Main menu

জোসেফের পোলা – সুধীর নাউরোইবম

মূল মণিপুরি গল্প: জোসেফকী মচা
লেখক: সুধীর নাউরোইবম
তরজমা: চিংখৈ অঙোম

 

ড্রাইভিং সিটে জোসেফ একলা বইসা আছে। গাড়ি চলতেছে খুব ধীরে। খুব যত্ন কইরা সাজগোজ কইরা বের হইছে সে আজ। একদম ফিটফাট। এর আগে এমনটা আর কখনও হয় নাই। মানে ওর সাজগোজের ব্যাপারটা। অনেক দিনের শেইভ না করা দাঁড়িগুলি কামাইতে দরকারের চাইতে অনেক বেশি টাইম লাগাইছে সে আজ। মাথায় আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা পানি ঢাইলা ঢাইলা গোসলও করছে অনেক টাইম নিয়া। একই কাহিনি করছে কাপড় পাল্টানোর বেলায়ও। তবে সবচাইতে ফানি ব্যাপার হইলো চুল আঁচড়ানোর টাইমেও যে-সময়টুকু নিছে সে আজ। প্রত্যেকটা চুল একটা একটা আলাদা কইরা আঁচড়াইলেও হয়ত এতো টাইম লাগতো না যতটুকু সে আজ লাগাইছে। এইভাবে আলসেমী কইরা ঢিমেতালে কাজ করার ব্যাপারে আজ কোনো অনীহা নাই জোসেফের। অথচ একটা সময় সেও কিপটামি করত সময়ের ব্যাপারে। মাইপা মাইপা খরচ করত প্রতিটা মুহূর্ত।

আজ এইসবের কোনো কিছুতেই নাই মেরী। অথচ জোসেফের খাওয়া-দাওয়া পোশাক-আশাক সমস্ত কিছুর খুঁটিনাটি এর আগ পর্যন্ত মেরীই সামলাইত। যেদিন থিকা ওরা একসাথে আছে, জোসেফ এমন কি শার্টের বোতামটা পর্যন্ত নিজ হাতে লাগাবার সুযোগ পায় নাই কোনোদিন। আর আজ মেরী জোসেফের ধারেকাছেও নাই। এমন কি, চইলা যাওয়ার আগে ‘কিছু ফেইলা গেছ?’ পর্যন্ত জিগায় নাই আজ মেরী। মেরী বইসা আছে চুপচাপ, কোনো এক দিকে নিষ্পলক তাকায়া। মুখে কথা নাই। যেন একটা লাশ সে। যেন একটা লাশ তাকায়া আছে চোখ মেইলা। ব্যাপারটা নতুন জোসেফের কাছে। তাই মানতে পারতেছে না। কিন্তু ঠিক রাগও করতে পারতেছে না। কারণ এমন মৌন উদাসীনতা গত বেশ কিছুদিন ধইরা খুব সম্ভবত সেও দেখায়া যাইতেছে মেরীর প্রতি।

‘বাইরে কোথাও যদি যাইতেই হয়’, যাওয়ার আগে জোসেফ বলে মেরীরে, ‘এইভাবে রেডি হয়া যাইতে হয়, বুঝলা? একদম ফিটফাট। তুমিও একটু সাজগোজ কইরা নাও, যাও। একটু ফিটফাট থাকো, মেরী। সবসময় একটু ফিটফাট থাকা ভালো। আমি গেলাম।’

দুই ঠোঁটের ফাঁকে একটা সিগ্যারেট পুইরা নেয় জোসেফ। সিগ্যারেট জ্বালাইতে গিয়া কিছুক্ষণ স্টিয়্যারিংটা ছাইড়া দেয় সে। ব্যাপারটা এমন না যে ড্রাইভিং-এর ব্যাপারে জোসেফ খুব উদাসীন। স্টিয়্যারিঙে হাত রাইখা রাইখাই সিগ্যারেট জ্বালাইতে পারে না সে, এমনও না। কিন্তু আজ ওর স্টিয়্যারিংটারে ছাইড়া দিতে ইচ্ছে করে কিছুক্ষণ। কিছুক্ষণ স্টিয়্যারিংটা ছাইড়া দিলে কী আর এমন হয়।

গাড়ির গতি বাড়ে না। একই রকম ধীর। রাস্তাঘাট অনেকটাই বদলায়া গেছে। অনেক সুন্দর হয়া গেছে। কলেজ শেষ করার পর এইদিকটায় বলা যায় সে আর আসেই নাই কোনোদিন। অনেক ফ্রেন্ডের সাথে দেখা নাই বহুদিন। নিশ্চয় অনেকেই বাঁইচাও নাই। অনেকেই হয়ত বাঁইচাও আছে। বাঁইচা থাকা আর মৃত্যু ছাড়া আজকে আর কোনো ভাবনা এখন পর্যন্ত আসে নাই জোসেফের মাথায়।

