Main menu

ফরিদ উদদীন আত্তারের “মানতিক-উত-তোয়ায়ের“ বই থিকা কয়েকটা কাহিনি

ফরিদউদ্দিন আত্তার মানতিক-উত-তোয়ায়ের বইটা লিখছিলেন পার্শিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজে, ১১৭২ সালে। এই নামটা নেয়া হইছে, কোরানের আয়াত থিকা। ১৮৮৯ সালে মেবি এওয়ার্ড ফিল্টজেরাল্ড পয়লা ইংলিশে ট্রান্সলেশন করেন, বার্ড পার্লামেন্ট নামে। পরে দ্য স্পিচ অফ দ্য বার্ডস, কনফারেন্স অফ দ্য বার্ডস নামে আরো অনেকগুলা অনুবাদ হইছে। বাংলায় আমার জানামতে, ২০০৮ সালে করা আবদুল জলীলের অনুবাদটা অ্যাভেইলেবল। আগে আর পরে আরো অনুবাদ থাকতে পারে বইটার, বাংলাতেও।

আমি যেই ইংলিশ ভার্সনটা ফলো করছি সেইটা Garcin De Tassy-র ফরাসি থিকা C.S.Nott এর করা অনুবাদ। ১৯৫৪ সালে পয়লা ছাপা হইছিল, পরে ১৯৭১ সালে Shambala পাবলিকেশন্স থিকা ছাপানো হইছিল। অই অডিশনটার পিডিএফ ভার্সন পাওয়া যায়, অনলাইনে।

বইয়ের কাহিনিটা হইলো, সব পাখি একলগে হয় তাদের যে রাজা, তাদেরকে দেখতে যাইবো বইলা। এক পাখি তাদেরকে লিড দেয়, রাজার খবর বলে। কিন্তু পরে দেখা যায়, সব পাখি যাইতে চায় না। একেকজন একেকটা প্রব্লেমের কথা কয়, আর হোপিপাখি তাদেরকে জবাব দেয়, নানান কাহিনি বইলা।

মানে, কাহিনি একটা আছে, বইটার। কিন্তু কাহিনি ইজ নট দ্য গল্প! 

২.
মজার ব্যাপার হইলো, অই বইয়ের ট্যাগলাইন হিসাবে লেখা হইছে, অ্যা সুফি ফেবেল। মানে, পপুলার রিডিংয়ে তো, সুফি – এই জায়গা থিকাই দেখার কথা। জেন, বুড্ডিজম, ইয়োগার মতোই ঘটনা একটা, এই সুফিজম। যে এইটা বাইরের একটা জিনিস, একটা ওয়ে আউট, ওয়েস্টার্ন মেটারালিস্টিক লাইফে!  :)  মানে, সুফিজম যতোটা না সুফিজম তার চাইতে অনেকবেশি মোটিভেশনাল ইলিমেন্টই, ইউলিটির দিক থিকা। তো, এই পপুলার সাবস্ক্রিপশনের জায়গাটা মনে রাখাটা মেবি দরকার।

৩.
তো, আমি পুরা বইটা যে অনুবাদ করার ভাবতে পারি নাই, এর একটা কারণ তো অবশ্যই যে, এতো পরিশ্রম করার সাহসটা করতে পারি নাই। এর বাইরে আরেকটা জিনিস এই সুফিজমের সাথে রিলেটড ঘটনা কিছুটা। ব্যাপারটা আমার কাছে এইরকম না যে, পুরানা কোন তরিকারে সহি উপায়ে আমি রিভিল করতে চাইতেছি, বরং এক রকমের পারসোনাল রিডিংই এইটা, টেক্সটটার। আর ইনকমপ্লিটও।

