Main menu

ঢাকা ডায়েরি

“বিদেশে দীর্ঘ সময় থাকার পর যারা দেশে ফিরে আসে তাদের চেহারায় একটা বোকা বোকা ভাব এসে জড়ো হয় যেটা সারাজীবনেও তারা কাটায়ে উঠতে পারে না।” – শাহবাগের / সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের এক বড়ো ভাই এই কথা বললেন ২০০৫ এর দিকে। উনার কথা শুনে আরও বোকা হয়ে গেলাম। তখন সবে মাত্র বাইরের একটা দেশ থেকে পড়াশুনা শেষ করে দেশে ফিরছি। সবার মুখে একই প্রশ্ন – ফিরলেন ক্যান। নিজেও ভাবা শুরু করছি – ফিরলাম ক্যান, অবশ্য ফেরার প্ল্যান নিয়েই বাইরে গেছিলাম, থাকার প্ল্যান ছিল না। তারপরেও – এই প্রশ্ন নিজের মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করে যে দেশে, বা নিজের জন্ম শহর এই ঢাকায় ঠিক কী আছে যেটার একটা আন্তর্জাতিকভাবে সত্যিকারের ভ্যালু থাকতে পারে। মানে, ঢাকায় ঠিক কী আছে যেটা, নিজেকে যদি বিশ্ব নাগরিক ভাবি, তাইলে আমার কাছে ভ্যালুয়েবল একটা জিনিস মনে হবে, যেটা কিনা অন্য দেশের অন্য শহরে নাই।

.
আমার এই ভাবনাটা আমি এক পর্যায় শেয়ার করি তৎকালীন একটা উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করা আমার এক কলিগ বন্ধুর সাথে। তিনি কলিগ হবার আগে থেকেই আমার বন্ধু, আর নিজেও নানা দেশ ঘুরে মুরে আসছে । ফলে বিষয়টা তৎক্ষণাৎ তিনি অনুধাবন করতে পারেন। আর তার সেইমুহূর্তের তাৎক্ষণিক উত্তরটাও খুব অসাধারণ। উনি (সে) বলে উঠেন, আরে, পৃথিবীর অনেক দেশে আপনি ‘আধুনিক’ লাইফ দেখতে পাবেন। কিন্তু ‘উত্তর-আধুনিক’ লাইফ খুঁজতে হইলে এই ঢাকা।

ধরেন একটা মানুষ হাঁটতে হাঁটতে ঢাকনা-বিহীন একটা ম্যানহোলে পড়ে গেল। এই যে এই বাস্তবতা – এইটা আপনি পৃথিবীর কোনো উন্নত বা আধুনিক শহরে খুঁজে পাবেন না। এই ধরণের জিনিসগুলা থেকে আনন্দ লাভ করা শিখতে হবে।
ঐসব দেশে সবকিছু সাধারণত একটা সিস্টেমের মধ্যে চলতেসে।
অনেকটা যেন একমাত্রিক একটা লাইফ। কিন্তু ঢাকা শহরের লাইফ বহুমাত্রিক।

এই যে ক্ষমতার কেন্দ্রের এত এত এলিমেন্ট (ধরা যাক বড়ো বড়ো আন্তর্জাতিক অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক আধুনিক জীবন ব্যবস্থা) – আবার তারই সাথে প্রান্তীয় জনগোষ্ঠীর কালচারের এলিমেন্টের প্রবল মিশ্রণ বা সহাবস্থান (যেমন, ডাব বিক্রি, শিয়ালের তেল বিক্রি, কবিরাজের গাছ গাছরা শিকড় বিক্রি, টুপি তসবি বিক্রি, চটের বস্তা, কাগজের প্যাকিং, সিলোফেন, রিকশা, গাড়ি, লারেলাপ্পা বাস, আধুনিক গাড়ি – তার সাথে সাথে মানুষের নানারকমের ন্যারেটিভের সহাবস্থান এই যে এই এক শহরে – এই জিনিসটা ইউনিক।

