয়সা। তুমিই ছিলা টসটসা আঙুরগাছ। এখন তুমি পঁইচা যাওয়া ফল। তোমার তো মধুর থিকা আরো মধুর হওয়ার কথা, কিন্তু তুমি বাজে হয়া গেলা। আমার বউ হিসাবে তুমি তো আমার সমান। জুতা জোড়ার মতোন, যদি একটা টাইট হয়া যায় তাইলে তো জোড়াটা আর কোন কামে লাগবো না। দুইটা জইমা থাকা দরজার পাল্লার মতোন, না মিললে তো আমরা হইতে পারবো না। একটা সিংহ তো নেকড়ের লগে দোস্তি করে না।”

তো, এই মানুষটা, যে আনন্দের সাথে গরিব আছিলো, ভোর পর্যন্ত তার বউরে বকা-ঝকা করলো। বউটা তখন কইতে শুরু করলো, “তোমার এই মহান ভাব নিয়া আমার লগে কথা কইবা না! তোমার নিজের কামের দিকে তাকাও! ভাব নিয়া বাহাদুরি করাটা হইলো সবচে নোংরা জিনিস। এইটা ঠান্ডা আর বরফ-পরা একটা দিনের মতোন আর যখন তোমার গায়ের জামাও ভিজা! এইটা আর নেয়া যায় না! বদমাইশ কোথাকার, আমারে তোর সাথী কইবি না! তুই ত কুত্তার মতোন হাড্ডির নর্দমার মধ্যে গড়াগড়ি দিতেছোস। যেইরকম ভাব নিতেছিস, তুই তো এইরকম স্যাটিসফাইড না! তুমি তো একইসাথে সাপুড়ে আর সাপটা, কিন্তু তুমি এইটা জানো না। টাকার লাইগা তুমি সাপটারে নাচাইতেছো, আর সাপটা তোমারে নাচাইতেছে। তুমি খোদাতালা নিয়া বহুত কথা কও, কিন্তু এইগুলা কও যাতে আমার নিজেরে দোষী লাগে। তুমি নিজে খেয়াল কইরা দেইখো! এই কথাগুলাই তোমারে খাইবো যদি তুমি এইগুলা দিয়া আমারে খোটা দিতে চাও।”

তো, বউটা চেঁচাইতেই লাগলো জামাইয়ের উপ্রে, আর সে তখন ফিরা কইলো, “মাইয়ামানুষ শোনো, এই গরিবি হইলো আমার সবচে গভীর আনন্দের জিনিস। জীবনের খাঁটি আনন্দ হইলো সততা আর সৌন্দর্য্য। যখন আমরা এইরকম থাকি তখন আমরা কিছুই লুকাইতে পারি না। তুমি কইতেছো, আমি সত্যিকারের অহংকারী আর লোভী, আর কইতেছো যে, আমি একটা সাপুড়ে আর একটা সাপ, কিন্তু এইগুলা হইতেছে তোমারই ডাকনাম। তোমার রাগের মধ্যে আর তোমার চাওয়াগুলির ভিতর তোমার এইসব কোয়ালিটি তুমি আমার মধ্যে দেখতে থাকো। এই দুনিয়ার কাছ থিকা আমার কিছু চাওয়ার নাই। তুমি হইলা সেই বাচ্চা’র মতোন যার নিজে নিজে ঘুরতে ঘুরতে চক্কর খাইতে থাকার পরে মনেহয় ঘরটাই চক্কর মারতেছে। এইটা তোমার চোখের ভুল, যা দিয়া তুমি ভুল দেখো। ধৈর্য্য ধরো, তুমি দেখতে পারবা খোদার রহমত আর রোশনির মধ্যে আমরা বাঁইচা আছি।”

দিন হওয়ার পরেও অদের এই তর্ক চলতে লাগলো। আর তার পরেও।

 

কোয়াজিনে ট্যাটু আঁকা

কোয়াজিনে লোকজনের একটা রীতি আছিলো নিজেদের হাতের পিছনে, কান্ধে বা যে কোন জায়গায় নীল কালি দিয়া ট্যাটু আঁকার। তকদির ভালো করার লাইগা এই কাজ করতো তারা। একজন লোক একবার নাপিতের গিয়া কইলো তার কান্ধের উপরে একটা পাওযারফুল, হিরোটিক সিংহ আঁইকা দেয়ার লাইগা। “আর এইটা খুব সুন্দর কইরা আঁকবা! আমি সিংহরাশির পোলা। অনেক বেশি নীল রং দিবা!” কিন্তু যখনই সুঁইয়ের খোঁচা লাগলো, সে চেঁচায়া উঠলো, “আরে, কি করতেছো তুমি?” “সিংহ আঁকতেছি।” “কোন জায়গা থিকা শুরু করছো?” “লেজ থিকা শুরু করছি।” “ঠিকাছে, লেজটা বাদ দেও। সিংহের লেজটা আমার লাইগা ভালো না। এইটা আমার উপ্রে ছাইড়া দেও।” নাপিতটা তারপরে শুরু করলো আর শুরু করা মাত্র লোকটা আবার চেঁচায়া উঠলো, “ওওওওওওও! এখন কোন পার্ট আঁকতেছো?” “কান।” “ভাইরে, কান ছাড়া একটা সিংহই তুমি আঁকো না!” নাপিতটা মাথা তার ঝাঁকাইলো, আর আবার যখন সুঁইটা ফুটাইলো আবারো লোকটা চিল্লান দিয়া উঠলো, “এখন কি আঁকতেছো তুমি?” “পেট।” “পেট ছাড়া সিংহ আঁকো তুমি।” এই নাপিত আছিলো সিংহ আঁকার সবচে পারফেক্ট নাপিত। সে অনেকক্ষণ দাঁতে আঙুল কামড়াইয়া খাড়ায়া রইলো। তারপরে শেষে সে তার সুঁই ফালায়া দিয়া কইলো, “জীবনে কেউ আমারে এইরকম কাম করতে কয় নাই! একটা লেজ ছাড়া অথবা একটা মাথা ছাড়া অথবা একটা পেট ছাড়া একটা সিংহ আঁকার লাইগা। খোদা নিজেও কখনো এই কাম করতে পারবো না।”

ভাই, তোমার কষ্টরে সহ্য করো। তোমার তাড়াহুড়া করার বিষ থিকা বাইর হও। তোমার বিউটির কাছে আকাশও উপুড় হয়া সিজদা করবো যদি তুমি এইটা করতে পারো। মোমবাতি জ্বালাইতে শিখো। জাইগা উঠো সূর্যের সাথে। তোমার ঘুমের গুহা থিকা মুখ ফিরাও। এমনেই একটা কাঁটা গোলাপের দিকে যায়। একটা পার্টিকুলার জিনিস তামাম দুনিয়ার সাথে ফুইটা উঠে। খোদার কথা কেমনে তুমি কিছু জানবা? উনার থাকাটারে নিজের ভিতরে পুড়াও। পুড়াইতে থাকো। তামা পুইড়াই পরশমনি তৈরি হয়। সো, তোমার নিজেরে পুড়াও তুমি এই মিক্সচারে, যা তোমার ভব-জীবনরে ধইরা রাখে। তুমি তোমার দুইদিক শক্ত কইরা ধইরা রাখছো, আর ঠিক কইরা রাখছো যে জীবনেও “আমি” আর “আমরা” এইসব বলা ছাড়বা না। এই শক্ত কইরা রাখাটাই আটকাইয়া রাখে তোমারে।

 

মুহাম্মদ আর বিশাল পেটুক

হুসাম চাইতেছে আমরা যাতে ৫ নাম্বার বইটার কাজ শুরু করি। জিয়া-হাক, সত্যের রোশনি, হুসামউদ্দিন, খাঁটি গুরুদের গুরু, যদি আমার মানুষের গলা এতো চিপা না হইতো, আমি তোমার তারিফ করতাম যেইরকম তারিফ তোমার করা উচিত, অন্য কোন ভাষায় এইরকম শব্দ-ভাষার বাইরে, কিন্তু ঘরে-পালা মুর্গি তো বাজপাখি হইতে পারে না। যেই বার্নিশ আমরার আছে সেইটাই তো মিশাইতে হইবো আর সেইটা ব্রাশ করতে হইবো। আমি কোন জড়বাদীর সাথে কথা কইতেছি না। যখন আমি হুসামের নাম নেই, আমি খালি অদের লগেই কথা কই যারা গোপন ভাবের কথা জানে। তারিফটা হইতেছে পর্দাগুলিরে আরেকবার আঁকা যাতে তার গুণগুলি ভিতরে আইতে পারে। আমি যা কইতেছি, তার বাইরে অবশ্যই সূর্যটা আছে। যে তারিফ করতেছে সে তো আসলে নিজেরেই তারিফ করতেছে, পরোক্ষভাবে কইতেছে, “আমার চোখগুলি ক্লিয়ার।” একইরকমভাবে যে ক্রিটিসাইজ করতেছে সে নিজেরেই ক্রিটিসাইজ করতেছে, “আমার চোখের ভিতরে এতো ধোঁয়া, আমি ভালো করে দেখতেই পাইতেছি না।” সেই সূর্যের লাইগা কোনসময় মন-খারাপ কইরো না, যে আরেকটা সূর্য হইতে চায়, সেই সূর্য যে পচা জিনিসগুলিরে ফ্রেশ বানায়। আর তারেও ঈর্ষা কইরো না যে এই দুনিয়াটা হইতে চায়।

আমি বলতে চাইতেছি হুসাম হইতেছে সূর্য। মনে মনে বা বলার ভিতর দিয়া তারে বুঝা যাইবো না, কিন্তু আমরা তো তোতলাইতে তোতলাইতে টাল খাইতে খাইতে ট্রাই কইরা যাবো। পুরা ঝর্ণাটা যেহেতু তুমি খাইতে পারো না তার মানে তো এইটা না যে বৃষ্টির পানিতেও তুমি চুমুক দিবা না। যদি রহস্যের বাদামরে না ধইরা রাখা যায়, আমারে এটলিস্ট তার খোসাটারে টাচ করতে দাও। হুসাম, আমার শব্দগুলিরে, তোমার শব্দগুলিরে জাগায়া দাও। আমি কথাগুলি তো আসলে তোমার জ্ঞানের ভূসি, তোমার বিশাল স্পেসগুলির ভিতর একটা দুনিয়ার বাতাবরণ। আমি যা বলতে চাইতেছি সেইটা তোমার কাছ পর্যন্তই একটা মিনিং থাকতে পারে, যে কেউ যখন এই কথাগুলি শুনবো যাতে মাতম না করে যে, অরা তো কোনদিন দেখার চান্স পায় নাই। তোমার থাকাটা আমারে গুমর থিকা, মায়া থিকা আর বিবেচনাগুলি থিকা বাইর কইরা আনে। সমীহ’টা হইলো দাস যেইটা আমরার চোখগুলিরে অসুখ থিকা ভালো কইরা দিবে। আর কান খাড়া কইরা একটানা শুনতে পারাটা। একটা খেজুর গাছের মতোন তার হাতগুলি তুইলা দিয়া খোলা জায়গায় দাঁড়ায়া থাকো। মাটিতে ইঁদুরের গর্তগুলি ভরতে থাইকো না, কোন মতবাদের গোলকধাঁধাঁর ভিতর তর্ক করতে থাইকো না।

বুদ্ধির মোড়ক আর বুনন তোমারে কানা হওয়ার ভিতরে বাইন্ধা রাখে। তোমার অন্য স্বভাবগুলি দূরে সরায়া রাখে প্রেমের কাছ থিকা। কোরানে চাইরটা পাখির কথা বলা আছে। কও, বিসমিল্লা, “আল্লার নাম নিয়া” নষ্ট-পাখিগুলার মাথা কাইটা ফেলো। লালসার রোস্টার, বিখ্যাত হইতে চাওয়ার ময়ূর, মালিকানার কাক আর তাড়াহুড়ার হাঁস – সবগুলারে কতল কর আর বদলাইয়া অন্য আরেকটা ফর্মে নিয়া নাও, যেইখানে অরা ক্ষতি করবো না কোন। তোমার ভিতরে একটা হাঁস আছে। সে তো কোনসময়ই থামে না, শুকনা আর ভিজা সব জায়গাতে একইভাবে খুঁজতে থাকে, ডাকাত যেমনে একটা খালি বাড়ির ভিতর থিকা মুক্তার দানা, ছোলার দানা যা পায় তা-ই ভরতে থাকে তার ঝোলার ভিতরে। সবসময় ভাবতেছে, “টাইম নাই! আমি তো আরেকটা চান্স পামু না!” একজন সত্যিকারের মানুষ অনেক ধীর আর সর্তক। সে বা শে বাধাগুলি নিয়া আজাইরা ভাবে না। কিন্তু এই হাঁসটার সবসময় ডর সে না ফসকাইয়া যায় যেই কারণে সে তার সব ঔদার্য্য হারায়া ফেলে আর হুড়মুড় কইরা সবকিছু খাইতে থাকে।

অবিশ্বাসীদের একটা বড় দল একবার মুহাম্মদের কাছে আসলো, অরা জানতো যে মুহাম্মদ তাদেরকে খাওয়াইবো। মুহাম্মদ উনার সাহাবীদেরকে কইলেন, “এই মেহমানদরে তোমাদের মধ্যে ভাগ কইরা নাও আর যত্ন-আত্তি করো। যেহেতু তোমাদের ভিতরে আমি আছি, উনাদের মেহমানদারি আমারই করা হইবো।” সাহাবীরা একজন একজন কইরা মেহমানরে নিয়া গেলেন, কিন্তু বিশাল একজন লোক রইয়া গেছিল। সে মসজিদের দুয়ারে বইসা রইছিল কাপের নিচে একটা মোটা গাদ-এর মতোন। তো মুহাম্মদ তারে উনার নিজের বাড়িতে নিয়া গেলেন, যেইখানে তুর্কি গাজের এই বিশাল পোলা সবকিছু খাইয়া ফেললো, সাতটা ছাগলের দুধ আর আঠারোজন মানুষের সব খাবার! বাড়ির অন্য সবাই তো ডরায়া গেলো। লোকটা যখন ঘুমাইতে গেলো, চেইতা গিয়া আর বিরক্ত হইয়া বান্দী তার পিছন পিছন গিয়া দরজাটা বন্ধ কইরা চেইন দিয়া দরজাটা বাইন্ধা দিলো।

মাঝ রাইতে লোকটার পেটে মারাত্মক চাপ লাগলো। কিন্তু দরজাটা! সে খুলতে চাইলো, দরজার ফাঁকের ভিতরে একটা ব্লেড দিয়া কাটার ট্রাই করলো। কিছুই হইলো না। চাপ তো বাড়তে লাগলো। রুমটা বন্ধ হইয়াই আছে। সে কনফিউজড হইয়া ঘুমায়া গেলো আর একটা খালি জায়গার স্বপ্ন দেথলো, যেহেতু সে নিজে একটা খালি জায়গাতে আছিলো। তো, স্বপ্ন দেখতে দেখতে সে বিশাল পরিমাণ জিনিস বাইর কইরা দিলো আর আরেকবার বিশাল পরিমাণ। কিন্তু একটু পরেই সে জাগনা হইলো আর দেখলো সে কি পরিমাণ গু তার চাইরপাশে জড়ো হইছে। শরমের চোটে সে খিঁচুনি দিয়া উঠলো, এইরকম কাজ করলে মাইনষে যেইরকম শরম পায়। সে ভাবলো, “আমার জাইগা থাকার চাইতে আমার ঘুমায়া যাওয়াটা আরো বাজে। আমার জাইগা থাকাটা আছিলো খাবারে ভরা। আমার ঘুমানো হইলো এইগুলি।” এখন সে কান্দতে লাগলো, তিক্ত একটা বিহ্বলতা, ভোর হওয়ার লাইগা আর দরজা খোলার আওয়াজের লাইগা অপেক্ষা করতে লাগলো, আশা করতে লাগলো কোন না কোনভাবে কেউ দেখার আগে সে বাইর হইয়া যাইতে পারবো মনেহয়।

