Main menu

আহসান হাবীবের কয়েকটা কবিতা

উপমারে কবিতা ভাবতে পারেন নাই আহসান হাবীব (১৯১৭ – ১৯৮৫), কাহিনি’রে যতোটা ভাবতে পারছেন। এই জিনিসটা ইনিশিয়াল স্টেইজে উনারে ফররুখ আহমেদের চাইতে ডিফরেন্ট করে নাই খালি পরে কলকাতা বেইজড বাংলা-কবিতার ধারণা থিকাও বাঁচাইয়া দিছে। কিন্তু শেষমেশ বাংলা-কবিতারে বুকশেলফে তুইলা রাখার মতো সফিশটিকেশনই দিতে চাইছেন আহসান হাবীব। কমন পিপলের কথাই কইছেন আন-কমন, শুদ্ধ/আপোষী বাংলায়। 

সময়টারে নিছেন উনি, সময়ের ভিতরে নিজের কবিতারে ইনসার্ট করতে চাইছেন, বাট এইটা দিয়া সময়টারে ডিফাইন করার মতো সাহস উনি দেখাইতে চান নাই। যার ফলে বলার জিনিসগুলি খুবএকটা চেইঞ্জ না হইলেও বলার প্যার্টানটাতে কিছু সময় পরপরই চেইঞ্জ আনতে পারছেন। অলওয়েজ অ্যান আউটসাইডার বলছেন তার মিডল-ক্লাস রিডারদেরকে, আমি কোনো আগন্তুক নই! আগুন্তকরা মিইলা একটা আগুন্তুক লাঙ্গুয়েজ বানাইয়া ওইখানে আশ্রয় নিছেন, যেইখানে আগুন্তুক না হইয়া বাঁইচা থাকাই মুশকিল। এর লাইগাই কি আহসান হাবীব কিছুটা শরমিন্দা থাকতেন সবসময়?

 

——————————————————————-

কাশ্মিরী মেয়েটি ।। কোনো বাদশা’যাদীর প্রতি ।। তামসিক একটি মুর্হূত ।। যত দূরে যাই ।। গিলগামেশ কাহিনী ।। আমি তখন ।। আমি কোনো আগন্তুক নই ।। দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট ।। বসবাস নিবাস ।।

———————————————————————

 

কাশ্মিরী মেয়েটি

কাশ্মিরী মেয়েটির কালো চোখ।
ফরিদের ছোট ছেলে সে-চোখের কিছুটা আলো
চেয়েছিলো!

সাহস অসীম নয়
কেননা মেয়ের
অবিরাম হাতপাখা আঁখিজল ঢের
দেখেছে সে।

এমন কি মাঝে মাঝে দু’একটা ফুটো তামা
সেই হাতে রেখেছে সে।
কাশ্মিরী মেয়েটির ঘাগরাটি লাল,
কাশ্মিরী মেয়েটির তনু গোলগাল।
ফরিদের ছোট ছেলে নাম আমজাদ
তার ছিলো সাধ,
খেলবে ম্যাজিক সেই ঘাগরাটি নিয়ে
কাশ্মিরী মেয়েটিকে
পুরো এক পয়সার সিগারেট দিয়ে

কাশ্মিরী মেয়েটির চোখ দুটি সাপের মতন,
কাশ্মিরী মেয়েটির দাঁতগুলি ভীষণ ধারালো:
নখে তার বিষ –
মুখে বুলি নরম নরম:
বেইমান কুত্তা হায় তোম্।

পথের মোটর এক হোলো বানচাল!
ফিরে গেলো দিন;
কাশ্মিরী মেয়েটার ঘাগরা বিলীন,
হাসে তার চোখ।
আমজাদ চেয়েছিলো কিছুটা আলোক!

