Main menu

ওথেলো আর ডেসডিমনারা…

এই দুইটা লেখার সাবজেক্ট একটাই – ওথেলো আর ডেসডিমনা। ওথেলো ডেসডিমনা’রে খুন করছিল। কিন্তু কেন খুন করছিল? এই নিয়া দুইটা পলিটিক্যাল আলাপ। একইরকমের কথা বা বিপরীত কোন জিনিস না, বরং দুইটা পয়েন্ট অফ ভিউ’র ঘটনা।   

………………….

ওথেলো কি ডেজডিমনারে ভালোবাশতো?

দুনিয়ার পেরায় কিছুই না পড়তে পড়তেও বহুত দিন আগে শেক্সপিয়ারের ওথেলো পড়ছিলাম মনে পড়ে, বাংলায় তরজমা করা ওথেলো! আজকে একটা বেপারে ভাবতে ভাবতে ওথেলোর কথা মনে পড়লো!

ওথেলো কি ডেজডিমনারে ভালোবাশতো? ওথেলোর পিরিতে শন্দেহ নাই কোন, শবাই মোটামুটি একমতই মনে হয় জে, ওথেলোর পিরিতি খাটি। কিন্তু ওথেলো খুন করলো ডেজডিমনারে, কেননা, ওথেলোর বিচারে ডেজডিমনা একজন খানকি বা আনফেইথফুল! ওথেলোর বিচার ভুল, ডেজডিমনা খানকি না; কিন্তু জদি হইতো আশলেই? তাইলে ওথেলো ছুইছাইড করতো না, খুন করায় তার কোন আফছোসও হইতো না। খানকি হইলে পরেও ওথেলো ডেজডিমনারে খুন করতে পারে কিনা, নিতির বিচারে ঐ খুনে এজাজত দিতে পারি কিনা আমরা, এই বেপারে শেক্সপিয়ারের মনে কি দোনোমনো পাওয়া জাইতেছে? শেক্সপিয়ারের অডিয়েন্সের মনে? নাই মনে হয়!

কিন্তু এই জামানায় খানকি নাগরকে খুনে এজাজত দিতেছি কি আমরা? ফিকশন রাইটাররা? শশাংক রিডেম্পশন লইয়া ভাবা জায় এই বেপারে; এন্ডি নায়ক, খানকি বউ আর তার নাগরকে খুন কইরাও নায়ক, অডিয়েন্স তার আজাদি দেইখা শুখ পায়। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন জে, এন্ডি খুন করছে কিনা, শেইটা বেশ ঝাপশা! তার উপর, অতো বছর জেল খাটাও তার পছিবল পাপের শাজা পাওয়া; জেলেও শে খুবই ভালো একজন দোস্ত, ভিলেনকেও শে শায়েস্তা করে। এন্ডির ভিতর এই গুনগুলা ঢুকাইতে হইছে, তার খুনটারেও ঝাপশা বানাইতে হইছে অডিয়েন্সের ভালোবাশা পাইতে!

তাইলে দেখা জাইতেছে, খানকি বউ বা নাগরকে খুনের এজাজত পাওয়া কঠিন এই জামানায়, ওথেলোর জন্য তেমন কঠিন আছিলো না! ওথেলোর জন্য বউয়ের কেবল খানকি হওয়াটাই কাফি আছিলো! তাইলে মামলাটা কেবল পিরিতি খাটি কিনা বা নাগর/বউ খানকি কিনা, এইখানেই না, খোদ পিরিতিটা কোন জামানার, শেইটা একটা বিরাট বেপার! এই কারনেই পিরিতি বুঝতে ইতিহাশ লাগবে আমাদের!

কিন্তু ছেরেফ জামানার মামলা এইটা? একটা পোশ্ন লইয়া ভাবেন; লাইলি জানলো জে মজনু আশলে খানকি বা মজনু জানলো জে লাইলি খানকি একজন, তারা কি খুন করতো নাগরকে? কোন এক কারনে আমার তেমন মনেই হয় না! রাধা কি কানুরে খুন করার কথা ভাবছিলো একবারো? চন্ডিদাশ আর শেক্সপিয়ার তো পেরায় একই জামানার মানুশ! ওথেলো আছিলো কালা মুর, তার ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স, রেছিজম, বয়শ ইত্তাদি ছাইকোলজির কতক ইশু থাকবার পরেও, কানু কালা হবার পরেও রেছিজম হাজির না থাকার পরেও আমার বিচারে ওথেলো খানকি নাগর খুনের এজাজত পায়, রাধা শেইখানে ভাবতেই পারে না তেমন কিছু! তাইলে বেপারটা কেবল জামানার না, ভাবনার জেই দুনিয়ায় পিরিতি ঘটতেছে, পিরিতির ভিতর দিয়া নাগরের লগে কেমন একটা রিশতা ঘটতেছে, পিরিতের নটনটির মন হিশাবে লইতে হবে আমাদের! মানে ইতিহাশ কেবল জামানার মামলা না, ঘটনার নটনটির চিন্তার দুনিয়াও হিশাবে রাখা দরকার!

