Main menu

কোহেনের কবিতা (২)

কোহেনের কবিতা (১)

লিওনার্দ কোহেনরে আমরা গায়ক হিসাবেই চিনি, যিনি সুন্দর লিরিকসও লিখছেন। কিন্তু উনি নভেলও লিখছিলেন, কবিতাও। মোট ১০টা কবিতার বই উনি ছাপাইছেন। উনার কবিতা বইগুলাতে উনার অনেক গানের লিরিকসও আছে। মানে, অনেক কবিতারে হয়তো গানে সুর দিছেন পরে, বা অনেক লিরিকসরে তিনি কবিতার বইয়ে জায়গা দিছেন। কোহনের গানের লিরিকগুলা তো আসলে কবিতাই!

২.
কবিতাতে কোহেন উনার গানের লিরিকসের চাইতে আরো অনেক বেশি উইটি, ওয়াইল্ড, ফ্রেজাইল, প্যাশোনেটের পাশাপাশি। একটা মুচকি মুচিক হাসির কিছু ঘটনাও আছে। সাফারিংস। কিছু দেখতে চাওয়া আর কষ্ট হইলেও মাইনা নেয়ার একটা ট্রাই করা। যেইটা আমার কাছে ভাল্লাগছে, উনি কবিতার একটা জায়গা থিকা সবকিছুরে দেখতে চাইছেন বা দেখতে পারছেন; জীবনটারেই কবিতা বা কবিতাটারে জীবন বানায়া ফেলার চাইতে যেইটা জরুরি জিনিস। কোহেন যে একজন কবি, এই জিনিসটা মনেহয় যে কারোরই টের পাওয়ার কথা, উনার কবিতাগুলা পড়লে। মানে, আমি এইভাবে ভাবতে পারছি। 

৩.
তরজমা’তে আমি ট্রাই করছি, কোহেনর কবিতার সুরটারে ধরতে, আমার কোন শব্দ, ভাব বা ভঙ্গিমারে চাপাইতে চাই নাই। বরং আমার ধারণা, বাংলা-ভাষারে যেইরকম একটা পুত-পবিত্র ভাবে দেখার অভ্যাস আছে, সেইখানে আমার যে না-রাজি আছে, সেই না-রাজি’টারে একটা ‘বিকৃতি’ বা ‘একটা স্টাইল’ হিসাবে না দেইখা, এইটাও যে বাংলা-ভাষা, সেইটা মানতে পারলে কবিতাগুলা পড়া বা কানেক্ট করাটা ইজি হইতে পারার কথা।

প্রথম দুইটা কবিতা বাদে এখানকার সবগুলা কবিতা উনার লাস্ট কবিতার ই “দ্য বুক অফ লংগিং” থিকা নেয়া হইছে।

……………………………………….

।। আমার দুইটা সাবান আছে ।। দ্য ক্যাফে  ।।  এইটা শেষ ।। লোনলিনেসের শরীর ।। তুমি ঠিক বলছো, সারাহ্ ।। দেবতাদের দরবারে হাসাহাসি ।।  আমি প্রেমের জন্য লিখতাম।। রিমোট’টা ।। সবচে মিষ্টি ছোট্ট একটা গান ।। উপাধিগুলা ।। তুমি আসলে কারে মনে রাখো ।। তোমার হৃদয় ।। ঠিকঠাক অ্যাটিটুড ।। বুড়াদের দুঃখ ।। চাইনিজ রিডারের প্রতি একটা নোট ।। বাটপার ।।  আমার সময় ।। কয়েকটা গানের কারণে ।।

……………………………………….

 

আমার দুইটা সাবান আছে  

আমার দুইটা সাবান আছে,
অ্যালমন্ডের গন্ধঅলা,
একটা তোমার জন্য আর একটা আমার জন্য।

গোসল করতে আসো,
আমরা একজন আরেকজনরে ধোয়াইয়া দিবো।

আমার কোন টাকা নাই,
আমি ফার্মাস্টিটটারে খুন করছি।

আর অইখানে আছে একটা তেলের বোতল
বাইবেলে যেইরকম বলা আছে।
আমার বুকে আসো,
আমি তোমার শরীররে ঝলমল কইরা দিবো।

আমার কোন টাকা নাই
আমি সুগন্ধিঅলাটারে খুন করছি।

জানালা দিয়া তাকায়া দেখো
দোকানগুলা আর মানুশগুলারে
আমারে বলো, কি তুমি চাও,
এক ঘন্টার ভিতরে তুমি সেইটা পায়া যাবা।