ভেবে দেখি যে খারাপ বলেন নাই ইনি। এত বিচিত্রতা, কালচারে, ব্যাকগ্রাউন্ডে, বেড়ে ওঠায়, বিশ্বাসে, সমাজে প্রচলিত ন্যারেটিভে – এই এত এত ভ্যারাইটির প্রবল সহাবস্থান এক সাথে কোনো একটা শহরে খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর।
Continue reading

বাংলাদেশের অনলাইন সাহিত্য সামারি: জুলাই – সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাংলাদেশের সাহিত্য-আর্ট-কালচার নিয়া যেইসব ওয়েবসাইটের লেখা আমাদের চোখে পড়ছে, সেইখান থিকা কিছু লেখা রিকমেন্ড করতে চাইতেছি আমরা। আমাদের বিচার-বিবেচনায়, এই লেখাগুলা আপনারা পড়তে পারেন।

দুইটা পয়েন্ট কন্সিডার করার জন্য বলবো আমরা। এক হইতেছে, সব ওয়েবসাইট তো আমাদের পরিচিত না; যার ফলে বাংলাদেশে এই সময়ে অনলাইনে যা কিছু ছাপা হইছে, তার সবকিছু্‌ই আমাদের দেখার আওতার মধ্যে নাই। কিন্তু কম-বেশি যেইগুলা চালু আছে, একটা সার্কেলে লোকজন শেয়ার করে, কথা বলে, মোস্টলি ব্রাউজ কইরা দেখছি আমরা অই সাইটগুলা। তবে এর বাইরেও কিছু লেখা থাকতে পারে। মোটামুটি ৩০টার মতো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছি আমরা; আমাদের ধারণা, এর বাইরে একই রকমের আরো সাইট থাকার কথা।

সেকেন্ড হইলো, ব্যাপারটা এইরকম না যে, এই লেখাগুলা আমরা ছাপাইতাম, বা লেখার কনটেন্ট বা আর্গুমেন্টগুলার সাথে আমরা একমত; বরং উল্টাটাই বেশি, এইসব বিষয়ে আমাদের ধারণা বা পজিশনগুলা আলাদা; কিন্তু আলাপের বিষয় হিসাবে ইম্পর্টেন্ট মনে করতেছি, যে, এইগুলা নিয়া কথা-বার্তা হইতে পারে।

তিন মাস পর পর এইরকমের লেখার লিংক শেয়ার করার ইচ্ছা আছে আমাদের, যেইটা জানুয়ারি, ২০২১ থিকা শুরু করছি আমরা।
Continue reading

অন ডেবট ট্রাপস অ্যান্ড লিবারালিজম (On Debt Traps and Liberalism)

প্রথমেই আমি উল্লেখ করে নিচ্ছি যে লিবারেলিজম এবং ক্যাপিটালিজম কে আমি ইন্টারচেইনঞ্জেইবলি ব্যবহার করব। এদের উৎস একই। এই দুইটাই মধ্যযুগের ইউরোপের সুনির্দিষ্ট কিছু বাস্তবতার জন্যে উদ্ভব হয়েছিল। এই দুইটার উদ্ভব হওয়ার জন্যে ক্রিস্টিয়ানিটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ক্রিশ্চিয়ানিটি এই পোস্ট রোমান ইউরোপকে কিছুটা হইলেও স্থিতিশীলতা দিছিল যাতে একে অন্যকে এনাইলেট করতে না পারে। যদিও ক্রিশটিয়ানিটি কখনওই হমোজেনাস ছিল না, ক্যাথলিক প্রটেস্টেন্ট ভাগ ছাড়াও তাদের ছিল হাজার হাজার সেক্টের ফ্যাঁকড়া। এইসব সেকতগুলো সবসময় নাইস প্লে করত না একে অপরের সাথে। এইকারনে মধ্যযুগের ইউরোপে একধরনের লোকাল সভারিনিটি কখনো ডি জুড়ে, আর কখনো ডি ফ্যাক্টভাবেই বজায় ছিল।