(রাত্রিশেষ, ১৯৪৭)

 

বইয়ের কাভার - রাত্রিশেষ

বইয়ের কাভার – রাত্রিশেষ

 

কোনো বাদশাযাদীর প্রতি

নীল আকাশ,
রঙিন ঊষা
আর সবুজ তৃণে গড়ের মাঠ।
-আজ আমাদের ঈদ!
বাদশা’যাদী,
তুমি আসবে তো?
কার্জন পার্কের মোড়ে তুমি দাঁড়িয়ে থেকো;
মাঠ থেকে ফিরে এসে
তোমায় লিফট করবো।
উহু গাড়ি কোথায়!
লিফট ক’রব-মানে
ওটা একটা কথার কথা।
আমরা হেঁটেই যাবো।

আমার পরনে থাকবে পা’জামা
গায়ে একটা সবুজ ডোরাকাটা শার্ট।
মাথার টুপিটা কালো,
তাতে পাঁচ সাতটা হলুদ বরণ ফুল।
পায়ে বাটা কোম্পানীর ক্যানভাস্।
লাল রঙের সিল্কের রুমাল
টাই করে গলায় বাঁধা।

আর তুমি?
তুমি পরেছ লাল টকটকে একটা শাড়ি।
যেটা কিনেছিলাম
ফেরিওলার কাছে,
এক টাকা চৌদ্দ আনায়।

গলায় হাঁসুলী, পায়ে মল,
গায়ের কোর্তাটা অনেক দামী –
মল্লিক বাজারে কেনা।

পায়ে তোমার নাগরাই সু
খোঁপায় চিরুণী আর অনেক কাঁটা,
তার ওপরে
একছড়া বেলফুলের মালা জড়ানো।
পথের লোকগুলো
হা ক’রে চেয়ে থাকবে তোমার দিকে।
তুমি যেন কিছু মনে করো না।

আমরা যখন হেঁটে যাবো-
আমরা বাহুটা জড়িয়ে থেকো
মেম সাহেবরা ঐ রকম চলে কিনা!

ফারপোতে আমরা যাব না।
খোদার দিন।
আজ নাছারা খানা খেতে নেই।
আমরা যাব ছকু মিয়ার হোটেলে।
বালুসাই, ছমুচা, খেজুর
যত তোমার খুশী খেয়ো।
ভাবনা নেই পয়সা আছে অনেক।
বাপ দিয়েছে ছ’আনা
দুই রাত বিড়ি বেঁধে পেয়েছি এক টাকা দু-আনা।

রাস্তায় বেরিয়ে
আরো কতক্ষণ ঘুরে বেড়াবো
নিরুদ্দেশে।
তারপর যখন বাজবে আড়াইটে
মনে পড়বে বায়স্কোপের কথা।

কোথায় যাব?
কেন ‘তসবির মহল’
না হয় ‘পার্ক শো হাউস’-
‘বাকে সেপাহীরা’ খেল আছে একটাতে
আর একটাতে ‘বাপকা বেটা’।

তখন আমরা রিকশতেই যাব।
তোমার একটা মান আছে তো!
আর তুমি যখন সাথে থাকবে
তখন টিকেটটাও না হয় চড়া দামেই নেব।
দু’খানা ন’আনাতে।

যদি ঘুমিয়ে যাও-
একটা জর্দা দেয়া পান
তোমাকে খাওয়াব।
তোমার ঘুম যাবে টুটে,
তোমার বুকের মধ্যে ধড়ফড় ক’রে উঠবে,
তুমি তখন আমার বুকে
মাথা রেখে খেল্ দেখবে।
আর তখন আমি পড়বো ঘুমিয়ে।

অনেক রাতে আমরা বেরুবো।
আবার রিকশ্।
তোমায় নামিয়ে দেব,
যে কোনো একখানে-
তুমি যাবে তোমার ঝরোকায়!

