Main menu

কোহেনের কবিতা

লিওনার্দ কোহেনরে আমরা গায়ক হিসাবেই চিনি, যিনি সুন্দর লিরিকসও লিখছেন। কিন্তু উনি নভেলও লিখছিলেন, কবিতাও। বেশ কয়েকটা কবিতার বই আছে উনার।

কবিতাতে উনি উনার গানের লিরিকসের চাইতে আরো অনেক বেশি ওয়াইল্ড, প্যাশোনেটের পাশাপাশি। একটা মুচকি মুচিক হাসির কিছু ঘটনাও আছে। সাফারিংস। কিছু দেখতে চাওয়া আর কষ্ট হইলেও মাইনা নেয়ার একটা ট্রাই করা।

তো, মেইনলি উনার দুইটা কবিতার বই থিকা এই কবিতাগুলা তরজমা করা। একটা হইতেছে উনার “সিলেক্টেড পোয়েমস : ১৯৫৬ – ১৯৬৮“, এই বইয়ের কবিতাগুলা তরজমা করছিলাম ২০১৭ সালের দিকে। আর পরে ২০১৯ সালে উনার “দ্য এনার্জি অভ স্লেভস“ এর কিছু কবিতাও তরজমা করি। এইখানে দুইটা পার্টে দুইটা বইয়ের কিছু কবিতাগুলা রাখা হইলো।

 

ই. হা.

………………………………………………………………………………………..

১.

দ্য এনার্জি অফ স্লেভস

সব মানুষেরা আনন্দ দেয় তোমারে

যদি তুমি কখনো পড় এইটা
অই মানুষটার কথা ভাইবো, যে এইটা লিখতেছে

তোমার হয়া সে এই দুনিয়াটারে ঘৃণা করতো

 

দ্য এনার্জি অফ স্লেভস

প্রেম হইতেছে একটা আগুন
এইটা পুড়ায় সবাইরে
এইটা বিকৃত করে সবাইরে
এইটা হইতেছে দুনিয়া’টার ছুঁতা
বিশ্রী হওয়ার লাইগা

 

দ্য এনার্জি অভ স্লেভস

সব মানুষেরই
আছে বিট্রে করার একটা তরিকা
এই যে রেভিউলেশন
এইটা হইতেছে আমার

 

দ্য এনার্জি অভ স্লেভস

আমার ঘৃণার কোন শেষ নাই
যদি না তুমি জড়ায়া ধইরা রাখো আমারে
যতো আজবই লাগুক
আমি হইতেছি জোয়ান অফ আর্কের ভূত
আর হইতেছি ত্যক্ত বিরক্ত
স্বরগুলার কনসিকোয়েন্স
আমারে শক্ত কইরা জড়ায়া ধরো
তা নাইলে আমি ঘামতেই থাকবো
যেইখানে আমি ছিলাম

 

দ্য এনার্জি অভ স্লেভস

আমি মারা যাইতেছি
কারণ তুমি আমার লাইগা
মরো নাই
আর এই দুনিয়া
এখনো তোমারে ভালোবাসে

আমি এইটা লিখতেছি কারণ আমি জানি
যে তোমার চুমা
জন্মায় অন্ধ হয়া
গানগুলার উপরে, যারা তোমারে ছুঁইয়া যায়

আমি চাই নাই একটা পারপাস হইতে
তোমার লাইফে
আমি চাইছি হারায়া যাইতে
তোমার চিন্তাগুলার ভিতরে
যেমন তুমি শোনো নিউইয়র্ক সিটিরে
যখন তুমি ঘুমায়া যাও

 

দ্য এনার্জি অভ স্লেভস

আমি তার লাইগা এই গানটা বানাইছি
এই দুনিয়ার খোদা
যার সব কিছু আছে এই দুনিয়ায়
খালি এই গানটা ছাড়া

 

লারিসা যাওয়ার পথে

আমি হারায়া গেছিলাম
যখন তোমার লগে দেখা হইছিল আমার
লারিসা যাওয়ার পথে
পাইন গাছগুলার ভিতর দিয়া সোজা যেই রাস্তাটা গেছে