৪.
আরেকটা জিনিস, যে কোন অনুবাদের সময়ই আমি বইলা রাখতে চাই যে, ইন অ্যা লার্জার সেন্স অনুবাদ আসলে রিডিংই, একটা কনটেক্সট থিকা একটা টেক্সটরে যখন আমরা আরেকটা কনটেক্সটে নিয়া আসতেছি তখন সেইটা একই জিনিস থাকতেছে না, এই জায়গাটারে খেয়াল রাখাটা দরকার। আর স্পেশালি এইরকম পুরান একটা টেক্সট যেইটা অনেক টাইম আর স্পেইস ট্রাভেল করছে, একটা সেন্স অফ অরিজিনালিটিরে খুঁজতে যাওয়াটা আরো ডিফিকাল্ট হওয়ার কথা। মানে, এইরকম না যে, টেক্সটে ইনটেনশনালি অদল-বদল করতে থাকবো আমরা, কিন্তু একটা জায়গা থিকা রিড না করতে পারলে, অনুবাদ ব্যাপারটা পসিবল হইতে পারে বইলাই মনেহয় না।

৫.
তো, এইগুলাই সব না, আরো কয়েকটা কাহিনি অনুবাদ করবো মনেহয়। 

ই. হা.

…………………………………………………………………………………………………..

।। হোপি-পাখি প্রিন্সেস আর দরবেশের কাহিনিটা কইলো ।। কঞ্জুস ।। মাহমুদ আর আয়াজ ।। রাবেয়ার গল্প ।। শিবলী’র কাহিনি ।। সক্রেতিস তার সাগরেদেরকে কইলেন ।। সূর্যের খোঁজে থাকা বাদুড়টা ।। আরেকজন বেকুব ।। দরবেশ, যার সুন্দর দাড়ি ছিলো ।। ইউসুফ আর জুলেখা ।। মজনু’র কাহিনি ।। ইউসুফ হামদানি ।। রাবেয়ার একটা কথা ।। এক সাগরেদরে বলা এক ওস্তাদের কথা ।। প্রিন্সেস, যে তাঁর দাসের প্রেমে পড়ছিল ।।  হারানো চাবি ।।

…………………………………………………………………………………………………..

হোপিপাখি প্রিন্সেস আর দরবেশের কাহিনিটা কইলো

এক রাজার চান্দের মতোন সুন্দর এক মেয়ে ছিল, যারে ভালোবাসতো সবাই। তাঁর ঘুম-ঘুম চোখ আর তাঁর মিষ্টি নেশা-নেশা প্রেজেন্সে প্রেম জাইগা উঠতো। কর্পূরের মতোন শাদা ছিল তাঁর মুখ, কস্তরী-কালো তাঁর চুল। তাঁর ঠোঁটের জেলাসি স্বচ্ছ পানি থিকা একটা মুক্তা শুকায়া নিতো, যখন চিনি গইলা যাইতো তার শরমে।

আল্লার কেরামতিতে এক দরবেশ একদিন দেখলো তারে, আর তার হাতের রুটি হাত থিকা বালিতে পইড়া গেলো। একটা আগুনের হলকার মতোন শে তার কাছ দিয়া গেলো, আর যখন শে যাইতেছিল, শে হাসতেছিল। আর তারে দেইখা দরবেশটা ধূলায় পইড়া গেলো, যেন জীবন ছাইড়া গেলো তারে। দিনে বা রাতে সে শান্তি পাইতো না আর, আর কানতো সবসময়। যখন সে তাঁর হাসির কথা ভাবতো তার চোখের পানি গড়ায়া পড়তো যেমনে একটা মেঘ থিকা বৃষ্টি ঝইড়া পড়ে। এই পাগলা প্রেম সাত বছর ধইরা চললো, তখন সে রাস্তার কুত্তাদের লগে থাকতো। তখন তাঁর পাইক পেয়ারদাররা তার এই অবস্থার একটা বিহিত করতে চাইলো। কিন্তু প্রিন্সেস তার লগে গোপনে বাতচিত করলো আর কইলো: ‘তোমার আর আমার মধ্যে ইন্টিমেট রিলেশন হওয়া কেমনে সম্ভব? এখনই চইলা যাও, তা নাইলে তোমারে খুন কইরা ফেলবে আমার লোকজন: আমার দরজায় আর দাঁড়ায়া থাইকো না, এখন উঠো আর চইলা যাও।‘