সুতরাং অধিকাংশ বিষয়ে কোন শক্তিশালী এডমিনিস্ট্রিটিভ স্টেইট ছিল না। জনগণকে সহজে কোন কিছুতে কেন্দ্রীয়ভাবে জোর করা যেত না, লোকাল অটোনমির কনসেন্ট ছাড়া। এই লোকাল অটনমিগুলো নিজেরা ইফেক্টিভলি ওয়ান পার্টি স্টেইট চালাইত। কিন্তু যেহেতু তাদের ব্রড এক্সেপটেন্স ছিল, অর্থাৎ লোকাল জনগণের লোকাল অথরিটির প্রতি এলিজেন্স ছিল, সেহেতু তারা লোকাল ডিসেন্টের মোকাবিলা করতে পারত সহজে।

এই কারনে যদি কোন সাফিশেন্টলি বড় মনার্কি কিছু ইমপ্লিমেন্ট করতে চাইত, চার্চ ছাড়া তাদের গতি ছিল না। শুধুমাত্র এই নেটওয়ার্কই বড় এনফোর্সমেন্ট ক্যাপাসিটি বড় আকারে কিছু করার উইদাউট স্পেন্ডিং এ লট অফ মানি। যুদ্ধ এবং অন্যান্য বড় কাজে মনার্কিকে অনেক পয়সা খরচ পরত। মার্সেনারি আর্মির যুগে না পয়সা দিয়া আর্মি পালা মোটামুটি অসম্ভব। আর যারা যুদ্ধ করে তাদের দাবিও বেশী থাকে। এভারেজ জনগণের চেয়ে দাবি বেশী হওয়াটাই ইতিহাস বারবার দেখছে। রোমে একসময় সিচুয়েশন এত খারাপের দিকে গেছিল, নতুন সম্রাটের মুকুট পড়ার বোনাসের লোভে প্রিটোরিয়ান গার্ড সম্রাটের বিরুদ্ধে সকল বিদ্রোহ সমর্থন করত। রোমে অভ্যুথানের স্ট্রাকচারই দাড়ায়ে গেছিল, যে বিদ্রোহ করতে চায় সে প্রিটোরিয়ান গার্ডের কাছে গিয়ে দর কষাকষি করত। এমন ঘটনাও ঘটছে, প্রিটোরিয়ান গার্ড স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সম্রাটের গলা কেটে নেক্সট এম্পেরেররশিপ নিলাম করছে। এক বেকুব রোমান ধনী ভাবছে এই চান্স সিজার হওয়ার। তার বুঝা উচিত ছিল এত সহজে যেই আর্মি এলিজেন্স পরিবর্তন করে, তারা নিলামে জয়ী রোমান বেকুবের পক্ষ ত্যাগ করতে বেশী সময় নিবেনা। সামবডি জাস্ট নিডস টু আউটবিড হিম। অর্থাৎ পটেশনলিয়াল বিদ্রোহী জানত কত টাকার টোপ ঝোলাতে হবে।

সুতরাং আর্মি = সুপার এক্সপেনসিভ।

চার্চ সেদিকথেকে ইমেডিয়েটলি ততটা পয়সা দাবি করে না। যদিও ভবিষ্যতে কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নেয়। কিন্তু দ্যাট প্রবলেম ইজ ফর আ ফিউচার ইউরোপিয়ান প্রিন্স।

এই কারনেই স্প্যানিশ ইনকুইজেশন চালানোর দায়িত্ব পাইছিল ডমিনিকান অর্ডার। পাবলিক ইনকুইজেশন ইমপ্লিমেন্টেশনে একটা রিলিজিয়াস অর্ডার এততা এফিশিয়েন্ট হওয়ার কথা না, যতটা একটা আর্মি পারত। বাট দ্যাট উড কস্ট আ ফরচুন।

