Main menu

পাখির নাম কী হবে? ইউ ডিসাইড। শুধু পাখিই থাকুক?

চিংখৈ অঙোম
চিংখৈ অঙোম

___________________________

আনিকা শাহ অ্যান্ড চিংখৈ অঙোম
____________________________

 

আমাদের দুইটা পাখি ছিল। আমার আর আনিকার। দাম মনে নাই। সালও না।

চিংখৈ বিয়ে করলা কোন সালে? ২০১৪? সেই সাল।

আমরা অইদিন বইমেলায় একসাথে যাই। অনেক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। চারুকলার মোল্লা দিয়ে ঢুকি মনে হয় প্রথমে। তারপর হাঁটতে হাঁটতে কই কই।

বইমেলায় যাইতে একটা কালি মন্দির। কিছু একটা হইতেছিল তখন যখন আমরা মন্দিরটার সামনে দিয়ে হেঁটে যাই। মিউজিক শুনে আগ্রহী হই আমরা। কির্তন হইতেছিল।

ভিতরে ঢুকে আমরা মন্দিরের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। কির্তন শুনি কিছুক্ষণ। ঝাপসা ঝাপসা মনে আছে আমার। আনিকার মনে থাকতে পারে স্পষ্ট। কিংবা তারও ঝাপসা ঝাপসা। কিংবা সে পুরোটাই ভুলে গিয়ে থাকতেও পারে।

আমরা যখন সেই ঝাপসা ঝাপসা মন্দির থেকে বের হই হই, এক ভক্ত আমাদের কপালে তীলক আঁইকা দিতে আগায়া আসে।

তিলকসংক্রান্ত কিছুই আমার মনে নাই। ইন ফ্যাক্ট আমার ধারণা এইটা চিংখৈ-এর কন্সট্রাক্টেড মেমোরি। কিংবা এই মেমোরির সাথে ওভারল্যাপ করা অন্য কোনো মেমোরি।

মন্দির থেকে বের হয়ে বইমেলায় গিয়ে দেখি বিরাট ভীড়। বইমেলার বাইরে আরেক মেলা বৈকি। পিঠা, চটপটি, ফুচকা, চানাচুর, পপকর্ন, পাখি, খেলনা, বেলুন, ধুলা, বালি, নয়েজ, ইত্যাদি।

আমরা কিছু খাইছিলামও বোধহয়।

সন্ধ্যা নাইমা গেছে তখন। অন্ধকার আকাশ। রেন্ডমলি হাঁটতেছিলাম আমরা। উদ্দেশ্যবিহীন। একটা মেলানকলিরে সাথে নিয়া।

মেলানকলিটাও কন্সট্রাক্টেড। ওভারল্যাপিং।

আমাদের পাখিটা উড়তে পারে। মানে ওড়ানো যায়। চাবি দেয়ার মতো কী একটা করতে হয়। তারপর ছাইড়া দিলে পাখিটা পাখির মতো ডানা ঝাপটাইতে ঝাপটাইতে উড়তে থাকে। তারপর চাবি ফুরায়া গেলে ডানাগুলা ক্লান্ত হয়ে আসে। ক্লান্ত পাখিটা মাটিতে নাইমা আসে। কিছুক্ষণ ছটফট করতে থাকে। তারপর নিথর। পাখিঅলার সাগরেদ তখন পাখিটারে নিয়ে আসে। আবার চাবি দেয়া হয়।

দূর থেকে দেখতেছিলাম আমরা এইসব।

আমরা দুইটা পাখি কিনি। দাম কমাবার চেষ্টা ছিল আমাদের। পারি নাই। পাখিঅলা বলে প্যাকের মধ্যে মেনুয়াল আছে, অইটা দেখে আমরা নিজেরাই জোড়া লাগায়া পাখি বানায়া ওড়াইতে পারব। আমাদের হাতে দুই প্যাকেট পাখি ধরায়া দেয় লোকটা। দাম মনে নাই। সালও না।

২০১৪। আমি বোধহয় পরে ঠিকঠাক বানাইতে পারব কি না এরকম সন্দেহ প্রকাশ করছিলাম, বা তখনই বানায়ে দেখতে চাইছিলাম, এবং নিজেই বাতিল করছিলাম সেই প্ল্যান। এরকম কিছু।

হাঁটতে হাঁটতে এইসব কথা বলতেছিলাম বোধহয় আমরা। নাকি পরে রিকশায় বসে। ঝাপসা ঝাপসা মনে আছে আমার। চিংখৈ-এর মনে থাকতে পারে স্পষ্ট। কিংবা তারও ঝাপসা ঝাপসা। কিংবা সে পুরাটাই ভুলে গিয়ে থাকতেও পারে।

 

 

তারপর অনেকদিন।

একদিন আনিকার সাথে কথা হয়। ম্যালাদিন পরে। পাখি নিয়ে। এমনি অন্য কথা এর মাঝে হইছে অনেক।

আমরা কেউই পাখিটারে ওড়াই নাই। আনিকা চেষ্টা করছিল। পারে নাই। আমি চেষ্টা করি নাই। ভুলে যাই। এইসব আলাপ হয় আমাদের।

হ্যাঁ, আমি জোড়া লাগাইতে পারছিলাম, কিন্তু উড়াইতে পারি নাই। পাখি উড়তো না।

আমি আনিকাকে বলি, তোমার পাখিটা নিয়ে আইসো। আমি শিখায়া দিব। তুমি ওড়াবা।

চিংখৈ খুব ভাব নিয়ে এমনভাবে বলছিল যেন ও পারবেই। যেন ও পেরেই থাকে, এসব।

বসুন্ধরা সিটিতে ফুডকোর্টে বসে খাইতে খাইতে আমি আনিকার পাখিটারে বাইর করি প্যাক থেকে। পলিথিন প্যাকে মোড়া প্লাস্টিকের পাখি।

ফুডকোর্টে বাইর করছিলাম? বাইরে সিঁড়িতে না?

আমি ট্রাই করি কিছুক্ষণ। জোড়াটোড়া লাগায়া পাখির শেইপ একটা দাঁড় করাই। কিন্তু মেকানিজমটা ঠিক করতে পারি না। দমঅলা ডানাটারে ঠিক করতে পারি না।

আমাদের আর পাখি ওড়ানো হয় না।

তোমার পাখিটার কী হইছিল পরে?

আমারটা আমি জানিই না কই। হারায় গেছে।

হুম্‌। আমি ফালায় দিছি।

 

১৮ মে ১৬

ছবি: আনিকা শাহ।

ছবি: আনিকা শাহ

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য