Main menu

গান-ভাঙ্গা গান, লিরিক মারা লিরিক, সুর মারা সুর Featured

#
‘এমন একদল চোর বানাইছো
এমন অনেক চোর বানাইছো
এমন একজন চোর বানাইছো
লজ্জা-শরম নাই;
কার কাছে চুরির বিচার চাই?
ও দয়ালরে/…’
#

৮০’র দশকের শেষ দুই বছরের দিকে হবে। এরশাদ-সরকারশাসিতশোষিত দেশে আমরা পোলাপাইনের বয়স পার হইতেছি হাফপ্যান্ট [তখন ইংলিশপ্যান্ট] ছাইড়া টেট্রনের একটামাত্র ঘিয়া কালারের ফুলপ্যান্টের সাথে শিল্পাঞ্চল খুলনার নিক্সন মার্কেটের পুরানা জিন্স প্যান্ট স্বল্পমূল্যয় কিনা পরা শিখা। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/ গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, ‘কেউ খাবে,কেউ খাবে না’, ‘মাঝরাতে চাঁদ যদি আলো না বিলায়’, ‘আমায় একজন শাদা মানুষ দাও’, ‘ দেরে দে গেলাশ ভরে দে’, ‘ তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে’,‘একদিন পাখি উড়ে যাবে’,‘রসিক আমার মন বান্ধিয়া’র সাথে ‘মিলন হবে কত দিনে’র গোলকধাঁধায় মনখারাপরে ভালো লাগাইয়া সাজুর (Saz Khan) [আমাদের গায়ক, গিটারিস্ট বন্ধু] সাথে বিএল কলেজের (Govt. B.L University College, Khulna) আর্টস বিল্ডিঙের নিচ তলার সিঁড়িতে বিকাল-সন্ধ্যার চোখ লাল করি। ও[সাজু] গান গায় আমরা শুনি,আর সিগারেট ভাগ কইরা খাই।… এইসব সময়ে ‘এমন একখান ঘর বানাইছো’ গানটা লেখা। সাজু একটা সুর কইরা গায়,আমরা মাঝে মাঝে গলা হান্দাই।… ‘দিন যায়রে বিষাদে’…

… চাকরি থিকা বাপের অবসর। বাপ-মায়ের বাড়ি গোপালগঞ্জে ফেরা। সেইখানে অনেক সমবয়সী-অসমবয়সী বন্ধু মিলা যাওয়া; যাঁদের ভিতর গান নিয়া সময় কাটানো মানুষও পাওয়া ; আরিফ,আলিম,সিরাজ ( Shirazul Hoque) … গোপালদা। … ‘এমন একখান ঘর বানাইছো’ এঁদের সাথেও শেয়ার কইরা আড্ডায় আড্ডায় অসুরা-গলায় আমিও গাই সাজুর করা সুরের সাথে আমার করা অসুর মিলাইয়া। গোপালগঞ্জের আনাচেকানাচে, বঙ্গবন্ধু কলেজের (Govt. Bangabandhu College, Gopalganj ) নানান জায়গায়, স্পেশালি কমনরুমের পাশের ক্লাসরুমে আড্ডা আর বেঞ্চ বাজাইয়া অনেকে মিলা গান গাওয়ার দুপুরগুলা এহনওতো তরতাজা।… তারপর কত ‘চড়াই-উতরাই’―

চড়াইতে প্রথমে কবিতা পরে গান,তারও সাড়ে পাঁচ বছর বাদে কৌতূহলের প্রেমে পইড়া ভিজুয়াল-মিডিয়ামে নিবেদিত হওয়ার ভিতরে একদিন, ২০০৪/৫-এর মধ্যে দুপুরবেলায় আজিজ সুপার মার্কেটের অডিও সপ ‘সুরের মেলা’ থিকা কানে আইসা ঢুকল ― ‘এমন একখান ঘর বানাইলা/দরোজা-জানালা নাই/কেমনে তোমার দেখা পাই?/…’। মুহূর্তে আউলাইয়া গেলাম;পুরা খুলনা-গোপালগঞ্জের সেইসব দিন ভর করল মাথায়। ‘সুরের মেলা’য় ঢুইকা ক্যাসেটটা হাতে নিয়া খুইলাখাইলা দেখলাম অ্যালবামের নাম ‘হীরা চুনি পান্না’, শিল্পী : Asif, Sumon, Tito। অডিও-লেবেল : Soundtek।

সাউন্ডটেকের ইউটিউব লিঙ্ক-এর টাইটেল-সিরিয়াল মোতাবেক গানটা নাই,আছে ইউটিউব-ভিডিওর টাইম কোড ২৭:৭ থিকা। গানটার নাম ‘কবর’, গীতিকারের নামে গোপালদা ও আমি।
Continue reading