আমার কোন টাকা নাই।
আমার কোন টাকা নাই।

 

দ্য ক্যাফে 

আমার টেবিলের সৌন্দর্য্য
ফাটা মার্বেল টপ’টা।
দশটা টেবিল দূরে এক বাদামি-চুলের মেয়ে।
আমার সাথে আসো।
আমি কথা কইতে চাই।
আমি এমন একটা ড্রাগ নিছি যেইটা নিলে খালি কথা কইতে ইচ্ছা হয়।

এইটা শেষ

এইটা শেষ
আমি তোমার পিছন পিছন আর আসতেছি না
আমি আরো আধা-ঘন্টা শুইয়া থাকবো
এইটা শেষ
আমি তোমার স্মৃতির ভিতরে
আর নাইমা আসবো না
আমি হাই তুলবো
হাত-পা লম্বা করবো
আমার নাকের ভিতরে
একটা সেলাই করার সুঁই ঢুকায়া
আমার ব্রেইনটারে বাইর কইরা নিয়া আসবো
আমি তোমারে ভালোবাসতে চাই না
আমার বাকি সারাটা জীবন ধইরা
আমি চাই তোমার চামড়া
আমার চামড়ার ভিতর থিকা
বাইর হয়া যাক
আমি চাই আমার ক্ল্যাম্পটা
ছাইড়া দেক তোমার ক্ল্যাম্পটারে
এইরকম জিভ বাইর কইরা
আমি বাঁইচা থাকতে চাই না
আর আমার বেসবল ব্যাটের জায়গায়
আরেকটা বাজে গান চাই না
এইটা শেষ
আমি এখন ঘুমাইতে চাই জান
আমারে আটকানোর ট্রাই কইরো না
আমি একটা ঠিকঠাক চেহারা বানবো
আর আমি আবোল-তাবোল কথা বলবো
আমি ঘুমায়া যাবো
তুমি আমারে ভালোবাসো আর না বাসো

এইটা শেষ
চামড়ায় ভাঁজ পড়ার আর মুখের দুর্গন্ধের
নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার আসছে
এইটা আর আগের মতন
থাকবে না
আমার চোখ বন্ধ কইরা
তোমারে খাওয়ার মতো
ভাবতে থাকা যে, তুমি জাইগা উঠবা না
আর চইলা যাবা না
এইখানে অন্য কিছু ঘটবে
আরো বাজে কিছু
আরো সিলি কিছু
এইরকমের কিছু
শুধু আরো কম সময়ের জন্য

 


লোনলিনেসের শরীর

শে আমার পায়ের ভিতরে ঢুকলো তাঁর পা দিয়া
আর আমার কোমরে ঢুকলো তাঁর বরফ দিয়া।
শে আমার হৃদয়ে ঢুকলো এই বইলা,
“হ, ঠিকাছে এইটা।”
আর এইভাবে লোনলিনেসের শরীরটা
ঢাকা পইড়া গেলো বাইরে থিকা
আর ভিতর থিকা
লোনলিনেসের শরীরটা বান্ধা পইড়া গেলো।
এখন যখন আমি একটা শ্বাস টানার ট্রাই করি
শে আমার শ্বাস না নিতে পারার কাছে ফিসফিস কইরা বলে,
“হ, জান আমার, ঠিকাছে এইটা, ঠিকাছে এইটা।”

 

লিওনার্দ কোহেনের আঁকা স্কেচ

লিওনার্দ কোহেনের আঁকা স্কেচ

 

 