বলাটা শর্ট করি আমি। দরজা খুললো। সে বাঁইচা গেলো। ভোরবেলা মুহাম্মদ আসলেন। উনি দরজা খুললেন আর লোকটা যাতে লজ্জা না পায় এইজন্য অদৃশ্য হয়া গেলেন, যাতে সে পালায়া যাইতে পারে আর নিজেরে ধুইতে পারে আর কে দরজা খুলছে এইটা দেখা না লাগে। মুহাম্মদের মতোন যে আল্লার সাথে মিইশা গেছে এইরকম কেউ এই কাজ করতে পারে। রাতের বেলা যা কিছু ঘটছিল মুহাম্মদ তার সবকিছুই দেখছিলেন, কিন্তু লোকটারে বাইর হইতে দেন নাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না যেইটা ঘটার সেইটা না ঘটতেছে। অনেক কাজ যা গভীর দোস্তির জায়গা থিকা ঘটতেছে মনে হইতে পারে খুবই নিষ্ঠুর। অনেকগুলি ধ্বংস করা আসলে নতুন কইরা তৈরি করা।

পরে, এক না-বুঝতে-পারা দাস মুহাম্মদরে বিছনার চাদরগুলি আইনা দিলো। “দেখেন আপনার মেহমান কি কাম করছে!” মুহাম্মদ হাসলেন, যিনি নিজেই সব জীবের উপর একটা রহমত, “আমারে এক বালতি পানি আইনা দাও।” সবাই তো ফাল দিয়া উঠলো, “না! আমরারে এই কাম করতে দেন। আমরা বাঁইচাই আছি আপনার কাজ করার লাইগা, আর এই হাতের কাজ আমরাই করতে পারবো। আপনি তো মনের কাজ করবেন।” “আমি জানি সেইটা, কিন্তু এইটা একটা অন্যরকম ঘটনা।” উনার ভিতরে একটা আওয়াজ কইতেছে, “এই বিছনার চাদরগুলি ধোয়ার মধ্যে একটা মহান জ্ঞানের ব্যাপার আছে। ধুইয়া ফেলেন।”

এর মধ্যে যেই লোকটা মাটির নিচে কাপড়গুলি পুইতা রাইখা পালায়া গেছিল মুহাম্মদের বাড়িতে ফেরত আসলো। সে একটা কবজ ফালায়া গেছিল যেইটা সে সবসময় নিজের লগে রাখতো। সে ঢুকলো আর দেখলো খোদার নিজ হাত তার এইরকম জঘন্য কাপড়গুলি ধুইতেছে। সে তার কবজের কথা ভুইলা গেলো। একটা মহান প্রেম তার ভিতরে ঢুইকা গেলো। সে কানতে কানতে তার শার্ট খুইলা ফেললো। সে দেয়ালের মধ্যে আর দরজার মধ্যে তার মাথা বাইরাইতে লাগলো। তার নাক দিয়া রক্ত বাইর হইতে লাগলো। বাড়ির অন্যান্য জায়গা থিকা লোকজন বাইর হইয়া আসলো। সে চিল্লান দিয়া কইলো, “তফাত যাও!” সে তার মাথা ঠুকতে লাগলো। “আমার কোন বুঝ আছিলো না!” সে নিজেরে মুহাম্মদের সামনে খাড়া করলো।  “আপনার কাছ থিকা আসে সমস্তকিছু। আমি একটা অধম, ছোট্ট, মিনিংলেস জিনিস। আমি তো আপনার দিকে তাকাইতেও পারি না।” সে চুপ কইরা রইলো আর প্রায়শ্চিত্ত কইরা কাঁপতে লাগলো। মুহাম্মদ ঝুঁইকা তারে তুললেন আর তারে চুমা খাইলেন আর তার ভিতরের জানার রাস্তা খুইলা গেলো।

মেঘ কান্দে, আর তখনই বাগান ফুইটা উঠে। বাচ্চায় কান্দে, আর মা’র দুধের ধারা বয়। জগত-সৃষ্টির ধাইয়ে কইছিল, অদেরকে অনেক কানতে দেও। বৃষ্টির-কান্দা আর সূর্যের-পুরানি দুইটা মিইলা একলগে আমারারে বড় কইরা তোলে। তোমার বুদ্ধিরে রাখো শাদা-গরম আর তোমার দুঃখরে ঝকঝকা, তাইলে তোমার লাইফ সতেজ থাকবো। একটা ছোট্ট বাচ্চার মতোন সহজে কান্দো। শরীররে পাতলা হইতে দাও আর আত্মার ডিসিশান বাড়বো তখন। তোমার নিজের শরীররে তুমি যেইটা দাও, সেইটা কমাও। তোমার আত্মার চোখ জাইগা উঠতে শুরু করবো তখন। যখন শরীর খালি হয় আর খালি থাকে, খোদা সেইটারে কস্তরী দিয়া আর মৌক্তিক দিয়া ভইরা দেন। এইভাবে একটা মানুষ গোবর দেয় আর শুদ্ধি পায়। নবীদের কথা শুনো, কোন কিশোর বাচ্চার কথা শুইনো না। আত্মিক জীবনের ওয়াল আর ভিত বানানো হয় নিজের অস্বীকার আর নিয়ম-শৃঙ্খলার ভিতর দিয়া। সেই দোস্তের লগে থাকো যে তোমারে এইগুলিতে সার্পোট দেয়। অদের লগে পবিত্র কালামগুলি নিয়া কথা কও আর দেখো কেমনে তুমি করো আর কেমনে অরা করে, আর এই প্রাকটিসগুলিরে একলগে রাখো।

 

মেডিটেশনের পরে

এখন আমার অডিয়েন্সের মধ্যে আমি কিছু জিনিস দেখতেছি যেইটা আমারে আর একইরকমভাবে কথা কইতে দিবো না। সাগরের পানি ভাটাতে আসে আর একটা ফেনার বাঁধা তৈয়ার করে, আর তারপর চইলা যায়। কিছুক্ষণ পরে এইটা আবার আসে। ঘুরতে আসা সুফি আর তার দোস্তদের মেডিশনের কথা অডিয়েন্স আরো শুনতে চায়। কিন্তু জিনিসটা সূক্ষভাবে বুঝা লাগবো। একটা সাধারণ কাহিনির একটা নরমাল কারেক্টার হিসাবে তারে ভাবলে হবে না।

ঘোরলাগা মেডিটেশন শেষ হইছিল। খাবারের প্লেটগুলি আনা হইছিল। সুফির তার গাধার কথা মনে হইলো, যে তারে সারাদিন ধইরা নিয়া আসছিল। সে তার চাকররে ওইখানে ডাকাইলো, “প্লিজ তুমি আস্তাবলে যাও আর খড়ের লগে বার্লি ভালো কইরা মিশাইয়া প্রাণীটারে দিয়া আসো। প্লিজ।” “এইগুলা নিয়া আপনি চিন্তা কইরেন না। সবকিছুই ঠিকঠাক মতো করা হইবো।” “কিন্তু আমি চাই যে তুমি বার্লিটা আগে ঠিকমতো ভিজাও। সে খুব বুড়া গাধা, আর তার দাঁতগুলা খুবই দুর্বল।” “এইগুলা আপনি আমারে কেন বলতেছেন? আমি ঠিকমতো আদেশ দিয়া আসছি তো।” “কিন্তু তুমি কি জিনটা ভালোমতো খুলছো আর ওর ঘা’য়ের মধ্যে মলমটা লাগাইছো?” “আমি এতো কষ্ট কইরা হাজার হাজার গেস্টরে সামলাইছি, আর সবাই খুশি হয়া ফেরত গেছে। এইখানে আপনারে ফ্যামিলির মতো ট্রিট করা হইছে। চিন্তা কইরেন না। আপনে এনজয় করেন।”

“কিন্তু তুমি কি ওর পানিটা একটু গরম করছো, আর ওর বার্লিটাতে অল্প একটু খড় দিছো?” “হুজুর, এখন আমার লজ্জাই লাগতেছে আপনার লাইগা।” “আর প্লিজ, আস্তাবল ঝাড়ু দিয়া পাথর আর গোবর ফালায়া দিও, আর ওইখানে একটু শুকনা মাটি ছিটাইয়া দিও।” “আল্লার দোহাই লাগে, হুজুর, আমার কাম আপনি আমার উপ্রেই ছাইড়া দেন!” “আর তুমি কি ওর পিঠের চুলটা আঁচাইয়া দিছো? ও এইটা খুব পছন্দ করে।” “স্যার! এইসব টুকিটাক কাম আমি নিজেই করি!” চাকরটা ঘুইরা ফুরফুরা ভাবে চইলা গেলো… রাস্তায় দাঁড়াইয়া থাকা অর দোস্তদের লগে জয়েন করতে।

সুফি তখন শুইয়া ঘুমায়া পড়লেন আর তার গাধারে নিয়া খুবই বাজে কিছু স্বপ্ন দেখলেন, একটা নেকড়ে আইসা তারে ছিঁড়া-খু্‌ইড়া ফেলছে, অথবা নদর্মার মধ্যে অসহায়ভাবে সে পইড়া রইছে। আর তার স্বপ্ন দেখাটা সত্যি আছিলো! তার গাধাটার কোন যত্নই নেয়া হয় নাই, সে দুর্বল হয়া ছিল আর হাঁপাইতেছিল। সারারাত ধইরা সে কোন খাবার বা পানি খাইতে পায় নাই। চাকরটা যা যা কইছিলো তার কিছুই করে নাই। এইরকমের অসৎ আর ফাঁপা ফোলাইতে-থাকা লোকেরা আছে আপনার লাইফে। সাবধানে, আপনি আপনার গাধা-পালার কামটা করেন। এইটার লাইগা অন্য কাউরে বিশ্বাস কইরেন না। হিপোক্রেটরা আপনারে প্রশংসা করবো, কিন্তু আপনার গাধা-আত্মার শরীরের কোন যত্ন করবো না। মনোযোগ দেন আর আপনার সত্যিকারের নারিসমেন্টের লাইগা শিকারি সিংহের মতোন থাকেন। তোষামোদের-গোলমাল বা এইরকম কিছুতে পইটা যাইয়েন না।

 

দরজায় দাঁড়ানো দরবেশ

এক দরবেশ আইসা দরজায় নক কইরা একটা শুকনা বা পুরান রুটি, বা যে কোন একটা কিছু চাইলো। “এইটা কোন বেকারি না” মালিকে কইলো। “তাইলে কি তোমার কাছে কিছু হাড্ডি হবে?” “এইটারে দেখতে কি কসাইখানার মতো লাগে?” “একটু ময়দা?” “তুমি কি মাড়াইয়ের আওয়াজ পাইতেছো কোন?” “একটু পানি দেও তাইলে?” “এইটা কোন কুয়া না।” দরবেশ যেইটাই চায়, লোকটা ফালতু টাইপের জোক করে আর সে যেইটা চায় তারে সেইটা দেয় না। শেষমেশ দরবেশটা দৌড় দিয়া বাড়ির ভিত্রে ঢুইকা গেলো, তার কাপড় উঁচা কইরা এমনভাবে পাদ দিলো যেন সে হাইগা দিবো।

“করো কি, করো কি” “চুপ কর, বেটা বদমাইশ। যেইখানে কোন মানুষজন নাই সেইটা পায়খানা করার লাইগা ভালো জায়গা, আর এইখানে জ্যান্ত কোনকিছুই নাই, অথবা বাঁইচা থাকার কিছুও নাই, এইখানে ফার্টিলাইজার দরকার।” দরবেশ তার নিজের লিস্টের কোশ্চেন-আনসার দিতে লাগলেন।

“কি রকমের পাখি তুই? বাজপাখি তো না। রাজার হাতে থাকার লাইগা যার ট্রেনিং হইছে। ময়ূরও তো না। সবার চোখ দিয়া যারে আঁকা হইছে। তোতাপাখিও তো না; চিনির টুকরার লাইগা যে কথা কয়। একটা নাইটিঙ্গেলও না, যে গান গায় প্রেমে পড়ছে বইলা। একটা হোপিও তো না যে সুলেমানের কাছে মেসেজ নিয়া আসে, বা একটা সারস যে খাড়ার পাশে ঘর বানাইতে পারে। তুই আসলে কি করিস? কোন জানাশোনা প্রাণী তো তুই না।

তোর যেইটা আছে সেইটার মালিকানা ধইরা রাখার লাইগা তুই তর্কাতর্কি করিস আর জোকস বানাস। সেই একজনের কথা তুই ভুইলা গেছিস, যে মালিকানারে পাত্তা দেয় না; যে মানুষের প্রতিটা এক্সচেইঞ্জ থিকা একটা প্রফিট বানানোর ট্রাই করে না।”

 

খলিফা ওমর আর বুড়া কবি

বাজানদার লোকটা বুড়া হইয়া গেছিলেন। তার গলার স্বর আটকাইয়া আসতো আর আওয়াজও হার্শ হইয়া গেছিল, আর তার বাজনার কয়েকটা তারও ছিঁড়া গেছিল। সে মদিনার কবরস্থানে গিয়া কানতে লাগলো। “হে খোদা, তুমি তো সবসময় আমার কাছ থিকা আমার নকল পয়সা কবুল করছো! আমার এই দোয়া আরেকবার কবুল করো, আর আমারে এমনকিছু দেও যা দিয়া আমি আমার বাজনার লাইগা নতুন সিল্কের তার কিনতে পারি।” সে তার বাজনটারে বালিশের মতো কইরা মাথার নিচে রাখলো আর ঘুমায়া গেলো। তার আত্মার পাখি উইড়া গেলো! বডি থিকা ফ্রি হইয়া এইটা তার নিজের বিশাল এলাকা উইড়া পার হইয়া এমন জায়গায় যাইতে চাইলো যেইখানে সে তার সত্যিটারে গাইতে পারবো। “এই মাথা না থাকাটা পছন্দ আমার, মুখ ছাড়া টেস্ট করাটা, কোন অনুতাপ ছাড়া মেমোরি থাকাটা, কিন্তু হাত ছাড়া গোলাপ আমি কেমনে ধরবো আর সমভূমিতে ছড়াইয়া যাওয়া অসীম তুলসীপাতারে, যা আমার আসল আনন্দ।” এই কারণে পানির-পাখিটা তার সাগরেই ডুইবা গেলো। খাঁটি সূর্যের-আলো থিকা, সমস্ত ভালোবাসার বন্ধন থিকা যখন কাজটা আলগা হইতে পারে তখন থিকাই কাজের ঝর্ণাটা বইতে পারে। যদি এই ‘মসনবি’ হঠাৎ কইরা একটা আকাশ হয়, তাও সেইটা এই বুড়া কবি যেই মজাটা পাইতেছিল তার ঘুমের মধ্যে, তার আধাটাও ধইরা রাখতে পারবো না। যদি সেইখানে যাওয়ার কোন সাফ রাস্তা থাকতো, এইখানে কেউ আর থাকতো না!