পলিটিক্যাল আলাপ (২): বাংলাদেশের পলিটিক্যাল পার্টি (২০২১) Featured

।। পলিটিক্যাল আলাপ (১) ।।

>>>>>>>>>

বাংলাদেশে যারা সেক্যুলার, লিবারাল রাজনীতির সার্পোটার তাদের বুঝতে পারা দরকার যে, আওয়ামী লীগরে দিয়া হবে না। ইন ফ্যাক্ট, রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ বইলা কিছু নাই আর। আমার কথারে লিটারালি নিয়েন না। খুব দাপটের সাথেই আছে, কিন্তু পলিটিক্যালি ডেড একটা ঘটনা। যেমন ধরেন, কয়জন মন্ত্রী-মিনিস্টারের নাম আপনি জানেন বা শুনেন মিডিয়াতে, ঘুইরা-ফিরা দুই-চাইরজনরেই; কিন্তু তাদের চাইতে পাওয়ারফুল হইতেছেন পুলিশের এসপি’রা, উনাদের কথা বেশি শোনার কথা, কারণ দেশ চালাইতেছে পুলিশ-আমলা-মিডিয়া-মিলিটারিদের দেশ-বিরোধী একটা গং, আওয়ামী লীগ হইতেছে জাস্ট ফেইসটা। পাবলিক ইল্যুশনের জায়গাটা। এইটা আছে, কিন্তু নাই। আওয়ামী লীগ গত পার্লামেন্ট ইলেকশনেই মারা গেছে, যখন পুলিশ-মিলিটারি-সরকারি কমর্চারিদেরকে দিয়া ভোট দেয়াইছে। বাংলাদেশের মানুশের উপরে পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে আওয়ামী লীগের কখনোই বিশ্বাস ছিল না। এখন এইরকম নন-ইলেক্টেড, এন্টি-পিপল একটা পলিটিক্যাল পার্টির ইল্যুশনরে সার্পোট দিয়া বাংলাদেশের সেক্যুলার ও লিবারাল’রা নিজেদের পায়ে কুড়ালই মারতেছেন। মানে, একজন ভালো-মানুশ হিসাবে আপনি যদি কোন খারাপ কাজরে সার্পোট করেন, আপনি আর ভালো মানুশ থাকতে পারেন না। এই কারণে বাংলাদেশের সেক্যুলার-লিবারাল’রা এই খারাপ-মানুশদের দলে আছেন এখন।

যদি সত্যিকারভাবে উনারা সেক্যুলার-লিবারাল পজিশন ধইরা রাখতে চান নতুন কোন পলিটিক্যাল পার্টি বানাইতে হবে, যারা নয়া বাকশালের এগেনেস্টে কথা কইতে পারবে, একটা পজিশন নিতে পারবে। এই কাজ যারা করতে চান উনাদেরকে (আমি আশা করি যে, আনু মুহাম্মদ, রেহনুমা আহমেদ, শহীদুল আলমদের ছোট একটা গ্রুপ আছে, যারা সেক্যুলার-লিবারাল পজিশন ধইরা রাখতে চান) অবশ্যই একটা পলিটিক্যাল প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারতে হবে, তা নাইলে যট্টুক পলিটিক্যাল রিলিভেন্স আছে উনাদের, ততটুকও থাকবে না। এইরকম ভালো-মানুশ সেক্যুলার, লিবারালদের কবর যদি বাংলাদেশের মাটিতে হয়, সেইটা কোন পজিটিভ ঘটনা হবে বইলা আমার মনে হয় না। কিন্তু “টক্সিক পার্টনারের প্রতি ডিভোটেড লাভারের মতন” উনাদের আওয়ামী-ভালোবাসা উনাদেরকে মাইরাই ফেলবে। কিন্তু এই বুঝ উনাদের নাই – এইটা ভাবতে পারাটা তো মুশকিলই আসলে। বরং উনারা, এই সেক্যুলার-লিবারাল’রা পলিটিক্যাল স্পেইসটার লগে এক ধরণের হেইট্রেটের জায়গা থিকা এটাচড থাকেন, যার ফলে আওয়ামী লীগের লগেই নিজেদের এটাচমেন্ট’টা খুঁইজা পান। এই পজিশন চেইঞ্জ না করতে পারলে, নিজেরাই পলিটিক্যালি ইন-ভ্যালিড হয়া যাবেন, আওয়ামী-লীগ ইনভ্যালিড হওয়ার আগেই। কারণ, আওয়ামী-লীগের যেই আইডিওলজি “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” সেইটা তার কোর জায়গা থিকা “বাংলাদেশ-বিরোধী” একটা ঘটনা, এই জায়গাটা কেউ মার্ক করতেছেন বইলা আমার মনে হয় না। যদি আওয়ামী-লীগের রাজনীতি বাঁইচা থাকে, সেইটা বাংলাদেশের সেক্যুলার, লিবারাল রাজনীতির মারা যাওয়ার কারণই হবে।… 

 

…………………..

আহমদ ছফাদের আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ’রে ‘মুক্তিযুদ্ধের’ সার্টিফিকেট দিছেন আহমদ ছফা’র মতন পলিটিক্যাল কমেন্টেটর’রাই। উনার এক আবেগি বাণী আছে, ‘আওয়ামী লীগ যখন হারে তাইলে বাংলাদেশ হাইরা যায় আর আওয়ামী লীগ যখন জিতে তখন খালি আওয়ামী লীগ-ই জিতে’ – এইরকম টাইপের। খুবই বাজে কথা এইটা।

বাজে কথা এই সেন্সে যে, এইখানে ফাঁপা আবেগ ছাড়া আর কিছু নাই। ইন্ডিয়াতে কংগ্রেসের জায়গায় বিজেপি বা রিজিওনাল দলগুলি জিতলে অথবা পাকিস্তানে মুসলিম লীগের জায়গায় পিপলস পার্টি বা তেহরিকে ইনসান জিতলে ইন্ডিয়া বা পাকিস্তান তো হাইরা যায় না। বাংলাদেশে এইরকম ভাবা’র লাইগা কেন বলা হয়? একটা পলিটিক্যাল দল কেমনে একটা রাষ্ট্রের মালিকানা পাইতে পারে?

এইটা আহমদ ছফা’দের কোন পলিটিক্যাল ‘ভুল’ বইলা আমি মানতে রাজি না। বা কোন ‘অতীত অভিজ্ঞতা’র সিনথেসিস বইলা ভাবা’টাও কোন কাজের জিনিস না। বরং এর একটা উদ্দেশ্য আসলে এক ধরণের ‘বাংলাদেশ’রে ডিফাইন করা, যেইটা খুবই মিডল-ক্লাসের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কালচারাল প্রডাকশনগুলাও দেখবেন, ‘শহরের’ ‘শিক্ষিত’ ‘পোলা’রা’ হইতেছে মেইন ‘মুক্তিযোদ্ধা’; আর এই কারণে ‘গ্রাম্য’ ‘অশিক্ষিত’ ‘মাইয়া’দের’ প্রতি এই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বা ‘বাংলাদেশ’ ধারণার এক ধরণের কালচারাল বিরোধিতা আছে। এই যে, ছফা’দের (প্লুরাল কারণ আরো আছেন উনার মতন) ‘বাংলাদেশ’ ধারণা – সেইটার বেইজটারে কোশ্চেন করা, খোলাসা করাটা জরুরি একটা ইন্টেলেকচুয়াল কাজ যে, এইটার বেচা-বিক্রি কি কি ভাবে চালু থাকতে পারতেছে এখনো?