তুমি ঠিক বলছো, সারাহ্

তুমি ঠিক বলছো, সারাহ্। এইখানে কোন কুয়াশা নাই, বা পর্দা বা দূরত্বগুলা। কিন্তু এই কুয়াশা ঘিইরা আছে আরেকটা কুয়াশা; আর পর্দাটা লুকানো আছে একটা পর্দার পিছনে; আর দূরত্বটা সবসময় সইরা আসতেছে দূরত্বটার কাছ থিকা। এই কারণে এইখানে কোন কুয়াশা নাই, বা পর্দাগুলা, বা দূরত্বগুলা। এই কারণে এইটারে বলা হয় কুয়াশা আর পর্দাগুলার গ্রেট দূরত্ব। এইটা সেই জায়গা যেইখানে পথিক হয়া উঠে পর্যটক, আর পর্যটক হয়া উঠে এমন একজন যে হারায়া গেছে, আর এমন একজন যে হারায়া গেছে হয়া উঠে সন্ধানী লোক, আর সন্ধানী লোক হয়া উঠে দিওয়ানা প্রেমিক, আর দিওয়ানা প্রেমিক হয়া উঠে ভিখারি, আর ভিখারি হয়া উঠে পাজি লোক, আর পাজি লোকটা হয়া উঠে যারে স্যাক্রিফাইস করা লাগবে, আর স্যাক্রিফাইস করা লোকটা হয়া উঠে যে পুনরায় জাইগা উঠবে, আর পুনরায় জাইগা উঠা লোকটা পার হয়া যাবে কুয়াশা আর পর্দাগুলার গ্রেট দূরত্বটা। তখন হাজার বছরের জন্য, বা বাকি বিকালটার জন্য, এইরকম একজন ঘুরতে থাকে গণগণ করা চেইঞ্জের আগুনে, সবগুলা  ট্রান্সফর্মেশনগুলারে শরীরে নিয়া, একটার পরে আরেকটা, আর তখন শুরু করে আবার, আর তখন শেষ করে আবার, সেকেন্ডে ৮৬,০০০ বার। তখন এমন একজন, যদি সে বেটামানুশ হয়, সারাহ্’র মতন নারীরে ভালোবাসতে পারে; আর এমন একজন, যদি শে নারী হয়, সেই লোকটারে ভালোবাসতে পারে যে কুয়াশা আর পর্দাগুলার গ্রেট দূরত্বরে গানের ভিতরে আনতে পারে। এইটা কি তুমি, যে ওয়েট কইরা আছে, সারাহ্; নাকি এইটা আমি?

 

দেবতাদের দরবারে হাসাহাসি

বুড়া কবিদের হাসি আমি এনজয় করছিলাম
যখন তুমি আমারে ওয়েলকাম করতেছিলা

কিন্তু আমি তো বেশিক্ষণ থাকবো না এইখানে
তুমিও তো থাকবা না

 

আমি প্রেমের জন্য লিখতাম

আমি প্রেমের জন্য লিখতাম।
তারপরে আমি লিখতাম টাকার লাইগা।
আমার মতো কারো কাছে
এইটা একই ঘটনা।

 

রিমোট’টা

আমি মাঝে-মধ্যেই ভাবি তোমার কথা
যখন আমি একলা শুইয়া থাকি
আমার রুমে, আমার মুখ
হা কইরা আর রিমোট’টা
বিছনার মধ্যে হারায়া গেছে কোথাও

 

সবচে মিষ্টি ছোট্ট একটা গান

তুমি চইলা গেলা তোমার পথে
আমিও চইলা যাবো তোমার পথেই

 

উপাধিগুলা

আমার ছিল কবি উপাধিটা
আর হয়তো আমি ছিলাম একজন,
কিছু সময়ের জন্য
গায়ক উপাধিটাও
আমারে দয়া কইরা দেয়া হইছিল
যদিও
আমি খুব কমই পারি একটা সুর ক্যারি করতে,
অনেক বছর ধইরা
আমি পরিচিত ছিলাম একজন ভিক্ষু হিসাবে
আমি আমার মাথা কামায়া ফেলছিলাম আর আলখাল্লা পরতাম
আর খুব সকালে উইঠা পড়তাম
সবাইরে হেইট করতাম আমি
কিন্তু খুব ভদ্রভাবে অ্যাক্ট করতাম
আর কেউ আমারে ধরতে পারে নাই,
আমার খ্যাতি
নারীদের পছন্দের পুরুষ – ছিল একটা জোক
এই কারণে আমি কষ্টের হাসি হাসতাম,
দশ হাজার রাত
আমি একলা কাটাইছি
পার্ক ডি পর্তুগালের কাছে
একটা তিন-তলার জানালা থিকা
আমি দেখছি বরফ
আসতেছে সারাদিন ধইরা
একইরকম
কেউ নাই সেইখানে,
এইখানে কখনোই ছিল না
দয়াময়
ইনার কনভারসেশন
বাতিল হয়া গেছে
শীতের শাদা কোলাহলের ভিতর
“আমি না হইলাম মন
না হইলাম জ্ঞান,
না হইলাম ভিতর থিকা আসা নিরবতার স্বরটা…”-ও
বাতিল হয়া গেছে
এখন শান্ত পাঠক
কি নামে
কার নামে
তুমি আসছো
আমার সাথে আইলসামি করতে
এইসব বিলাসী
আর আউলা-ঝাউলা প্রাইভেসির
মুইছা যাইতে থাকা এলাকায়?