ওই সময়ে, খলিফা ওমর, কাছাকাছি একটা জায়গায় একটু ঘুমাইতেছিলেন, আর তখনই একটা আওয়াজ আসলো তার কাছে, “কবরস্থানে যেই মানুষটা ঘুমাইতেছে তারে সাতশো সোনার দিনার দিয়া আসো।” সবাই বুঝতে পারে এই আওয়াজ কই থিকা আসে। তার্ক আর কুর্দ, পার্শিয়ান, আরবি, ইথোপিয়ান, একটা ভাষাতেই এইটা কথা কয়, একই অধিকার নিয়া! ওমর ওই জায়গাতে গেলেন আর ঘুমায়া থাকা লোকটার পাশে বসলেন। ওমর হাঁচি দিলেন আর লোকটা ফাল দিয়া উইঠা ভাবলো, এই মানী লোকটা তারে কি কারণে দোষী করতে আসছেন। “না, না। আমার পাশে বসেন, এইখানে। আমি আপনারে একটা গোপন কথা কইতে চাই। এই বস্তার মধ্যে অনেক সোনা আছে যেইটা দিয়া আপনে আপনার যন্ত্রের লাইগা নতুন সিল্কের তার কিনতে পারবেন। এইগুলি নিয়া যান, জিনিস কিনেন, আর ফিরা আইসেন এইখানে।” বুড়া কবি এইটা শুনলেন আর বুঝতে পারলেন কি নিয়ামত আসছে তার কাছে। সে তার বাজনাটারে ছুঁইড়া ফালাইলো, ভাইঙা ফেললো। “এই গানগুলি, দম থিকা দমে, আমারে ইরাকের মিউজিকের মুড আর পারস্যের রিদমগুলি মনে করাইতো। ‘জিরাফগন্দের’ মাইনর আর চব্বিশটা মেলোডির গইলা যাওয়া ফ্রেশনেস আমারে উল্টা-পাল্টা কইরা দিতো যখন ক্যারাভানের পরে ক্যারাভান চইলা যাইতো! আমার কবিতাগুলি আমারে আমার মধ্যে আটকাইয়া রাখতো, যা ছিল সবচে ভালো তোফা, আর এখন এইটা সারেন্ডার করতেছি আমি।”

কেউ যখন আপনার লাইগা সোনা গুণতে থাকে, তার হাতের দিকে বা সোনার দিকে তাকাইয়েন না। যিনি দিতেছেন তার দিকে তাকাইয়েন। “কিন্তু এমনকি এই পাল্টা-অভিযোগের বিলাপ” কইলেন ওমর “আরেকটা বেড়া দেয়ারই ছাঁচ, রীডের মধ্যে আরেকটা জয়েন্ট। এই সেগমেন্টগুলিরে ছেঁইদা বাইর হইয়া আসো আর ছিঁড়া দেয়ালগুলি দিয়া খালি হও, যাতে বাঁশির সুর বাজতে পারে। এমন এক খোঁজকারী হইয়ো না যে তার খোঁজের ইর্ম্পটেন্সের দিয়া নিজেরে মুড়াইয়া রাখছে। তোমার অনুতাপের লাইগা অনুতপ্ত হও!” বুড়া মানুষটার দিল জাইগা উঠলো, সে তিন তার আর কণ্ঠস্বরের প্রেমে আটকাইয়া ছিলো না, ছিল না হাসি বা কান্দার মধ্যে। একটা সাচ্চা বিহ্বলতা চইলা আসছিলো তার আত্মায়, সে খুঁজাখুঁজির বাইরে চইলা গেছিল, শব্দ আর বলাবলির বাইরে, সুন্দরের ভিতর ডুবে গেছিল, পার পাওয়ার বাইরে ডুবে গেছিল সে।

ঢেউগুলি ঢেকে দিছিলো বুড়া লোকটারে।

তারে নিয়া এর চাইতে বেশি আর কিছু বলা যায় না।

সে তার পোশাক থিকা ঝাঁকি দিয়া বাইর হইয়া গেছিল, আর ওইখানে কিছুই আছিলো না।

এমন একটা মৃগয়া আছে যেইখানে একটা বাজপাখি জঙ্গলের ভিতরে ড্রাইভ দেয় আর কখনোই উপরে উইঠা আসে না। প্রতিটা মোমেন্টে, সূর্যের আলো পুরাটাই ফাঁপা আর পুরাটাই ভরা।

 

বাতাসের ভিতরে থাকা ডাঁশ-মশা

কিছু ডাঁশ-মশা ঘাসের ভিতর থিকা বাইর হয়া সুলেমান নবীর সাথে কথা কইতে আসলো। “ও সুলেমান, তুমি তো মজলুমের রক্ষাকর্তা। তুমি তো ছোট্ট মানুষদেরকে সুবিচার দাও, আর অরা তো আমরার চাইতে বেশি ছোট হয় না! টিইকা না থাকতে পারার ছোট্ট মেটাফোর আমরা। তুমি কি আমরারে বাঁচাইবা না?” “কেডা তোমারার লগে বাজে বিহেভ করছে?” “আমরার অভিযোগ হইতেছে বাতাসরে নিয়া।” “ঠিকাছে,” সুলেমান নবী কইলেন, “তোমরার গলা তো খুব সুন্দর, কিন্তু ডাঁশ-মশা বাবারা, মনে রাইখো, বিচারক তো একপক্ষের কথা শুইনা রায় দিতে পারে না। আমারে বাদী-বিবাদী দুইপক্ষের কথাই শোনা লাগবো।” “অবশ্যই,” ডাঁশ-মশারাও এগ্রি করলো। “উত্তরের বাতাসরে সমন পাঠাও,” সুলেমার হুকুম পাঠাইলেন। আর বাতাসও একদম সাথে সাথেই চইলা আসলো। কিন্তু বাদী ডাঁশ-মশাদের কি হইলো? পালাইলো। এই হইলো প্রতিটা তালাশ করতে আসা লোকের অভ্যাস যে হাইকোর্টে কমপ্লেইন করতে আসে। যখন খোদাতালার প্রেজেন্স দেখা যায় তখন তালাশ করার লোকেরা কই থাকে? পয়লা মইরা যায় তারা, তারপরে মিলন হয়, যেইরকম বাতাসের ভিতরে থাকা ডাঁশ-মশা।

 

আয়াজ আর রাজার মুক্তা

একদিন রাজা তাঁর উজির-নাজিরদেরকে দরবারে ডাকাইলেন। এক উজিররে একটা চকচকা মুক্তা দিলেন, “আপনার কি মনেহয়, কত দাম হইতে পারে এইটার?” “একশোটা গাধায় যতগুলি সোনা ধরে তার চাইতে বেশি।” “ভাঙেন এইটা!” “হুজুর, আপনার এতো দামি মাল আমি কেমনে বিনাশ করবো?” রাজা তার জবাবে খুশি হইয়া তারে একটা আঙরাখা প্রেজেন্ট করলেন আর মুক্তাটা ফিরায়া নিলেন। দরবারে নানান জিনিস নিয়া কিছু সময় আলাপ-আলোচনা করলেন। এরপরে প্রধান উজিরের হাতে মুক্তাটা দিয়া কইলেন, “কি দিলে এইটা বেচবেন আপনে?” “আল্লাহ না করুক, অর্ধেক রাজত্ব দিলে, বেচতে পারি!” “ভাইঙ্গা ফেলেন এইটা!” “এইরকম কাম করার লাইগা আমার হাত তো আমি নাড়াইতে পারমু না।” রাজা তারে একটা আঙরাখা দিলেন আর তার তান্‌খা বাড়ায়া দিলেন, আর এইভাবে আরো পঞ্চাশ ষাইট সভাসদের সাথে এই কাজ করলেন। সবাই একের পরে এক উজির নাজিরের জবাবের নকল করলেন আর নতুন সম্পত্তি পাইলেন।

তারপর মুক্তাটা আয়াজের হাতে দেয়া হইছিল। “তুমি কি কইতে পারো, এইটা কেমন গুলজার?” “আমি যা কইতে পারি এইটা তার চাইতে বেশি কিছু।” “তাইলে ভাঙো এইটা, এই মুহূর্তে, গুড়া গুড়া করো।” আয়াজ এইটা নিয়া স্বপ্ন দেখছিল, সে তার জামার আস্তিনে দুইটা পাথর লুকায়া রাখছিল। সে দুইটা দুইটা পাথরের চিপায় নিয়া মুক্তাটারে পাউডার বানায়া ফেললো। ইউসুফ যেমনে কুয়ার ভিতরে গল্পের শেষটা শুনছিল, এইরকম যাঁরা শুনতে পায়, বুঝতে পারে সাকসেস আর না-সাকসেস একই জিনিস। ফর্মগুলি নিয়া বেশি চিন্তা কইরেন না। কেউ যদি আপনার ঘোড়া চায়, তারে সেইটা দিয়া দেন। ঘোড়াগুলি আছেই খালি অন্যদের চাইতে আগে যাওয়ার লাইগা। দরবারের সবাই তো চিল্লান দিয়া উঠলো আয়াজের এই পাগলামিতে, “তুমি কেমনে এইটা করলা?” “রাজায় যেইটা কইছেন সেইটা যে কোন মুক্তার চাইতে দামি। আমি রাজারে অনার করছি, কোন রঙিন পাথররে করি নাই।” সব রাজকুমাররা তখন হাঁটু গাইড়া বইসা পড়লো আর তাদের কপাল মাটিতে রাইখা সিজদা দিলো। অদের দীর্ঘশ্বাস ধোঁয়ার মেঘের মতোন উঠতে থাকলো। রাজা তার জল্লাদরে ইশারা কইরা কইলেন, “এই জঞ্জালগুলিরে বাইর করো।”

আয়াজ ফাল দিয়া সামনে আইলো। “আপনার দয়ার লাইগা এঁরা এমনে সিজদা দিছে। অদেরকে অদের লাইফ দিয়া দেন! অদরকে আশা করতে দেন যে অরা আপনার লগে মিলতে পারবো। অদের ভুইলা-যাওয়াটা অরা দেখতে পারতেছে এখন, যেইরকম মাতাল লোক দেখছিল যখন সে কইছিল, ‘আমি তো জানতাম না আমি কি করছিলাম,’ তখন কেউ একজন দেখাইছিল, ‘কিন্তু তুমি নিজেই তো ভুইলা-যাওয়াটারে নিজের ভিত্রে টাইনা আনছো। তুমিই খাইছো এইটা। তোমার তো একটা চয়েস আছিলো!’ এখন অরা ভালোভাবে বুঝতেছে নকল করাটা কেমনে অদেরকে ঘুম পাড়ায়া রাখছিল। অদের কাছ থিকা নিজেরে আলাদা কইরেন না। জমিনে যে হাত রাখছে অরা অদের হাতের দিকে দেখেন। অদেরকে মুখ তুলতে বলেন আপনার দিকে। আপনার ঠান্ডা গোসলখানায় অদের নিজেদেরকে ধুইতে দেন।”

আয়াজ আর তাঁর কথা সবসময় এই জায়গাটাতে আসে আর কলমটা ভাইঙা যায়। একটা পিরিচ কেমনে সাগররে ধইরা রাখতে পারে? মাতালরা তো তাদের কাপগুলি ভাইঙা ফেলে, কিন্তু আপনি তো ওই মদ ঢালতে থাকেন! আয়াজ কইলো, “এই মুক্তাটা ভাঙার লাইগা আপনি আমারে পিক করছেন। আমার মাতলামির আনুগত্যের লাইগা অন্যদেরকে শাস্তি দিয়েন না! শাস্তি দিয়েন যখন আমি ভদ্র হইয়া যাবো, কারণ আমি তো কখনোই আর ভদ্র হমু না। অদের মতো যে এমনে আপনার সিজদায় পড়ছে সে তো আর আগের মানুষটা হইতে পারবো না। একটা মশা যেমন আপনার ননীর-দুধে পড়ে, অরাও এইরকম আপনার ননীর-দুধ হইয়া গেছে। পাহাড়গুলি তো কাঁপতেছে। আপনার হাতের রেখাগুলি হইতেছে অদের ম্যাপ আর কম্পাস।”

হুসাম, আমার তো একশোটা মুখ দরকার এই কথা কইবার লাইগা, অথচ আমার একটাই মুখ আছে খালি! এই স্পিরিট থিকা একশো হাজার ছবি বাইর হইয়া আসতে চাইতেছে। এতো হাজার হাজার জিনিসের মধ্যে আমি তো তব্দা মাইরা গেছি, চুরমার হইয়া রইছি আর মারা গেছি।

 

ছোলা রান্ধা

একটা ছোলার দানা লাফ দিয়া পাতিলের ধারে চইলা আসলো যেইখানে তারে সিদ্ধ করা হইবো। “তুমি আমারে নিয়া এইরকম করতেছো ক্যান?” বার্বুচি খুন্তি দিয়া তারে সরায়া দিলো। “ফাল দিয়া সইরা যাইও না। তুমি ভাবতেছো আমি তোমারে টর্চার করতেছি। আমি তোমারে সুগন্ধি দিতেছি যাতে তুমি মসলাগুলি আর চাইলের সাথে মিশতে পারো। বাগানে বৃষ্টির পানি খাইয়া যে মাতাল হইছিলা, মনে আছে? ওইটা এর লাইগাই।”

প্রথমে আসে করুণা। সেক্সের আনন্দ, তারপর একটা নতুন লাইফের ফুইটা উঠাটা শুরু হয়, আর তারপরে দোস্ত আইসা ভালো জিনিসটা খাইতে পারে। পরে ছোলার দানা বার্বুচিরে কইবো, “আমারে আরেকটু সিদ্ধ করো। সর পড়া চামচ দিয়া আমারে বাড়ি মারো। নিজেরে আমি তো এইটা করতে পারি না। আমি হইলাম সেই হাতির মতো যে হিন্দুস্তানে তার বাগানের স্বপ্ন দেখতেছে আর তার মাহুতের দিকে তার কোন খেয়ালই নাই। তুমি হইলা আমার বার্বুচি, আমার মাহুত, আমার জ্যান্ত হওয়ার রাস্তা। তোমার রান্ধা তো আমি ভালোবাসি।”

বার্বুচি কয়, “একসময় আমি তোমার মতো আছিলাম, মাটি থিকা উইঠা আসা, ফ্রেশ। তখন আমি সময়ের ভিতর সিদ্ধ হইলাম, আর শরীরের ভিতর সিদ্ধ হইলাম, দুইটাই কঠিন সিদ্ধ হওয়া। আমার পশু-আত্মা পাওয়ারফুল হইয়া উঠছিলো। অনেক প্রাকটিস কইরা আমি এইটারে কন্ট্রোল করছি, আর আরো সিদ্ধ করছি, আর যখন এর পরে আরো সিদ্ধ করতে পারছি, আমি তোমার ওস্তাদ হইতে পারছি।”

 

ছোটবেলার দোস্ত

আপনি হয়তো শুইনা থাকবেন, এইটা রাজাদের নিয়ম যে, যোদ্ধাদেরকে উনি বামপাশে রাখেন, যেইপাশে দিল আর সাহস থাকে। আর ডানপাশে রাখেন উজির আর নানারকমের পেশকারদের, কারণ বুককিপিংয়ে আর লেখালেখিটও থাকে ডাইনপাশে। মাঝখানে, সুফিরা থাকেন, কারণ মেডিটেশনের সময় উনারা আয়না হইয়া থাকেন। রাজা তাদের মুখের দিকে তাকায়া অরিজিনাল অবস্থাটা দেখতে পারেন। সুন্দর যারা তাদেরকে আয়নাগুলি দেন আর তাদেরকে নিজেদের প্রেমে পড়তে দেন। এইভাবে উনারা উনাদের আত্মারে সাফ করেন আর অন্যদের ভিতরে মনে-করাগুলিরে জাগাইয়া তুলেন।

একবার একজন ছোটবেলার ক্লোজ ফ্রেন্ড ইউসুফের সাথে দেখা করতে আসছিল। রাতের বেলা ঘুমানোর আগে বালিশে শুইয়া উনারা একজন আরেকজনরে বাচ্চাকালের গোপন কথাগুলি কইতে লাগলেন। দুইজন দুইজনের কাছে পুরাপুরি সত্য কথাগুলি কইতেছিলেন। দোস্ত জিগাইলেন, “তোমার কেমন লাগছিলো যখন তুমি দেখলা যে তোমার ভাইয়েরা জেলাস আর তারা যে প্ল্যানটা করতেছে?” “নিজেরে একটা সিংহের মতোন মনে হইতেছিল যার গলার মধ্যে একটা চেইন বান্ধা আছে। এই চেইন দিয়া যে আমারে ছোট করা হইছে তা না, আর আমি কমপ্লেইনও করতেছি না, জাস্ট ওয়েট করতেছিলাম আমার পাওয়ারটা যাতে আমি বুঝতে পারি।” “যখন তোমারে কুয়ার ভিতরে ফালায়া দিছিলো, আর জেলখানায় রাখছিলো? তখন কেমন লাগতেছিল?” “সেই চান্দের মতোন যেইটা ছোট হইয়া আসতেছে, যদিও জানে যে পূর্ণিমার দিন আসতেছে। একটা মুক্তার বীজ যা হামানদিস্তা দিয়া গুঁড়া গুঁড়া কইরা রাখা হইছে অষুধের লাইগা যে জানে যে একটা মানুষের চোখের রোশনি হইবো সে। একটা গমের দানা, যে মাটিতে ফাইটা পড়ে, তারপরে বাইড়া উঠে, তারপরে ফসল কাটা হয়, তারপরে ঘানিতে পিইষা ময়দা বানানো হয়, তারপরে বেইক করা হয়, তারপরে দুই দাঁতের মাঝখানে চাবানো হয়, একজন মানুষের গভীর বুঝের ঘটনা এইটা। প্রেমের মধ্যে হারাইয়া যাও, চাষীরা যেইরকম গান গায় বীজ বোনার পরের রাইতে।” এইগুলির কোন শেষ নাই। অন্যকিছুতে ফিরা যাই, ইউসুফ আর ভালো মানুষটা যেই কথা-বার্তা বলতেছিল।