বেচারা দরবেশ উত্তর দিল: ‘যেইদিন আমি তোমার প্রেমে পড়ছি জীবনের থিকা আমি হাত ধুইয়া নিছি। এইরকম আরো হাজার হাজার জীবন আমি সদকা দিছি তোমার সুন্দরের কাছে। এখন যখন তোমার লোকেরা আমারে অন্যায়ভাবে খুন করার লাইগা আসতেছে আমার একটা সহজ প্রশ্নের উত্তর দাও তো। যেইদিন তুমি আমার মরণের কারণ হইছিলা, কেন তুমি আমার দিকে তাকায়া হাসছিলা?’ ‘আরে বোকা,’ শে কইলো. ‘যখন আমি দেখলাম যে তুমি নিজেরে হিউমিলেট করতে যাইতেছো, তখন আমি করুণা কইরা হাসছি। করুণা কইরা হাসার পারমিশন আমার আছে, মকারি কইরা না।‘ এইটা বইলা, একটা ধোঁয়ার ঝাঁটার মতো শে ভ্যানিশড হয়া গেলো, দরবেশরে পতিত রাইখা।

কঞ্জুস

এক নেশাখোর এক বাক্স সোনাদান লুকায়া রাখলো, আর তার কয়দিন পরেই মইরা গেলো। এক বছর পরে পোলা একটা খোয়াবে তার বাপেরে দেখলো যে, সে একটা ইন্দুর হয়া গেছে, তার দুই চোখ কান্দার পানিতে ভরা। যেইখানে সোনাদানা লুকানো আছিলো ইন্দুরটা অইখান দিয়া সামনে পিছনে দৌড়াইতেছিল। তার পোলা তারে জিগাইলো: ‘এইখানে কি করতেছো তুমি?’ বাপে জবাব দিলো: ‘এইখানে আমি কিছু সোনাদানা লুকায়া রাখছিলাম আর দেখতে আসছি কেউ এইটা খুঁইজা পাইছে কিনা।’ ‘তুমি ইন্দুর হয়া গেছো কেন?’ পোলায় জিগাইলো। বাপে কইলো: ‘টাকা-পয়সার মহব্বতের লাইগা যেই মানুষের আত্মা সবকিছু ছাইড়া দেয় সে এই এইরকম হয়া যায়। পুত রে, আমার কথা শোন, আর যা তুই দেখছোস তা থিকা প্রফিট কর। সোনাদানার প্রতি মোহ ছাইড়া দে তুই।’

মাহমুদ আর আয়াজ

শয়তানের চোখ আয়াজরে দুর্দশায় ফেলছিল, আর তারে সুলতান মাহমুদের দরবার ছাড়তে হইছিল। হতাশায় পইড়া সে খুবই মন-মরা হয়া গেছিলো আর তার বিছনায় শুইয়া সে কান্তেছিলো। মাহমুদ যখন এইটা শুনলেন, উনি তার এক খাদেমরে কইলেন: ‘আয়াজের কাছে যাও আর বলো, “আমি জানি তুমি দুঃখে আছো, কিন্তু আমারও একই অবস্থা। যদিও আমার শরীর তোমার থিকা দূরে, আমার আত্মা কাছে আছে তোমার। শোনো, যেই তুমি আমারে ভালোবাসো, আমি তো তোমার থিকা একটা মোমেন্টের লাইগাও দূরে নাই। শয়তানের চোখ আসলেই বাজেভাবে কষ্ট দিছে, যে সুন্দর, তারে।”‘ উনি তার খাদেমরে আরো কইলেন: ‘এখনই যাও, আগুনের মতোন যাও, বন্যার পানির মতোন যাও, বাজ-পড়ার আগে আলোর মতোন যাও!’