এই প্রেক্ষাপট আসলে লিবারেলিজমের উত্থানের জন্যে বোঝা খুব জরুরী। অর্থাৎ যেসব যায়গায় তাত্বিকভাবে কমপ্লিট একজেকিউটিভ পাওয়ার থাকলেও বাস্তবে আসলে ততটা ছিল না। মানুষের জীবনের অনেক দিকই ইফেক্টিভলি সেন্ট্রালাইজড কোন অথরিটির নাগালে ছিল না। লোকাল অথরিটি ছিল অবশ্যই। বাট লার্জ স্কেইলে ছিল না।

এই ধরনের পরিবেশে জন্ম নিছে লিবারেলিজ এবং ক্যাপিটালিজম। Continue reading

বই: “সবারে নমি আমি” কানন (বালা) দেবী (সিলেক্টেড অংশ) – লাস্ট পার্ট

কানন (বালা) দেবী (১৯১৬ – ১৯৯২) হইতেছেন ইন্ডিয়ান ফিল্মের শুরু’র দিকের নায়িকা, কলকাতার। ১৯২৬ থিকা ১৯৪৯ পর্যন্ত মোটামুটি এক্টিভ ছিলেন, সিনেমায়। তখনকার ইন্ডিয়ার ফিল্ম-স্টুডিওগুলা কলকাতা-বেইজড ছিল। গায়িকা হিসাবেও উনার সুনাম ছিল অনেক। ১৯৭৩ সনে (বাংলা সন ১৩৮০) উনার অটোবায়োগ্রাফি “সবারে নমি আমি” ছাপা হয়। সন্ধ্যা সেন উনার বয়ানে এই বইটা লেখেন। অই বইটা থিকা কিছু অংশ ছাপাইতেছি আমরা এইখানে।

আগের দুই পার্টে মোটামুটি কানন (বালা) দেবী’র স্ট্রাগলের কাহিনিই আমরা পাইছি। মজুরি থিকা শুরু কইরা মেন্টাল ও ফিজিক্যাল টর্চারের কাহিনিগুলা। এইখানেও স্ট্রাগলটা কন্টিনিউ করতেছে উনার, কিন্তু সেইটা হইতেছে ইমেজের স্ট্রাগল। এর আগে একটা বাজে রিলেশনের ভিতর দিয়া গেলেও উনার হাজব্যান্ডরে নিয়া উনি হ্যাপি ছিলেন। ফিনান্সিয়ালিও সিকিওরড হইতে পারছিলেন। কিন্তু নায়িকা হিসাবে ‘শ্রদ্ধা-সম্মান’র জায়গাটা মিসিং-ই ছিল মনেহয় সবসময়। নায়িকা হিসাবে ডিজায়ারেবল উইমেন হয়া উঠার যেই সাকসেস, সেইটা থিকা উনারে আলাদা কইরা দেখতে রাজি ছিল না মানুশ-জন। যিনি নায়িকা, ডিজায়ার পয়দা করবেন আমাদের মনে, তারে অন্য কিছু ভাবতে আমাদের এখনো কিছুটা হইলেও তকলিফ তো হওয়ার কথা। মানে, একজন মানুশের অন স্ক্রীন পাবলিক পারফর্মেন্স, ইমেজ, সোশ্যাল পারসেপশনটারেই তো আমরা দেখতেছি, আর যতটুক আমরা দেখি বা জানি ততটুকরেই সত্যি বইলা ভাবার অভ্যাসের কারণে অন্যসব জায়গাগুলারে আমলে নিতে পারার ঘটনা ঘটতে পারে না। এইদিক দিয়া উনার এই অটোবায়োগ্রাফি খালি পারসোনাল লাইফের বয়ান-ই না, একটা পারসপেক্টিভরে হাইলাইট করতে চাওয়াও, যেইটারে আমরা ধইরা নিতে পারি – নায়িকার জীবন।   

কিন্তু এখনো ঘটনাগুলা যে কম-বেশি একইরকম, এইটা মনেহয় একটা চিন্তারই বিষয়। এই কারণে না যে, ‘সমাজ বদলায় নাই’; বরং আমাদের দেখাদেখির জায়গাগুলাতে আমরা খুববেশি নজর দিতে পারি নাই, বা পারতেছিও না মনেহয়।

ই.হা.