এখন ডেজডিমনার জাগায় নিজেরে বশান, ওথেলোর জাগায় বশান কোন এক লিডারকে! ধরেন, শহিদুল বা কাজল বা কিশোরেরা ডেজডিমনা, এনাদের ওথেলো তো এনাদের ভালোবাশে, ওথেলো জদি হঠাৎ দেখে জে, এই ডেজডিমনারা আর লয়্যাল নাই, কি করবে ওথেলো? মনে রাইখেন, ইনি কিন্তু ওথেলো, নট রাধা বা মজনু! ওথেলোরা আরেকজনরে নিজের শমান ইনছানের ইজ্জতই দেয় না, তাগো এখতিয়ারের লিমিট নাই, তাগো পিরিতের তুফান জতো বড়ো, গোশ্শার গিলোটিন ততোই ধারালো।

ইতিহাশে জতো ফিউডাল লর্ড বা তালুকদার আছিলো, তারা শবাই কিন্তু লোক খারাপ না! কিন্তু তারা ফিউডাল বা তালুকদার কেন শবাই? কারন, তাগো ভিতর একটা গোড়ার মিল আছে, তারা জনতারে ভাবতো ডেজডিমনা, নিজেদের ওথেলো! লয়্যালটি লইয়া শন্দেহ হইলেই জবাই, এমনিতে ভালোবাশে তারা, খুবই ভালোবাশে, জান কোরবানও করতে রাজি অনেকে!

আমাদের ছুপরিম লিডারকে ভাবেন, উনিও নাকি অনেক ভালোবাশতেন তার ডেজডিমনাদের, শি.শি.কেও অনেক ভালোবাশতেন আলবত! কিন্তু খুন করলেন, উনি কইবেন, করতে বাধ্য হইলেন! ডেজডিমনাদের তো লয়্যাল হইতে হবে, বাধ্য হইতে হবে!

এই জামানায় আপনে কি তেমন একটা রাশ্টো চান? আপনের লয়্যালটি আর গোলাম মন জদি একটু নড়চড় হয়, মরতে হবে আপনার; কতোটা ভালোবাশার বিনিময়ে অমন কেপ্ট/গোলাম হইতে রাজি আপনে? ভালোবাশা জদি দেখেনও আদৌ, কিন্তু আপনে মোটেই নড়চড় করতে পারবেন না, ঐ ভালোবাশায় কি গইলা জাইবেন, নাকি আজাদি চাইবেন অমন ভালোবাশা থিকা?

আফছোস, বুঝদার-এলেমদার অনেকেও ওথেলোদের চিনতে পারে না, ভালোবাশার ওমে মাখনের মতো গলে আর স্টেটাস মারে ফেছবুকে… 🙁 !

রক মনু

#রকমশাহেরবয়ান, ১৮ মার্চ ২০২১

 

– ওথেলো, এক্সপ্লেইনড! –

বই পড়া এই কারণে ভালো না যে, বই পইড়া অনেককিছু জানা যায়, বরং নিজের জানা-বুঝাগুলারে রিভিউ করা যায়; যখন মিইলা যায়, তখন তো ভাল্লাগে যে, আরে আমিও তো এইরকম কিছু ভাবতেছিলাম, কিন্তু ঠিকঠাকমতো বলতে পারতেছিলাম না, পড়ার পরে, মিলা’র পরে কনফিডেন্সটা পাওয়া যায়; আবার যখন মিলে না তখন যে খারাপ লাগে – তা না, বরং একটা আবিষ্কারের আনন্দ হয় যে, আরে এতোদিন তো ভুলভাবে জানতাম, এইরকমভাবে তো ভাবি-ই নাই, যদি ভাবতাম, তাইলে তো আরো অনেককিছু বুঝা যাইতে পারতো!