আওয়ামী লীগ হারলে যেমন বাংলাদেশ হারে না, ‘বাংলাদেশ’ বইলা এক ধরণের ‘শিক্ষিত’ মিডল-ক্লাস সেন্টিমেন্টে দাগা লাগে, একইভাবে জিতলেও খালি আওয়ামী লীগ-ই জিতে – তা না, বরং গ্রসলি বললে আহমদ ছফা’রা আরো বড় ভাগ চান, এই জিতা’র। সেইটা কখনোই সম্ভব হয় না, যার ফলে এক ধরণের ‘অভিমান’ বা ‘প্রবঞ্চণা’র ফিলিংসই হয় উনাদের, এর বেশি কিছু না।

/ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

……………………..

যতদিন খালেদা জিয়া বাঁইচা আছেন, ততদিন বিএনপি’র আশা আছে। উনি হইতেছেন একমাত্র নেতা, যিনি বাংলাদেশের মানুশের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সাফার করছেন, করতেছেন। আমলা-পুলিশ-মিলিটারি-মিডিয়া’র কাছে উনি সারেন্ডার করেন নাই। এরশাদের পতনও সম্ভব হইছিল উনি আপোষ করতে রাজি হন নাই বইলাই। এই জায়গাতেই উনার পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্স। উনি মারা যাওয়ার পরে বিএনপি একটা পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে টিইকা থাকতে পারবে কিনা, এইটা উনার উপরেই ডিপেন্ড করে অনেকটা। এখন বিএনপি যে পলিটিক্যালি কোন রোল প্লে করতে পারতেছে না, এতে বাংলাদেশের মানুশই সাফার করতেছে। দল হিসাবে বাতিল হয়া গেলে সেইটাও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুবই বাজে একটা ঘটনা হবে। এখন দলের বাইরে থিকা কেউ আইসা বিএনপি’রে বাঁচায়া ফেলবে, চাঙ্গা কইরা ফেলবে, এইরকম কোন ম্যাজিক হবে না। বিএনপি অবশ্যই লিবারাল একটা দল, কিন্তু যেমন ঠিক সেক্যুলার না, একইভাবে ইসলামিস্টও না। বরং একটা “বাংলাদেশি” জায়গারে তৈরি না করতে পারার কারণে পলিটিক্যাল আইডিওলজির জায়গাতেও সাফার করতে হইতেছে। আমার এক্সপেক্টশন হইতেছে, উনারা উনাদের এই কোর জায়গাটারে ধইরা রাখবেন, সেক্যুলার ও ইসলামিস্ট গেইমটার বাইরে, আর দলের ভিতরে ডেমোক্রেসির জায়গাটারে যত বেশি ওপেন করতে পারবেন, তত বেশি পাবলিকের কাছে একসেপ্টেবল হইতে পারবেন, পলিটিক্যাল দল হিসাবে নিজেদের ভিত’টারে স্ট্রং করতে পারবেন। এই সুযোগ বিএনপি’র এখনো আছে। আজকে থিকা পাঁচ বছর, দশ বছর পরে হয়তো থাকবে না। Continue reading

আমার জবাব – আবদুল হামিদ খান ভাসানী Featured

স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে মাওলানা ভাসানী যখন আবার “সাপ্তাহিক হক-কথা” পত্রিকা ছাপাইতে শুরু করেন, তখন অই পত্রিকাতে একটা কলাম ছাপা হইতো, “আমার জবাব” নামে। পাঠকের প্রশ্নের উত্তর উনি দিতেন। খুব বেশি প্রশ্ন-উত্তর যে ছাপা হইছিল তা না, ছয়টা প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁইজা পাইছি। সংখ্যায় কম হইলেও, অই সময়ের কনটেক্সটেই না খালি, ভাসানীর পলিটিক্যাল পজিশন বুঝার ব্যাপারেও এই ছোট প্রশ্ন-উত্তরগুলা ইম্পর্টেন্ট বইলা আমরা মনে করতেছি। 

এডিটর, বাছবিচার

 

…………………….

[১০ই মার্চ, ১৯৭২]

আবু তাহের, ঘাটাইল: আপনি পাকিস্তান আন্দোলন করিয়াছিলেন ইহা যতদূর সভ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করিয়াছেন ইহাও ততদুর সতা। কিন্তু আজ যে সত্য উপলব্ধি করিয়াছেন ২৫ বৎসর আগে তাহা অনুধাবন করিতে পারিলে এত রক্তপাত হইত না। আপনি তজ্জন্য অনুতপ্ত নন কি ?