………

ফার্স্ট পার্ট ।। সেকেন্ড পার্ট ।।

………

 

অশোক কুমার

এ ছবিতেই (চন্দ্রশেখর) প্রথম অশোককুমারের সংস্পর্শে এলাম। শিল্পী হিসাবে উনি অত্যন্ত কোঅপারেটিং। মানুষ হিসাবে ভদ্র মার্জিত কিন্তু বড্ড বেশী কায়দাদুরস্ত, যাকে বলে ফর্মাল—বাংলাদেশের নায়কদের মত অনাড়ম্বর ও আত্মীয়তাধর্মী নয়। অনেক পরে বোম্বেতে অবশ্য অশোককুমার দম্পতির সঙ্গে আমার ও আমার স্বামীর যথেষ্ট হৃদ্যতা হয়, এবং তারপর সস্ত্রীক কোলকাতায় এসে দু-একবার আমাদের আতিথ্য গ্রহণও তিনি করেছেন। এ দূরত্ববোধ তখন অনেকটাই অপসারিত হয়ে গেছে; এবং আজও আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্কই আছে।

 

হিন্দুপ্রথার বিবাহডোরে

এই সময় টালিগঞ্জে নৃপেন্দ্রনারায়ণ স্কুলের থেকে আমার কাছে কিছু ডোনেশন দেবার আবেদন এল। আর ঐ প্রতিষ্ঠানেরই পুরস্কার বিতরণী সভায় তৎকালীন রাজ্যপাল ডঃ কাটজু এলেন সভায় পুরস্কার বিতরণ ও উদ্বোধন করার জন্যে। ডোনেশনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সভায় প্রধান অতিথি হবার আর রাজ্যপালকে অভ্যর্থনার দায়িত্বভার গ্রহণের সম্মতিও দিতে হোলো।

‘অনন্যা’র স্যুটিং-এর পর গেলাম। ডঃ কাটজুর সঙ্গে আলাপ তো হোলোই, আলাপ হোলো তার Naval A. D. C. হরিদাস ভট্টাচার্যের সঙ্গেও। নিয়মমাফিক পরিচয়ের আগেই তাঁর দিকে চোখ পড়েছিল। না পড়ে পারে? কি বলব তাঁকে। রূপবান? পরম রূপবান? অসাধারণ সুন্দর? না, কোনো গতানুগতিক বিশেষণই এ ক্ষেত্রে ঠিক লাগসই হয় না। দেখলাম সকলের মাথা ছাপিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। ঋজু, সরল, ছিপছিপে। যৌবনের প্রাণবন্ত সৌন্দর্য সমৃদ্ধে ভরপুর। জমকালো ইউনিফর্ম ছাপিয়েও ফেটে পড়ছে তাঁর রঙের জৌলুষ। প্রশস্ত ললাট, চোখ দুটি খুব বড় নয় কিন্তু ভারী উজ্জ্বল আর বুদ্ধিদীপ্ত তাঁর সপ্রতিভ চাউনী। আর এই রূপকে শাণিত করে তুলেছে তাঁর অসাধারণ স্মার্টনেস। ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক টুকরো মিষ্টি হাসি কি সেই স্মার্টনেসকেই অলঙ্কৃত করে? চুম্বকের মত আকর্ষণী শক্তি ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বে? না রূপে? বলতে পারি না?