আর আমি?
আমি যাবো তিন নম্বর হারু মিয়ার বস্তি
সেখানেই আমি থাকি।

(রাত্রিশেষ, ১৯৪৭)

 

তামসিক একটি মুর্হূত

একদা হঠাৎ এক অপরাহ্নে মনে হলো
মৃত্যুও কঠিন হতে পারে।

যেহেতু অনন্তকাল বাঁচবে না জানি
মৃত্যুর দর্শনে বহু কবিতার শরীরে স্বাস্থ্যের
অতীন্দ্রীয় উজ্জ্বলতা রেখেছি; ভেবেছি
জীবন এবং এই জগৎকে দুদিনের পান্থশালা;
সহজে পেয়েছি
নির্মল আনন্দ যার ব্যাখ্যা নেই পৃথিবীর ফুলের পাপড়িতে
কিম্বা হীরকে পান্নায়।

আহারে-বিহারে শুধু কালক্ষেপ
প্রতীক্ষায় হৃদয় রেখেছি উন্মুখ, কখন হবে
অনাদি অনন্তকাল সমুদ্রের ঢেউ হয়ে
বয়ে যাবে জীবন, এবং
জায়াপুত্রপরিবার যথারীতি একদা দু’চোখ
মুছে নিয়ে মন দেবে উত্তরাধিকারসূত্রে কবে-
আমি হবো চৈতন্যের লীলার আশ্রয়ে
সদানন্দ শিশুর মহিমা;
লোভের ক্ষোভের আর ক্ষুদ্রতার কালি মুছে নিয়ে
জ্বালিয়ে আত্মার শিখা ব্যাপ্ত হবো অনন্তে
ভেবেছি।
ভেবেছি এবং নিত্য যথারীতি জমিয়েছি কড়ি
পাড়ের, এবং কিছু অনিত্য কড়িও
রেখেছি সঞ্চয় ক’রে ভবিষ্যৎ পথিকের প্রয়োজন ভেবে,
যেহেতু তারাও কিছু আশা করে। অতএব কোনো
অনুতাপ কিম্বা কোনো মনোবেদনার
কারণ ছিলো না কিছু।

অথচ একদা
অপরাহ্ণে যখন-
(যেমন প্রত্যহ যাই)
দক্ষিণের আমের বাগানে
বেরিয়ে, দু’একটি কঁড়ি হাতে নিয়ে ফিরেছি
হঠাৎ
পাতার আড়ালে ডাক শোনা গেলো
এবং অক্লান্ত স্বরে ডেকে গেলো একটি ঘুঘু নিজের মনেই।
মনে হলো এ পৃথিবী আরো
অনেক অনেক দিন বেঁচে রবে
মৃত্যু হবে আমার এবং
যদিও অক্লান্ত স্বরে অপরাহ্ণে ঘুঘুদের ডাক
শোনা যাবে
আমি তা শুনবো না। ঘরে ফিরে এখন যেমন
দেখা গেলো একটি মেয়ে বিকেলের ছায়ায় মিশিয়ে
শরীর, আপন মনে ব’সে আছে জানালার র’কে
ভাবছে কিছু
অথবা কিছুই ভাবছে না সে-
তার সঙ্গে এখানে এমন ক’রে আর কোনোদিন
আমার হবে না দেখা।

আর এই সামান্য কারণে
হঠাৎ সেদিন এক অপরাহ্নে মনে হলো
মৃত্যুও কঠিন হতে পারে
এবং নির্মম।

(ছায়াহরিণ, ১৯৬২)

 

বইয়ের কাভার - ছায়া হরিণ।

বইয়ের কাভার – ছায়া হরিণ।

 

যত দূরে যাই

যত দূরে যাই তুমি অপার
তোমাকে দেখার অন্ত নাই
ভোরের নদীর নীল বিথার
নদী নিরবধি আজকে তাই।

অপরাহ্নের ক্লান্ত পায়
পথের প্রান্ত ভোলায় চোখ
পলাশে বকুলে চোখ ফেরায়
হঠাৎ তোমার ব্যাপ্তলোক।

ভোরের নদীর মোহনা শেষ
আরেক নদীতে নতুন ভোর,
যতদূরে যাই তুমি অশেষ
পালে উদ্দাম নতুন জোর।