“অ দোস্ত, তুমি আমার লাইগা কি নিয়া আসছো? তোমার তো জানার কথা, আমার বাড়িতে কোন রাহী’র তো খালি-হাতে আসার কথা না। তোমার গম ছাড়া এই ঘানি তো পিষতেই থাকবো এখন। খোদা তো হাশরের দিন জিগাইবো তোমারে, ‘তুমি কি আমার লাইগা কোন তোফা আনছিলা? তুমি কি ভুইলা গেছিলা? তুমি কি ভাবছিলা যে তোমার লগে আমার দেখা হইবো না?’” ইউসুফ তার লগে মজা করতেই থাকলেন। “কই, দেও আমারে। আমার তো তোফা লাগবো!” মেহমান তখন কইলেন, “তুমি তো ভাবতেও পারবা না তোমার দিবার জিনিস কেমনে খুঁজছি আমি। কোনকিছুই যুতইমতো লাগতেছিল না। সোনার খনির মালিকের কাছে তো তুমি সোনা নিয়া যাইবা না, বা ওমান সাগরের কাছে এক ফোঁটা পানি! যেইটাই আমি ভাবতেছিলাম আমার মনে হইতেছিল কিরমানশাহ’তে জিরার বীজ নিয়া যাওয়ার মতো, জিরা আসছে যেই জায়গা থিকা। তোমার চালাতে তো সব বীজই আছে। এমনকি আমার প্রেম আর আমার আত্মাও তো তোমার, তো, ওইগুলিও আমি আনতে পারি না তোমার লাইগা। আমি তোমার লাইগা একটা আয়না আনছি। তোমার দিকে তাকাইও আর মনে কইরো আমার কথা।” উনি তার পোশাকের ভিতর থিকা আয়নাটা বাইর করলেন, যেইটা উনি লুকাইয়া রাখছিলেন।

থাকার আয়নাটা কি জিনিস? না-থাকা। অনস্তিত্বের আয়নাটারে সবসময় তোফা হিসাবে নিয়া আসবেন। বাকি যে কোন তোফাই বেকুবি। একজন গরিব লোকরে মহত্ত্বের গভীরে তাকাইতে দেন। রুটিটারে ক্ষুধার্ত লোকটারে দেখতে দেন। আগুনের কাঠগুলিরে চকমকি পাথরের স্ফূলিঙ্গটা দেখতে দেন। একটা খালি আয়না আর আপনার সবচে খারাপ ধ্বংস-করার অভ্যাসগুলি, যখন তারা একজন আরেকজনের জড়ায়া ধরে, তখন আসল তৈরি হওয়াটা শুরু হয়। এইটাই হইতেছে আর্ট আর ক্রাফটস। একজন দর্জির তার প্রাকটিস করার লাইগা ছিঁড়া কাপড়ের দরকার পড়ে। গাছের গুড়িগুলিরে তো বারবার কাটা লাগে যাতে এইটা দিয়া সুন্দর ছুতারের জিনিস বানানো যায়। তোমার ডাক্তারের একটা ভাঙা ঠ্যাং লাগে ডাক্তার হইতে গেলে। তোমার খুঁতগুলি হইতেছে সেই রাস্তাগুলি যেইখান দিয়া তোমার মহিমা বাইর হইতে পারে। যে ক্লিয়ারলি দেখতে পায় তার ভিতরে কি দোষ আছে সে তার রাস্তায় তত জোরে দৌড়াইতে পারে। তুমি এনাফ ভালো আছো – এর চাইতে বাজে কোন চিন্তা হইতে পারে না। যে কোনকিছুর চাইতে আত্ম-তুষ্টি কাজের ক্ষমতারে আটকাইয়া ফেলে।

তোমার জঘন্যতারে আয়নার সামনে নিয়া আসো আর কান্দো। তোমার ভিতর থিকা আত্ম-তৃপ্তিটারে বাইর কইরা দাও! শয়তান ভাবে, “আমি আদমের চাইতে বেটার।” আর এই ‘তার চাইতে বেটার’ জিনিসটা এখনো আমরার ভিতরে আছে। তোমার বইয়া যাওয়া পানিটারে মনে হইতে পারে পরিষ্কার, কিন্তু নিচে শক্ত জিনিসগুলি আছে। তোমার শেখ সাইডে একটা চ্যানেল খুঁইড়া সেইটারে বাইর কইরা নিতে পারে। একজন ওস্তাদের সার্জারিরে বিশ্বাস কইরো তোমার ক্ষত সারাইতে হইলে। একটা ক্ষত মাছিগুলিরে টাইনা আনে। তারা এইটারে ঢাইকা রাখে, তোমার নিজের সুরক্ষার ফিলিংসের মাছি এইগুলি, যা কিছুরে তুমি নিজের মনে করো সেইগুলির ভালোবাসা। একজন ওস্তাদরে দাও এই মাছিগুলিরে তাড়াইতে আর তোমার ক্ষতের উপরে একটা প্লাস্টার দাও। তোমার মাথা সরাইয়া নিও না। ব্যান্ডেজের জায়গাটার দিকে তাকাও। এই জায়গাটা থিকাই তোমার ভিতরে রোশনি ঢুকে। আর একটা মুর্হূতের লাইগা ভাইবো না যে তুমি তোমারে সারাইতেছো।

 

ইঁদুর আর উট

একটা ইঁদুর একটা উটরে টানার দড়িটা তার সামনের দুইটা ঠ্যাং দিয়া ধরলো আর সেইটা নিয়া এমনভাবে হাঁটতে লাগলো, যেন সে উট’টারে চালাইতেছে। উট’টাও হাঁটতে লাগলো, ইঁদুরটারে হিরো ভাবটা নিতে দিলো। “এনজয় ইউরসেলফ” সে ভাবলো, “আমি তোমারে একটা উচিত শিক্ষা দিবো।” অরা হাঁটতে হাঁটতে একটা বিশাল নদীর পাড়ে আইসা পড়লো। ইঁদুরটা তো পুরা টাস্কি খায়া গেলো।

“তুমি কিসের লাইগা ওয়েট করতেছো? নদীতে নামো। তুমি তো আমার লিডার। এইখানে থাইমো না।” “আমি তো ডরাইতেছি যে আমি ডুইবা যাবো।” উটটা পানিতে নামলো, “এইটা তো জাস্ট হাঁটুর চাইতে একটু উপ্রে।” “তোমার হাঁটু! তোমার হাঁটু তো আমার মাথার চাইতে একশো গুণ উঁচা!” “আচ্ছা, তাইলে তো তোমার একটা উটরে চালানি উচিত না। তোমার মতো যারা আছে, অদের লগে থাকো। একটা ইঁদুরের তো একটা উটরে তেমনকিছু বলার নাই।” “তুমি কি আমারে পার কইরা দিবা?” “আমার ঘাড়ের উপ্রে উঠো। তোমার মতো শ’য়ে শ’য়ে লোকরে আমি পার করছি।”

তুমি তো নবী না, কিন্তু নবীদের মতো বিনয়ী হইতে পারো, আর উনারা যেইখানে আছেন সেইখানে পৌঁছাইতে পারো। নাও’য়ের হাল ধরার ট্রাই কইরো না। নিজে নিজের দোকান খুইলো না। শোনো। নিরব থাকো। তুমি খোদাতালার পয়গম্বর না। একটা কান হওয়ার ট্রাই করো, আর যদি কথা কওয়াই লাগে, ব্যাখ্যার লাইগা জিগাও। এই যে তোমার দেমাগ আর চেত এইগুলা তোমার লালসা থিকা আসে আর এর জড়ো হইতেছে তোমার অভ্যাসগুলির ভিতর। যার কাদামাটি খাইয়া অভ্যাস তারে যদি তুমি সেইটা খাইতে না দেও তাইলে সে পাগল হয়া যাবে। এই লিডার হওয়ার বাসনা’টাও একটা বিষাক্ত অভ্যাস, যখন কেউ তোমার অথরিটিরে কোশ্চেন করে তোমার মনে হইতে থাকে, “সে তোমার জায়গাটা নিতে চাইতেছে।” তুমি হয়তো ভদ্রভাবে তার উত্তর দেও, কিন্তু ভিতরে ভিতরে তোমার জ্বলুনি ঠিকই থাকে।

তোমার হৃদয়ের মালিকের সাথে সবসময় তোমার ভিতরের অবস্থাটা চেক কইরা নাও। তামা কখনোই বুঝতে পারে না সে তামা যতক্ষণ না পর্যন্ত সে সোনাতে চেইঞ্জ হয়। তোমার ভালোবাসাও তার মহিমারে বুঝতে পারে না যতক্ষণ না সে হেল্পলেস অবস্থায় পৌঁছায়।

 

প্রেমের কুত্তাগুলি

এক রাতে একজন লোক কানতেছিল, আল্লা! আল্লা! বইলা। ডাকতে ডাকতে তাঁর ঠোঁট মধু হয়া উঠতেছিল। তখন এক বাটপার তারে কইলো, “হইছে তো! তোমারে তো খালি ডাকতেই শুনি আমি, জীবনে কোনদিন সাড়া পাইছো তুমি?” ওই লোকের কাছে এর কোন জবাব আছিলো না। সে তার দোয়া-দরূদ থামায়া দিয়া, চিন্তা করতে করতে ঘুমায়া গেলো। স্বপ্নে সে দেখলো যে, খিজির, যিনি আত্মার গাইড, মোটা সবুজ গাছের চমড়া গায়ে দিয়া আসছেন। “তুমি আল্লারে ডাকা থামায়া দিলা ক্যান?” “কারণ আমি তো কোনদিন কোন উত্তর পাই নাই।” “এই যে চাহাত তুমি দেখাইতে পারো, এইটাই তো এর জবাব।”

যেই দুঃখে তুমি কান্দো, সেইটা তোমারে মিলনের দিকে নিয়া যায়। তোমার আসল বেদনা, যা হেল্প চায়, সেইটাই গোপন পেয়ালা। মালিকের লাইগা যে কুত্তা কান্দে তার বিলাপ শুইনো। এই ঘোঙানিটাই হইতেছে কানেকশন। প্রেমের কুত্তাগুলির নাম কেউ জানে না। তাঁদের একজন হওয়ার লাইগাই তোমার জীবন তুমি দেয়া দেও।

 

নউশা

কিছু সময় আগে নউশা নামে এক পোলা আছিলো। সে পাবলিক গোসলখানাগুলিতে মহিলাদের মাথায় শ্যাম্পু দেয়ার কাজ করতো। অর মুখটা ছিল মাইয়াদের মতোন, কিন্তু সে মেয়েলি আছিলো না। তার চাকরি ধইরা রাখার লাইগা সে ছদ্মবেশ ধইরা তার পুরুষ-ভাব লুকায়া রাখতো। মহিলাদের চুল ধুইয়া দেয়ার সময় উনাদের টাচ করতে সে পছন্দ করতো। তার সেক্স জাইগা উঠতো, সুন্দরী মহিলাদের ম্যাসেজ করার সময় তার ধোন সবসময় টনটন করতো, স্পেশালি যখন সে রাজকুমারী আর তার সখীদের ম্যাসাজ করতো।

মাঝে-মধ্যে সে তার জব চেইঞ্জ করার করার কথা ভাবতো। অন্য এমনকিছু যেইখানে তারে সবসময় কামুক হয়া থাকতে হইবো না, কিন্তু সে ছাড়তে পারতো না। সে এক নিগূঢ় দরবেশের কাছে গেছিল আর কইছিল, “আপনে দোয়া করার সময় আমার কথা মনে রাইখেন।” ওই পূণ্যবান লোক স্পিরিচুয়ালি ফ্রি আছিলেন, আর খোদার দিকে নিজেরে ওপেন কইরা রাখছিলেন। উনি নউশা’র গোপন ব্যাপারটা জানতেন, কিন্তু খোদা’র ওয়াস্তে উনি কিছুই কইলেন না। একজন জানা-লোক খুব কম কথাই বলেন, কিন্তু ভিতরে ভিতরে উনি রহস্যে ভরা আর উনার ভিতরে অনেকগুলি ভয়েসের ভীড় থাকে। যারে সেই পাত্র দেয়া হয় তিনি চুপ-ই থাকেন।

পূণ্যবান মানুষটা মুচকি হাসলেন আর জোরে জোরে দোয়া করলেন, “তুমি জানো তোমার লাইফ কেমনে চেইঞ্জ করা লাগবো, খোদা যেন তোমারে সেই রাস্তা দেখায়া দেন।” এইরকম শেখ-এর দোয়া অন্য যারা দোয়া করে তাদের চাইতে আলাদা। তার ইগো তারে পুরাপুরি মুইছা ফেলতে হয়, তার নিজের কিছুই থাকে না, উনি এমনভাবে কথা কন যেন খোদা নিজেই নিজের সাথে কথা কইতেছে। এইরকম দোয়া কেমনে না-মঞ্জুর হয়া থাকে?

এইরকম একটা উপায়ে নউশা চেইঞ্জ হইতে পারছিলো। একবার যখন সে এক ন্যাংটা মহিলার লাইগা বেসিনে পানি দিতেছিল, তখন ওই মহিলা দেখলো যে তার কানের দুলের একটা মুক্তা হারায়া গেছে। তাড়াতাড়ি কইরা অরা দরজাগুলি লাগায়া দিলো। সবগুলি কোশন, তোয়লা, কার্পেট আর জইমা থাকা জামা-কাপড় সবকিছুতে খুঁজলো। কিছুই পাইলো না। তারপর অরা সবার কান, মুখের ভিতর আর প্রতিটা ফুটা আর ছেঁদাও খুঁজলো। সবাইরে ন্যাংটা করা হইলো, আর রাণীর খাস দাসী একজন একজন কইরা সবার তল্লাশি করলো। এর মধ্যে, নউশা কাঁপতে কাঁপতে প্রাইভেট ক্লজেটে চইলা গেলো। “আমি তো মুক্তাটা চুরি করি নাই, কিন্তু অরা যদি আমার কাপড় খোলে আর তল্লাশি করে, অরা তো দেইখা ফেলবো এতগুলি ন্যাংটা মহিলাদের দেইখা আমি কেমন খাড়া হইয়া আছি। খোদা, প্লিজ, আমারে হেল্প করো! আমি চুপচাপ একটা লম্পট আছিলাম, কিন্তু এইবারের লাইগা আমার পাপ’রে কাভার কইরা দেও, প্লিইজ! আমারে উদাম কইরা দিও না, দেখাইও না আমি কেমন আছিলাম। আমি প্রায়শ্চিত্ত করবো!” সে ফোঁপাইয়া ফোঁপাইয়া কানলো আর গোঙাইলো আর ফোঁপাইয়া ফোঁপাইয়া কানলো, সময়ের ভারটা ছিল তার উপরে। “নউশা! তোরে ছাড়া আর সবাইরে সার্চ করছি আমরা। বাইর হয়া আয়!”