উত্তর: আমি মোটেই অনুতপ্ত নই। কারণ ২৫ বৎসর পূর্বে যে রাজনীতিতে পাকিস্তান আন্দোলন করিয়াছিলাম আজও তাহাই করিতেছি৷ সেই রাজনীতির ভিত্তি ছিল অর্থনীতি, ক্ষমতার টোপ নহে। হিন্দু জমিদার, মহাজন, জোতদরি, প্রভৃতি শ্রেণী গরীব মুসলমান কৃষক-মজুরদের উপর যে শোষণ ও নির্যাতন চালাইয়াছিল ইহারই প্রতিক্রিয়ায় শোষণমুক্তি আন্দোলনের প্রতীক স্বরূপ আমরা পাকিস্তান আন্দোলন করি। কিন্তু দেখা গেল শোষকের কোন ধর্ম নাই। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শোষণ তো গেলই না বরং শোষকের চেহারা বদলিল মাত্র। গরীব আরও গরীব হইল। ধনী আরও ধনী হইল। তাই আবার অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য স্বাধীনতা কায়েম করিয়াছি। রাজনৈতিক চেতনা ও উপলব্ধি নিঃসন্দেহে সমসাময়িক পরিবেশের আলোকে গৃহীত হয় এবং যদি তাহাতে অন্ততঃ তখনকার জন্য হইলেও সত্য ও ন্যায়ের পথে মানুষের কল্যানের সম্ভাবনা নিহিত থাকে তবে সেই আন্দোলন ও জাগরন কোন না কোন অর্থে স্বার্থক ।

[১৭ই মার্চ, ১৯৭২]

শেখ আবদুল আজিজ, ঢাকা: আপনার হক কথায় পরস্পর বিরোধী বিষয় পেশ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। আপনি প্রগতিশীল রাজনীতিকে বিপ্লবী ছাঁচে ঢালাই করে বাংলাদেশকে বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে আলোচ্য বিষয় করছেন। আপনার পত্রিকায়ও সেই আলোকে লেখা বের হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তৎসঙ্গে ধর্ম সংক্রান্ত  বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার অবতারণা না করলেই ভাল হত। কারণ আগেই বলেছি, তা পরস্পর বিরোধী। আপনি কেন এতে ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছেন?

উত্তর: কোন্‌টা প্রগতিশীল, কোন্‌টা বিপ্লবী এসব যাচাই করে আমি কোন দিন রাজনীতি করিনি । বরং আমি যা করেছি তা বিশ্লেষণ করে আপনারা যা খুশী আখ্যা দিয়েছেন! আমার কিছু আসে যায় না। কারণ আমার আসল দ্রষ্টব্য বিষয় হচ্ছে কিসে মানুষের কল্যাণ নিহিত আর আমি ন্যায় ও সত্য পথে আছি কিনা।

ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও এর প্রতি মানুষের অন্ধ আকর্ষণকে একসপ্লয়েট করে রাজনীতি করা আমি কোন দিন পছন্দ করি নি। যতদূর জনি, আমি তা করিও নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নিরেট বস্তুবাদকে ভিত্তি করে কোন রাজনীতি-অর্থনীতিই মানুষের চূড়ান্ত স্থায়ী কলাণ সাধন করতে পারে না। মানুষকে যতদুর বাস্তববাদী হওয়া দরকার ততটুকু তাকে হতেই হবে । এর মানে এই নয় যে তার আত্মার অনন্ত খোরাককে অস্বীকার করবে। সাহিত্য ও ললিতকলা যেমন বস্তুভিত্তিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে পারে ঠিক তেমনি মূল্যবোধ মানুষকে শক্তি এবং সমৃদ্ধি দিতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেই প্রমাণের অসব্যাখ্যায় ও অপপ্রযোগে যারা রাজনীতি খাড়া করে তারা মানবতার এক নম্বরের দুশমন।

ইতিহাসে দুটি দিকই রয়েছে। একদিকে স্বার্থপর শ্রেণী লোকজনকে ধোঁকা দিয়ে শোষণের কৌশল শক্তিশালী করেছে। সঙ্গে সঙ্গে সত্যিকার ধর্ম মানুষকে সরল ও সোজা পথে রেখে বিশ্ব শন্তি ও বিশ্ব কল্যাণে অনস্বীকার্য অবদান প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রমানিত হয়েছে, মাছ যেইরূপ পানি ছাড়া জীবিত থাকতে পারেনা ঠিক তেমনি মানুষের আত্মা যে কোন ধর্মের মর্মবাণী অস্বীকার করতে পারে না। ভন্ডদের ধর্মকে ঝেটিয়ে দূর করতে পারলে সত্যিকার ধর্ম মানব জাতির শুধু আত্মিক উন্নতি সাধন করবে না, বিশ্ব শান্তি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ভাব কায়েন করতে যথেষ্ট সাহায্য করবে। তবে হ্যাঁ, ধর্মে মর্ম বাস্তবানুগ ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টি ভঙ্গীতে গবেষণা, যাচাই ও উপস্থাপন করতে হবে।
Continue reading

সেন্ট্রাল (জাতীয়) রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট Featured

কয়দিন আগে মার্ক্সিজমের হালচাল লইয়া একটা মাহফিলে বা সেমিনারে গেছিলাম, এম এম আকাশ, বিণায়ক সেন – এনারা ওয়াজ করলেন; একদম শেষে হাজির হইছি বলে কেবল বিণায়ক সেনের ওয়াজের আখেরি পাট শুনতে পারছিলাম। নানা কথার মাঝে জন স্টুয়ার্ট মিলের ব্যাপারেও কইলেন উনি; কইলেন, মিল আছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলিসি মেকারদের একজন। তো, বিণায়ক সেন হিসাবটা মিলাইতে পারেন না–উনি এইটারে মিলের একটা প্যারাডক্স/কন্ট্রাডিকশন হিসাবে প্রস্তাব করলেন।

আমি এইটা জানতাম না, ইন্সট্যান্টলি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম তাই – কিছু সওয়ালের জবাব পাইতে সুবিধা হইলো বিণায়ক সেনের দেওয়া ঐ খবরে।

নেটিভদের এডুকেশনের ব্যাপারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মনোযোগ আছিল কেন? নেটিভ মেয়েদের এডুকেশন লইয়া বাড়তি চেষ্টার গোড়া কোথায়? হিন্দু বিধবাদের বিয়া বা পোলাদের একের বেশি বউ থাকা লইয়া কোম্পানির পেরেশানি কেন? আমার মনের এইসব সওয়ালের জবাবের ভিতর মিসিং লিঙ্ক আছিল, জন স্টুয়ার্ট মিলের খবরটা জবাবগুলিরে মিলাইয়া দিল। কন্ট্রাডিকশন তো নাই-ই, বরং কোম্পানি এবং মিল কমপ্লিমেন্টারি, কোম্পানি হইলো, ‘অ্যাপ্লাইড মিল’। বিণায়ক সেন তাইলে হিসাব মিলাইতে পারলেন না কেন–কোম্পানি বা মিলের ব্যাপারে এত এতো ঘটনা/কথা জানার পরেও? কারণ, উনি থিয়োরাইজেশনের লোক নন, ওনার কামটারে তাই কেমনে রিকগনাইজ করবো আমরা?