তুমি চিত্রল শিশু হরিণ
লালন করেছো বুকে তোমার
চোখে নাচে তার রাত্রি দিন
কি যে অস্থির চপলতার।

পুরনো পথের প্রান্তে যাই
দেখি ফুটে আছে নতুন ফুল
শুকনো নদীর ঘাটে দাঁড়াই
নতুন পানিতে ভরেছে কূল

দেখি বন্দরে নতুন সাজ
চেনা মানুষের নতুন মুখ
সারা বুকে তুমি কি কারুকাজ
রেখেছো, ভরেছো আমার বুক।

(মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, ১৯৭৬)

 

গিলগামেশ কাহিনী

ভালোবাসা ভালোবাসা বলে আমি গেলুম এগিয়ে
তাকে কোথাও দেখি না। আমি
যতই সামনের দিকে চলে যাই
একে একে সব
সঙ্গীরা হারিয়ে যায় একা পড়ে থাকি।

দক্ষিণে প্রাসাদ থাকে উত্তরে বাগিচা
জলসাঘরে নূপুরে উদ্দাম
তার সামনে নীল জলরেখা
তাকে বাঁয়ে রেখে
তোরণ পেরিয়ে গেলে বিধ্বস্ত খামার। মরা
ফুলের মলিন রেণু পুবের বাতাসে। এই
খামার মলিন রেণু
এইসব পার হয়ে গেলে
আরো সামনে কিছুই থাকে না।

প্রাসাদ জলসাঘর সরোবর এইসব ছেড়ে
বিধ্বস্ত খামার আর মলিন ফুলের রেণু
পার হয়ে আমিও একজন গিলগামেশ। আমি
অমরতা অমরতা বলে
হন্তারক সাপের কবলে যাই,
তারো আগে বিশাল বনানী
কাঁপিয়ে বেরিয়ে আসে ধূসর প্রান্তরে
একটা ঘোড়া জোয়ান অথচ তার এক পা নেই, তবু
প্রবল বিক্রমে যায় ছুটে যায়
যেতে যেতে বলে
ফিরে যাও, ফেরার পথেই
ভালোবাসা অপেক্ষায় আছে।

(দু’হাতে দুই আদিম পাথর, ১৯৮০)

 

বইয়ের কাভার - দু'হাতে দুই আদিম পাথর

বইয়ের কাভার – দু’হাতে দুই আদিম পাথর

 

আমি তখন

তুমি বলো কামিনী কামিনী!
পুরনো বাগানটাগান তুলে দিয়েছি। তুমি তবু
কেবলই বলো বকুল বকুল!

আমি নতুন কেনা আরশি তুলে ধরি
চোখের সামনে
তুমি তারস্বরে চীৎকার করে বলো, ‘তুমি নও তুমি নও!’
আমার মুখের রেখা কাঁপতে থাকে।

‘একদা এই পথই রাজপথ ছিলো…
এই বলে তোমার গল্প শুরু। আমি শুনতে চাই না
তুমি বলো, ‘তিনি করতলে স্থাপন করছিলেন নক্ষত্রলোক।’

আমি চমকে উঠি।
আমি নদী দেখি
শালবন দেখি
ব্যাঘ্রনিনাদ পিঠে তুলে একদল হরিণকে ছুটে যেতে দেখি।

তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
আমি আবার অনেক দূরে সরে যেতে থাকি।

গোধূলির সমস্ত সিঁদুর যখন ধূসর হয়ে আসে আর
বনভূমি কাঁপিয়ে
বিশালাকায় কালো ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে
ভয়াবহ নিরবতা যখন গর্জে ওঠে
আমি ভয় পাই।

ভয় পেয়ে আমি তোমার দিকে ছুটতে থাকি
নক্ষত্রে ছাওয়া তোমার খ’ড়ো ঘরের দাওয়ার দিকে
তোমার গল্পের দিকে।

