Main menu

কন্টেম্পরারি কয়েকটা বাংলাদেশি ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভ (সিনেমা, নাটক, ডকুমেন্টারি) নিয়া

অন ‘ডুব (No Bed of Roses)’

এই সিনেমাটারে নাটক মনে হওয়ার একটা বড় কারণ মেবি, মিউজিক। আমার কাছে মনে হইছে, নাটকে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের জিনিসটা মিসিং থাকে, থাকেই না প্রায়; কিন্তু সিনেমাতে সবসময় একটা মিউজিক বা সাউন্ড চলতেই থাকে। (বাংলা-সিনেমার ঢিসুম-ঢিসুম নিয়া লোকজন যতই হাসাহাসি করুক, অইটা ইম্পর্টেন্ট। সিনেমার সাউন্ডের ঘটনাটা।…) এইখানে যদিও সাইলেন্স দিয়া পেইন-টেইন বুঝাইতে চাইছে, অইটা হয় নাই আসলে, বরং নাটক-নাটক ব্যাপার হয়া গেছে। এইটা গ্রস একটা মিসটেক হইছে মনেহয়। সাইলেন্সটা তৈরি হয় নাই, বরং মিউজক’টা মিসিং হইছে।

আর এইটা তো বাপ আর মেয়ে’র সিনেমা আসলে! মানে, ‘বাংলা-সিনেমা’ হইলে নাম হইতে পারতো – “বাপ কেন প্রেমিক?” 🙂 কিন্তু এই জায়গা’টা থিকা দেখার ঘটনাই তো আসলে ঝামেলার। 🙁 মানে, এইরকম ক্রাইসিসের জায়গা থিকা জিনিসটারে ডিল করা যায় না। যার ফলে, কাহিনি’টা দাঁড়াইতে পারে নাই।

এইরকম আলাপ তো অনেকদিন থিকাই চালু আছে যে, ক্রিয়েটিভ কিছু হওয়ার লাইগা ইন্টেলেকচুয়াল হওয়ার তো দরকার নাই! যার ফলে, মনে হইতে পারে, আর্টের যেন ইন্টেলেকচুয়াল কোন ক্লেইম নাই! কিন্তু ঘটনা তো তা না, বরং আর্টের ইন্টেলেকচুয়াল এক্সপ্লোরেশনটা ডিফরেন্ট রকমের। তো, অইখানে সিনেমার এই কন্ট্রিবিউশনটা নেগেটিভ একটা ঘটনা আসলে।

থার্ড বা ইম্পর্টেন্ট জিনিস হইলো, সিনেমা’টা কার লাইগা বানাইতেছেন আপনি? – এইরকম ‘অডিয়েন্সের’ একটা ইমাজিনেশন থাকে। আমার কাছে মনে হইছে, এই সিনেমার এক্সপেক্টেড অডিয়েন্স হইতেছে ‘গ্লোবাল কালচারাল মিডল-ক্লাস’, বাংলাদেশে যে উনারা নাই তা না, একটা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়া উনারা আছেন।

এই টেনডেন্সিটা খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে পারবেন, আব্বাস কিরোস্তামির ‘ফ্রেঞ্চ সিনেমা’: সার্টিফাইড কপি, আর ‘জাপানিজ সিনেমা’: “লাইক সামওয়ান ইন লাভ” দিয়া। উনি ইরানি ডিরেক্টর কিন্তু যেই সিনেমা বানাইছেন অইগুলা ফ্রেঞ্চ আর জাপানিজ মুভিই আসলে। একইভাবে, বাংলাদেশেও ফ্রেঞ্চ সিনেমার অডিয়েন্স আছেন আসলে, জাপানিজও; যারা একটা ‘গ্লোবাল কালচারাল ক্লাস’-এ বিলিভ করেন। (এইটা আমার আবিষ্কার! 😎)