আমি বুঝলাম, ভারতে নেটিভদের সিভিলাইজিং প্রজেক্ট মিলের চিন্তা/ইন্টারভেনশনের কারণেই অমন হইছিল; এই কারণেই বঙ্কিমচন্দ্র (বঙ্কিমের সাম্য জেন্ডার ইস্যু লইয়া লেখাগুলি মিলের মন দিয়া বোঝাবুঝি) মিলের ফ্যান আছিলেন কতক, স্বদেশী আন্দোলনের মাঝেও বেগম রোকেয়ারে ইংরাজের ডোনেশন/হেল্পিং-এর কারণ রোকেয়া ইংরাজেরই বাচ্চা, মিলেরই প্রজেক্টের ফল। ইভেন ভারত/পাকিস্তানের লিবারেশন আসলে মিলের সিভিলাইজিং প্রজেক্টের এন্ডিং-এর ঘোষণা, দরকারি ট্রেইন্ড নেটিভ এজেন্ট হইছে ততদিনে, যারা প্রজেক্টটা রান করতে পারবে; রেগুলেট করার দরকারে পরে ইন্টারন্যাশনাল এনজিও, ইউনিসেফ, ডোনেশন, কমনওয়েলথ–মোট কথায় ডেভলাপমেন্ট ডিসকোর্স পয়দা হইছে – এখনো তো বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নই করতাছে! (In On LibertyA Few Words on Non-Intervention, and other works, Mill defended British imperialism by arguing that a fundamental distinction existed between civilized and barbarous peoples.[16] Mill viewed countries such as India and China as having once been progressive, but that were now stagnant and barbarous, thus legitimizing British rule as benevolent despotism, “provided the end is [the barbarians’] improvement.”/Harris, Abram L. (1964-01-01). “John Stuart Mill: Servant of the East India Company”The Canadian Journal of Economics and Political Science / Revue canadienne d’Economique et de Science politique 30 (2): 185–202. doi:10.2307/139555 । আরেকটু ডিফরেন্ট পয়েন্ট অব ভিউ থেকে মিলের সিভিলাইজিং প্রজেক্ট বুঝতে পড়েন এই লেখাটা।)
Continue reading

দেরিদা অন শোয়াহ

যে ইন্টারভিউখান আপনেরা পড়বেন বইলা ঠিক করছেন(!) সেইটা জেরুজালেমের ইয়াদ ভাশেমে বইসা গ্রহণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। ড মিশাল বেন-নাফতালি এই ইন্টারভিউটা নেন। জ্যাক দেরিদা তখন ইসরায়েল ট্যুরে ছিলেন।

ইয়াদ ভাশেম হইল জেরুজালেমের একটা মিউজিয়াম, যেইটা শোয়াহ বা হলোকস্টের ভিকটিমদের জন্য একটা মেমোরিয়াল এবং আর্কাইভ হিসাবে সার্ভ করতেছে। হিব্রুতে হলোকস্টরে শোয়াহ কওয়া হয়। ইসরায়েলে এর ইউজ আছে। তবে ইউজ শুরু হয় এইটা ১৯৪০ হইতেই। দেরিদার এই ইন্টারভিউও মূলত শোয়াহ-র উপরেই।

– ইব্রাকর ঝিল্লী

……………………………….

(ইন্টারভিউ’র দুইটা অংশ এইখানে ছাপা হইলো।)

হাইডেগার, স্পিরিট ও ইউরোপীয় কালচার

বেন-নাফতালি: আপনে যখন হলোকস্ট পরবর্তীকালে ফরাসী প্রেক্ষাপটের সাথে জার্মান প্রেক্ষাপটের তুলনা করেন, তখন আপনে কি কোন বলার মতন ফারাক দেখতে পান দুই সিনারিওর মইধ্যে? হাইডেগারের ফিলোসফির ব্যাপারে যে রেসপন্স তা নিয়া যেনবা জার্মানদের তুলনায় ফরাসী চিন্তকেরা অধিক বিচলিত হইয়া গেছিলেন, এইটা কেন? নাকি এইটা একটা দেখার ভ্রম? মানে উভয়পক্ষই কি বিচলিত ছিলেন, ভিন্নভিন্নভাবে? হইলে, কী ভাবে? আপনে কি মানেন যে আপনার নিজের চিন্তার ভিতরেই এইরকম একটা প্রকাশ লক্ষ্য করা যাইতেছে, যেইটা হাইডেগারের সাথে একদম ঘনিষ্ঠভাবে জড়ায়ে গেছে, পষ্ট কইরা বললে, যেইটা হাইডেগারের রাজনৈতিক-দার্শনিক বিন্যাসের সাথে জড়ায়ে আছে? ‘De l’esprit’ এই ধরণের কোন পরিস্থিতির বাইরে লেখা সম্ভব ছিল আদৌ? আপনে কি এইটা আবার লেখতেন, হাইডেগারের যে ভুলটা আপনে ধরতেছেন “স্পিরিচুয়ালাইজিং নাৎসিজম”, সেইটারে কারেক্ট কইরা? এই যে বিচার আপনের এইটা কি কোনভাবে ক্ষমাশীলতার কথা প্রমোট করতে চায়?