২.
তো, Judea Pearl’র বইটার (The Book of Why) তিনটা চ্যাপ্টার পইড়া কনফিডেন্স বাড়ছে 🙂 অনেক কিছু আরো কনফিডেন্স নিয়া ব্যাখ্যা কইরা ফেলতে পারতেছি, এরমধ্যে একটা হইতেছে, ওথেলো’র ঘটনা। ওথেলো, অন্য সব কাহিনির মতোই শেক্সপিয়েরর নিজের লেখা কাহিনি না, একটা ইতালিয়ান ‘লোক-কথা’র কাহিনি, যেইটা আবার, এরাবিয়ান নাইটসের একটা কাহিনি’র লগে মিলে।…
তো, মেইন ঘটনা হইলো, ওথেলো তার কম-বয়েসি বউ ডেসডিমোনা’রে খুন করছিল। এইরকম ব্যাখা চালু আছে যে জেলাস হয়া, অতিরিক্ত ভালোবাসা এবং নিজের রেসিয়াল ইনফিরিয়রিটির কারণে। হাউএভার, এরাবিয়ান নাইটসের কাহিনি এবং ইতালিয়ান কাহিনির ‘কারণ’ একইরকম ছিল না।

এরাবিয়ান নাইটসে ঘটনা’টা হইতেছে, জামাই-বউ সুখে-শান্তিতেই ছিল, একদিন বউয়ের অসুখ হইলে শে আপেল খাইতে চাইলো যেইটা খালি বসরা’তে পাওয়া যায়, জামাই গিয়া তিনটা আপেল নিয়া আসলো, কিন্তু বউ যেহেতু অসুস্থ খাইতে পারলো না, কয়দিন পরে জামাই দেখে যে, এক দাস অই তিনটা আপেল নিয়া রাস্তায় হাঁইটা যাইতেছে; “কি রে, এই আপেল তুই পাইলি?” দাস কয়, তার প্রেমিকা তারে এইটা দিছে, তাঁর জামাই অর লাইগা এইটা আনছিল, শে তারে দিয়া দিছে। জামাইয়ের তো চান্দি গরম হয়া গেলো! বউরে কাইটা কুটি কুটি কইরা বাক্সে ভইরা নদীতে ভাসায়া দিলো। পরে তার বড় পোলা কইলো, সে এইটা চুরি কইরা দাস’রে দিছিলো।*… তো, দেখেন, মেইন কারণ হইতেছে, জোকস! বুলিং! দাস ফান করার লাইগা একটা মিছা কথা কইছে, আর জামাই’টা এইটারে জোকস বইলা ভাবে নাই, সিরিয়াসলি নিছে। কোন ‘কারণ’ যদি দেখেন তাইলে সেইটা হইতেছে, ‘যাচাই না করা’, সিরিয়াস হয়া যাওয়া না, বরং সন্দেহের জায়গাটা নিয়া ‘আরেকটু সিরিয়াসলি চিন্তা না কইরা ডিসিশানে চইলা যাওয়া’।

ইতালিয়ান কাহিনি’টার যদ্দূর শুনছি মোরাল বরং বেশি স্ট্রং যে, “ইউরোপিয়ান মেয়েদের ভিনদেশি পোলারে বিয়া করা ঠিক না”, এরা কিন্তু খুন কইরা ফেলতে পারে – এইরকম একটা ডর দেখানোর ঘটনা। যেইটা এরাবিয়ান নাইটসের উল্টা ঘটনা আসলে। এরবিয়ান নাইটস কইতেছে, পোলাদের মাথা গরম করা যাবে না, চিন্তা করা লাগবে; ইতালিয়ান কাহিনি হইতেছে, মেয়েদের চিন্তা করার দরকার নাই, যেই পোলারে জানো না, তারে বিয়া করবা না!

শেক্সপিয়র, যার কিনা নাটক করা, ক্লাইমেক্স পয়দা করা হইতেছে কাজ, এইটারে আরো ঘুটা মারলেন। কাহিনি শুরু হইছে, যেইটা আগের কোন কাহিনিতে নাই, সেই জায়গা থিকা, যে, বউটার, ডেসডিমোনা’র একটা এডমায়ারার, ‘গোপন প্রেমিক’ আছে, আর ওথেলো’রও একজন ‘গোপন শত্রু’ আছে, বন্ধুর বেশে। এরা দুইজনে মিইলা ঘটনা’টা ঘটাইছে। ঘটনা যেইটাই ঘটুক, ঘটনার ব্যাখ্যা এরা করতেছে আরেকভাবে ওথেলো’র কাছে; মানে, এরাবিয়ান নাইটসের ঘটনাই ঘটতেছে, কিন্তু একটা কন্সিপিরেসির ভিতর দিয়া, যেইটা নিয়তির কন্সপিরেসি না, আশেপাশের মানুশ-জন এইগুলা করতেছে, আর মানুশ হিসাবে আমরা এইটা বুঝতে পারতেছি না, ক্লিয়ারলি চিন্তা করতে পারতেছি না।