 

তুমি আসলে কারে মনে রাখো

আমার বাপ মারা গেছিল যখন আমার বয়স ছিল নয় বছর।
আমার মা মরছিল যখন আমার বয়স ছিল ছে-চল্লিশ বছর।
আর এর মধ্যে, আমার কুত্তাটা আর কযেকজন ফ্রেন্ড।
রিসেন্টলি, আরো দোস্তরা,
সত্যিকারের দোস্তরা,
খালা আর খালুরা,
অনেক পরিচিতজনরা।
আর তারপরে এইখানে আছে শায়লা।
শে কইছিল, একটা বোকামি কইরো না, লেন।
তোমার ডিজায়াররে সিরিয়াসলি নাও।
শে খুব বেশি দিন আগে মারা যায় নাই
আমাদের বয়স ছিল পনের বছর।

 

তোমার হৃদয়

আমি সত্যি কথা বলছিলাম
আর দেখো এইটা কই নিয়া আসছে আমারে
আমার লেখা উচিত ছিল
টরেন্টোর নিচে থাকা
গোপন নদীগুলার কথা
আর ফ্যাকাল্টি ক্লাবের
বিচারগুলার কথা
কিন্তু না
আমি হৃদয়টারে বাইর কইরা নিয়া আসলাম
একটা বুকের ভিতর থিকা
আর সবাইরে দেখাইলাম
খোদার নামগুলা
খোদাই করা আছে এইখানে
আমি সরি, এইটা ছিল
তোমার হৃদয়
আর আমার না
আমার কোন হৃদয় নাই যারে পড়া যাইতে পারে
কিন্তু আমার ছিল ছুরি’টা
আর মন্দির’টা
ও আমার প্রেম
তুমি কি জানতা না যে আমাদেরকে খুন করা হইছে
আর আমরা যে মারা গেছি একসাথে

 

ঠিকঠাক অ্যাটিটুড

সকালের কয়েকটা ঘন্টা বাদ দিলে
(অই সময়টাতে আমি
সাধু-সঙ্গ করি একজনের সাথে)
সারাদিন আমি বিছানায় থাকি
কিছু খাই না
খালি কয়েকবার পানি খাওয়া ছাড়া
“তুমি দেখতে-সুন্দর একটা বুড়া লোক”
আমি নিজেরে বলি আয়নায়
“আর তার চাইতে ভালো হইতেছে
তোমার আছে ঠিকঠাক অ্যাটিটুড
তুমি কেয়ার করো না এইটা শেষ হইলো
নাকি চলতেই থাকলো,
আর বেহেশতে
তুমি তো পাবা
অনেক মিউজিক আর
অনেক মেয়ে-মানুশ”
তারপর আমি যাইতাম মেমোরি’র
মসজিদে
শুকরিয়া আদায় করার লাইগা

 

বুড়াদের দুঃখ

বুড়া’রা দয়ালু হয়।
হট হয় ইয়াং’রা।
প্রেম অন্ধ হইতে পারে।
ডিজায়ার – তা না।

 

চাইনিজ রিডারদের প্রতি একটা নোট

ডিয়ার রিডার,

থ্যাংক ইউ, এই বইটার কাছে আসার জন্য। এইটা একটা সম্মানের ব্যাপার, একটা সারপ্রাইজ, আমার তরুণ বয়সের পাগলা চিন্তাগুলা চাইনিজ হরফে আসাটা। আমি মন থিকা তারিফ করি ট্রান্সলেটর আর পাবলিশারের খাটনিটারে যা এই কৌতুহলী কাজটারে আপনার নজরে নিয়া আসছে। আমি আশা করি বইটা আপনার ভাল্লাগবে বা কাজের জিনিস মনে হবে।

যখন আমি ইয়াং ছিলাম, আমার বন্ধুরা আর আমি, প্রাচীন চাইনিজ কবিদের পছন্দ করতাম। প্রেম আর দোস্তি নিয়া, মদ আর দূরত্ব নিয়া, এমনকি কবিতা নিয়া আমাদের ধারণা এই প্রাচীন গানগুলা দিয়া প্রভাবিত আছিল।  আরো পরে, যেই বছরগুলাতে আমি একজন জেন ভিক্ষু হিসাবে প্রাকটিস করতাম, আমার টিচার কিয়োজান জশু রশি’র গাইডেন্সে, লিন চি (রিনজাই) এর রোমাঞ্চকর ধর্মোপদেশগুলা প্রত্যেকদিন পড়তাম। তো, আপনি বুঝতেই পারতেছেন, ডিয়ার রিডার, কি রকম খুশি আমি হইছি এইরকম দেখতে পারার জায়গাটাতে যাইতে পাইরা, এমনকি একটা মোমেন্টের জন্য, এই রকমের রোগা জিনিসপত্রগুলা নিয়া, আপনাদের ট্রাডিশনের ধারে আসতে পাইরা।