খাদেম বাতাসের মতোন বাইর হয়া গেলো আর আয়াজের কাছে পৌঁছাইল। কিন্তু সে দেখল সুলতান অলরেডি সেইখানে আছেন, তার দাসের কাছে বইসা আছেন। কাঁপতে কাঁপতে সে নিজে নিজে কইলো: ‘কি দুর্ভাগ্য আমার, রাজার কাজটা করতে পারলাম না; কোন সন্দেহ নাই আজকে আমারে খুন কইরা ফেলবে।’ তখন সে রাজারে কইলো: ‘আমি আপনার কাছে কসম কাইটা বলতেছি, আমি একটা মোমেন্টও বইসা থাকি নাই, দাঁড়াই নাই; কেমনে তাইলে রাজা আমার আগে এইখানে চইলা আসলেন? রাজা কি আমারে বিশ্বাস করেন? যদি কোনভাবে গাফিলতি কইরা থাকি আমার ভুল আমি স্বীকার করতেছি।’

‘তোমার দোষ নাই, মিয়া,’ মাহমুদ কইলেন,’তুমি কেমনে আমার মতোন ট্রাভেল করতে পারবা? আমি তো আসছি একটা গোপন পথে। যখন আমি আয়াজের খবর নেয়ার লাইগা বলতেছিলাম আমার আত্মা তো তখনই চইলা আসছে তার কাছে।’

রাবেয়ার গল্প

রাবেয়া, যদিও একজন নারী, ছিলেন পুরুষদের মাথার মুকুট। একবার উনি কাবায় হজ্জ্ব করতে যাওয়ার লাইগা আট বছর সময় পার করলেন, মাটিতে উনার দৈর্ঘ্য মাপতে মাপতে উনি গেছিলেন। শেষমেশ যখন উনি পবিত্র ঘরের দরোজায় পৌঁছাইলেন, উনি ভাবলেন: ‘এখন, শেষমেশ, আমি আমার কাজটা করতে পারলাম।’ হজ্জ্বের দিন, যখন উনি কাবা’তে যাইতে নিছেন, উনার নারীত্ব উনারে ছাইড়া গেলো। তখন রাবেয়া উনার আগের পায়ের ছাপগুলা খোঁজ কইরা দেখলেন আর কইলেন: ‘হে খোদা, গৌরবের মালিক, আট বছর ধইরা আমি রাস্তাটারে আমার শরীর দিয়া মাইপা আসছি, আর এখন, যখন প্রতীক্ষার-দিনটা আসলো আমার দোয়ার জবাব দেয়ার, তুমি আমার পথে কাঁটা বিছায়া দিলা!’

এই ঘটনার মর্ম বুঝতে হইলে রাবেয়ার মতোন একজন খোদা-ভক্তরে খুঁইজা বাইর করাটা জরুরি। যতোক্ষণ তুমি এই দুনিয়ার গভীর সাগরে ভাসতে থাকবা, এর ঢেউগুলা তোমারে প্রতিটা ধাক্কায় তোমারে নিয়া আসবে আর দূরে সরায়া দিবে। কোন সময় তুমি কাবার ভিতরে ঢুকতে পারবা, আবার কোন সময় একটা প্যাগোডার ভিতরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়বা। যদি তুমি এই দুনিয়ার অ্যাটাচমেন্টগুলা ছাড়াইতে পারো তুমি শান্তি পাবা; কিন্তু যদি তুমি অ্যাটাচড থাকো তোমার মাথা একটা কারখানার জাঁতাকল হয়া থাকবো। একটা মোমেন্টের লাইগাও তুমি সুস্থির হইতে পারবা না; একটা মাছির উইড়া যাওয়াও তোমারে তছনছ কইরা ফেলবে তখন। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