ছোট-খাট দুয়েক্টা জিনিস দিয়া এইটা টের পাওয়া যায়। যেমন ধরেন, ইরফান খান বা সিনেমাতে তার সেকেন্ড ওয়াইফ যে বাংলা বলেন, এইটা বাংলাদেশি হিসাবে আমাদের কানে লাগে তো; যদি বাংলাদেশের সিনেমাহলের কথা ভাবতেন ফারুকী, তাইলে হয়তো কাউরে দিয়া ডাবিং করায়া নিতেন। (এই কারণে সিনেমা খারাপ হইছে – তা না, অডিয়েন্সের জায়গাটা খেয়াল করার লাইগা বলতেছি।

তো, এই ‘গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের’ যে খালি একটা ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টেস্টের ব্যাপার থাকতে হয় – তা না, লোকাল ফ্লেভারও লাগে। অইখানে ফারুকী দাফন-কাফনের জায়গাটা নিয়া ‘বাংলাদেশি’ সিগনেচার রাখছেন। একইসাথে গ্লোবালও হইছেন আসসালামু আলাইকুমের সাবটাইটেল’রে Greetings রাইখা।…

এইগুলা দোষের কিছু না অবশ্যই, কিন্তু এইভাবে লোকালাইজেশনের এফেক্ট দিয়া গ্লোবাল হওয়ার ঘটনা’টা মোস্টলি একটা আর্টিস্টিক ব্লাফের ঘটনাই হয়া উঠে আসলে। (এই জায়গাতে আইসা মনে হইলো, পিঁপড়াবিদ্যাও অই জায়গা থিকা ভাল্লাগে নাই আমার।)

তো, পুরুষ ‘প্রেমের ও বাৎসল্যের’ বেদনা যে নাই – তা না, কিন্তু এই জায়গাটারে ফারুকী কোন ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স বা কোন ইন্টেলেকচুয়াল জায়গা থিকা লোকেট করতে পারেন নাই আসলে। নতুন কোন চিন্তা ছাড়া জায়গাতে ফেইলওর হওয়ারই কথা, কিন্তু ফেইলওর’টাও খুববেশি যুইতের হয় নাই আর কি! 🙁

২.
পরিমিতবোধ’টা তো ভালো; কিন্তু যেই ভিউ-পয়েন্ট’টা থিকা স্টোরি’টা বলা হইছে, আমি অইটারেই নিতে পারি নাই। তবে যেই জায়গাটা নিয়া ডিল করতে চাইছে, অইটা ইন্টারেস্টিং। আর আমি যট্টুক বলছি, সিনেমাটা তো অট্টুকই না, এর বাইরে আরো ব্যাপার-স্যাপার তো আছেই।

ডুব সিনেমার পোস্টার

লাইভ ফ্রম ঢাকা: কম্পাইলেশন অফ ডিজাস্টার

কয়েক বছর আগে যখন বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটা রিলিজ হইছিল তখন অনেকের প্রশংসা শুইনা দেখবো ভাবছিলাম, কিন্তু কোন সিনেমা আমাদের পরিচিত ডিস্ট্রিবিউশনের জায়গাগুলাতে (আমার ক্ষেত্রে, যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাহল, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, পাইরেট ই-বে) না পাওয়া গেলে, দেখা তো কঠিন। আর এই ডিরেক্টরের সিনেমা কান-এ সিলেক্ট হওয়ার পরে এই সিনেমা না দেখার কারণে ‘সিনেমা-ক্রিটিক’ হিসাবে নিজের পজিশন তো রিস্কে পড়ে যাইতেছিল! এই কারণে দেখাটা ফরজ হয়া গেছিল। থ্যাংকস Abir Hasan Eka, হেল্প করার জন্য।

তো, লোকজনের কথা শুইনা আমার মনে হইছিল যে, সিনেমা’টাতে একটা ‘কেওস’ বানানো গেছে, যেইটা ঢাকা শহরের একটা কোর সিগনেচার বইলা আমি মনে করি। কিন্তু সিনেমা’টা আসলে “কম্পাইলেশন অফ ডিজাজস্টার”, কেওস না। মানে, দুইটা দুই জিনিস। যেমন দেখেন, রাস্তার এতো সিন, অথচ জ্যামের কোন ঘটনা নাই তেমন! (একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস খেয়াল করলাম, ‘৭০ দশকের সিনেমাতে শাপলা’র মোড়, দোয়েল মোড় যেইরকম “ঢাকা শহর” ছিল, এখনকার ভিজ্যুয়ালগুলাতে কুড়িল-বিশ্বরোডের ফ্লাইওভার, হাতিরঝিল “ঢাকা শহর” হয়া উঠতেছে। “ডুব” সিনেমাতেও দেখলাম।)