দেরিদা: আপনের শেষ প্রশ্নটার জওয়াবে আমি কইতে চাই যে, হাইডেগারের যে এটিচ্যুড সেইটা ক্ষমার যোগ্যও না, আবার অযোগ্যও না। আমি বুঝতেছি না, আমি বা, যে কেউই, এইরকম একটা প্রশ্ন এই টার্মে ঠিক কেমনে করতে পারতাম। কারুর আদৌ হাইডেগাররে ক্ষমা করার দরকারটা কী? আসেন এইরকমের একটা আন্দাজা হইতে শুরু করি যে হাইডেগারের এটিচ্যুড সীমা-পরিসীমা ছাড়ায়া গিল্টি। এই রকম ধইরা নিলেও, কার আসলে সেই অধিকারটা আছে যে বলবেঃ “আমি ক্ষমা কইরা দিলাম,” বাঃ “আমি ক্ষমা করলাম না”? আমি জানি না। ইন এনি কেইস, আমার কথা কইতে পারি যে আমার সেই রাইট নাই। এই পুরা বিষয়টার সাথে আমার সম্পর্ক কখনোই কোন বিচারকের জায়গা থেকে ছিলো না, এমন কোন জায়গা থেকে ছিলো না যে কিনা একটা বই বা বক্তিমাঃ “হাইডেগার দোষী এবং আমি উনারে ক্ষমা করি না” এইরকম একটা লাইন দিয়া শেষ করার তাড়াহুড়ার ভিতরে আছে। এই রকম কিছু একটা করা আমার জন্য খুবই কঠিন।

এখন আপনের সওয়ালের গোড়াতে ফিরা যাইতে চাই, অফ কোর্স, শোয়াহ-র প্রতি ফরাসীদের, বিশেষ কইরা ফরাসী দার্শনিকদের যে এটিচ্যুড আর জার্মান ও জার্মান দার্শনিকদের যে এটিচ্যুড এ দুয়ের মইধ্যে মেলা ফারাক আছে। প্রথমত, এই অবভিয়াস কারণে যে, ফরাসীরা ফরাসী আর জার্মানরা জার্মান। জার্মানদের যে গিল্ট যুদ্ধের পরে, জার্মান নাগরিকরা বা জার্মান দার্শনিকেরা যখন সেইটা ফিল করছে –অনেক ক্ষেত্রেই কোন গিল্টি ফিলিং ছিলো না, কিন্তু যখন সেইটা এগজিস্ট করছে- তখন সেইটা এত ব্যাপক ও ভায়োলেন্ট ছিলো যে তারা নিৎসে ও হাইডেগারের কিছু টেক্সট কার্যত নিষিদ্ধই কইরা ফেলে, বিশেষ কইরা, যুদ্ধের পরপর যেগুলি ব্যানড করা হইছিল। দেখা যায় যে হাইডেগাররে বিচারের আওতায় আনা হইতেছে, হাইডেগাররে – এইটারে কীভাবে বলা যায়? – কারিকুলাম হইতে ছাইটা ফেলা হয়, এইরকম একটা রায়ও ছিলো। এই ব্যাপারে জার্মান দার্শনিকদের অফিসিয়াল এটিচ্যুড ছিলো, পাবলিকলি, নিৎসে আর হাইডেগারের কাজকামরে গণহারে বাতিল হিসাবে সাব্যস্ত করা, এবং এইটা বহুদিন ধইরা চলে। এই কিছুদিন হইলো এই সেন্সরশীপ, বা এই বাতিল করা, বা উহ্য রাখার টেন্ডেন্সি কতক কমতে শুরু হইছে।

এর বিপরীতে ফ্রান্সে বিষয়গুলি আরেকটু জটিল ছিল এবং যেকোনভাবেই হউক আরেকটু সহজও। হাইডেগারের প্রভাব যুদ্ধের আগে আগে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে; এবং যুদ্ধের পরে সার্ত্রে ও মার্লো-পন্টির (Maurice Merleau-Ponty) মত দার্শনিকেরা সহ আরও অনেকে, যেমন লেভিনা, যাদের হাইডেগারের ব্যাপারে ইন্টারেস্ট ছিলো, তারা তাদের ইন্টারেস্টটা ধইরা রাখতে থাকে। যুদ্ধের সময়, যুদ্ধের আগে, নাৎসিজমের আন্ডারে হাইডেগারের এটিচ্যুড লইয়া একটা রাজনৈতিক তর্কাতর্কি শুরু থেকেই জারি আছে। একদম শুরুতে, “Temps Modernes” এ হাইডেগাররে লইয়া কামের প্রথম ওয়েভটা আসে, তারপর এইটা কিছু ঝিমায়ে আসে, পরে আবার পঞ্চাশ, ষাইট ও সত্তুরের দশকে হাইডেগাররে লইয়া প্রচুর দার্শনিক লেখালেখি হয়, তারে নিয়া যে রাজনৈতিক কোশ্চেন আছে সেই কোশ্চেন এইসব আলাপরে তেমন হ্যাম্পার করতে পারেনাই। এবং তারপরে সেই সময়ের প্রশ্নটা আবার সামনে আসে, জেনারেশনের প্রশ্ন, শোষণরে ব্যর্থ কইরা দেওয়ার প্রশ্ন ইত্যাদি ইত্যাদি (যেগুলার প্রত্যেকটাই গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে) – সামনে আসতে থেকে, এবং আপনে জানেন, এইভাবে আশির দশকের মাঝামাঝিতে হাইডেগাররে নিয়া আবার বিতর্কের শুরু হয়। Continue reading