তুমি ভাবছিলা
আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুইরা বেড়ানো মানুষ
আর তুমি ভালোবাসছিলা আমারে এইরকম একটা মানুষ হওয়ার লাইগা
আমি এইরকমের মানুষ না

আমি হারায়া গেছিলাম
যখন তোমার লগে আমার দেখা হইছিল
লারিসা যাওয়ার পথে

 

ফ্রান্স ছাইড়া যাওয়ার সময়

নীল আকাশটা
বিমানের গতিটারে স্লো কইরা দেয়

অরা কয় আমি অদের টাকা চুরি করছি
সত্যি কথা এইটা

বিপ্লবের মালিকদেরকে বলি
এইটা কন্সিডার করতে:

একটা গান যেইটা লোকজন ভালোবাসে
লিখছিল একটা চোর

 

একটা মেয়ের পোর্টেট

কাঠের শাটারগুলার পিছনে বইসা আছে শে
একটা গরমের দিনে
রুমটা অন্ধকার, ছবিগুলা গ্লুমি
শে খুবই চিন্তায় আছে
যে তাঁর থাইগুলা অনেক বড়
আর তার পাছা মোটা আর বিশ্রী
এমনকি তাঁর শরীরে অনেক লোম
লাকি আম্রিকান মেয়েদের শরীরে তো লোম থাকে না
শে খুব ঘামে
তাঁর মুখের উপরে কালা চুলগুলার ধারে
একটা হালকা কুয়াশার মতোন জমে
আমি ভাবি আমি যদি তারে দেখাইতে পারতাম
এইরকম চুল আর পাছাগুলা
আমারে কি রকম কইরা ফেলে
আনফরচুনেটলি আমি জানি না শে কে
অথবা শে কই থাকে
অথবা আসলেই শে কোথাও থাকে কিনা
এই মানুষটা নিয়া এইখানে কোন ইনফরমেশন নাই
এই লাইনগুলা ছাড়া
আর আমি বলতেছি ঠিক কইরা
যত দূর পর্যন্ত আমি জানি
তাঁর এইরকমের কোন সমস্যা নাই

 

২.

গিফট

আমারে তুমি বলছো যে কবিতার চাইতে
নিরবতা শান্তির অনেক কাছাকছি একটা জিনিস
কিন্তু যদি আমি গিফট হিসাবে
তোমারে দেই নিরবতা
(মানে, আমি যারে নিরবতা বইলা জানি)
তুমি তখন বলবা
‘এইটা তো নিরবতা না
এইটা তো আরেকটা কবিতা’
আর আমার হাতে ফিরায়া দিবা তুমি সেইটা।

 

আমি ভাবিকতো লোক থাকে এই শহরে

আমি ভাবি, কতো লোক থাকে এই শহরে
ফার্ণিশড রুমগুলাতে।
অনেক রাতে, যখন আমি বিল্ডিংগুলির দিকে তাকাই
কসম আল্লার প্রত্যেকটা জানালাতে আমি দেখি একটা চেহারা
তাকায়া আছে আমার দিকে,
আর যখন আমি মুখ ফিরাই
আমি ভাবি কতো লোক না জানি তাদের ডেস্কে ফেরত গেছে
আর এইটা লিইখা রাখতেছে।

 

গান

আমি বিছানায় চইলা গেছিলাম প্রায়
মনে না কইরাই
চারটা শাদা ভায়োলেটের কথা
যা আমি রাখছিলাম
তোমার সবুজ সোয়েটারের
বোতাম-ঘরগুলাতে

আর কেমনে যে আমি চুমা খাইছিলাম তোমারে
আর তুমিও চুমা খাইছিলা আমারে
শরমাইছিলাম যদিও আমি
কোনদিনই  তো তোমার প্রেমিক আমি হবো না।

 

অ্যানির লাইগা…

যখন অ্যানি চইলা গেছে,
কার চোখের লগে আমি দিবো
সকালের সূর্যের তুলনা?