তবে ফর্মালিটি অথবা লৌকিক শালীনতা বোধের বিধি-নিষেধ অগ্রাহ্য করেও অবাধ্য চোখ দুটির দৃষ্টি বার বার যেন ওঁরই ওপর পড়ছিলো। আর কি আশ্চর্য? যতবার তাকাচ্ছি দেখি উনিও আমার দিকেই চেয়ে আছেন। চোখাচোখি হতে উনি চোখ ফিরিয়ে নিলেন। আমিও। বেশ কয়েকবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে গেল। আর সকলের অলক্ষ্যে দুজনের চুরি করে দেখাটা দুজনের কাছেই বারবার ধরা পড়ে যাচ্ছিল। লজ্জার মধ্যেও এক অনামা পুলকে মন যেন আচ্ছন্ন হয়ে গেল। অপরাধটা তাহলে আমার একার নয়। এ অপরাধের আর একজন ভাগীদারও আছেন। একথাটা মনে হতেই কবিগুরুর ভাষায় বলা যায়—’বাজিল বুকে সুখের মত ব্যথা।’ নাটকীয় মনে হলেও আরও একটি অকপট সত্যকথা না বলে পারছি না, ঠিক এই মুহূর্তেই রবীন্দ্রনাথের ‘ওগো সুন্দর চোর’ চরণটি মনের মধ্যে গুন-গুন করে ফিরছিল।

এই হোলো আমাদের প্রথম দেখার অধ্যায়।

Continue reading

বাংলাদেশের মিউজিক (৩)

এক।। দুই ।।

………

বাংলাদেশের বৃষ্টির গান

বৃষ্টির গানের জনরা নিয়া

এই জিনিসটা পয়লা মনে হইছিলো, সোলসের পার্থ’র “রিমঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ে/ মন দরিয়ায় তুফান ওড়ে…” গানের মিউজিকটা খেয়াল কইরা, অইখানে “মনের মানুশ এমনি দিনে মনে পড়ে যায়/মনের খবর তারে কেমনে জানাই!” বইলা যে চিল্লান’টা দেয়, অইটা তো “বৃষ্টির গানের ইমোশনের” লগে তো এতোটা যায় না! :p মানে, বৃষ্টি তো হবে ভিজা-ভিজা, নেতানো একটা জিনিস, এইখানে চিল্লানি কি দেয়া যাবে? বা ভি.এস.নাইপল’রা বাংলাদেশরে যেইরকম “বৃষ্টি-বিধৌত ব-দ্বীপ” বানায়া রাখছেন, অইটার লগে কন্ট্রাডিক্টরি হয়া যাবে না? 🙂 (আশা মুগদালের একটা গান আছে, “আজকা শাবন জিরায়া বরসে… অইটার মিউজিকের লগে মিল পাইবেন কিছুটা…)

তারপরে, ডিফরেন্টের টাচের গান’টা খেয়াল করেন “শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে…” এতো পপুলার (মানে, মিডল-ক্লাসের নাইনটিইজের জেনারেশনের কাছে) কেমন হইলো? অইটাতেও সোলসের বিরহ’টাও নাই, “উদাসী” ব্যাপারটাও কি রকম লাউড, উদাস হইলে মানুশ এইরকম চিল্লায় নাকি! অথচ দেখেন, অই চিল্লানির কারণেই এইটা ‘ভালো’! মানে, পপুলার হওয়ার পিছনে এইটার কন্ট্রিবিউশন থাকার কথা যে, ব্যান্ডের গান তো এইরকমই হইতে হবে!