দ্য ডেইলি স্টোয়িক: ৩৬৬ দিনের জার্নাল।। রায়ান হলিডে।। (২)

ফ্রম গ্রীস টু রোম টু টুডে

এখন সময় রাইত ১২ : ০৫। মেহেরাব ইফতি আমারে ভূমিকা লেইখা দিতে কইছিলো সকালে। সারাদিন ভাবলাম। মূল বইয়ের ভূমিকাটাও পড়লাম কয়েকবার। এখন লেখতে বসলাম; যা বুঝলাম সারাদিনে -একটা চেনা প্রবাদ দিয়া শুরু করা যাইতে পারে কথাগুলা, “পুরান চাইল ভাতে বাড়ে।”

তিন হাজার বছর আগের গ্রিক সময়কার দর্শন নিয়া এই সময়ে আইসা আলাপ দেয়ার মানেটা কী? তাও স্টোয়িক দর্শন নিয়া বিশেষভাবে। দর্শনের ছাত্র হিসেবে প্রথম পাঠ যেগুলা পাইছিলাম তার মধ্যে একটা ছিলো, কোনো সময় দর্শন একেবারেই বাতিল হইয়া যায় না। অর্থাৎ, বিজ্ঞানের সূত্র বাতিল হইয়া যাইতে পারে, মৃত হইয়া যাইতে পারে, কিন্তু দর্শন বাতিল হয়না, মৃত হয়না। এইটা একটা কারণ, যেটার জন্য এখনও দার্শনিকরা এরিস্টটল-প্লেটো কপচাইতে পারে, হয়তো ভবিষ্যতেও পারবে। স্টোয়িক ফিলোসফিও প্লেটো-সক্রেটিসের সময়কারই। নতুন কইরা স্টোয়িক দর্শনের আবির্ভাব আমাদের এইসময়ে, এর পিছনে কিছু আর্থ-সামাজিক ও বৈশ্বিক কারণ অবশ্যই আছে, যদিও এই বইয়ের বিষয়বস্তু সেইটা না, এমনকি আমার আলাপেরও না, তাও বইলা রাখলাম চিন্তার উস্কানি হিসাবে। তো এই বইয়ে আসলে আলাপটা কী নিয়া? কারা ছিলো স্টোয়িক? স্টোয়িক বলতে আমরা জেনারেল সেন্সে কী বুঝি? প্রথম কথা, স্টোয়িক বলতে আমরা জেনারেল ইমেজে এইটা ধইরা নিই যে :আবেগহীনতা (এমনকি ইংরেজি শব্দেও সেরকমই অর্থ)। এইটা নিয়া রায়ান হলিডেও তার বইতে আক্ষেপ করছেন। মহান রোমান সম্রাট মার্কাস অরিলিয়াস, দার্শনিক সেনেকা এবং প্রথমজীবনে দাস থাকা ও পরের জীবনে দার্শনিক হইয়া যাওয়া এপিকটেটাস, এরা হইলো স্টোয়িক দর্শনের ত্রিশূল। এদের আগেও স্টোয়িক ঘরানার চর্চা ছিলো কমবেশি, কিন্তু এরা তিনজনই মূল জায়গার ফাইটটা দিছেন স্টোয়িক দর্শন নিয়া। এছাড়াও জর্জ ওয়াশিংটন, ওয়াল্ট হুইটম্যান, ইমানুয়েল কান্ট, অ্যাডাম স্মিথ, থমাস জেফারসন, ম্যাথু আরনল্ড, থিওডোর রুজভেল্ট, এসব বিখ্যাত ব্যক্তিরা স্টোয়িকদের পাঠ করছে, প্রশংসা করছে।