কবরস্থানের সামনে গাড়ি থামায় জোসেফ। আধপোড়া সিগ্যারেটটা ছুঁইড়া ফেলায়। গাড়ি থিকা নাইমা কবরস্থানের সিঁড়ি দিয়া হাঁইটা চলে অভিজাত ভঙ্গীমায়। মৃত্যু সম্পর্কিত দুইটা জায়গার সাথে পরিচয় আছে জোসেফের। একটা হইলো মর্গ। আরেকটা কবরস্থান। কবরস্থানে আছে ভালোবাসা আর নস্টালজিয়া। মর্গে আছে ভয় আর শোক। মর্গে কখনই যায় নাই জোসেফ। কখনও যাইতে চায়ও না।

ঘণ্টাটা ঠিক আগের জায়গায় আছে আগের মতোই। জোসেফ প্রায়ই বাজাইত এই ঘণ্টা। হুদাই বাজাইত না সে; জোসেফ এই ঘণ্টা বাজাইত সবচাইতে আনন্দের অথবা সবচাইতে কষ্টের সময়গুলাতে। জোসেফ জানে ঘণ্টার এই আওয়াজ তার খুশি বা মন খারাপগুলিরে পিঠে কইরা নিয়া চইলা যায়। ঘণ্টার আওয়াজ যতদূরে যায়, তার অনুভূতিগুলাও ছড়ায়া পড়ে তত দূরে। পৃথিবীর সমস্ত হৃদয় ছুঁয়া যায় সেটা। এবং ঘণ্টার আওয়াজে প্রথম সাড়া দেয় কাছের পাখিগুলি, ঘণ্টার আওয়াজে ওরা এক ঝাঁক উইড়া যায় দূরে। তার অনুভূতিগুলি সবার আগে টাচ করে পাখিগুলিরেই।

জোসেফ ঘণ্টার কাছে আগায়া যায়। ঘণ্টায় বাঁধা সুতা ধইরা টান দেয়। পাখিগুলি উইড়া চইলা যায় এক ঝাঁক। এতদিন পরও পাখিগুলি ওরে মনে রাখছে, এইটা ভাবতেই চোখে পানি চইলা আসে জোসেফের। উড়তে থাকা পাখিগুলির দিকে তাকায়া তাকায়া জোসেফ ঘণ্টা বাজাইতে থাকে। বাজাইতে থাকে একটানা। পাগলের মতো বাজাইতে থাকে জোরে জোরে। একটানা। খুব জোরে। তারপর হঠাৎ হাইসা ওঠে। উন্মাদের মতো হাইসা ওঠে। জোরে জোরে শব্দ কইরা হাইসা ওঠে।

দূরে এক বুড়া কাজ করতেছিল। মাটিগুলি আলগা কইরা দিতেছিল ফুলগাছের শিকড়ের। থাপা। এই কবরস্থানের দারোয়ান। মালিও। ওর কাছে আগায়া যায় জোসেফ।

‘দাজু থাপা।‌’

থাপা তাকায় জোসেফের দিকে। সে চিনতে পারে না জোসেফরে। কীংবা মনে করতে পারে না।

‘আমাকে চিনতে পারতেছ না দাজু?’ কথা শেষ কইরা জোসেফ একটা সিগ্যারেট বাড়ায়া দেয় থাপার দিকে। সে নিজেও একটা ধরায়। জোসেফ নিজের পরিচয় দেয়, ‘আমি। আমি। আরে, ঐ যে, অনেক বছর আগে তোমারে খুব জ্বালাইতাম। বলতাম ‘তোর কবরটা কই হবে রে বুইড়া?’ একদমই দেখতে পারতা না তুমি আমারে। আমিই সেই ছেলে।’

‘ওহ! জোসেফ। কোট-টাই দেইখা একদম চিনতে পারি নাই তোমারে। ঘণ্টা কি তুমিই বাজাইছিলা?’

‘হ্যাঁ, আমিই।’

থাপা হাসে, ‘তোমার মেজাজ এখনও যায় নাই তাইলে। ইশ! কতদিন পরে দেখা হইলো। ক্যান আসছো এইখানে?’