তো, আমারে ভুল বুইঝেন না যে, আমি ওকালতি করতেছি, এইগুলা ভালো গান! ব্যাপারটা হইতেছে, জনরা হিসাবে কেমনে আলাদা।

তবে অ্যাক্রস দ্য জনরা; মানে, ব্যান্ডের গান, পুরানা দিনের গান, আধুনিক গান, ট্রাডিশনাল গান, সব জায়গাতে দুয়েক্টা জিনিস কমন, যেইটা দিয়া এইটা যে, বাংলাদেশের বৃষ্টির গান – সেইটারে মেবি লোকেট করা যায়। জিনিসটা অবশ্যই স্ট্যাটিক না। ওভার দ্য পিরিয়ড অফ টাইম চেইঞ্জ হইছে, হইতেছে, হবে।

গানের লিস্টিং নিয়া

লিস্টিং করতে গিয়া, ৭০/৮০’র মতো গান পাইছিলাম বৃষ্টি নিয়া, বাংলাদেশের। তবে আমার ধারণা, আরো গান থাকার কথা। মানে, এইটা কমপ্লিট লিস্ট না। যেহেতু আমি আর আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডরা মেইনলি নাইনটিইসের লোক, অই সময়ের ব্যান্ডের গান, আধুনিক গানই বেশি লিস্টে আসতে পারছে। সবচে বেশি মিসিং মনে হইছে ‘ট্রাডিশনাল’ গানগুলা, বৃষ্টি ব্যাপারটা মেবি “বৃষ্টি” শব্দ দিয়া অইরকমভাবে ছিল না, বা নাই। ব্যাপারটা মেঘ-ই হওয়ার কথা।…

তো, এই লিস্ট’টা করতে পারলে তো নানান দিক দিয়াই সুবিধার। আর ক্যাটাগরি করতে পারলে, সময় অনুযায়ী সাজাইতে পারলে। খালি বৃষ্টি না, বৃষ্টিরে ধইরা অনেক কিছু নিয়া কিছু আন্দাজ করা সম্ভব হইতে পারে। (এই কাজ একলা তো আমি কখনোই করতে পারবো না, আর এইটা আমার ইন্টারেস্টের এরিয়াও না, তারপরও ইচ্ছা’টা জানায়া রাখলাম আর কি!) এই স্যাম্পল সাইজের বেসিসেই কথা বলি কয়েকটা।

পয়লা জিনিস হইলো, এতো যে গান, এইগুলা কিন্তু আমাদের মনে থাকে না, মানে টপ অফ দ্য মাইন্ডে থাকে না; সবচে বেশি মনে আসে আসলে কিছু হিন্দি সিনেমার গানের কথাই, ইংলিশ গানও, কলকাতার আধুনিক (মানে ‘৬০র দশকের) গান, বাংলাদেশের গানগুলা এতোটা মনে আসে না; বা আসলে ফেসবুকে শেয়ার দেয়াটা বা পাবলিকলি মনে-করা’টা এতোটা স্মার্ট কোন ব্যাপার হইতে পারে না, বরং একটু অস্বস্তিই থাকার কথা, ব্যাপার’টা বেশি ‘ক্ষ্যাত’ দেখাইবো না তো? 🙂 মানে, এইটা ‘আরবান কালচারের’ কোন ঘটনা না, আপনি যদি ‘প্রকৃত বাঙালি’ হইতে চান প্রায় সবকিছুতেই দেখবেন ‘বাংলাদেশি’ জিনিসগুলারে একটু এড়াইতেই হয়, না-বলার ভিতরে রাখতে হয়, তা নাইলে ‘কালাচারাল’ লোক হইতে পারেন না এতোটা!

এইটা কেন হইলো? গান’গুলা বাজে বইলা? মানে, খারাপ-ভালো গান তো আছেই; কিন্তু আমার কথা হইতেছে, এর বাইরেও ‘বাংলাদেশি গান’ এইটা ‘কালাচারাল ক্যাপিটাল’ হিসাবে একটা ইনফিরিয়র জিনিস, বাংলাদেশে। গান ভালো নাকি খারাপ – এর বাইরেও এই জিনিসটা আছে, কাজ করে একভাবে। কোন আর্ট বাংলাদেশে বানানো হইছেই বইলা যেমন ভালো না, একইরকমভাবে খারাপও তো হইতে পারে না। কিন্তু আছে সেইটা। আমাদের ‘মনে না করা’ না, বরং পাবলিকলি মেনশন না করার ভিতর দিয়া এইটা এফেক্টিভ থাকে। এইটা আমার একটা ক্লেইম।