আমি কামিনী কামিনী বলে ছুটতে থাকি
আমি বকুল বকুল বলে ছুটতে থাকি।

(দু’হাতে দুই আদিম পাথর, ১৯৮০)

 

আমি কোন আগন্তুক নই

আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি
মাছরাঙা আমাকে চেনে
আমি কোন অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোন আগন্তুক নই।
আমি কোন আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানেই থাকি আর
এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা-
সারা দেশে।

আমি কোন আগন্তুক নই। এই
খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ কান্ত বিকেলের
পাখিরা আমাকে চেনে
তারা জানে আমি কোন অনাত্মীয় নই।
কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী
সাক্ষী তার চিরোল পাতার
টলমল শিশির, সাক্ষী জোৎস্নার চাদরে ঢাকা
নিশিন্দার ছায়া
অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী
তার কান্ত চোখের আঁধার
আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন। আমি
জামিলার মা’র
শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি
সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো
আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর। দেখো
মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে
লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।
আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোন আগন্তুক নই।

দু’পাশে ধানের তে
সরু পথ
সামনে ধু ধু নদীর কিনার
আমার অস্তিত্বে গাথা। আমি এই উধাও নদীর
মুগ্ধ এক অবোধ বালক।

(দু’হাতে দুই আদিম পাথর, ১৯৮০)

 

দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট
একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায় 

: আপনারা যাচ্ছেন বুঝি?
: চলে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব।
: বছর দুয়েক হল, তাই নয়?
: তারো বেশী। আপনার ডাক নাম শানু, ভালো নাম?
: শাহানা, আপনার?
: মাবু।
: জানি ।
: মাহবুব হোসেন। আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন।
: কে বলেছে। আপনার তো অনার্স ফাইন্যাল, তাই নয়?
: এবার ফাইন্যাল।
: ফিজিক্স-এ অনার্স।
: কী আশ্চর্য আপনি কেন ছাড়লেন হঠাৎ!?
: মা চান না। মানে ছেলেদের সঙ্গে বসে…
: সে যাক গে, পা সেরেছে?
: কী করে জানলেন?
: এই আর কি সেরে গেছে!?
: ও কিছুনা, প‌্যাসেজটা পিছলে ছিল মানে…
: সত্যি নয়। উচুঁ থেকে পড়ে গিয়ে…
: ধ্যাৎ। খাবার টেবিলে রোজ মাকে অতো জ্বালানো কি ভালো?
: মা বলেছে?
: শুনতে পাই। বছর দুয়েক হল, তাই নয়?
: তারো বেশী। আপনার টবের গাছে ফুল এসেছে?
: নেবেন? না থাক। রিকসা এল, মা এলেন, যাই।
: আপনি সন্ধ্যে বেলা ওভাবে কখনও পড়বেন না,
চোখ যাবে, যাই।
: হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই।
: যান, আপনার মা আসছেন। মা ডাকছেন, যাই।

(প্রেমের কবিতা, ১৯৮১)

 

বসবাস নিবাস

পাখির উড়াল দেখতে দেখতে প্রশ্ন করেছি।
কোথায় নিবাস?
পথের বাতাস উড়ে যেতে যেতে প্রশ্ন করেছি
কোথায় নিবাস?

কি নিঃসঙ্গ নদী বয়ে যায একা একা নদী
কোথায় যে যায়
কতদিন তাকে প্রশ্ন করেছি নিবাস কোথায়
নিবাস কোথায়?
কোথায় যে কার নিবাস, আহা রে ঝড়ে বৃষ্টিতে
কোথায় যে রয়
আমার নিজের ঘর আছে, আমি নিজের ঘরেই
থাকি নির্ভয়।

শেলফে সাজানো মননের সঙ্গে স্বজন
সুখে বসবাস
হঠাৎ কখনো দর্পণে মুখ হঠাৎ প্রশ্ন
কোথায় নিবাস?

(বিদীর্ণ দর্পণে মুখ, ১৯৮৫)

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য