এইটা কঠিন একটা বই, ইংলিশেও, যদি সিরিয়াসলি নেয়া হয়। আমার সাজেশন যদি নেন,  তাইলে বলবো, কিছু অংশ আপনার ভালো না লাগলে স্কিপ কইরা যাইবেন। এইখানে, ওইখানে একটু থামলেন। হইতে পারে একটা অংশ, বা একটা পেইজ, আপনার কিউরিসিটির সাথে মিইলা গেলো। এর কিছুদিন পরে, যদি আপনার কোনকিছু ভালো না লাগে বা আপনার কোন কাজ না থাকে, আপনি হয়তো শুরু থিকা শেষ পর্যন্ত পড়তে চাইবেন। যা-ই হোক, আমি আপনারে থ্যাংকস দেই এই জ্যাজ-রিফসের, পপ-আর্ট জোকসের, ধর্মীয় ভান আর গোপন প্রাথর্নার আজাইরা কালেকশনটাতে আপনার ইন্টারেস্টের জন্য। একটা আগ্রহের জায়গা থিকা মনে হইতে পারে, আমার চিন্তা-ভাবনা বরং উরাধুরা, যদিও খুব টাচি; এইটা আপনার দিক থিকা উদারতার ঘটনা।

বিউটিফুল লুজার লেখা হইছে খোলা জায়গায়, অনেকগুলা পাথরের মধ্যে একটা টেবিলে, আগাছা আর ডেইজি ফুলের পাশে, আমার বাড়ির পিছনে, হাইড্রাতে, যেইটা এজিয়ান সাগরের একটা দ্বীপ। আমি অনেকদিন আগে অইখানে থাকতাম।  খুবই গরম একটা সামার ছিল। আমি কখনোই আমার মাথা ঢাইকা রাখতাম না। যেইটা আপনার হাতে আছে সেইটা একটা বইয়ের চাইতে অনেকবেশি একটা সানস্ট্রোক।

ডিয়ার রিডার, আমারে মাফ কইরা দিয়েন যদি আমি আপনার সময় নষ্ট কইরা থাকি।

 

বাটপার

আমি বাটপারি করি যখন আমি আদর করি
শে মনে করে এইটা গ্রেট
শে আমারে কিছু জিনিস দেখায়
যেইটা আপনি খালি দেখাইতে পারেন
একটা বাটপার’রে

 

আমার সময়

আমার সময় ফুরায়া যাইতেছে
আর এখনো
আমি গাইতে পারি নাই
সত্যি গানটা
গ্রেট গানটা

আমি স্বীকার করি
যে আমি মনেহয়
আমার সাহস হারায়া ফেলছি

আয়নার দিকে একবার তাকায়া
আমার হৃদয়ের এক ঝলক দেইখা
মনেহয় আমার
চির জীবনের জন্য চুপ হয়া যাই

তো, কেন তুমি এইখানে
আমার দিকে ঝুঁইকা আছো
আমার জীবন দেবতা
আমারে হেলায়া দাও এই টেবিলটাতে
মাঝ রাতে
যেন ভাবতে পারি
কেমনে সুন্দর হইতে হয়

 

কয়েকটা গানের কারণে

কয়েকটা গানের কারণে
যেইখানে আমি বলছিলাম তাদের রহস্যের কথা
নারীরা খুবই
দয়া দেখায় আমারে
আমার বুড়া বয়সে।
অরা অদের বিজি লাইফে
একটা গোপন জায়গা বানায়
আর অরা আমারে সেইখানে নিয়া যায়।
অরা নগ্ন হয়
তাদের আলাদা আলাদা রকমে
আর অরা বলে,
“আমার দিকে দেখো, লিওনার্দ
শেষবারের মতন আমার দিকে দেখো।”
তারপর অরা বিছানার উপরে ঝুঁইকা আসে
আর ঢাইকা দেয় আমারে

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
ইমরুল হাসান
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য