এমন না যে তুলনা করতাম আমি,
কিন্তু আমি তুলনা করি
এখন, যখন শে চইলা গেছে।

 

সামার হাইকু

ফ্যাঙ্ক আর মেরিয়েন স্কটের লাইগা

নিরবতা
আর একটা গভীরতর নিরবতা

 

 

যখন ঝিঁঝিঁ পোকাগুলি

 

 

 

করে দোনোমনা

 

 

অ্যাডলফ আইখম্যান সম্পর্কে যা যা জানা যায়

চোখ:  মিডিয়াম।
চুল : মিডিয়াম।
ওজন: মিডিয়াম।
উচ্চতা: মিডিয়াম।
আলাদা করার মতো কোন চিহ্ন: কিছুই নাই।
হাতের আঙুল: দশটা।
পায়ের আঙুল: দশটা।
বুদ্ধিশুদ্ধি: মিডিয়াম।

তুমি কি এক্সপেক্ট করছিলা?
নখ থাকবো?
বড় বড় দাঁত?
মুখে সবুজ লালা?
পাগল কিসিমের?

 

তাইলে তুমি হইলা এইরকমের ভেজিটেরিয়ান

তাইলে তুমি হইলা এইরকমের ভেজিটেরিয়ান
যে খালি গোলাপ ফুল খায়
তুমি কি এইটাই মিন করলা
তোমার সুন্দর অভাগাদের দিয়া

 

সে আছিলো ল্যাংড়া

সে আছিলো ল্যাংড়া
একটা ৩ পায়া কুত্তার মতোন
চিল্লাইতো খুব
যখন আইতো কুয়াশার ভিতর দিয়া

যদি তুমি লাইট হইয়া থাকো
আমারে একটা লাইট দিও
দোস্ত

 

বরফ পড়তেছে

বরফ পড়তেছে।
এক নগ্ন মেয়ে আমার রুমে।
ওয়াইন-কালারের কার্পেট খুঁটাইয়া খুঁটাইয়া দেখতেছে শে।

বয়স তাঁর আঠারো।
চুলগুলি খাড়া খাড়া।
মন্ট্রিলের ভাষা শে কইতে পারে না।

তাঁর বইসা থাকতে ইচ্ছা করতেছে না।
শীতে শির শির করতেছে না।
শুনতেছি আমরা ঝড়ের আওয়াজ।

শে সিগ্রেট ধরাইলো একটা
গ্যাস রেঞ্জ থিকা।
লম্বা চুলগুলি তাঁর পিছনে টাইনা নিলো শে।

 

আজকে সকালে বাতাস আমারে সাজাইয়া দিছিলো

আজকে সকালে বাতাস আমারে সাজাইয়া দিছিলো।
আকাশ কইছিলো, তোমার চোখ বন্ধ করো আর দৌড়াও
এইরকম সুখী একটা সূর্যের আলোতে।
জঙ্গল’টা কইলো, কিছু মনে কইরো না, আমি তো বুড়া
একটা হীরার মতোই, গল্প-গুজব করতে করতে হাঁটো আমার সাথে।
গ্রাম’টা কইলো, আমি হইলাম পারফেক্ট আর কূটনা
তুমি কি এখনই আমার লগে শুরু করতে চাও, কথা-বলা?
আমার ডার্লিং কইলো, পানি দিয়া মাথার চুল ধুইতেছি আমি
গত বছরও এইরকম হইছিল, পাথরের মতো টেস্ট ছিল সেইটার।
আজকে সকালে বাতাস আমারে সাজাইয়া দিছিলো,
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় এইটা, ১৯৬৫ সনের।

 

আমারে তোমার ভালোবাসা লাগবো না

আমারে তোমার ভালোবাসা লাগবো না
খালি এই কারণে যে
সব নারীদের মধ্যে তুমিই একজন
যারে আমি সবসময় চাইছি
আমার জন্মই হইছে তোমারে ফলো করার লাইগা
প্রতি রাতে
যদিও আমি অনেক পুরুষের মধ্যে একজন
যারা তোমারে ভালোবাসে