আমি শুইনাই খুব খুশি হইছিলাম যে, শেয়ার-মার্কেটের ডাকাতির ঘটনা কাহিনির বেইজ হিসাবে কাজ করছে। কিন্তু এরপরে ড্রাগস, আদম-পাচার, ভার্সিটির মারামারি, শাহবাগ (মতিঝিল কিন্তু নাই )… এই ব্যাপারগুলা একরকমের ‘অ্যাড-অন’ হিসাবে আসছে, কিছু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ যেন, একটা স্পেইসে, ঢাকা শহরে, একজন ব্যক্তি-মানুশের লাইফে ঘটতেছে। আর এই ঘটনাগুলাও রিয়ালিটি হয়া উঠতেছে টিভি-রেডিও’র নিউজের ভিতর দিয়া।

সাজ্জাদ আর রেহানার থাপড়া-থাপড়ি’র ঘটনাই দেখেন, যেন সোশ্যাল প্রেশারের কারণে অরা পারসোনাল লাইফে ব্রার্স্ট-আউট করতেছে, এইরকম একটা জায়গাতে ন্যারো করা হইছে। এইটা অই সেন্ট্রাল থিম’টার কারণে করতে হইছে। এইটা ইউরোপিয়ান আইডিওলজিক্যাল মাইন্ডরে সেটিসফাই করার কথা অনেক।

মানে, ঢাকা শহরের ইলিমেন্টগুলা আছে অনেক। (যেমন, ব্যাকগ্রাউন্ডে জেমসের গান, হৈ চৈ…) কিন্তু আরো অনেককিছু ইনসার্ট করা যাইতো আসলে। (যেমন, ঢাকা শহরে এমন বাসা তো কম-ই আছে যেইখানে মসজিদের আজান শোনা যায় না, মানে, রিয়ালিটি হিসাবে এইটা তো আছে, বা রেডিও’তে হিন্দি গান, গলিতে কুত্তার ঘেউ ঘেউ…) তো, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড আছে, কিন্তু মিউজিকের জায়গাটাই নাই! এইটা আমারে খুবই হতাশ করছে যে, বাংলাদেশি ডিরেক্টর’রা চোখে আইডিওলজি’র চশমা পিন্দা রিয়ালিটি’রে দেখেন – এইটা মেইন ঝামেলা না, বরং উনারা উনাদের কান কেমনে বন্ধ কইরা রাখেন! মিউজিক ছাড়া কোন কাহিনি, কোন কারেক্টার কেমনে উনারা ইমাজিন করেন! আমার ধারণা, উনারা যদি উনাদের সিনেমাতে মিউজিকের জায়গাটারে এক্সপ্লোর করতে পারেন, তাইলে উনাদের কাজগুলা মোর ‘দেশি (desi)’ না বরং ন্যারেটিভ হিসাবেও ইউনিক হয়া উঠতে পারবে আসলে।…

তো, নায়ক-নায়িকা’রে ভাল্লাগছে। উনারা কারেক্টারের সাথে খুবই এনগেইজ ছিলেন।

ফারুকী’র গুলশান-বনানী’র সাজানো-গোছানো ঢাকার এগেনেস্টে সাদের ঢাকা তেজগাঁ-মহাখালি-শাহবাগের। এইটারে সাদের সাকসেস হিসাবে না দেইখা সেইম গ্রাউন্ডেরই একটা “এনকাউন্টার” হিসাবে দেখাটাই বেটার মনেহয়।

মানে, আমি রিকোয়েস্ট করবো, আপনারা (বাংলাদেশের আর্ট-ফিল্ম ডিরেক্টর’রা) যে কোন আইডিয়ারে ভিজ্যুয়ালাইজ করার চেষ্টা’টা যদি একটু কমাইতে পারেন, ভালো হবে সেইটা। সিনেমা’তে ভিজ্যুয়ালগুলারেই তৈরি করেন, দেখেন এরা কোন আইডিয়ারে রিলিভেন্ট কইরা তুলতে পারে কিনা! আর্টে নানান আইডিয়া তো থাকেই, কিন্তু অইগুলারে আপনার আর্টের দখল নিতে দিয়েন না। আমাদের সময়ে, এইটা যে কোন আর্টিস্টের জন্য একটা কোর স্ট্রাগলের জায়গা।…