ওই মোমেন্টে অর আত্মার ডানা গজাইলো আর উপ্রে উইঠা গেলো। তার ইগো একটা ভাঙা দেয়ালের মতো পইড়া গেলো। জ্যান্ত অবস্থায় সে খোদার সাথে মিইলা গেলো, কিন্তু নউশা’র শরীর খালি হয়া পইড়া রইলো। অর জাহাজ ডুইবা গেলো আর তার জায়গায় সাগরের ঢেউ আসতে লাগলো। বাজপাখির ঠ্যাং থিকা তার বান্ধা দড়ি যেমনে খুইলা পইড়া থাকে এইরকম তার বডি পইড়া থাকলো। তার পাথরগুলি পানিতে মিইশা গেলো। তার মাঠ সোনার সুতাগুলি দিয়া বাঁধানো সাটিনের মতো জ্বলজ্বল করতেছিল। একশ বছর মইরা থাকার পরে কেউ ভালো মতোন হাঁইটা আসতেছে আর তখনো হ্যান্ডসাম আর শক্ত আছে। একটা ভাঙা লাঠি গুঁড়া গুঁড়া হইতেছে। এইসবকিছুই হইতেছিল নউশা’র ভিতরে। তারে ডাকাডাকির পরে এমনেই ডরাইতেছিল সে। তারপর একটা অনেক সময় ধইরা থাইমা থাকলো সবকিছু। অনেক অনেক সময় ধইরা, ইনতেজারের ভিতর চুপ থাকা।

তখন একজন মহিলা চেঁচায়া উঠলো, “এইটা তো এইখানে!” গোসলখানাটা হাততালির আওয়াজে ভইরা উঠলো। নউশা দেখলো একটা নতুন লাইফ তার সামনে জ্বইলা উঠলো। ওই মহিলা আইসা অর কাছে মাফ চাইলো, “আমরা আসলেই সরি যে আমরা তোরে ট্রাস্ট করি নাই। আমরা জাস্ট ভাবছিলাম যে, তুই মুক্তাটা নিছিস।” অরা কইতে থাকলো কেমনে অরা অরে সন্দেহ করছিলো আর অর কাছে মাফ চাইতে লাগলো।

শেষমেশ সে উত্তর দিলো, “আপনেরা যা বলতেছেন বা ভাবতেছেন আমি তার চাইতে আরো অনেকবেশি দোষী। আমি দুনিয়ার সবচাইতে বাজে লোক। আমি যতো রকমের বাজে কাম করছি তার একশোটার একটা খালি আপনারা কইছেন। আমার কাছে মাফ চাইয়েন না! আপনারা আমারে চিনেন না। কেউ আমারে চিনে না। আমার চোট্টামি খোদাতালা লুকায়া রাখছে। শয়তান আমারে ট্রিকসগুলি শিখাইছে, কিন্তু একটাসময় এইগুলি করা তো ইজি, আর আমি শয়তানরে নতুন কিছু তরিকা শিখাইছি। খোদা দেখছেন আমি কি করছি, কিন্তু পাবলিকলি আমার পাপগুলিরে দেখান নাই।

আর এখন পুরাটার ভিতর আমি ফেরত আসছি! যা কিছু আমি করছি, এখন সেইটা করা হয় নাই। যেই যেই আনুগত্য আমি দেখাই নাই, এখন সেইটা দেখানো হইছে। খাঁটি, মহান, ফ্রি একটা দেবদারুর মতোন, একটা পদ্মফুলের মতোন হয়া গেছি আমি, হঠাৎ কইরাই। আমি কইছিলাম, আর না! হেল্প করেন আমারে! আর সেই আর না! একটা দড়ির মতোন আমার কুয়ার ভিতরে আসছিলো। আমি সেই দড়ি বাইয়া উইঠা আসছি এই সূর্যের আলোতে। একটা মোমেন্টে আমি আছিলাম স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গার তলাতে, ডরের চিপাগলিতে, আর তার পরে এই দুনিয়া আমারে ধইরা রাখতে পারে নাই। যদি আমার প্রতিটা চুলের প্রতিটা গোড়া কইতে পারতো, তারপরও আমি আমার কৃতজ্ঞতার কথা কইতে পারতাম না। এইসব রাস্তাগুলি আর বাগানগুলির মাঝখানে আমি দাঁড়ায়া আছি আর বারবার কইতেছি, বারবার কইতেছি আর খালি এইটাই কইতেছি, আমি যেইটা জানি সেইটা যদি সবাই জানতে পারতো

 

মুসা আর ভেড়ার-রাখাল

মুসা শুনলেন যে রাস্তার উপরে এক ভেড়ার-রাখাল মোনাজাত করতেছে, “খোদা, তুমি কই? আমি তোমারে হেল্প করতে চাই, তোমার জুতা সেলাই কইরা দিতে চাই আর তোমার মাথার চুল আঁচরাইয়া দিতে চাই। আমি তোমার কাপড় ধুইয়া দিতে চাই আর উকুন বাইছা দিতে চাই। আমি তোমার লাইগা দুধ আইনা দিবো আর যখন তোমার ঘুমানোর টাইম আসবে আমি তোমার ছোট ছোট হাত আর পা-গুলাতে চুমা খাবো। আমি তোমার ঘর মুইছা দিবো আর সাফ কইরা রাখবো। খোদা, আমার সব ভেড়া আর গাধাগুলি তোমার। আমি যা কইতে পারি, তোমারে মনে কইরা, সেইটা হইতেছে আআআআআ আর আহাহাহাহাহা।”

এই কথা শুইনা মুসা আর চুপ কইরা থাকতে পারলেন না। “তুমি কার লগে কথা কইতেছো?” “যে আমাদেরকে বানাইছে আর এই দুনিয়া আর আসমান বানাইছে।” “থোদার লগে জুতা আর মোজা নিয়া কথা কইও না! আর এই ছোট হাতগুলি আর পা’গুলি নিয়া কি কথা? এইরকমের কুফরির কথা শুইনা মনে হইতেছে তুমি তোমার চাচার লগে কথা কইতেছো। যা কিছু বাইড়া উঠে তার দুধের দরকার। যার ঠ্যাং আছে তারই খালি জুতার দরকার। খোদার তো দরকার নাই! এমনকি যখন তুমি খোদার কোন পয়গম্বেরর কথা কও, তখনো খোদা কইছেন, ‘আমি অসুস্থ আছিলাম আর তুমি আমারে দেখতে আসো নাই।’ এইরকমের টোনে কথা কওয়াটাও বোকামি আর অদরকারি। ঠিক টার্ম ইউজ করো। ফাতিমা খুব সুন্দর একটা নাম, একজন মহিলার লাইগা, কিন্তু যদি একজন পোলারে তুমি ফাতিমা বইলা ডাকো, সেইটা তো একটা অপমান। শরীর-আর-জন্মের ভাষায় নদীর পাড়ে বইসা কথা কওয়াটা ঠিকাছে, কিন্তু সবকিছুর মূল যিনি, সেই আল্লা’র লগে এমনে কথা কওয়া যায় না।” রাখালটা অনুতাপ করলো আর তার কাপড়-চোপর ছিঁইড়া ফেইলা চেঁচাইতে চেঁচাইতে মরুভূমিতে ছুইটা গেলো।

মুসার কাছে হঠাৎ ওহী আসলো, খোদার আওয়াজে: তুমি আমারে আমার নিজের কাছ থিকা আলাদা কইরা দিলা তুমি কি নবী হিসাবে আইছো জোড়া দেয়া লাইগা নাকি আলাদা করার লাইগা? আমি সবাইরে আলাদা আর ইউনিক রাস্তা দিছি দেখার আর জানার আর জানার কথা বলার লাইগা তোমার কাছে যেইটা ভুল সেইটা তার কাছে ঠিক একজনের কাছে যেইটা বিষ আরেকজনের কাছে সেইটা মধু ভক্তির মধ্যে শুদ্ধ আর অশুদ্ধ, আলইসা আর সারাদিন-লাইগা-থাকা আমার কাছে কিছুই মিন করে না আমি এইসবকিছুর বাইরে ভক্তির রাস্তাগুলির মধ্যে কোনটা কোনটার চাইতে ভালো বা খারাপ বা কোন র‌্যাঙ্কিং করা যায় না হিন্দুরা হিন্দুদের কাজ করে ইন্ডিয়াতে দ্রাবিড় মুসলমানেরা তাদের কাজ করে এইগুলি সবগুলিই প্রশংসা, আর এইটা ঠিকই আছে ভক্তির ভিতর দিয়া আমার কোন গৌরব বাড়ে না ভক্তের বাড়ে! তারা কি শব্দ বলে সেইটা আমি শুনি না তাদের নীচাবস্থার ভিতরে আমি দেখি ওই ভাইঙ্গাপড়া নিরহঙ্কারটা হইতেছে রিয়ালিটি, ভাষাটা না! বাক্যরীতিগুলিরে ভুইলা যাও আমি চাই জ্বলুনিটা, জ্বলুনিটা তোমার এই জ্বলুনির সাথে দোস্তি পাতাও তোমার চিন্তা আর প্রকাশের রীতিটারে জ্বালাইয়া ফেলো মুসা, যারা ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেয় আর বলার দিকে দেখে অরা একরকমের প্রেমে জ্বলে যারা তারা অন্যরকমের

জ্বলতেছে যেই গ্রাম তার উপরে সম্পত্তির কর বসাইও না। দিওয়ানারে বইকো না। যেই “ভুল” ভাবে সে কথা কয় সেইটা একশ’ জনের “ঠিক” বলার চাইতে বেটার। কাবার ভিতরে কোনদিকে তুমি জায়নামাজ বিছাইতেছো সেইটা কোন ঘটনা না! সাগরে যে ঝাপ দেয় তার তো বরফের জুতার দরকার নাই। পিরীতের-ধর্মের কোন সংকেত বা তত্ত্ব নাই। খালি খোদা আছে। চুনি-মানিকে খোদাই করার কিছু নাই! কোন চিহ্ন দেয়ার কিছু নাই। খোদা আরো অনেক গভীর রহস্যের কথা কইতে লাগলেন মুসারে। দৃশ্য আর শব্দগুলি, যেইগুলি এইখানে আর বলা যায় না, তার ভিতর দিয়া আর মধ্যে সেইসবকিছু ঢাইলা দিলেন। মুসা নিজেরে ছাইড়া গেছিল আর ফিরা আসছিল। উনি মরা’র পরে চইলা গেছিলেন আর এইখানে ফিরা আসছিলেন। অনেকবার এইরকম হইলো। আমি যদি এইকথা বলার ট্রাই করি সেইটা হবে বোকামি। যদি আমি এইটা বইলাও থাকি সেইটা হবে আমাদের মানবিক বুদ্ধিশুদ্ধিগুলির একটা চিল্লাচিল্লি। সেইটা সব কলমগুলিরে ভাইঙ্গা-চুইরা দেয়ার কথা।

মুসা তখন সেই রাখালের পিছনে দৌড় লাগাইলেন। উনি সেই হতভম্ব পায়ের ছাপ ধইরা আগাইতে লাগলেন, একটা জায়গাতে সে দাবাখেলার কিস্তির মতো স্ট্রেইট যাইতেছিল। আর আরেকটা জায়গাতে গজের মতোন কোনাকুনি যাইতেছিল। এখন একটা ঢেউয়ের মতোন উথাল-পাথাল, এখনই আবার মাছের মতোন গোত্তা খাইয়া পড়তেছে, তার পায়ের ছাপ বালিতে যেই নকশা বানাইছে, সেইটা তার হতবিহ্বল অবস্থার ছাপ রাইখা গেছে। শেষে মুসা তারে ধরতে পারলেন। “আমি ভুল করছিলাম। খোদা আমার কাছে খোলাসা করছে যে, ভক্তির মধ্যে কোন নিয়ম-কানুন নাই। তোমার প্রেম তোমারে যা কইতে কয় আর যেইভাবে কইতে কয়, তুমি কও সেইটা। তোমার মধুর কুফরি হইতেছে তোমার সবচে সত্যিকারের মোনাজাত। তোমার ভিতর দিয়া সারা দুনিয়া আজাদ হইতে পারে। তোমার জিহ্বারে খুইলা দাও আর কি বাইর হইয়া আসে সেইটা নিয়া ভাইবো না। এর সবকিছুই হইতেছে আত্মার রোশনি।” ভেড়ার-রাখালে কইলো, “মুসা, মুসা রে, আমি তো এর বাইরে চইলা গেছি। তুমি চাবুক চালাইছো আর আমার ঘোড়া থাইমা গেছে আর এর থিকা বাইর হইয়া গেছে। ঐশী স্বভাব আর মানুষের স্বভাব একলগে আছিলো। তোমার বকার হাত আর তোমার বাহু’রে মোরাবক জানাই। আমি তো কইতে পারি না কি হইছে। আমি যা কইতেছি এখন সেইটা তো আমার আসল অবস্থা না। এইটা তো কওয়া যায় না।” ভেড়ার-রাখাল আবারো চুপ হইয়া গেলো।

যখন আপনি আয়নার দিকে তাকান, তখন আপনি আপনারে দেখেন, আয়নার অবস্থাটারে দেখেন না। বাঁশিওলা বাঁশির ভিতরে তার শ্বাস ফেলে, আর মিউজিকটা বাজায় কেডা? বাঁশিটা তো না। বাঁশিওলা! যখন আপনি প্রশংসা করেন বা খোদার রহমতের কথা বলেন, সেইটা সবসময় এইরকম ভেড়ার-রাখালের মতো সহজ-সরল। যখন আপনি ধীরে ধীরে পর্দার ভিতর দিয়া দেখেন জিনিসগুলি কি রকম, আপনি বারবার বারবার কইতে থাকবেন, “এইটা তো এইরকম না, যেইরকম আমরা ভাবছিলাম!”

 

রুটি-বানানি

একটা খানা-পিনা’র প্রোগ্রাম চলতেছিল। রাজা উনার মদের কাপের মধ্যে মইজা ছিলেন। উনি দেখলেন যে একজন মওলানা ধার দিয়া হাঁইটা যাইতেছে। “ওরে ধইরা আনো আর এই ভালো মদ খাইতে দেও।” চাকর-বাকরেরা দৌড় লাগাইলো আর তারে রাজার টেবিলে নিয়া আসলো। কিন্তু সে মোচড়ামুচড়ি করতেছিল। “দরকার পড়লে আমি বিষ খামু! আমি জীবনেও মদ খাই নাই আর খামুও না! আমার সামনে থিকা সরাও এইটা!” সে চিল্লায়া চিল্লায়া এইগুলি কইতে থাকলো আর প্রোগ্রামের পুরা আমেজটাই নষ্ট কইরা দিতেছিল। খোদার টেবিলে অনেকসময় এইরকম ঘটনাও ঘটে। যে পিরীতের টানের কথা শুনছে, কিন্তু কখনোই সেইটা টেস্ট করে নাই, এইরকম মজমারে পন্ড করে। যদি তার কান থিকা গলা পর্যন্ত কোন গোপন রাস্তা থাকতো, সবকিছু চেইঞ্জ হইতে পারতো। তার দীক্ষা হইতো। এখন এইরকম যে, তার ভিতরে খালি আগুন, কোন আলো নাই, খালি তুষ, কোন শাঁস নাই।

রাজা তখন হুকুম দিলেন। “খানসামা’রা, তোমাদের যেইটা করার দরকার সেইটা করো!” এইভাবেই অদৃশ্য গাইড কাজ করেন, দাবার চ্যাম্পিয়ান তোমারে পার হয়া গিয়া সবসময় জিইতা যায়। উনি মওলানার হাত বান্ধলেন আর কইলেন, “খা!” আর কইলেন, “আবার!” কাপগুলি খালি হইতে লাগলো আর মওলানা তো গান গাইতে লাগলো আর ফালতু জোকস কইতে লাগলো। সে বাগানে সবার লগে জয়েন করলো, তার হাতের আঙুলগুলি কামড়াইতে লাগলো আর দোল খাইতে লাগলো। একটু পরেই তার মুতে ধরলো। সে বাইরে গেলো, আর ওইখানে, ল্যাট্রিনের কাছে, রাজার হারেমের এক সুন্দরী’রে সে দেখলো। তার মুখ তো পুরা হা হইয়া গেলো। তারে লাগবো তার! ওই মোমেন্টেই ওরে তার লাগবো! আর শেও অ-রাজি ছিলো না। তারা জড়াজড়ি কইরা মাটির উপ্রে পড়লো। আপনি রুটিওলারে ময়দার তাল মাখাইতে দেখছেন তো? প্রথমে সে আস্তে আস্তে পিষে, তারপরে জোরে দালাই-মালাই করতে থাকে। সে ওইটারে উপরে তোলে; হাতের তালুতে নিয়া নরোম কইরা ঘষতে থাকে। এরপরে সে ওইটারে ছড়াইয়া দেয় আর লম্বা কইরা বেলতে থাকে। তারপরে সে ওইটারে দলা বানায়, আর আবার বেলতে বেলতে পাতলা বানাইতে থাকে। এরপরে সে পানি দেয়, আর ওইটারে ভালো কইরা মিশায়। এরপরে লবণ দেয়, আর আরেকটু লবণ দেয়। এরপরে সে খুব সূক্ষভাবে এইটারে ফাইনাল শেইপে নিয়া আসে আর চুলার ভিতরে ঠেইলা দেয়; যেইটা ততক্ষণে গরম হইয়া উঠছে। রুটি-বানানির কথা মনে করেন! এইরকম কইরাই আপনার ডিজায়ার একজন চাহাতের মানুষের সাথে জট পাকায়া যায়।