৩.
এখন আসেন, সূত্র দিয়া প্রমাণ করি জিনিস’টা 🙂

ওথেলো → [জেলাস হইছে, আন-ফেইথফুল (এই টার্মটা ঝামেলার) ভাইবা খুন করছে] → ডেসডিমোনা’রে

এখন উল্টা’টা কি হইতে পারে? বা হওয়াটা কি ঠিক? ডেসডিমোনা কি জেলাস হয়া, আন-ফেইথফুল হইছে বইলা ওথেলো’রে খুন করতে পারবে? বা করাটা কি ঠিক? বা ধরেন, ডেসডিমোনা আন-ফেইথফুল হইলো-ই, তখন কি এইটা করা যায়? তা তো যায় না। (উল্টা দিক থিকা পড়েন।)

ওথেলো’রে ← [ জেলাস হয়া, আন-ফেইথফুল ভাইবা খুন করছে] ← ডেসডিমোনা

মানে, উল্টা’টা যদি সত্যি না হয়, তাইলে সেইটা ‘আসল’ কারণ না। (এইটা আমার আবিষ্কার 🙂 ) আমাদেরকে ‘কারণ’টা খুঁইজা বাইর করতে হবে, যেইটা দুই দিক থিকাই পসিবল:

ওথেলো → খুনের কারণ [জেলাসি, আন-ফেইথফুল হওয়া? ] ← ডেসডিমোনা

মানে, এইখানে একটা ‘কারণ’ নাই, বরং একটা ‘কারণের একটা সেট’ আছে, যেইখান থিকা আমরা ভাবি, বা ঘটনাগুলারে দেখি। সেই ‘সেট’ দিয়া আমরা অ্যাক্রস দ্য টাইম একই জিনিসরে বারবার একইভাবে এক্সপ্লেইন করতে পারি।

আমি এইখানে সেই ‘কারণ’টা প্রপোজ করতেছি যে, ওথেলো হইতেছে আমাদের চিন্তা-না-করতে-চাওয়ার একটা পাপ! একটা ইমোশনাল ব্লাইন্ডনেস। আর এইটা যে কারোরই হইতে পারে, ওথেলো’র যেমন হইছে, ডেসডিমোনা’র, আমার, বা আপনারও হইতে পারে। (এইটা একমাত্র কারণ না হইলেও,) এইটা ট্রিগার করে ঘটনাটারে।

ওথেলো → খুনের কারণ [ চিন্তা-না-করতে-চাওয়া, ইমোশনাল ব্লাইন্ডনেস ] ← ডেসডিমোনা

ওথেলো ডেসডিমোনা’রে খুন করছে অই জায়গাটাতে গিয়া যেইখানে সে চিন্তা করতে রাজি হইতে পারে নাই আর; ভাবছে, আমি তো সব বুইঝা ফেলছি! এইরকম ‘সবকিছু যে বুইঝা ফেলা যায় না’ – তা না, এবং কিছু না বুঝতে পারলে আপনি তো কোন ডিসিশান নিতে পারবেন না, কাজ-ই করতে পারবেন না; কিন্তু যখন আপনি আপনার ইমোশনরে যুক্তি ভাইবা কাজকাম করতে থাকেন, তখনই এই ওথেলো হওয়ার অবস্থাটা তৈরি হয়। এরাবিয়ান নাইটস, ইতালির কাহিনি এবং শেক্সপিয়রের নাটকের তিনটা সিচুয়েশনই এই জায়গা থিকা বেটার ব্যাখ্যা করা যায়।…

তো, বইন, ভাই ও বন্ধুরা, ওথেলো হইয়েন না! (Don’t get yourself eaten up by the rage of your emotions)

……………………

(*এর পরে আরো কাহিনি আছে, এরাবিয়ান নাইটসে যেইরকম থাকে। এরাবিয়ান নাইটসে দেখবেন, কাহিনি’টাই মেইন। সুন্দর কাহিনি বলতে পারতেছে বইলা শাহেরজাদী আর তার বইন বাঁইচা থাকতে পারতেছে! আর কাহিনির মধ্যে এইরকম জিনিস আছে যে সুন্দর কাহিনি বলতে পারে তার সাত খুন মাফ! মানে, কাহিনি ইজ ইম্পর্টেন্ট; এমনকি লাইফ-সেভিং ঘটনা, কাহিনি বা ন্যারেটিভ বানাইতে পারে। আর এই ঘটনাতে মাইরা ফেলারও কারণ, এইটা।)

ইমরুল হাসান,
২৪/০৩/২০২১

The following two tabs change content below.
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য