সিনেমার পোস্টার

 

আয়েশা

হিস্ট্রিক্যালি “আয়েশা”রে কি “রেহানা মরিয়ম নূরের” আগের একটা ন্যারেটিভ বলা যাইতে পারে? আগের ঘটনা তো অবশ্যই, মিলের জায়গাগুলা নিয়া বরং বলতে চাইতেছি। আয়েশা’র বোরকার জায়গায় নূরের মাথার হিজাব; আইএ পাশের জায়গায় মেডিকেলের টিচার, নিন্ম-মধ্যবিত্ত থিকা আপার-মিডল ক্লাস, এইরকম একটা গ্রাফও টানা যাইতে পারে। মানে, ন্যারেটিভের দিক থিকা।

এখন আর্ট-কালচারে এইরকম আগের-পরের ঘটনা থাকেই। আগে হইছে বইলাই কোনটা বেটার, পরেরটা কপি – এইটা ট্রু না, আর হইলে সেইটা টের পাওয়াও যায়। আমার বলার জায়গা হইতেছে, একটা “উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট” এজেন্ডার জায়গা থিকা যদি দেখেন, এই জায়গাটারে যদি সেন্টার করেন, একটা ক্রনোলজি পাইবেন, নারী-ইমেজের। মানে, আমি যেইটা বলতেছি সেইটা “সিনেমার আলাপ” না এতোটা; বরং সিনেমা বা আর্ট-কালচার সোশ্যাল ইস্যুগুলারে কেমনে রিলেভেন্ট করে বা কইরা তুলতে চায়, সেইটারই আলাপ এইটা।

সাবজেক্ট হিসাবে ‘নারী-ইমেজের’ এই “উন্নয়ন” একভাবে সোশ্যাল ও পলিটিক্যাল ক্রাইসিসগুলারে একটা ফ্রেমের ভিতরেই আটকায়া ফেলতেছে কিনা – এই সন্দেহ আমার আছে, এই জায়গাটায়।

“আশেয়া”তে তো একটা পলিটিক্যাল ক্রাইসিস’রে আনিসুল হক এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকী একটা ব্যক্তি-মানুশের কান্দার ভিতর দিয়া দেখানোর চাইতে তার ভিতরেই লিমিট কইরা ফেলছেন; সেইটা একটা মন-খারাপের ঘটনাই আসলে। মানে, ঘটনাটারে উনারা অই সময়ের পলিটিক্যাল বাস্তবতা থিকা আলাদা কইরা একটা ইউনিভার্সাল স্ট্রাগলরে প্রজেক্ট করার চাইতে পলিটিক্যাল বাস্তবতারে আসলে লুকাইছেন, সেন্সর করছেন। এইটা ন্যারেটিভটারে বিচ্ছিন্ন করছে, রিচ করে নাই।

তবে তিশার কান্দা’টা ভালো। ভালো এই অর্থে যে, শেষের দিকে মনে হইছে বাংলাদেশে যারা গত দশ-পনের বছরে গুম হইছেন, তাদের আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব’রা এমনেই কান্দেন মনেহয়।

তবে উনারা গুম নিয়া এইরকম কোন সিনেমা বানাইতে পারার কথা স্বপ্নেও মনেহয় ভাবতে পারবেন না; পলিটিক্যাল রিস্কের কারণে না, বরং উনারা যেই ন্যারেটিভের লোক, সেইখানে এইগুলা কোন ঘটনাই তো না! মানে, ফিট-ইন করার কথা না, উনাদের পারোসনাল দুঃখের ভিতরে। তবে আমি কি খুশিই না হইতাম যদি আমি ভাবতে পারতাম, আমার এই চিন্তাটা আসলে, ভুল!

সোনালি ডানার চিল

পুরান দিনের বিটিভি’র নাটক দেখলাম একটা!