এইটা খালি একজন পুরুষ আর নারীর ভালোবাসা করাকরি’র মেটাফোর না। যুদ্ধের মধ্যে সৈনিকরাও এইটা করে। একটা মহান কোলাকুলির ঘটনা সবসময় ঘটে যা থাকে সবসময় আর যা মইরা যায় – তার মধ্যে, আসল আর অ্যাকসিডেন্টের মধ্যে। প্রতিটা কেইসে খেলাটার আলাদা আলাদা নিয়ম আছে, কিন্তু বেসিক্যালি সেইম জিনিস, আর মনে রাখবেন: যেইভাবে আপনি প্রেম করেন, খোদা সেইভাবেই আপনার লগে থাকে।

তো, এই দুইজন সেক্সুয়াল মোহের ভিতর হারায়া গেছিল। অরা দুইজনে মজমা নিয়া বা মদ নিয়া কোন কেয়ার করে নাই। ঠিকমতো মিইশা যাওয়া ক্যালিগ্রাফির লাইনের মতো অদের চোখ বন্ধ হয়া ছিল। রাজা তখন মওলানারে খুঁজতে বাইর হইলেন, আর যখন অদেরকে জড়াজড়ি অবস্থায় দেখতে পাইলেন, কইলেন, “ঠিকাছে, এইরকম কথা তো আছেই যে, ‘একজন ভালো রাজার অবশ্যই তার নিজের টেবিল থিকা অতিথি’রে খাওন দেয়া দরকার।’” এইটা একটা আনন্দ, একটা মাতলামির ফ্রিডম যেইটা মনের ভিতর মিইশা যায় আর আত্মারে ফিরায়ে দেয়, আর এইটা রাজার মতো পুরুষের সহ্যক্ষমতা, একটা বুঝতে-পারা যেইটা হারাইয়া ফেলার বিহ্বলতারে মাইনা নিতে পারে। কিন্তু এখন স্থিরতা আর স্পষ্টতার ধ্যান করেন, আর এই ডানাগুলিরে উইড়া যাইতে আর ঘুইরা বেড়াইতে দেন বেহেশতের এলাকায়।

 

নাইটিঙ্গেল

পাখিদের একটা দল আইসা সোলেমানের কাছে কমপ্লেইন করতেছিল, “আপনে কোন সময়ই নাইটিঙ্গেলের সমালোচনা করেন না ক্যান?” তখন সোলেমানের হইয়া নাইটিঙ্গেলই ব্যাখ্যা দিল – “কারণ আমি তোমরার মতো না। মার্চের মাঝখান থিকা জুনের মাঝখানেই খালি আমি গান গাই। আর বাকি নয় মাস যখন তোমরা কিচিরমিচির করো, চুপ থাকি আমি।”

 

রোগা গাধা নিয়া যিশুর কথা

রোগা গাধারে নিয়া আছে যিশুর কথা, বিজ্ঞ মেধার লোক কেমনে পশু-আত্মারে কন্ট্রোল করবেন সেইটার একটা মাজেজা। আপনার আত্মারে শক্ত থাকতে দেন, যিশুর মতোন। যদি এইটা দুর্বল হয়া যায় তাইলে বেহাল গাধাটা একটা ড্রাগন হয়া উঠবো। সবুর মানেন, যখন দেখবেন কোন জ্ঞানী লোক আপনারে ধমকিধামকি করতেছেন।

একবার, একজন পরহেজগার লোক তার গাধাতে চইড়া যাইতেছিলেন। দেখলেন যে, ঘুমায়া থাকা একজন লোকের মুখের ভিতর একটা সাপ ঢুকে যাইতেছে! উনি তাড়াহুড়া করলেন, কিন্তু এইটা থামাইতে পারলেন না। উনি উনার লাঠি দিয়া লোকটারে পিটাইতে থাকলেন। লোকটা ধড়ফড়ইয়া উঠলো আর দৌড়াইয়া একটা আপেল গাছের তলায় গেলো, যেইখানে অনেক পচা আপেল পইড়া ছিল। “খা! কমবখত, বদমাইশ! খা।” “আপনে আমার লগে এইরকম করতেছেন ক্যান?” “বেকুব কোনখানকার, আরো খা।” “আমি তো আপনারে আগে কোনদিন দেখি নাই! আপনে কেডা? আমার ভিতরের আত্মার লগে আপনার কোন কাইজ্জা আছে নাকি?”

পরহেজগার মানুষটা তারে আরো জোর কইরা খাওয়াইতে লাগলেন, আর এরপরে দৌড়ানি দিলেন। কয়েক ঘণ্টা ধইরা তারে চাবুক দিয়া পিটাইলেন আর দৌড়াইতে লাগলেন। শেষে, সন্ধ্যার সময়, সব পচা আপেলগুলি খাইয়া হয়রান হইলো সে, রক্ত বাইর হইলো, পইড়া গেলো আর বমি কইরা সব বাইর কইরা দিলো, ভালো খারাপ যা আছিলো, আপেলগুলি আর সাপটা। যখন সে দেখলো যে বদখত সাপটা তার ভিতর থিকা বাইর হয়া আসতেছে, তখন সে তার আঘাতকারীর সামনে সিজদা দিয়া পড়লো। “আপনে কি জিবরাইল? আপনি কি খোদা?” যখন আপনি আমারে পয়লা দেখছেন সেই মোমন্টাতে আমার উপর রহমত ছিল। আমি মারা যাইতেছিলাম আর আমি সেইটা জানতাম না। আপনে আমারে নতুন লাইফ দিছেন। আমি আপনারে যা কইছি সবই ছিল আজাইরা! আমি জানতাম না!”

“আমি যা করতেছি, সেইটা যদি আমি তোমারে কইতাম, তাইলে ত তুমি ঘাবড়াইয়া যাইতা আর ডরের চোটে মইরাই যাইতা। মুহাম্মদ কইছেন, ‘শত্রুদের মনের ভিতরে যেই মানুষটা আছে, আমি যদি তাদেরকে সেইটা কইতাম, সবচে সাহসী লোকটাও প্যারালাইজড হয়া যাইতো। কেউ বাইর হইতে পারতো না, বা কোন কাম করতে পারতো না। কেউ রোজা রাখতে বা নামাজ পড়তে পারতো না; কোনকিছু করার ক্ষমতা নাই হয়া যাইতো মানুষের কাছ থিকা।’ এইজন্য আমি চুপ আছিলাম, যখন তোমারে পিটাইতেছিলাম। যেমনে দাউদ নবী তার লোহারে শেইপে আনতেছিলেন, যাতে, অসম্ভব হইলেও, পাখির ডানায় তার পালকগুলি ফিরায়া দিতে পারি।

খোদার সাইলেন্সটা জরুরি, কারণ মানবজাতি’র অবশপণা আছে। যদি আমি তোমারে সাপের কথা কইতাম, তুমি আর খাইতে পারতা না, আর যদি তুমি খাইতে না পারতা, তুমি বমি করতে পারতা না। আমি তোমার অবস্থাটা দেখছিলাম আর আমার গাধা দৌড়াইয়া এর মাঝখানে পৌঁছাইছিলাম। আমার শ্বাসের ভিতর আমি বারবার কইতেছিলাম, ‘হে খোদা, এইটা তার লাইগা সহজ কইরা দেও।’ তোমারে বলার পারমিশন আমার আছিলো না, আর তোমারে বাইরানি বন্ধ করার পারমিশনও ছিলো না!” বাঁইচা-উঠা লোকটা, তখনো হাঁটু গাইড়া বইসা ছিলো, “আপনার জ্ঞানের এই দ্রুততার লাইগা আর আপনার গাইডেন্সের শক্তিমত্তার লাইগা কেমনে যে আপনার শুকরিয়া আদায় করবো আমি জানি না। খোদাই আপনার শুকরিয়া আদায় করবো।”

 

মাইনষের সততা

তারা বাইরে আছিলো, এক রকমের ফেইক একটা ভাবের দশায়, ভন্ডটা আর তার ফ্রেন্ড, শহরের মেয়র। তখন মাঝ-রাত, আর বৃষ্টি পড়তেছিল। পাহাড়ের ধারে একটা নেকড়ে দেখা গেলো। মেয়র একটা তীর ছুঁইড়া মারলেন আর সেইটা নেকড়েটারে শুয়াইয়া ফেললো। নেকড়েটা কুঁকাইয়া উঠলো, পাদ দিলো আর মইরা গেলো।

ভন্ডটা চেঁচাইয়া উঠলো, “তুমি আমার গাধাটারে মাইরা ফেলছো। পানি থিকা যেমন আমি মদরে আলাদা করতে পারি এইরকম ভালো কইরা আমি আমার গাধার পাদ’’রে চিনি।” “না, না। আমি একটা নেকড়ে মারছি। গিয়া দেখো। অন্ধকারের লাইগা এইখান থিকা তো কিছু দেখা যাইতেছে না।” “বিশটা জন্তুর বিশটা পাদের বাতাস থিকা আমি আমার কচি গাধাটারে চিনতে পারি। আমি খুব ভালোভাবেই এইটা জানি।” “জোচ্চুর কোনখানের! এই মাঝরাইতে, বৃষ্টির মধ্যে, পঞ্চাশ গজ দূর থিকা তুই একটা পাদ থিকা আরেকটা পাদ আলাদা করতে পারিস! আজকে ত তুই আমারেই চিনোস নাই, আর আমরা দশ বছর ধইরা একজন আরেকজনরে চিনি! তুই খোদা-ভাবে মাতাল হওয়ার ভাব করতেছিস যাতে আমি অন্য সবকিছু ভুইলা থাকার লাইগা তোরে মাফ কইরা দেই; যাতে আমার মনেহয় তুই বাচ্চাদের মতো বা আনন্দে মইজা আছিস। তুই তো সেইটা না। আসলে তোর “দরবেশগিরি” আর “নিঃস্বার্থ সারেন্ডার” নিয়া অনেক দেমাগ।” “ও, দুইটা দুনিয়াই এইখানে আছে! আমি কইতে পারি না কোনটা হইলো কোনটা! আমার যে এই দশা এইটা আমার গাধার পাদই প্রমাণ করে।”

এইভাবে ভন্ডরা নিজেদের খোলাসা কইরা ফেলে। যে ক্লেইম করে যে, “আমি হইলাম দরজার পাহারাদার,” তারে ওস্তাদদের দিয়া পরীক্ষা করা হইবো। এইরকম যখন একজন কয় যে, আমি খুব ভালো দর্জি তখন রাজা তার কাছে আসে আর একটা সার্টিনের পিস ছুঁইড়া দিয়া বলবে “আমারে একটা ফতুয়া বানায়া দাও।” সে জানে না এইটা নিয়া সে কি করবো।

খোদার ভালোবাসা হইলো মাইনষের সততা। ওই ভন্ডটা ননীদুধ খাইতেছিল। সে কইতেছিল, “আমারে আমার ভাবের মধ্যে থাকতে দাও। একটা চাবি থিকা একটা ছোট কুঠার’রে আমি আলাদা করতে জানি না। আমি হইলাম জুনায়েদ। আমি হইলাম বোস্তামি!” স্পিরিচুয়াল আইলসামি আর স্পিরিচুয়াল লোভ তো লুকায়া থাকতে পারে না। যদি তুমি হাল্লাজ সাজতে চাও আর তোমার ফেইক জ্বলুনি দিয়া তোমার দোস্তদের আগুন লাগাও, তুমি ভাইবো না যে তুমি কোন দিওয়ানা। তুমি হইলা মুর্খ আর অবশ একটা জিনিস। তুমি আমরার রক্ত চুষে খাইতেছো আর তোমার কোন ধারণাই নাই কাছাকাছি থাকা কি জিনিস।

 

দালকাকের মেসেজ

তিরমিদের রাজার জরুরি একটা কাজ পড়লো সমরখান্দে। তার এমন একজন দূতের দরকার পড়লো যে সেইখানে যাবে আর পাঁচদিনের মধ্যে ফিরা আসতে পারবে। যে এই কামটা কইরা দিতে পারবো তারে উনি অনেক উপহার দেয়ার কথা কইলেন – ঘোড়া, দাস-দাসী, সোনা-দানা আর সম্মানের আলখাল্লা। রাজদরবারের ভাঁড়, দালকাক, তখন গ্রামে আছিলো, এই কথা যখন শুনলো; সে সাথে সাথে ঘোড়ায় চইড়া বসলো আর শহরের দিকে আসতে লাগলো। সে খুবই জোরে ঘোড়া দৌড়াইতেছিল। তার চাবুকের বাড়ি খাইয়া দুইটা ঘোড়া হাঁপাইতে হাঁপাইতে মরলো। পুরা ধূলা-মাখা অবস্থায় খুব অসময়ে সে পৌঁছাইয়া রাজদরবারে সবার সামনে রাজার সাথে দেখা করতে চাইলো। শহরে হৈচৈ পইড়া গেলো। ওই দালকাক, বেকুবটা কি বিপদ না জানি ডাইকা আনতেছে; ওর এতো খেপার কি আছে? সবাই্ রাজপ্রাসাদে গিয়া জমা হইলো।

“আমাদের উপর কোন গজব পড়তেছে!” “এইবার নিশ্চয় বড়রকমের কোন অঘটন ঘটছে!” রাজা নিজেও খুব চিন্তায় পড়লেন। “কি হইছে, দালকাক?” যখন কেউ কোনকিছু নিয়া কওয়ার লাইগা জিগায় দালকাক’রে, সে ঠোঁটের উপর তার আঙুল নিয়া কয়, শশশ্‌শশ… সবাই একদম চুপ হইয়া যায়। দালকাক আবার ইশারা দিয়া কইলো যে, তার শ্বাস নেয়ার লাইগা কিছু টাইম দরকার। লম্বা একটা টাইম ধইরা ওয়েট করতে থাকলো সবাই। কেউ দালকাক’রে এইরকম অবস্থায় দেখে নাই। এমনিতে, সে সারাক্ষণ নতুন নতুন জোকস কইতে থাকে। আর রাজা এত জোরে জোরে হাসতে থাকেন যে, বুকে হাত দিয়া জমিনে পইড়া যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। এইরকম চুপ থাকাটা তো খুবই বাজে আর অমঙ্গলের কথা। সবার সব ভয়গুলা বাইর হয়া আসতে থাকলো। “খুইরিজম থিকা অত্যাচারীটা কি আসতেছে আমাদেরকে খুন করার লাইগা!” “দালকাক, ক কি হইছে!”

“আমি তো রাজদরবার থিকা দূরে আছিলাম যখন আমি শুনলাম যে আপনার একজন দূত দরকার যে সমরখান্দে গিয়া আবার পাঁচদিনের মধ্যে ফিরা আসতে পারবো।” “হ্যাঁ তো” “আমি তাড়াতাড়ি কইরা এইটা বলার লাইগা আইছি যে, আমি এই কাম করতে পারবো না।” “কি!” “আমার তো এই স্ট্যামিনা বা ক্ষমতা নাই। আপনি আবার ভাইবেন না যে আমি এইটা করতে পারবো।” “তুমি এইটা করতে পারবা না, ‘এইটা’ কওয়ার লাইগা তুমি এই তোলপাড়টা করলা?”

দালকাক হইলো তার মতো যে বুঝাইতে চায় যে সে খুব কঠিন ঈমানের রাস্তায় আছে। জামাইয়ের বাড়িতে প্রিপারেশনের ধুম-ধাম পইড়া গেছে, সবসময় রেডি হইয়া রইছে বউ’রে নেয়ার লাইগা; কিন্তু মেয়ে’র ফ্যামিলি তো কিছুই জানে না। কোন খবর কি আছে? “না।” কোন কাজকাম কি শুরু হইছে? “না।” চিঠিগুলি তো লেখা হইতেছে আর পাঠানো হইতেছে, কিন্তু দোস্তের কাছে কি একটা চিঠিও পৌঁছাইছে? তোমার মনের ভিতরের দিওয়ানা কি সেই চিঠিগুলি পড়তেছে?

