Main menu

এডিটোরিয়াল: হিরো আলম

ট্রিবিউট টু ইনডিয়া

রক মনু

জমুনার চর তো মরুই; বাংলাদেশের অনেকখানেই মরু হইয়া উঠতেছে, এগুলা আমরা বহু এনভায়রনমেন্টাল নিউজে পাইছি, হিরো আলোম বেপারটারে অন্ন লেভেলে লইয়া গেছেন, উনি জমুনার চরে আরবি গান গাইছেন, চরকে আরবের মরুর ব্যাকগেরাউন্ড বানাইয়া। রোজার মাশে উনি এইটা করলেন, ওনার ফ্যানদের ডিমান্ডে। নাইস।

নিউজে মনে হইলো, জমুনার চরকে মরু বানাবার বেপারটায় রিপোর্টারের হাশি পাইছে! কেন পায় হাশি! ছিনামার ছেট তো বানায়, মংগল গ্রহে ছবি হইলো, মার্শান, রিডলে স্কটের মনে হয়, ঐটা শুটিং কি মংগলে হইছিলো? টাইটানিক? গ্লাডিয়েটর? হিরো আলোম করলেই জেন বা হাশি পাইতে হবে!

তবে হিরো আলোম পোস্ট পোডাকশনে ‘ট্রিবিউট টু ইনডিয়া’ লেইখা দিলে হয়তো আরেকটু ভালো হইতো, এই আর কি…

 

হিরো আলমরে এক্টিভিস্ট হিসাবে দেখেন

জোবাইরুল হাসান আরিফ

হিরো আলমরে এক্টিভিস্ট হিসাবে দেখেনরে ভাই! তেনার এক্টিং ‘বাজে’ হইতে পারে, কিন্তু তিনি তেনার কালা চামড়া, বাইট্টা হাইট ও ছোটলোকি জবানে যেই ভিডিও বানাইতেছেন, তার লক্ষ্য মূলত কালচারাল। ফলে তাঁর আর্ট বা মিউজিকাল সেন্সরে ননসেন্স মনে হইতে পারে আপনার, কিন্তু তার এক্টিভিজমের গোড়া তো ওইটা না! যে যা না, তারে তা বানায়া জবাব দেবার ট্রাই করলে তো হবে না বইন! আপনাগো পোলামাইয়াদের ভিত্রে যেনারা ওইসব কোয়ালিফিকেশন লইয়া তাগো ‘আর্ট সেন্সে’ এক্টিং বা মিউজিকে আসতে চাইবে, তেনাদের রেফারেন্স বা গ্যাঞ্জাম কমাইতে আসছেন তিনি। তাহাদের কষ্ট কমাইতেই হিরো আলম এক্টিভিস্ট হইছেন। ভাবেন, আপনার অশিক্ষিত পোলামাইয়া কলোনিয়াল বাঙলা জানে না, স্কুলে যায় নাই বইলা আদবকায়দা জানা নাই, তারে নিয়া মকিং করতাছে লোকে! ওই সময়ে হিরো আলমের উপর চলে যাওয়া ঝড়ে আপনের সন্তান দুধেভাতে আর্ট কালচার করবে, এতোই বরকত পাবেন তার। মনোযোগ দিয়া দেখেন, মুখস্থ এনালিসিস দিয়েন না। আপনাগো পড়লে গুগলের সাজেশান মনে হয় লেখারে, কিন্তু আপনার লগে ফ্রেন্ডশিপ তো আপনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের লোক না বইলাই! রোবটে বন্ধুত্বেও আপত্তি নাই, কিন্তু আপনি আমার লিস্টে তো ভিন্ন কোঠায়!

 

হিরো আলম’রে কেন হেইট করা লাগে?

ইমরুল হাসান

হিরো আলম’রে মিডল-ক্লাস আর্ট-কালচারের লোকজন এতো হেইট কেন করে? (অনেক কারণ তো আছেই, কিন্তু) ক্রুশিয়াল একটা জিনিস হইতেছে যে, হিরো আলম এক্সপোজ কইরা দেয় যে, এই ক্যামেরা’তে যা দেখানো হইতেছে, এইসবকিছু আসলে বানানো, আপনাদের খুশি করার লাইগা আমি বানাইছি। যেইখানে মিডলক্লাস কালচারের লোকজনের প্রাইড’টাই এইখানে যে, “এইটা বানানো হইতে পারে, কিন্তু এইটাই আর্টের সত্যি!” হিরো আলমের এই “সত্যি” হওয়ার প্রাইড’টা নাই, দাবিটা নাই। এইটাই হিরো আলমের এগেনেস্টে মেজর আপত্তির জায়গাটা আসলে।

ক্যামেরা আমাদেরকে যা দেখায়, বিশ্বাস করতে বলে যে, এইটাই হইতেছে সত্যি! অথচ আমরা জানি যে, নানানভাবে জিনিসগুলারে ম্যানিপুলেট করা যায়, কনটেক্সট দিয়া, সময় দিয়া, ফোকাস দিয়া। সবকিছু মিলায়া একটা জিনিস তৈরি হয়, যেইটা একটা ধারণারে, ঘটনারে বলে। এই বলা’টা ঘটনার বা ধারণার যতো কাছাকাছি জিনিস হইতে পারে, তত ভালো। কিন্তু এইটা সত্যি না। একটা ইমাজিনেশনরে রিফ্লেক্ট করে, যেইটা অন্য আরো কতগুলা ইমাজিনেশনের লগে গিয়া মিলে। হিরো আলম যা করেন, সেইটা উনার ভক্তদের ইমাজিনেশনের সাথে মিলার জন্য করেন। যা কিছু আমরা দেখি, যা কিছু আমাদেরকে দেখানো হয়, সেইখানে সত্যের ইশারা সবসময়ই থাকে। কিন্তু সত্যি জিনিসটা এইরকম ভিজিবিলিটির কোন জিনিস না। বরং রিকগনাইজ করতে পারার একটা ঘটনা।

আরেকটা জিনিস হইলো, সত্য’টা আসলে কার সত্য? ক্ষমতার সত্য আর মজলুমের সত্য তো এক জিনিস না! এই কারণে, পয়েন্ট অফ ভিউ’র কারণে সত্য’র জায়গাটাতে অনেক গেইম খেলা সম্ভব। সেই জায়গায় এন্টারটেইনমেন্টের গেইমটা অনেক সহজ এবং কম-ডেডলিও; যে, আমার ভক্ত’রা চাইছে, এই কারণে এইরকমের জিনিস আমি করতেছি। হিরো আলমের এই যে সাবমিশন তার ভক্তদের প্রতি, এই জায়গাটা আমি বুঝতে পারতাম না, ভাবতাম, আরে, আর্টিস্ট তো স্বাধীন! তো, স্বাধীনতা কোন এবসুলেট জিনিস না, অনেক সময় অনেক সাবমিশনের ভিতর দিয়াই ফ্রিডম খুঁইজা পাইতে হয়। তো, ক্ষমতার দালালি করার চাইতে, একটা আইডিয়ার গোলাম হওয়ার চাইতে ভক্তদের রিকোয়েস্টের কাছে সাবমিট করাটা আর্ট হিসাবে বেটার না হইলেও, পলিটিক্যালি কম খারাপ একটা ঘটনা, সবসময়ই।

………………….

নিউজের লিংক: https://cutt.ly/ovXfKXR

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য