২০১৮ সালে বানানো। খুবই অবাক হইছি, এইরকম ন্যারেটিভে মানুশ এখনো বিলং করে!

মানে, নাটক বানানো যে খারাপ হইছে, কাহিনি যে ভালো না, অভিনয় করতে পারে নাই – এইরকম কথা তো বলাই যাবে না; কিন্তু দেখতে গেলে, পুরানা দিনের বিটিভি’র নাটকের কথাই মনে হওয়ার কথা, অনেকেরই।

সমস্যা’টা ন্যারেটিভ’টাতে; যেই জায়গা থিকা দেখা হইছে পুরা ঘটনা’টারে। দেশে এইরকম দুখী মিডল-ক্লাস আর নাই আসলে! যারা আছেন, উনারা আরো নিচে আছেন, বা উপরে, বা অন্য একটা শেইপে আছেন; ইকনোমিক্যালি, কালচারালি, সোশ্যালি, ইন এভ্রি সেন্স! যার ফলে এই নাটকের রিয়ালিটি কোন এন্টারটেইনমেন্ট বা আর্ট-ম্যাটেরিয়াল হইতে পারে নাই, বরং হয়া উঠছে একটা অতীত দুখ্খেরই স্মৃতি!

আর ফ্যাক্ট হিসাবেও দেখেন, দেশে যে বুয়েট-মেডিকেলের বাইরে কিছু আছে, সেই বাস্তবতাও গায়েব (মিডলক্লাসের পোলা-মাইয়ারাও যে প্রাইভেট মেডিকেলে, ভার্সিটিতে পড়তে পারে, পড়তে হয় – এই জিনিস নাটকের ডিরেক্টর’রা কবে মানতে পারবেন, আল্লা জানে!); কারণ তা নাইলে তো এই ট্রাজেডি’টা ক্রিয়েট করা যাবে না! এখন নাটক-সিনেমারে সমাজ-বাস্তবতার সাথে মিলাইতে হবে – তা তো জরুরি না; কিন্তু এই “সমাজ-বাস্তবতা”র নাটকে বাস্তবতার বেইজটা এতোটাই কাল্পনিক যে, “ক্লিশে” বললেও সম্মান দেখানো হবে আসলে।

মানে, এইটা একটা পুরানা দিনের বিটিভি’র নাটক, এর বেশি আর কি-ই বা বলা যাইতে পারে!

 

নীল মুকুট

১.
বাংলা সাবটাইটেল আছে!

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন কি পরিমাণ ‘ইংলিশ’ শব্দ ইউজ করে। ‘প্রথম’ না কইয়া কয় ‘ফার্স্ট’। ‘ধর্ষণ’ না কইয়া কয়, ‘রেইপ’। ‘ভীড়’ না কইয়া কয়, ‘ক্রাউড’। এইরকম হাজার হাজার না হইলেও শ’য়ে শ’য়ে ‘ইংলিশ’ ওয়ার্ড কয়! ট্রাজেক্টরি, এঙ্গেল, এটিটুড… এইরকম কঠিন কঠিন শব্দও।

কিন্তু মুশকিল হইতেছে, এইগুলা ইংলিশ না, বাংলা-ই এখন। আরো অনেক আগে থিকাই। (উচ্চারণও ইংলিশের মতো না, কিন্তু।…) আপনি ইংলিশ বইলা জানেন যেহেতু, ‘বাংলা’ বলার খায়েশ হয় আপনার। ‘ভদ্রলোকি’ দেখাইতে গিয়া লেখার সময় জোর কইরা লেখতে হয়।

এই কারণে সিনেমা-নাটকে বাংলা-সাবটাইটেল দেয়া দরকার। দেখতে দেখতে চোখে ইজি লাগবে তখন।