 

আয়না পলিশ করা

নবী মুহাম্মদ একবার সর্দার আর প্রিন্সদের সাথে খুব জরুরি কথা বলতেছিলেন তখন একজন গরিব কানা লোক আইসা উনার লগে কথা কইতে চাইলো। নবীজি একটু চেইতা গিয়া লোকটারে কইলেন, “আগে আমারে উনাদের লগে কথা কইতে দেও। উনাদেরকে তো সবসময় একসাথে পাওয়া যায় না। আর তুমি তো আমার বন্ধু-মানুষ, আমাদের তো আরো অনেক টাইম আছে, কথা কওয়ার।”

তখন নবীজির সাথের একজন উনারে কইলো, “এই কানা লোকটা হয়তো একশজন রাজার চাইতে বেশি দরকারি। ওই কথাটা কি আপনার মনে নাই, সব মানুষ হইলো আমার

দুনিয়ার ক্ষমতা তো কিছু না। জীবনের না-বলা ভিতরের মনিমুক্তাগুলাই হইলো আসল।

একটা গু’য়ের পোকা যদি গোলাপের পানির দিকে যায়, বুঝতে হবে যে পানির মধ্যে কোন ঝামেলা আছে। কারণ গু’য়ের পোকা গোবর পছন্দ করে, গোলাপের সুগদ্ধি না। যদি একটা কয়েন পরশপাথর দিয়া যাচাই হইতে চায়, হইতে পারে যে এই কয়েনটাই একটা পরশপাথর। একটা চোর রাতের দিওয়ানা। কিন্তু আমি হইলাম দিন। আমি জিনিসের এসেন্সরে সামনে নিয়া আসি।  একটা বাছুরের কাছে একটা গরুই হইলো খোদা। একটা গাধার ধর্মচিন্তা পাল্টায় যখন নতুন কেউ তারে পালতে নেয় আর সে যা চায় তারে সেইটাই দেয়।

আমি কোন গরু না, উটের কাছে কোন কাঁটার গাছও না যা সে দেইখা শুইনা চইলা যাইবো। যেইসব লোকজন আমারে অপমান করে তারা খালি নিজেদের আয়না-ই পালিশ করতেছে। আর একটা পালিশ করা আয়নায় কিছুই দেখা যায় না।

 

লড়াইয়ের ময়দানে

ইগো’রে না জড়াইয়া কেমনে ফাইট করা লাগে এইটা আলী’র কাছ থিকা শিখতে হবে আমাদেরকে।

একবার এক লড়াইয়ে এক সেনাপতিরে মাটিতে ফালাইয়া দিয়া উনি তলোয়ার দিয়া মারতে গেলেন। সেনাপতি হাতের কাছে কিছু না পাইয়া চেইতা গিয়া আলী’র মুখে থুতু ছুঁইড়া মারলো। আলী তখন তার তলোয়ার ফালায়া দিলেন, চুপ কইরা থাকলেন কিছুক্ষণ, তারপরে সেনাপতিরে হাত ধইরা তুললেন।

সেনাপতি অবাক হইয়া জিগাইলো, “এইটা কি হইলো? আপনি আমারে মারলেন না ক্যান? এইটা কেমনে সম্ভব যে, একটা বাজ মেঘের কাছে ফিরা গেলো আবার? রাজকুমার, আপনি আমারে সেই কথা বলেন, যাতে আমার আত্মা আমার ভিতরে একটা ভ্রূণের মতো কাঁপতে পারে।”

আলী চুপ কইরা থাকলেন আর তারপরে কইলেন, “আমি হইলাম খোদার সিংহ, আমার আবেগের না। আমার খোদা সূর্যের মতোন। উনি ছাড়া আর কোনকিছুর লগেই আমার কোন রিলেশন নাই। যখন কোন পারসোনাল ফিলিংস আসে আমি সেইটার লগে যাই না। রাগ, কাম আর লোভের অনেক বাতাস আছে। তারা রাবিশ সব জিনিস নিয়া আসে, কিন্তু আমাদের সত্যিকারের যে আত্মা সেইটা পাহাড়ের মতোই অটল থাকে। পবিত্র অনভূতির বাইরে আমার আর কিছুই নাই। এই খোলা দরোজার ভিতর দিয়া তুমি আমার কাছে আসো।

তোমার এই চেত আমার রেসপেক্টের চাইতে বেটার আছিলো, কারণ ওই মোমেন্টে আমি ছিলাম তুমি আর তুমি ছিলা আমি। খোদা যেমন আমারে উপহার দিছেন সেই খোলা মনে আমি তোমারে দেখছি। তোমার থুতুর বিষ’রে দোস্তি’র মধু হিসাবে আমি দেখতে পাইছি।”

 

রাজা, হেরেমের বান্দী আর কবিরাজ

আপনি কি জানেন কেন আপনার আত্মার-আয়না যেইরকম ক্লিয়ারলি রিফ্লেক্ট করার কথা সেইরকম করে না? কারণ এর উপরে ধূলা জমতে শুরু করছে। এইটা সাফ করা লাগবে। একটা কাহিনি আছে ভিতরের অবস্থাটা নিয়া যা দিয়া আত্মার-আয়নাটারে বোঝা যাবে।

আগের দিনে এক রাজা আছিলেন যিনি উনার রাজ্যে দেখানোর দিক আর স্পিরিচুয়াল দিক – দুইদিক দিয়াই পাওয়ারফুল আছিলেন। একদিন উনি যখন শিকারে যাইতেছিলেন তখন এক মাইয়ারে দেখলেন আর তাঁর সৌন্দর্য্য দেইখা তো উনি ফিদা হইয়া গেলেন। নিয়ম অনুযায়ী উনি তাঁর আব্বা-আম্মারে বহুত টাকা-পয়সা দিলেন আর তাঁরে বান্দী কইরা তার মহলে নিয়া আসলেন। উনি তাঁর প্রেমে পইড়া গেছিলেন। এই ফিলিংসটা তার বুকের ভিতর কাঁপতেছিল আর ডানা ঝাপটাইতেছিল যেমনে একটা নতুন পাখি খাঁচাতে তড়পাইতে থাকে। কিন্তু আসার সাথে সাথেই শে অসুস্থ হইয়া পড়লো। রাজার অবস্থাটা হইলো সেই লোকের মতো যার একটা গাধা আছে কিন্তু চড়ার লাইগা কোন জিন নাই। আর যখন তিনি একটা জিন নিয়া আসলেন, নেকড়েগুলি গাধাটারে মাইরা ফেললো। উনার একটা জগ আছিলো, কিন্তু তাতে পানি আছিলো না। যখন উনি পানি পাইলেন তখন জগটা পইড়া গিয়া ভাইঙ্গা গেলো।

উনি উনার সব কবিরাজদেরকে একসাথে ডাকাইলেন। “আমাদের দুইজনের লাইফ আপনাদের হাতে। তাঁর জীবন হইতেছে আমার জীবন। যিনি তাঁরে ভালো করতে পারবেন তিনি আমার সবচে দামি জিনিসটা পাইবেন, মনি-মুক্তার হার বা যে জিনিস চান!” “আমরা যা করতে পারি তার সবটাই করবো। আমাদের নিজেদের কাজের এলাকাগুলিতে আমরা সারাইয়া তোলার লাইগা সেরা। আমরা অবশ্যই সাইরা তোলার একটা পথ বাইর করতে পারবো।” উনারা এখন পর্যন্ত যা করছেন সেই গর্বের চোটে ‘আল্লা যদি চান’ – এই কথা কইতে ভুইলা গেছিলেন। আমি বলতেছি না যে, এই কথা কইলেই কাজটা হইয়া যাইতো। পতনের পিছনে একটা শীতল আর বদ্ধ গুণ থাকে। অনেকেই আছেন যারা ‘ইনশাল্লাহ’ বলেন না, কিন্তু তাদের পুরা আত্মা সবসময় এইটা জপতে থাকে। তো, কবিরাজরা চেষ্টা করতে থাকলেন, যতোই উনারা চেষ্টা করেন, মেয়েটা ততই ফ্যাকাশে আর পাতলা হইতে থাকলো। উনারা যেইটা ভাইবা অষুধ দিতেছিলেন, তার রেজাল্ট পুরা উল্টা হইতেছিল। এক্সিমেল , বানানো বাইলি, বাদামের তেল তারে আরো শুকাইয়া ফেললো। হরীতকীগুলি, পায়খানার রাস্তারে লুজ করার চাইতে আরো বেশি টাইট কইরা ফেললো। মনে হইতেছিল পানি জ্বরটারে আরো বাড়াইতেছে।

রাজা দেখলেন যে, কবিরাজেরা আর কিছুই করতে পারতেছে না। উনি খালি পায়ে দৌড়াইয়া মসজিদে গেলেন। উনি জায়নামাজে গিয়া সিজদা দিয়া পড়লেন আর ফোঁপাইয়া ফোঁপাইয়া কানতে লাগলেন। একটা অবস্থায় গিয়া উনি অজ্ঞান হইয়া গেলেন। যখন আবার চেতনায় ফিরা আসলেন, উনার মোনাজাতে কইতে লাগলেন: “আপনি তো জানেন এইখানে কি লুকানো আছে। আমি তো জানি না আমি কি করবো। আপনি তো কইছেন, ‘যদিও আমি সব সিক্রেটগুলিই জানি, তারপরও এইটা কোন অ্যাকশনের ভিতর দিয়া খোলাখুলিভাবে ডিক্লেয়ার করি।’” উনি হেল্পের লাইগা জোরে জোরে কানতে লাগলেন, রহমতের সাগরের ঢেউ তার উপর আছড়াইয়া পড়লো। এইরকম কান্দার ভিতরেই জায়নামাজের উপরে উনি ঘুমায়া গেলেন। উনার স্বপ্নে একজন বুড়া লোক আইসা হাজির হইলো। “ভালো রাজা, আমার কাছে নিউজ আছে। কালকা এক অপরিচিত লোক আইবো তোমার কাছে। আমি তারে পাঠাবো। সে একজন কবিরাজ। তুমি তারে বিশ্বাস করতে পারো। তার কথা শুইনো।”

যখন ভোরেরবেলা আসলো, রাজা তার ছাদের ছোট গম্বুজে বইসা ছিলেন। উনি দেখলেন যে, কেউ আসতেছে, ভোরের মতোই। উনি মেহমানের সাথে মোলাকাত করার লাইগা দৌড়াইয়া গেলেন। “আপনিই আমার পীরিতের মানুষ, ওই মাইয়াটা না! এইরকম রিয়ালিটিতে একটা অ্যাকশন থিকা আরেকটা অ্যাকশন তো লাফায়া লাফায়া চলে। আমি কি করবো বলেন?” আমরা সবসময় নিয়ম মাইনা চলার কথা বলবো। একজন মানুষ যার কোন সেলফ-কন্ট্রোল নাই কোনদিন রহমত পাইতে পারে না। এইরকম মানুষ খালি নিজেরেই কষ্ট দেয় না। উশৃঙ্খল মানুষজন জমির মধ্যে আগুন ধরাইয়া দেয়। মুসা আর তার উম্মতের লাইগা একবার আকাশ থিকা টেবিল ভরা খাবার আইতেছিল, তখন ভীড়ের ভিতর থিকা কথা আইতে লাগলো, “রসুন কই?” আর “আমরার তো মসূরের ডাল লাগবো!” লগে লগে রহমতের রুটি আর খানা-পিনা সব উধাও হইয়া গেলো। তখন সবাইরে কুড়াল দিয়া মাটি খুঁড়া লাগলো আর কাস্তে দিয়া কাটা লাগলো। তখন ঈসা আইসা মিলমিশ করলেন আর আরো খাবারের ট্রে পাঠাইলেন। কিন্তু কিছু দাম্ভিক লোক কোন রেসপেক্ট দেখাইলো না। তারা এমনভাবে কাড়াকাড়ি করতে লাগলো যে এইখানে যথেষ্ঠ নাই, যদিও ঈসা তাদেরকে কইতে লাগলেন, “এই খাবার-দাবার থাকবো। এইটা সবসময় এইখানে থাকবো।” যখন মহামহিম আসেন তখনো সন্দেহ করা আর লোভী হওয়াটা হইতেছে সবচে বাজে ধরণের বেয়াদবি। উনার দেয়া যদি বন্ধ হইয়া যায় তাইলে কোন মেঘ জমবো না বৃষ্টির লাইগা। যখন সবাই সবসময় সবার লগে সেক্স করতে থাকে তখন সবদিক দিয়া মহামারী ছড়াইয়া পড়ে। যখন আপনি বিষন্ন হন, সেইটা আপনার প্রশংসা না করতে পারার ব্যর্থতা। অভক্তি আর কোন ডিসিপ্লিন না থাকাটা আপনার আত্মার রোশনি’রে লুট কইরা নেয়।