ফিল্ম হইলো সত্যের জন্য সেকেন্ডে চব্বিশবার মিথ্যা বলা – মিশাইল হানেকে

মিখাইল হানেকে জন্মাইছিলেন ১৯৪২ সালে, জার্মান বাপ আর অস্ট্রিয়ান মায়ের ঘরে। ভিয়েনায় সাইকোলজি, ফিলসফি আর ড্রামা নিয়া পড়তে যাওয়ার আগে উনি তার কৈশোর কাটাইছিলেন উইনার নয়স্টাটে, তার খালা আর নানীর কাছে। এর কয়েকবছর পরেই হানেকে নিজের ফার্স্ট ফিচার ফিল্ম বানাইছিলেন। ডের সিয়েবেনতে কন্টিনেন্টের কাহিনী (দ্যা সেভেনথ কন্টিনেন্ট) একটা জুয়ান আর সচ্ছল ফ্যামিলির অস্ট্রেলিয়াতে ইমিগ্রেশন করার স্বপ্ন নিয়া। এটা বুঝায়ই যায় শেষপর্যন্ত এই স্বপ্ন যে পূরণ হয় না (হানেকের কাজের লগে পরিচিতমাত্রই বুঝবেন)। ওরা ওদের টাকাগুলা টয়লেটে ফ্লাশ কইরা দেয়, গোল্ডফিশগুলারে মাইরা ফেলে, শেষে নিজেরাও মইরা যায়।

এরপর থেকেই হানেকে উনার ফিল্মে টপিক চয়েজ আর সিনেমার দুর্দান্ত ভাষা নির্মান, দুইদিক দিয়াই সমানতালে মুন্সিয়ানা দেখায়া যাইতেছেন ৷ এইটা উনার জন্য সমালোচনা আর হাততালি দুইটাই আইনা দিছে। কারো কাছে উনি ভয়-ডরের মন্ত্রী, কারো কাছে হররের মাস্টার, ইউরোপের সেরা আর্টিস্ট বা কারো কাছে স্রেফ একজন স্যাডিস্ট। হানেকের ফিল্মগুলারে যদিও ভায়োলেন্ট কওয়া হয়, কিন্তু উনার ফিল্মের বেশিরভাগ ভায়োলেন্সই হয় অফস্ক্রিনে। হানেকের ক্যামেরা উইন্ডশিল্ডে থ্যাতলানো মগজের মতো ক্লিশে বা হলিউডের টর্চার পর্নরে ফলো করে না ৷ এগুলা বরং হালকা চালের, ডেইলি লাইফের নানা জিনিসের মধ্যে যে নিষ্ঠুরতা থাকে সেগুলা নিয়াই, যেগুলার প্রতি দর্শকরা এখনো নাম্ব না। এরমধ্যে আছে ছোটখাটো বুলিং, কারো কথা কেউ না শুনা, ক্লাস আর প্রিভিলিজের ডিল্যুসনগুলা।

হানেকের প্রথমদিকের মুভিগুলা, যেমন বেন্নি’স ভিডিও (১৯৯২) আর ৭১ ফ্যাগমান্তে আইনার ক্রনোলগি ডেস জুফালস (৭১ ফ্র‍্যাগমেন্টস অফ আ ক্রনোলজি অফ চান্স) (১৯৯৪) –  ইন্টারন্যাশনাল দর্শকদের কাছে তেমনভাবে পৌছায়ই নাই। এরপর ২০০১ সালে হানেকে যখন এলফ্রিডে জেলিনেকের নোভেলের এডাপ্টেশন লা পিয়ানিস্তে বা ‘দ্যা পিয়ানো টিচার’ বানায়, সেটা  কানে গ্র‍্যান্ড প্রিক্স জিইতা নেয়। এটাই হানেকেরে তাবৎ দুনিয়ার কাছে পরিচয় করায়ে দেয়। এরপরের বছরগুলাতে ক্যাসে (২০০৫), আর ফানি গেমসের (২০০৭) আমেরিকান রিমেক বাইর হয়। ফানি গেইমস হানেকের সবচেয় বেশি সিনিকাল কাজ, যেটার আগের অস্ট্রিয়ান ভার্সনটা বাইর হইছিল ১৯৯৭ সালে। ডাস উইবে ব্যান্ড (দ্যা হোয়াইট রিবন) (২০০৯) আর আমর (২০১২) – এই দুইটার জন্য হানেকে কানে পাম ডি’অর পাইছিলেন। আমর পরে সেরা বিদেশি সিনেমার জন্য একাডেমি এওয়ার্ডও জিতে। সিনেমা বানানোর পাশাপাশি হানেকে অপেরায় ডিরেকশন দেন আর ফিল্মেকাডেমি উইনে মাস্টরি করান।

………………………

ইন্টারভিউয়ার: আপনি যখন জুয়ান ছিলেন, মানে টিনএজার- কখনো ভাবছিলেন একদিন বড় হয়া ফিল্মমেকার হইবেন? নাকি আপনের ফোকাস অন্যান্য আর্টের দিকে ছিল?

হানেকে: বেশিরভাগ মানুষের মতোই টিনএজের জ্বালাযন্ত্রণার মধ্যে থাইকা, আমি কবিতা লেখতে শুরু করছিলাম। কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমার এক্টর হিসেব ট্রেইনিং নেওয়ার জন্য  স্কুল থেকে ড্রপ আউট হওয়ার ধান্দা ছিল। আমি আসলে এক্টিং করে এমন মানুষে ভর্তি একটা ফ্যামিলি থেকে আসছি, আমার আম্মা অভিনয় করতেন, আমার আব্বাও এক্টর আর ডিরেক্টর ছিলেন। একদিন তো আমি স্কুল পালায়া মাক্স রাইনহার্ড সেমিনারে অডিশন দেওয়ার জন্য ভিয়েনার উইনার নয়স্টাটে যাওয়ার ডিসিশন নিছিলাম। ওইখানে সবাই আমার আম্মারে চিনতো, আমার নিজেরে খুবই লাকি মনে হইত। কিন্তু ওরা সেইসময় আমারে অভিনয়ে নেয় নাই, খুবই প্যারা খায়া গেছিলাম আমি। শেষপর্যন্ত হাইস্কুলের ডিপ্লোমা নিতে হইছিল আমারে। তো এইসময় স্টুডেন্ট হিসেবে আমি লেখালেখি নিয়া বেশি সিরিয়াস হইয়া উঠছিলাম। আমি রেডিও আর কয়েকটা ম্যাগাজিনে ক্রিটিক হিসাবেও কাজ নিছিলাম। সেইসময় আমি সাহিত্য আর ফিল্মের রিভিউ লেখার কাজগুলা করতাম, যদিও এগুলা নিয়া আমি নিজেই খুব বেশি জানতাম না।