সেকেন্ড হইলো, ভ্যারিয়েশনের জায়গাগুলা, মানে একটা কালচারেও তো নানান ক্লাসের ঘটনা মিইলা-মিইশা থাকে, অই কালচারাল ভ্যারিয়েশনগুলা মিসিং। যেমন ধরেন, রুনা লায়লা যেই “রসের দেওরা”টা গাইছেন অইটা এক কিসিমের গান, আবার মাইলেসের যে ওয়েস্টার্ন কোন গানের কপি’র মতো “রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টিতে হাতে তুলে গিটার…” – দুইটাই (এবং আরো অনেকগুলাই) বাংলাদেশে গাওয়া হইছে তো। এবং দেখবেন, দুই কিসিমের বা দশ রকমের হইলেও ভালো গান কিন্তু ভালোই। সব ক্লাসের লোকজনেরই কম-বেশি ভাল্লাগার কথা। কিন্তু এই ভ্যারিয়েশনরে আমার ধারণা, একভাবে খুন করা হইতেছে। কালচাররে এক্সপ্লোর করার চাইতে একটা লিনিয়ার ফর্ম হিসাবে পারফর্ম করানোর জায়গা থিকা দেখা হইতেছে, যেইটা খুন করার শামিল আসলে।… এক তো হইলো রিকগনিশন নাই, শরম লাগে এইসব গান শুনতে; সেকেন্ড হইলো, লিনিয়ারটিরি এই ঘুঁটা যে, এইটা তো তত একটা ‘বাঙালি’ (নট বাংলাদেশি) না!

থার্ড হইলো, আর্ট ক্রিয়েট করা যে কতো কঠিন জিনিস – সেইটা টের পাইবেন, বৃষ্টির গান গাইলেই সেইটা বৃষ্টির ঘটনাটারে ট্রান্সফর্ম করতে পারে না অইভাবে। বৃষ্টি মিনিং ঘুইরা-ফিরা বাংলা-গানে অই দুই-চাইরটা জিনিসই: ইরোটিক (সবচে সেলিব্রেটেড এবং ভালো) আর বিরহ-ই (সবচে ফাঁপানো এবং মিডিওকার) বেশি, এর বাইরে ন্যাচার নিয়া আছে কিছু, কিন্তু অন্য কোন ঘটনা প্রমিনেন্ট হয়া উঠতে পারে নাই। জেমস, আইয়ূব বাচ্চুও বৃষ্টি নিয়া গান গাইছেন, কিন্তু দেখেন, আলাদাভাবে অইগুলা মনেও করা যায় না, কারণ বৃষ্টির যেই মিনিং সেইটার বাইরে লিরিকসে, মিউজিকে বা উনাদের গানে আলাদা কিছু তৈরি হয় নাই। হুমায়ূন আহমেদ যে পিপলের আর্টিস্ট এইটা উনার গান দিয়াও বুঝা যায়, একটা বিরহরে উনি ক্রিয়েট করতে পারছেন, যেইটা ছাড়া মেনশন করার মতো আর কোন ক্রিয়েশন নাই আসলে, রিসেন্ট বাংলাদেশের বৃষ্টির গানে।…

মানে, বৃষ্টি তো একটা উছিলাই সবসময়। আমিও বৃষ্টির গানরে উছিলা কইরা কিছু কথা বলতে চাইছি। এইরকম কম্পাইলেশন বা লিস্টিংগুলা যদি আমাদের সামনে থাকে, আমার ধারণা তাইলে অনেকেরই কথা বলাটা বা অনেককিছু দেখাটা সহজ হইতে পারে। Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য