রাজা তার দুই হাত ছড়াইয়া সাধু কবিরাজরে তার দিকে টাইনা নিলেন। উনি তার হাতে আর কপালে চুমা খাইলেন আর জিগাইলেন তার জার্নি কেমন আছিলো। তার বিষয়ে তো রাজার অনেক জিজ্ঞাসা আছিলো যার কথা বলা হইছিলো স্বপ্নে। উনি তার মূল টেবিলের দিকে নিয়া গেলেন। “শেষমেশ আমি পাইলাম, ধৈর্য্য যেই জিনিস নিয়া আসতে পারে। এই একটা চেহারা যা যে কোন জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে পারে, যে খালি তাকাইয়াই ইন্টেলেকচুয়াল আলাপের গিট্টু খুইলা দিতে পারে। আমাদের ভিতরে কি আছে সেইটা আপনি অনুবাদ কইরা দিতে পারেন। যদি আপনি ভ্যানিশ হইয়া যান তাইলে এই এতো বড় মিটিংরুম একটা আলমারির মতো বন্ধ হইয়া যাইবো। আমরারে বাঁচান।” উনারা কথা কইলেন আর আত্মার খাবার খাইলেন। রাজা তখন কবিরাজের হাত ধইরা যেইখানে মেয়েটা শুইয়া ছিল তার কাছে নিয়া গেলেন আর তার অসুখে পড়ার পুরা কাহিনিটা কইলেন। কবিরাজ তার নাড়ি দেখলেন তার চেহারার কালার অবজার্ভ করলেন আর তার মুত পরীক্ষা করলেন। “আপনার বৈদ্যরা তো কোন উপকার করতে পারে নাই। অরা তারে আরো বাজে অবস্থায় নিয়া ফেলছে। অরা তো ভিতরের অবস্থাটা জানে না।” তার পেইনের কারণটা তার কাছে খোলাসা হইলো, কিন্তু উনি রাজারে কিছু কইলেন না। এইটা অবশ্যই ভালোবাসার একটা জিনিস। আর ভালোবাসার ব্যারামগুলি তো অন্য যে কোনকিছুর চাইতে আলাদা। প্রেম হইলো সেই জ্যোর্তিবিদ্যা যেইখানে খোদার কেরামতিগুলি দেখা যায়। দুনিয়ার-প্রেম, আত্মার-প্রেম যে কোন প্রেমই দেখলে মনেহয় ঐ তো দেখা যায়, আর যখনই প্রেম’রে আমি ব্যাখ্যা করতে যাই, সেইটা খুবই অস্বস্তির! কিছু কথায় জিনিসটা স্পষ্ট হয়, কিন্তু নিরবতার ভিতর দিয়াই এইটা আরো বেশি স্পষ্ট হয়। একটা কলম হিবিজিবভাবে লেখতেছে, কিন্তু যখন এইটা লিখতে গেলো প্রেম, এইটা ভাইঙা গেলো। যদি আপনি প্রেম’রে ব্যাখ্যা করতে চান, তাইলে আপনার বুদ্ধিরে বাইর কইরা নেন আর কাদার মধ্যে শুইয়া পড়েন। এইটার কোন দরকারই নাই। আপনি প্রমাণ চান যে সূর্য আছে কিনা, তো আপনি জাইগা থাকলেন আর সারারাত ধইরা এইটা নিয়া কথা কইলেন। শেষে আপনি ঘুমাইতে গেলেন আর সূর্য উঠলো। এইটার দিকে দেখেন! পুরা দুনিয়াতে সূর্যের মতোন এতো আজিব কিছু নাই। সূর্যের আত্মা এর চাইতেও বেশি। এইটার কোন গতকাল নাই! যেই সূর্য দেখা যায় সেইটা ইউনিক, কিন্তু এইরকমকিছু কল্পনা করা যায়। আত্মার যেই সূর্য, ভিতরে বা বাইরে, তার তুলনার তো কিছু নাই। কল্পনা তারে ধরতে পারে না। সেই সূর্যের কথা, শামস আসছিলো যখন, সবকিছুই চাপা পইড়া গেছিলো। এখন হুসাম, আমার হাত ধইরা আছে। সে চায় আমি শামসরে নিয়া তারে আরো কিছু কই। এখন না হুসাম। আমি তো জানি না কেমনে কথাগুলি কেমনে সেন্স নিয়া আসতে পারে, বা প্রশংসা করতে পারে। দোস্তের-বাড়িতে সত্য ছাড়া আর কিছুই তো কওয়া যায় না। আমারে খালি ওইখানে থাকতে দাও। কিন্তু হুসাম পীড়াপীড়ি করতে থাকে, “বলেন আমারে! তাড়াতাড়ি বলেন! সময় তো তাড়াতাড়ি নিচের দিকে চইলা যাইতেছে। একজন সুফির তো মোমেন্টের শিশু হওয়ার কথা। আপনে একজন সুফি না? আপনে কালকা’র বা পরে’র কথা কইয়েন না!” আর আমি তারে কইলাম, “এইটা তো ভালো যদি একটা কাহিনির ভিতরে দোস্তরে আটকায়া ফেলা যায়। রহস্যটারে আসতে দেন দিওয়ানা লোকজনরে নিয়া আশেপাশের লোকজন কি কয়, অরা একজন আরেকজনরে নিয়া কি কয়, সেইটা না।” “না, আমি পুরা ন্যাংটা আর সত্য কথাটা শুনতে চাই, যতোটা সম্ভব। যখন আমি আমার নাগরের লগে শুই, আমার শইলে তো কোন শার্ট রাখি না।” “অ হুসাম। যদি তোমার দোস্ত পুরা ন্যাংটা হইয়া আসে, তোমার বুক তো সেইটা নিতে পারবো না। তুমি আর তোমার শইলের মধ্যে থাকতে পারবা না। তুমি যেইটা চাও সেইটার কথা বইলো, কিন্তু কিছু লিমিট রাইখো। একটা ছোট্ট লাঠি একটা পাহাড়রে খাড়া কইরা রাখতে পারে না। যেই ভিতরের সূর্যের কারণে এই সত্তা বাঁইচা আছে যদি আরেকটু কাছাকাছি আসতো, সবকিছু ঝলসাইয়া যাইতো। ওইটা চাইয়ো না। শামস তাবরিজ’রে নিয়া এখন আর কিছু না কই।” এইটার কোন শেষ নাই।

আসো শুরুটাতে ফিরা যাই, রাজা, পীরিতের-মরা বান্দী আর পূণ্যবান কবিরাজের কাহিনির শেষটাতে, যে কইতেছিল, “আমারে মাইয়াটার লগে একলা থাকতে দেন।” যখন সবাই চইলা গেলো, উনি আস্তে আস্তে কথা কইতে শুরু করলেন। “তুমি কই থিকা আসছো? ওইখানে তোমার কোন কোন আত্মীয়-স্বজন আছে? ওই এলাকায় তোমার আপন লোকজন আর কে আছে?” এইরকম করতে করতে উনি তার লাইফ নিয়া জিগাইতে লাগলেন। যখন কারো খালি পা কাঁটার উপ্রে পড়ে সে সাথে সাথে তার পা’টা হাঁটুর উপ্রে রাখে আর একটা সুঁই খুঁজতে থাকে, যখন সে আগা’টা খুঁইজা পায় না, তখন তার ঠোঁট থিকা লালা নিয়া চারপাশটা ভিজায়া দেখে। চটা’টা বাইর করতে অনেকসময়ই সমস্যা হয়। মনের মধ্যের একটা কাঁটা আরো কি কঠিন! যদি সবাই তার কাঁটা’টা নিজেরাই খুঁইজা পাইতো তাইলে এইখানে অনেকবেশি শান্তি থাকতো! গাধার লেজের মধ্যে কেউ একটা চোরাকাঁটার ঝাড় বাইন্ধা দিলো। গাধাটা তো জানে না কি হইছে। সে লাফাইতে লাগলো আর চারপাশে বাইড়াইতে লাগলো। একজন বুদ্ধিমান, কাঁটা-তোলার মতোন কবিরাজেরই আসা লাগবো আর খুঁইজা বাইর করা লাগবো। তো, সেই দৈব কবিরাজ তার ফ্রেন্ডদের সম্পর্কে জিগাইলেন আর তার হাতের পালস দেখতে লাগলেন। শে তার বাড়ির অনেক কথাই কইলো, অনেকের নাম নিলো, আর কবিরাজও শে বলার পরে তাদের নামগুলি কইতে থাকলেন আর তার পালস ফিল করতে লাগলেন। শেষে উনি জিগাইলেন, “যখন তুমি অন্য শহরগুলিতে গেলা, তুমি কই যাইতে বেশি পছন্দ করতা?” শে একটা শহরের কথা কইলো, তারপরে আরেকটা, যেইখান থিকা শে রুটি আর লবণ কিনছিলো, বাড়িগুলির কথা কইলো, যতক্ষণ না সে সমরখান্দ এর কথা কইলো। মিছরির মতোন মিষ্টি প্রিয় শহর। শে তো লাল হইয়া গেলো। তার শ্বাস আটকাইয়া গেলো। ওহ, সে সমরখান্দের স্যাকরা’রে ভালোবাসে! সে তারে খুবই মিস করতেছে। “সে আসলে কই থাকে?” “ঘাটাফার স্ট্রীটের ব্রীজের মাথায় সে থাকে।” “এখন আমি তোমারে ভালো কইরা দিতে পারবো। ডরাইয়ো না। আমি সেইটাই করবো ফসলের খেতে বৃষ্টি যেইটা করে। কিন্তু এইটা তুমি কাউরে বলবা না, অবশ্যই রাজারে না।” বীজ সবসময় জমিতে লুকানো থাকতে হয়, তার ভিতরে যা-ই থাকুক না কেন। মাইয়াটা বেটার ফিল করলো। শে তারে বিশ্বাস করছিলো। কবিরাজ রাজার কাছে গেলেন আর তারে কাহিনির একটু অংশ কইলেন। “কোন অজুহাত দিয়া সমরখান্দ থিকা একজন স্যাকরা’রে আমাদের এইখানে নিয়া আসতে হবে। তারে ধন-সম্পদ আর সম্মান দিয়া লোভ দেখান।” রাজার দূত দামি পোশাক আর মুদ্রা নিয়া গেলো তার কাছে আর সহজেই তারে রাজি করাইতে পারলো তার ফ্যামিলি আর তার শহর ছাড়ার লাইগা।

সে অ্যারাবিয়ান একটা ঘোড়ায় চইড়া রাজার কাছে আর কবিরাজের কাছে হাজির হইলো, কবিরাজ কইলেন, “মাইয়াটারে এই লোকটার লগে বিয়া দেন আর শে ভালো হইয়া যাইবো।” এইরকমই হইলো। আর ছয়মাস ধইরা দুইজন দুইজনরে খালি ভালোবাসলো আর একজন আরেকজনরে নিয়া খুবই স্যাটিসফাইড আছিলো। মাইয়াটা তার আগের শরীর ফিরা পাইলো। তখন কবিরাজ স্যাকরাটারে একটা মিকশ্চার খাওয়াইলেন যাতে সে একটু একটু কইরা অসুস্থ হইতে থাকে। তার সুন্দর শরীর নষ্ট হইয়া গেলো আর তার শক্তি কইমা আসলো। আস্তে আস্তে তার চাপা ভাইঙ্গা গেলো আর পান্ডুর আর কুৎসিত হইয়া গেলো। আর মাইয়াটা তারে ভালোবাসা থামাইয়া দিলো। শরীরের যেই ভালোবাসা সেইটা কোন ভালোবাসাই না। “এই দুনিয়া হইলো একটা পাহাড়। আমি যা করি সেইটা হইলো চেঁচাই। আর তার ইকো আমাদের কাছে ফিরা আসে।” স্যাকরাটা এইটা কইলো আর মইরা গেলো। সেই প্রেমরে বাইছা নেন যেইটা কোনদিন মরে না। বইলেন না যে, “এইটা আমরা কেমনে করবো?” মহৎ কাউরে খুঁইজা পাওয়াটা খুব কঠিন কিছু না। কিন্তু কবিরাজ যে বেচারা স্যাকরা’রে বিষ খাওয়াইলো সেইটার কি হবে! এইটা উনি রাজার লাইগা করেন নাই। কারণটা একটা রহস্য, যেইরকম খিজির বাচ্চার গলা কাটছিলো। কবিরাজ যা কিছুই করছিলেন তার সবটাই আছিলো খোদার ইচ্ছা। খিজির নৌকা ডুবাইয়া দিছিলেন, তারপরও ওইটাই ঠিক কাজ আছিলো। যখন এইরকম কবিরাজের মাধ্যমে কাউরে যখন খুন করা হইলো, এইটা একটা রহমত, যদিও এইটা এইরকম মনেহয় না। প্রথমবার যখন মাথার চুল কাটা হয়, বাচ্চাটা কান্দে, কিন্তু মা’য়ে কান্দে না। একজন কবিরাজ এইরকম বড় মহত্বের একটা অংশ। সে একটা জিনিস নিয়া যায় আর একশোটা ফিরায়া দেয়। তার কাজকাম দিয়া তারে আপনি বিচার কইরেন না। আপনি সেই পুরা সত্যের মধ্যে থাকেন নাই যেইখানে সে থাকে।

 

একটা গোপন মজমা

মুহাম্মদ, জিবারাঈলের প্রেজেন্সে কইলেন, “দোস্ত, তুমি আসলে দেখতে কেমন সেইটা আমারে দেখতে দাও। আমারে সেই দিওয়ানা হইয়া দেখতে দাও যে তার প্রেমরে দেখতেছে।” “তুমি তো এইটা সহ্য করতে পারবা না। দেখতে পাওয়ার সেন্সটা এতোটাই দুর্বল যে সেইটা এই রিয়ালিটিটারে নিতে পারবো না।” “কিন্তু তুমি যেমনে পারো আমারে দেখাও, আমি বুঝতে চাই কোন জিনিস সেন্স দিয়া জানা যায় না।”

শরীরের সেন্সগুলি টলতে থাকে আর ঝাপসা হয়, কিন্তু তার ভিতরে একটা স্পষ্ট আগুন আছে, ইব্রাহিমের মতো একটা আগুনের শিখা, যা হইলো আদি আর অন্ত। মনে হইতে পারে মানুষের জন্ম হইছে, বাইড়া উঠছে এই গ্রহে, কিন্তু মানবিকতা হইলো এই দুনিয়ার আদি জিনিস। এইটা মনে রাইখেন! একটা ছোট্ট ডাঁশ-মশা যন্ত্রণায় আর বাসনায় বাইরে বাইরে খালি উড়তে থাকে, কিন্তু তার ভিতরের স্বভাবে এই ইউনির্ভাস ঘুরতেছে তার পুরা ছায়াপথ নিয়া।

মুহাম্মদ তার রিকোয়েস্ট করতেই থাকলেন, আর জিবরাঈল একটা পালক দেখাইলেন যেইটা পূব থিকা পশ্চিমে গেছে, তার এক ঝলক একটা পাহাড়ের লাইন’রে পাউডারের মতো গুড়া গুড়া কইরা দিতে পারে। মুহাম্মদ দেইখা সেন্সলেস হয়া গেলেন। জিবরাঈল আসলেন আর তারে কোলে তুইলা নিলেন। না-জানা মানুষদের লাইগা এইটা ডরের ব্যাপার। কিন্তু দোস্তদের লাইগা এইটা পিরীতের জাপটাইয়া ধরা। রাজাদের চারপাশে ভয়ংকর গার্ডরা তলোয়ার বাইর কইরা দাঁড়ায়া থাকে, পাবলিকের কাছে পাওয়ারটা শো করে যাতে আইন বজায় থাকে, কেউ চেত না দেখাইতে পারে আর কুকাম আর অন্য বাজে ঘটনাগুলি না ঘটে। কিন্তু রাজা যখন তার গোপন মজমাতে আসেন তার দোস্তদের লগে, সেইখানে তখন বীণার সঙ্গীত আর বাঁশি বাজে। যুদ্ধের ড্রাম বাজে না। আর কোনকিছুর হিসাব নাই, আচার-ব্যবহার নিয়া কোন বিচার নাই, কোন মাথার তাজ নাই, কোন বাজুবন্ধ নাই। খালি সিল্ক আর মিউজিক আর সুন্দরী মহিলারা কাপগুলি নিয়া আসতেছে। আপনি জানেন এইটা কেমনে ঘটে, কিন্তু কে এইটা বলতে পারে!

বন্ধু আমার, এই পার্ট শেষ করি, আর সেই পথে যাই যেই পথে আমাদেরকে যাইতে হবে।

 

তুমিসর্বনাম

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম!

মসনবি’র সেকেন্ড বইয়ের শুরু মুলতবি করা হইছে, আর এর কারণটা এইরকম: অনেকসময় খোদা একটা কাম করার লাইগা যেই এলেম দরকার তার বান্দারে তার সবটাই দেন, আর যে শুনে সে এতোটাই ধ্যানে পইড়া যায় যে সে আর কিছুই করতে পারে না। খোদার ভিতরে সে হারায়া যায়, কিছুই বুঝতে পারে না, অথবা করতেও পারে না, কিছুই।

খোদা তখন তার এলেম কমাইয়া দেন। ছোট্ট একটা লাগাম দেন যেইটা সে তার মাথায় নিতে পারে, আগাইয়া যাইতে পারে। এই লাগামের সাইজটা খুবই ইর্ম্পটেন্ট, যখন আপনি একটা গোঁয়ার উট চালাইতেছেন। ভার যদি বেশি হয় তাইলে সে বইসা পড়বো আর যাইতে চাইবো না। যদি খুবই হালকা হয়, তাইলে সে এইটা পাত্তাই দিবো না। নিজের জুইতমতো এলেমের ভার নিতে পারাটা সূক্ষ একটা ব্যাপার, যেইরকম কাদা আর পানি দিয়া ইট বানানি হয়। যদি পানি কম দেন তাইলে এইটা মিশতেই পারবো না। যদি বেশি দেন, তাইলে এইটা ভাইসা চইলা যাইবো। খোদা এইরকম ব্যালেন্সের উপরে জোর দেন, শুধু তাদেরকে ছাড়া যাদেরকে নিয়া উনি কিতাবে বলছেন, ‘উনি দেন, আর অরা না গুইনাই সেইটা নেয়।’ কিন্তু না টেস্ট কইরা এই জিনিস বোঝা যায় না।

কেউ একবার জিগাইছিলো, “প্রেম কি জিনিস?”

“আমার ভিতর হারায়া যাও,” আমি কইছিলাম। “যখন প্রেম আসবো তুমি টের পাইবা।”

প্রেমের ভিতর গুণাগুনির কিছু নাই। যেই কারণে বলে যে এইটা খোদাতালার গুণ, মানুষের না। “খোদা তোমারে ভালোবাসে” এইটাই হইতেছে আসল কথা। সাবজেক্ট এইরকম পুরাপুরিভাবে অবজেক্ট হইয়া পড়ে যে সে আর ঘুরতে পারে না। এই যে “তুমি” এই সর্বনামটা কি জিনিস, যখন তুমি কও যে, “তুমি খোদারে ভালোবাসো”?

 

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
ইমরুল হাসান
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
ইমরুল হাসান

লেটেস্ট ।। ইমরুল হাসান (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য