২.
ডকুমেন্টারি হিসাবে তো একটা সুপারফিশিয়াল জিনিসই হইছে এই “নীল মুকুট”। ইউএন ফান্ডিং করে নাই? না করলেও এপ্রিশিয়েট তো করতেই পারে। যেইভাবে নন-পলিটিক্যাল এবং পারসোনাল সুখ-দুঃখের একটা ঘটনা বানায়া ফেলা হইছে ইউএন মিশনের কাজকামরে, সেইটা ডকুমেন্টশন হিসাবে যেই পলিটিক্যাল পারপাস সার্ভ করে, সেই জায়গা থিকা এইটারে ইউএন’র মিশনের অফিসিয়াল ডকুমেন্টারি বইলাই ভুল হইতে পারে।আমি আসলেই অবাক হইছি, যেই দেশে হাজার হাজার মেয়ে মিডলইস্টে “গৃহকর্মী” নামে সরকারিভাবে পাচার হয়, লাশ হয়া ফিরা আসে; যেই দেশের হাজার হাজার মানুশ সাগরের নৌকায়, বনে-জঙ্গলে, ফ্রোজেন ট্রাকে মর্ডান-স্লেভারিতে “আদম পাচার” হইতে গিয়া মারা যায়, সেই দেশের একজন মানুশ, যিনি সিনেমা বানাইতে পারেন, ইউএন মিশনের নারী-পুলিশের ব্যথায় কাতর হইয়া সিনেমা বানানোর মতো ইন্সপারেশন যে পান, এতে কইরা টের পাওয়া যায়, দেশের একটা শ্রেণির মানুশ-জন আসলেই সুখে আছে।

মানে, এতোটা রুড হইতে চাই নাই আমি! কিন্তু এই আনন্দ-বেদনারে এতোটা নন-পলিটিক্যাল ভাবতে পারার কোন কারণও খুঁইজা পাই নাই। বাংলাদেশ পুলিশ-মিলিটারি’র সিনেমা হিসাবে এই ডকুমেন্টারি কোন ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ না পাইলেও “জাতীয় পুরষ্কার” পাইতে সমস্যা হওয়ার কথা না, কোনভাবেই।

ওয়েব-বেইজড এন্টারটেইনমেন্ট কনটেন্ট নিয়া

টিভি-স্টেশন বেইজড এন্টারটেইনমেন্টের দিন তো বাংলাদেশে মোটামুটি অফিসিয়ালি শেষ হইতে যাইতেছে। চরকি’র শুরু হওয়ার পরে এইটার কথা মনে হইলো। (ঘটনা’টা তো শুরু হইছে আরো আগেই আসলে।) উনাদের কনটেন্টের কারণে না, অডিয়েন্স হিসাবে বাংলাদেশি পিপলরে টার্গেট করার ভিতর দিয়া। যদিও উনারা ম্যাস-লেভেলে যাইতে রাজি না এখনো। যেমন বাংলা-ক্ল্যাসিক হিসাবে বেহুলা’রে রাখছেন, রূপবান’রে রাখেন নাই। আমার একটা ধারণা হইতেছে, বাংলা-সিনেমা হিসাবে এটলিস্ট রূপবান, ছুটির ঘন্টা এবং বেদের মেয়ে জোসনা’রে যারা নিতে পারবেন, উনারা ‘বাংলাদেশি অডিয়েন্সরে’ কিছুটা হইলেও নিতে রাজি হইতে পারবেন।… তো, এইসব জিনিস চেইঞ্জ হবে ধীরে ধীরে, ওয়েব কনটেন্ট এবং প্লাটফর্ম যারা বানাইতেছেন উনারা বুঝতে পারবেন যে, মিডল-ক্লাস উনাদেরকে ভাত দিবে না; কিন্তু তারপরও উনারা এই মিক্লাদের দরবারেই হাজির হইবেন। কেন?

এই আলাপ’টা আসলেই অনেক বড় এবং যে কোন একটা পারসপেক্টিভ নাই। আমি তিনটা জিনিস এটলিস্ট হাইলাইট করতে চাই।