এই বইটা লেখছেন রায়ান হলিডে, রায়ান হলিডে কে? রায়ান হলিডে একজন আমেরিকান লেখক, উদ্যোক্তা, মিডিয়া স্ট্রাটেজিস্ট, এবং নিউ ইয়র্ক অবজার্ভারের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। পড়ালেখা করছেন পলিটিকাল সায়েন্স এবং ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর উপরে।

এই বই কেন পড়বেন? উপরে বলছি একজায়গায়, স্টোয়িক দর্শনের পুনরায় আবির্ভাবের পিছনে আর্থ-সামাজিক ও বৈশ্বিক কারণ আছে কিছু, আপনি নিজেও ব্যক্তি হিসাবে আপনার আর্থ-সামাজিকতা ও বৈশ্বিক দুনিয়ার একটা অংশ। এসবের প্রভাব আছে আপনার উপরে। এসবের ক্রাইসিস আছে আপনার জীবনে। যদি সেগুলারে মোকাবিলা করতে চান ঠিকঠাকভাবে, তাইলে স্টোয়িক দর্শন নিয়া ঘাঁটাঘাঁটিটা আপনার কাজে লাগতে পারে অল্প হইলেও, আর বেশি হইলেতো তোফা!

শেষকথা, এইটা দর্শনের একাডেমিক বই না।পপুলার বই, পপুলার স্টাইলেই লেখা।দর্শনের বই দেইখাই ঘাবড়ায়ে যাইয়েন না। উল্টায়া দেখেন একটু।একদম সহজ ভাষায় ডায়েরি স্টাইলে লেখা, কিন্তু এর মধ্যেই প্রকাশ পাইছে গভীর দার্শনিক চিন্তা এবং নিজের জীবনে সেইটার প্রয়োগের পদ্ধতি। কথা বাড়ায়া আর বিরক্ত কইরা লাভ নাই, এইখানেই শেষ করলাম ফুলস্টপ

 

…………………………………………………………………………..

।। ।।

…………………………………………………………………………..

১৬ই জানুয়ারীঃ অভ্যাসের বশে কিছু করবেন না

তো বেশিরভাগ সময়েই যেটা হয় আরকি, আমরা কোনো একটা পরিস্থিতিতে, আমাদের সঠিক বাছবিচারের তুলনায় বদভ্যাসের প্রাধান্যই বেশি থাকে। আমার মূল কথা এইটাই যে, এরকম প্রবণতা থেকেই বাইর হইয়া আসতে হবে ব্যক্তির। দুঃখকষ্টরে বারবার এড়ায়া থাইকা, শুধুই আরাম আয়েশ খুঁজার যে প্রবণতা, এইটা থেকে বাইর হইয়া আসতে হবে। মইরা যাওয়ারে ভয় পাইয়া বাঁইচা থাকার নেশায় আসক্ত হওয়া যাবে না, আর টাকাপয়সা সম্পত্তির ক্ষেত্রে, ঐগুলা জিনিস বেশি বেশি গ্রহন করার তুলনায় দান কইরা দেয়াই ভালো।

  • মুজোনিয়োস রুফোস, লেকচার্স, .২৫.১১

 