‘এইতো, এমনিই। আমরা ‘পাহাড়ি’দের কাছেতো কবরস্থানের জন্য টানটা সবসময় একটু বেশিই। তোমার কবরস্থানটা অনেক সুন্দর হয়া গেছে এখন।’

‘অনেক বদলায়া গেছে, আগেরটা আর নাই কিন্তু।’ একটু অহঙ্কারের ছাপ পড়ে থাপার চোখে-মুখে, ‘ঐ দেখো, ঐ পাশের মাঠটাও এখন এই কবরস্থানের অংশ।’ আঙুল তুইলা দেখায় সে।

থাপার তর্জনি যেইদিকে, সেইদিকে তাকায় জোসেফ। অনেকগুলি ক্রুশ সেইদিকে। বেশ দূরে। একেকটা ক্রুশ যেন বইলা ওঠে ওরে, এই মৃত্যু যিশুর মৃত্যু। ক্রুশবিদ্ধ মৃত্যু যিশুর। পেরেক ঠুইকা ঠুইকা ডাইকা আনা মৃত্যু। এই মৃত্যুরে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হইছে এমনকি ঈশ্বরের পোলারেও! আহা রে জীবন!

জোসেফ থাপারে বলে, ‘হইতেই পারে দাজু, অস্বাভাবিক কিছু না। পুরাটাই তোমার কবরস্থান হইয়া উঠতে পারে একদিন। কবর তো আর ডেইলি ডেইলি বাড়তেই থাকে। কবরস্থান তো আর সবসময় ছড়াইতেই থাকে।’

‘একলা আসছো?’

‘হ্যাঁ, একলাই।’

‘মেরী কেমন আছে? তোমরা বিয়ে করছ শুনছি। কার কাছ থিকা শুনছি ঠিক মনে নাই। ওরে নিয়া আসতে পারতা তো।’

‘হ্যাঁ আসব, একদিন ওরে নিয়া অবশ্যই আসব।’

‘পোলা-মাইয়া?’

‘একটা পোলা।’

‘একটাই?’

এইভাবে ‘একটাই?’ শুইনা অস্বস্তি লাগে জোসেফের। খুব আনইজি ফিল করে সে। জোসেফ পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘হ্যাঁ, একটাই। কেন, কী হইছে?’

‘না না, ভালো। খুব ভালো। নিশ্চয় অনেক বড় হইছে?’

‘হইছে বেশ বড়। টগবগে জোয়ান।’ কিছুক্ষণ চুপ মাইরা থাকে জোসেফ। রুমাল বাইর কইরা চশমার কাচ মোছে। তারপর বলে, ‘কিন্তু আজ দশদিন হইলো বাড়ি ফেরে নাই।’

চমকায়া ওঠে থাপা। চোখ গোল গোল কইরা জিজ্ঞেস করে, ‘কই গেলো?’

চশমা চোখে দেয় জোসেফ। ‘জানি না। কই যাবে বইলা যায় নাই। এমনি বাইর হয়া গেল, আর ফিরে নাই। বয়সটা রঙিন তো। যাবে আর কী যেইখানে খুশি। নিশ্চয় ভালোই আছে কোথাও না কোথাও।’

‘তাও তো কিছু জানানো উচিত ছিল ওর।’

‘তাই তো। কোনো সমস্য হইলো কি না ভাবতেছি। ওর ফ্রেন্ডদেরও জিগাইলাম। কেউ কিছু জানে না। যতটুকু পারি খুঁজছি। জানি না, দাজু। ওর কাণ্ড-কারখানা কিছুই বুঝি না আমি।’

‘বাসায় কোনো সমস্যা-টমস্যা হয় নাই তো ওর সাথে? ঝগড়া-টগড়া?…’

‘নাহ! কিন্তু হইলেই বা কি? বাসায় তো ফিরবে, না কি? অবশ্য তোমার মতো কইরা মেরীও ভাবতেছে, নিশ্চয় কোনো সমস্যা হইছে আমাদের সাথে।’

‘পুলিশরে জানাইছো তো?’

‘জানাইছি। পেপারেও নিউজ দিছি। যতটুকু পারি করছি, দাজু। কিন্তু কোনো খোঁজ পাইলাম না। তিনদিন আগে একটা বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেছে, মর্গে গিয়া দেইখা আসতে ডাকছে, খোঁজ বলতে কেবল এইটুকুই। আশ্চর্য, আমি কেন মর্গে যাব? পোলা বাড়ি ফিরতেছে না, তো মর্গে খুঁজতে যাব ক্যান ওরে? আজিব!’

‘আচ্ছা জোসেফ, তুমি নাগা, না কুকি?’

কড়া চোখে তাকায় জোসেফ থাপার দিকে, ‘এতোদিন একসাথে ছিলাম, তখন কখনও জিজ্ঞেস করলা না, অথচ আজকেই জিজ্ঞেস করতেছ? ক্যান দাজু, কী হইছে?’