এক হইলো, উনাদের ইকনোমিক উদ্দেশ্য যে নাই – তা না, কিন্তু এইটা মোটিভেশন ফ্যাক্টর না এতোটা (আবদুল্লাহ মাহমুদ সাদের কথা শুনলেও বুঝতে পারবেন সেইটা)। ধরেন, লাখ লাখ মানুশ আপনার কোন পোস্টে প্রশংসা করলো, আর ধরেন, টারানটিনো (বা এই লাইনের যারা মাস্টার মানুশ আছেন, উনাদের কেউ একজন) আইসা একটা লাইক দিলো, বা কইলো, ভালোই তো হইছে; বিশাল ব্যাপার হবে না তখন সেইটা! কিন্তু এইটা খালি একজন বুঝদার মানুশের রিকগনিশন হিসাবে দেখতে চাই না আমি, সেইটা তো আছেই; কিন্তু এর বাইরেও একটা ক্লাস-ওয়ারফেয়ারের ঘটনাও। আর্ট সবসময় একটা রুচি’র ঘটনা। এমন না যে গ্রেট আর্ট খালি একটা ইকনোমিক ও কালচারাল ক্লাসের জিনিস, অ্যাক্রস দ্য ক্লাস পিপলরে কানেক্ট করতে পারে; কিন্তু ফার্স্টে একটা ক্লাসের রুচিরে স্যাটিসফাই না করতে পারলে এইটা হয় না। তো, এই ক্লাস কোনটা?

এইখানে সেকেন্ড পয়েন্ট’টা আসে, আমি আগেও কয়েকবার বলার চেষ্টা করছি (থিওরেটিক্যালি স্পষ্ট করতে পারি নাই মেবি) যে, একটা গ্লোবাল কালচারাল ক্লাস এমার্জ করতেছে, সারা দুনিয়াতে। একটা সময়ে, কৃষক ও জমিদারের ক্লাস-ওয়ার থিকা আমরা পাইছি ন্যাশনাল বুর্জোয়া ক্লাসটারে; দেখবেন, ‘জাতীয়’ হওয়াটা জরুরি ছিল তখন (এখনো আছে সেইটা, কিছুদূর পর্যন্ত), এখন এইটা আর মাস্ট কোন ক্রাইটেরিয়া না; বরং ইথোপিয়ার না-খাইতে-পারা বাচ্চাদের জন্য যদি আপনার মন না কান্দে, আপনি তো মানুশই না! যে কোন আর্ট এখন এই গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের লগে রিলিটেড একটা ঘটনা। মানে, জাতীয়তাবাদী বুর্জোয়া শ্রেণী একটা পুরান ক্লাস এখন।

থার্ড পয়েন্ট হইতেছে, এই যে নতুন ক্লাস, এইটা তৈরি হইতেছে খালি পুঁজির গ্লোবালাইজেশনের ভিতর দিয়া না, বরং এই আর্টের পাওয়ারের ভিতর দিয়াও। এই পাওয়ারটারে ক্রিয়েট করতেছে নতুন টেকনোলজি, নতুন ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম। আপনি কি মনে করেন, ‘সার্টেন রুচি’র ম্যাটেরিয়াল না হয়া কোন আর্ট নেটফ্লিক্সে ডিস্ট্রিবিউটেড হইতে পারবে? বালের ‘প্রমিত ভাষায়’ না লেখলে মরা নিউজপেপারগুলা যেমন আপনার লেখা ছাপাবে না, এইরকম সার্টেন রুচি’র জায়গারে প্রমোট না করলে নেটফ্লিক্স এবং অন্য ওয়েব প্লাটফর্মগুলাও আপনার সিনেমা-আর্টরে প্রমোট করবে না। (হাউএভার, এইগুলার কারণেই এরা টিইকা থাকে না, বরং এই বৈশিষ্ট্যগুলা হইতেছে এই ফর্মেশনগুলার কোর জিনিস।) গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের ঘটনা’টা থাকাই লাগবে, আপনার কাছে মনে হবে এইগুলা ‘স্বতঃসিদ্ধ’ বা ‘স্পন্টিনিউয়াস’ একটা ঘটনা!
নিউজপেপার, রাষ্ট্রীয় টিভি-চ্যানেল যেমন ছিল জাতীয়তাবাদের বেইজ, এইরকম ওয়েব প্লাটফর্মগুলা হয়া উঠতেছে গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম। পলিটিক্যাল পাওয়ার এবং আর্টের একটা রিচুয়াল সুপরিয়রিটি ক্লেইম করার ভিতর দিয়া।

ভালো বা খারাপের বাইরে, এই জিনিসটারে খেয়াল করাটা দরকার।

The following two tabs change content below.
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য