একজন কর্মচারীরে যদি জিগানো হয়, “আপনি এই কাজটা এভাবে করছেন কেন?” জবাবে যদি সে বলে, “কারণ এইভাবেই তো সবসময় কইরা আসছি এইটা”। এই উত্তরে যেকোনো বস এরই চান্দি গরম হইতে পারে। কারণ তার কর্মচারী চিন্তা করা এবং মনোযোগ বাদ দিয়া, কাজটারে বানায়া ফেলছে অভ্যাসের মত, অভ্যাস হইয়া গেছে তাই করতেছে, ঐ কাজে কর্মচারী কোনো মেধাশক্তি দিতেছেনা আর। এইটা অবশ্যই বসের বিজনেসের জন্য খারাপ, এবং এরকম কর্মচারীরে কোম্পানি থেকে বাইর কইরা দেয়াই স্বাভাবিক, যদি বুদ্ধিমান বস হয় আরকি। আমাদের নিজস্ব যে অভ্যাসগুলা, এগুলার প্রতিও আমাদের একইরকম আচরণ করা উচিত। আসলে আমরা তো এই বইতে দর্শন কপচাইতে একারনেই বসছি, আমাদের খারাপ অভ্যাসগুলারে ছাটাই করার জন্য। খুঁইজা বাইর করেন, কোন কোন কাজগুলা আপনি কোনো কারণ ছাড়াই রুটিনের বশে, অভ্যাসের বশে করেন। প্রশ্ন কইরা দেখেন নিজেরে। আসলে এইটাই কি সব থেকে ভালো মেথড কাজগুলা করার? নাকি আরও অন্যভাবে করা যায়? একটা কাজ কেন করেন, কাজটা কী, এগুলা জানার চেষ্টা করেন, কাজের কারণগুলা যাতে সঠিক হয় সেইটা ভাবেন।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

এডিটোরিয়াল: সুখের ঠিকানা

ইতিহাসের দারুণ মুসিবতে কেবল সত্যই জনতার হেফাজতের উছিলা হইতে পারে। কিন্তু আফসোস, আমাদের গাফিলতির ভিতর দিয়া মস্ত মওকা পাইছে জালিম, সে এখন কয়- সত্যই তো নাই দুনিয়ায়, নিজের দরকারে আবার সত্য বানায় নিজেরই কারখানায়, আমাদের দোমনা কইরা তোলে আখেরে; সত্যের নিশানা ভুলি!

কিন্তু সত্য তো আমাদের লাগেই, বিস্টি নামলে বিস্টি যে নামলো সেইটারে সত্য মানার পরেই হাতের ছাতি খুলি অথবা আরো অনেকের লগে একলা ভিজি বা কাপলে!

ফানি। কেমন পোয়েটিক হইয়া উঠতেছে, বা কোন এক আউলিয়া এরশাদ করতেছে যেন! আচ্ছা, বাদ। শব্দের এই মফেল প্রেসিডেন্ট মুরছিরে লইয়া, উনি যে মরলেন!

ইতিহাসে এই মুরছি এবং তার মরণ জনতার মস্ত দুই শরিকের চুক্তির মওকা বানাইয়া দিছে, চলেন চুক্তি করি। নিজের দলের স্বার্থ লইয়া দরাদরি করতেছি আমরা সেই কবে থিকা, কখনো বা দরাদরি খুব মরামরি হইয়া ওঠে, প্রেসিডেন্ট মুরছি আমাদের এক এজমালি পাটাতন দিয়া মরলেন, এই মফেল তারই শোকরানা মফেল!

মিশরের একমাত্র হালাল প্রেসিডেন্ট মুরছি, কেমনে হালাল? কেননা, মিশরের জনতা তারে কবুল কইছেন ইলেকশনে। দুনিয়ায় মুরছিতে যাগো পলিটিক্যাল নাপছন্দ কিন্তু ইলেকশনে জনতার কবুলের অভাবের কারণে সিসিতেও নাখোশ এবং মুরছি যাগো ইমাম–জনতার এই মস্ত দুই শরিকই ইলেকশনে জনতার কবুল করারেই সবচে দামি ভাবতেছেন, মুরছির ইলেকশন তাই হালাল এবং লিগ্যালের এজমালি পাটাতন– এ বড়ো আশার কথা!

চলেন ফ্যাসাদ করতে এই পাটাতনে উঠি আমরা জনতা, দরাদরি করি, একটু ছাড় দিলেই মজবুত চুক্তি করা খুবই সম্ভব! ভারতে দেখেন বিজেপি-শিবসেনা ইলেকটেড হইলো, কোন সিসি কি আসলো? তাইলে মুরছিরে যদি আপনে ডরানও তবু কেন সিসিদের আসায়-থাকায়, দখলে মদদ দেবেন!
পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.