একটা টেবিলে তোমার সাথে আমার দেখা
তোমার হাতের মুঠি’টা আমি আমার হাতের মধ্যে নিলাম
তারপর একটা সোলমন ট্যাক্সিতে
আমি জাইগা উঠলাম একা
তোমার না-থাকার ভিতর আমার হাতগুলা
হোটেল ডিসিপ্লিনে

তোমার লাইগা লিখছিলাম আমি আমার সব গান
লাল আর কালো মোমবাতিগুলি জ্বালাইছিলাম
যারা দেখতে একটা পুরুষ আর একটা নারীর মতোন
দুইটা পিরামিডের মতোন চন্দনকাঠের
ধোঁয়ারে আমি বিয়া করছিলাম
তোমার লাইগা মোনাজাত করছিলাম আমি
আমি দোয়া করছিলাম তুমি যাতে আমারে ভালোবাসো
আর যাতে তুমি আমারে ভালো না বাসো

 

কি সুন্দর কইরা গান গায় শে

কি সুন্দর কইরা গান গায় শে
কোন ডিজায়ার নাই তাঁর কণ্ঠে
গান গায় শে একলা একলা
আমাদের সবাইরে বলার লাইগা
যে, আমাদেরকে এখনো খুঁইজা পাওয়া যায় নাই

 

পুরান ফ্রেন্ডদের ভুইলা যাইও না

পুরান ফ্রেন্ডদের ভুইলা যাইও না
তুমি জানতা, যখন তোমার লগে আমার পরিচয় হয় নাই
যেই সময়টা সর্ম্পকে আমি কিছুই জানি না
এমন কেউ
যে খালি নিজেরে লইয়াই থাকতো
আর তোমারে দেখতে আইতো হঠাৎ একটা রেইডের মতোন।

 

ম্যারিটা

ম্যা রি টা
প্লি জ   আ মা রে  খুঁ ই জা  বা ই র  ক রো
আ মা র  ব য় স প্রা য়  ৩০  ব ছ র

 

মাতবরি করার লাইগা সে পড়াশোনা করে

মাতবরি করার লাইগা সে পড়াশোনা করে
যেই প্রেমিক সে হইতে পারে নাই
মনের কঠিন ড্রিমগুলি পুরণ না করতে পাইরা
আল্লার দর্শনে থাকার ভাব নেয়

তার রীতির ছিঁড়া টুকরাগুলার
কোন বিউটিই নাই
যাতে তোমার মতো কোন সৌন্দর্য্য
সে সহজে ধইরা রাখতে পারবো

সে তো জানে না
কেমনে তোমার ভালোবাসার লাইগা
নিজেরে দিতে পারে সে;
বিশ্বাস কইরো না ওরে
যদি না তুমি ভালোবাসো তারে।

 

ম্যারিয়েনের লাইগা ওয়েট করতেছি

আমি হারায়া ফেলছি একটা টেলিফোন
যেইটাতে তোমার গন্ধ ছিল

আমি একটা রেডিও’র পাশে বাঁইচা থাকতেছি
যেইখানে একই টাইমে সবগুলা স্টেশন আছে
কিন্তু আমি একটা পোলিশ ঘুম-পাড়ানি গান বাইছা নিলাম
থম-ধরা থিকা আমি বাইছা নিলাম এইটা
এইটা ফেড হইতে থাকে, আমি ওয়েট করি, আমি বিট’টা ধইরা রাখি
এইটা ফিরা আসে একদম ঘুমের মতোন

তুমি কি টেলিফোনটা নিয়া গেছো
এই কারণে যে, তুমি জানতা আমি বারবার এইটা শুঁকতে থাকবো
হয়তো প্লাস্টিকটারে গরম কইরা ফেলবো
তোমার শ্বাসের টুকরাগুলা পাওয়ার লাইগা

আর যদি তুমি ফিরা না আসো
তুমি কেমনে আমারে ফোন কইরা বলবা
যে, তুমি আর আসবা না
যাতে কইরা আমি এটলিস্ট তর্কটা করতে পারতাম

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
ইমরুল হাসান
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.