থাপা চুপ কইরা থাকে। জবাব দেয় না।

জোসেফ হাইসা ওঠে, ‘আমি জানি দাজু, তুমি আমারে নিয়া হাসাহাসি করতে চাইতেছো। হ্যাঁ, পারো তো। হাসাহাসিতো করতেই পারো। নাগা না কুকি, সেই পরিচয় দেয়ার মতো বুকের পাঠা নাই আমার। আমার সেই কনফিডেন্স নাই। আমি ডরাই। নাগা হওয়ারও ইচ্ছা নাই আমার, কুকি হওয়ারও নাই। দাজু, তুমি তো জানোই, মণিপুরে অনলি দুইটা জাতি। ‘চীংমী’ (পাহাড়ি) আর ‘তমমী’ (সমতলবাসী)। পাহাড়িদের দলে জোসেফও একজন। খুব সাধারণ এক পাহাড়ি। জাস্ট এইটাই আমার পরিচয়, দাজু। জাস্ট এইটাই।’

থাপা চুপ কইরা থাকে বেশ কিছুক্ষণ। তারপর আস্তে কইরা বলে, ‘কী বলছে ওরা, লাশটা পাহাড়ি কারও নাকি?’

মুখেরটা ফেইলা দিয়া নতুন আরেকটা সিগ্যারেট মুখে পুইরা দেয় জোসেফ। ‘পাহাড়ির মতোই তো বললো। একদম নিশ্চিত কইরা তো আর কেউই বলতে পারবে না। এই তো আজকেও লোক পাঠাইছে ওরা। বলছে, বেশি দিন রাখতে পারবে না, আজকেই যেন গিয়া দেইখা আসি। মেরী যদি শোনে লাশটা এখনও পইড়া আছে…

‘দাজু, লাশের গায়ের জামা আর আমার পোলার জামা মিইলা গেলেই কি সেই লাশ আমার পোলার হয়া যায়? আমার পোলার সেইম ড্রেস কি আর কেউ পড়তে পারে না? আমার পোলার সেইম জুতা কি আর কেউ পায়ে দিতে পারে না? মেরীর মাথায় এইগুলা আসেই না। সে এইরকম ভাবতেই পারে না, দাজু…

‘আমার সমস্ত ক্ষোভ বেওয়ারিশ লাশটার বাপ-মায়ের উপর। এতদিন ধইরা নিজের পোলারে ঐ মর্গে ফেলায়া রাখতে পারল ওরা? এতো নিষ্ঠুর হইতে পারে মানুষ? নাইলে হয়ত সত্যিই কোনো বাপ-মা নাই লাশটার। বাউণ্ডুলে-বেওয়ারিশই হয়ত সে সত্যি সত্যি। খারাপ লাগে, দাজু। খুব খারাপ লাগে। খারাপ লাগতেছে, তারপরও ঐ লাশের কাছে যাওয়ার কোনো দরকার নাই আমার। কিন্তু ঝামেলা হইতেছে মেরীর সন্দেহ দূর করার জন্য হইলেও আমারে যাইতেই হবে। ঐ লাশের কাছে আমারে যাইতেই হবে দাজু। আজিব!’

থাপা কোনো কথা বলে না। পানি পড়ে কয়েক ফোঁটা তার চোখ থিকা। আড়ালে মুইছা ফেলে খুব দ্রুত। জোসেফের সামনে তার কান্না লুকাইতে চায় থাপা। লজ্জার কারণে না। চোখের পানি দেখাইতে চায়না সে। সেই কারণে।

……………………..

সুধীর নাউরোইবম:

সুধীর নাউরোইবম এর জন্ম ১৯৬৯, ফেব্রুয়ারিতে। জন্মস্থান: ওইনাম বাজার, নামবোল, মণিপুর, ইন্ডিয়া। 

চাইরটা গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হইছে: য়োকচবী বাঙ্গলাদেশ (১৯৯০), মৈ চঙলবা চেক (১৯৯২), লৈই খরা পুন্সি খরা (১৯৯৮), এবং অশেংবা য়ূম অমসুং অতৈ ওয়ারীশিং (২০১৮)। তিন নাম্বার বইটার জন্য ১৯৯৯ সালে নহারোল সাহিত্যপ্রেমী সমিতি, ইম্ফাল তারে থোকচম জোগেন্দ্রজীৎ মেমোরিয়েল গোল্ড মেডেল এওয়ার্ড দেয়। একই গল্পগ্রন্থের জন্য তিনি ২০০৩ সালে নয়াদিল্লী সাহিত্য একাডেমী এওয়ার্ড পাইছিলেন। জোসেফের পোলা গল্পটা ওই বই থিকা নেয়া।

 

The following two tabs change content below.

চিংখৈ অঙোম

সিলেটবাসী। মণিপুরিভাষী। কবিতাকাহিনি-গান-ছবি-মুভি লিখি, গাই, আঁকি ও বানাই। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: পেবেতকী পেনা (২০১৫)।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য