এই একই সময়েই, আমি ছোটগল্প লেখা শুরু করছিলাম। যেইসময় আমার ছেলে হইলো, আমার আব্বা-আম্মা সিদ্ধান্ত নিছিল আমার থেকে আলাদা হয়া যাবে, তো আমার জন্য ইনকাম করা জরুরী হয়া গেছিল। আমি কোন প্রকাশনীতে চাকরি খুজতেছিলাম, কিন্তু শেষে  এক নামকরা পাব্লিকেশন  হাউজে নিজের কয়েকটা গল্প পাঠায়ে দিছিলাম। ওরা সাথে সাথেই আমারে আরো গল্প দিতে বলছিল। কিন্তু আমি তো আসলে চাইছিলাম এডিটরের চাকরি। কিন্তু ওইখানে কোন চাকরি ছিল না। ওইসময়ে আমি খুবই আপসেট ছিলাম, কিন্তু সিম্পলি আমার লেখালেখিও চালায়ে যাইতেছিলাম।

…………….

 

ইন্টারভিউয়ার: …ছেচল্লিশ বছর বয়সে আপনার ফার্স্ট ফিচার ফিল্ম যখন বাইর হয়, এই লেখালেখির ব্যাপারটা ছিল তারও অনেক আগে। আপনে কেমনে এই লেখালেখির জিনিসগুলা শিখছিলেন?

হানেকে: আমি যখন জুয়ান ছিলাম, প্রতি সপ্তাহে তিনবার সিনেমা দেখতে যাইতাম। আমি এখনকার তুলনায় তখন ভালোই সিনেমাপাগল ছিলাম। সিনেমা নিয়া আমি যা যা জানি সবই সেইসময়গুলাতে কেয়ারফুল্লি দেইখা দেইখা শিখছি। আমি প্রায়ই আমার স্টুডেন্টদেরকে বলি যে তারা কত সুবিধা পাইতেছে। এখন তো আপনি একটা ডিভিডি কিনে প্রত্যেকটা শট আলাদা কইরা দেখতে পারবেন। আমাদের জুয়ানকালে তো এগুলা সম্ভব ছিল না। যদি এমন কিছু হয় – ধরেন আপনে সিনেমার কিছু একটা ধরতে পারলেন না, বা কোন সিকোয়েন্স ক্লিয়ার হইলো না, আপনেরে হয়তো দশবার আবার সিনেমাটায় ফিইরা যাইতে হবে। এখনকার দিনে তো আপনে ঘরের মধ্যে আরামে বইসা সবকিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারেন। যাই হোক, আমি যখন জুয়ান ছিলাম, সত্যিকারের সিনেমাখোর ছিলাম একটা। 

পাব্লিকেশন হাউজটা আমারে রিজেক্ট করার পর আমি ব্যাডেন-ব্যাডেনের (Baden-Baden) একটা টিভি স্টেশনে ইন্টার্নি করছিলাম। ওরা নতুন একজন নাটকের ডিরেক্টর  খুজতেছিল, আর শেষপর্যন্ত আমারেই ওই কাজ দিছিল, কারণ আমার আগে এখানে খালি বেক্কলরাই কাজ করছে। আমি হইয়া গেলাম জার্মানির সবচেয়ে কমবয়সী টিভি নাট্যকার, আর সাথে সাথে ফিল্মের উপর আরো আমার বেশি প্রফেশনাল ইন্টারেস্ট জন্মাইতে থাকলো। ওই তিনবছরের সময়টাতে আমার স্ক্রিপ্টরাইটিং নিয়া যা যা শিখার ছিল সব শিখা হইয়া গেছিল। আর সবকিছুর মধ্যে আমার যেটা বেশি কাজে লাগছিল সেটা হইলো বিরক্তিকর স্ক্রিপ্টগুলা পড়া। ওই তিনছরের মধ্যে দুইবছরই আমার জন্য প্রতিদিন ওইসব স্ক্রিপ্টগুলা (যেগুলারে বলা যায় অদরকারী ম্যানুস্ক্রিপ্ট) ওয়েট করতো । খারাপগুলাই ছিল বেশি উপকারী। ধরেন প্রথমে আপনে ভাবলেন এই লেখায় কিছু একটা কাজ করতাছে না। আপনে নিজেরে জিগাবেন, কেন কাজ করতেছে না। টেরিবল স্ক্রিপ্ট পড়া আপনারে অনেককিছু শিখাইতে পারে। আর ভালো একটা দুইটা এতোই আনন্দ দিত যে আপনে ওইটা খুজতে ভুইলা যাবেন যে কেন এটারে ভাল্লাগতাছে। যদি এইসময়ে কেউ আমারে নিয়া বলে, যে আমার স্ক্রিপ্টগুলা খুবই প্রফেশনাল, এইটা হইছে মেইনলি ওইসময়ের কাজগুলার জন্যই। আমারে অনেক হেল্প করছে এটা , যদিও একটুও মজা পাই নাই কাজগুলা কইরা। আসলেই এগুলা খুব বিরক্তিকর ছিল – সারদিন গুয়ের মধ্য দিয়া হালচাষের মতো। Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য