Main menu

নাইন।। এরিক জারোসিনস্কি।। (২)

অনুবাদকের কথা

জার্মানি আর জার্মান ভাষা নিয়ে লেখা এফোরিজম বা জারোসিনস্কির নিজের মতে কৌতুকগুলা মূলত তার জীবনের খুব খারাপ একটা সময়ের বাই- প্রডাক্ট। কে এম রাকিব প্রথম আমাকে বইটা পড়তে দেন। প্রচলিত বা ভূতপূর্ব বা অভূতপূর্ব পরিবার সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থার উপর আমার অরুচির  তৎকালীন বা চিরন্তন যে  সুরতহাল সেটাই হয়তো তাকে এই কাজের কাজী করেছিলো। ট্যুইটার এ বিভিন্ন সময়ে দর্শন, শিল্প সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা জারোসিনস্কির ট্যুইট যে এমন সাড়া ফেলে দিবে তা তার নিজেরও ধারণা ছিল না।

নাইন কোয়ার্টার্লি শিরোনামে করা এই উইটি পানি ট্যুইটগুলা ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১২৫টি দেশের প্রায় ১ লাখ মানুষের কাছে রিচ করতে পারছে। হালের বিখ্যাত দার্শনিক স্লাভয় জিজেক নাইন সম্বন্ধে বলছেন যে, “ট্যুইটার আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি যে এটা নিষিদ্ধ করা উচিত। কিন্তু জারোসিনস্কির নাইন হচ্ছে অন্য জিনিস, মূলত এই একটা জিনিসই ট্যুইটাররে জাস্টিফাই করে! তারে মনে হয় সাইকো সিনেমার র‍্যাডিক্যাল নরম্যান বেটস এর মতো শুধু ছুরির বদলে ট্যুইট দিয়া দ্রুত কাটাকুটি চালায়া যাইতেছেন!”

নিউ ইয়র্কে থাকেন এরিক জারোসিনস্কি, নিজেরে পরিচয় দেন ব্যর্থ দার্শনিক হিসাবে। আধুনিক জার্মান সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রিটিক্যাল থিওরির প্রফেসরের দায়িত্ব ছেড়ে তিনি এখন এফোরিস্ট হয়ে উঠতে চাইতেছেন।

নাইনঃ আ মেনিফেস্টো মূলত ট্যুইটারে নাইন কোয়ার্টার্লি শিরোনামে পোস্টানো ওই জিনিসগুলারই একটা ভার্সন। মলাটের চশমাওলা মুখটা যার তিনি হইতেছেন থিওডর এডর্নো যারে নিয়া আমেরিকার নামীদামি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে  একটা চাকরি জোটাতে থিসিস পেপার খাড়া করতে চাইছিলেন জারোসিনস্কি। আর সেই একঘেঁয়ে যান্ত্রিক কাজকাম থিকা দুই দণ্ডের এসকেপ ছিলো সেই ট্যুইটগুলা।

দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য প্যারিস রিভিউ, ফ্র‍্যাংফুর্টার, ড্যের স্পিগেল, দ্য বিলিভার, দ্য ক্রনিকল অফ হায়ার এডুকেশন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, স্লেট ইত্যাদি হেভিওয়েট গণমাধ্যমে ছাপা হওয়া ও বিখ্যাত জারোসিনস্কির এই অসামান্য আকর্ষণীয় আর আগ্রহোদ্দীপক কাজগুলি বাংলা করতে গিয়া জার্মান কিছু শব্দ ছাড়া তেমন বিপাকে পড়তে হয় নাই আমার।

আর এর টেস্ট নিতে গিয়া আপনাদের ঠিক একই অভিজ্ঞতা হবে বলেই আমার ধারণা। হাজার হোক, শীতকাল, খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাবনা তাই তা পান করা থেকে বিরত থাইকা আসেন নাইন পান করি। কোন এক সকালে গ্রেগর সামসার আচমকা কীটে রূপান্তর হওয়া সত্ত্বেও প্রথমেই কাজে না যাইতে পারার আশংকা বা দুঃশ্চিন্তাকে যিনি বলছেন ডার্ক কৌতুক সেই ব্যক্তির নিজের কৌতুক আমাদের সবার একবার হলেও চেখে দেখা উচিত বলেই মনে করি আমি।

তানভীর হোসেন

…………………………………..

ফার্স্ট পার্ট

…………………………………..

 

৫. নাইন কোন মাধ্যম না। নাইন কোন বার্তা না।

 

#জনরা সমস্যা
অ্যাফোরিজমঃ
সাহিত্যের বোতলে দর্শনের জাহাজ।

এপিগ্রামঃ
দর্শনের বালতিতে সাহিত্যের ফুটা।

 

#মিডিয়া থিওরি
আরেকটা সুন্দর দিন।
মাধ্যমের।
আরেকটা অস্তিত্বের লড়াই।
তথ্যের।

 

#আউফ ডয়েশ
লক্ষ লক্ষ শব্দ।
জার্মান ভাষায়।
ডোপেলগ্যাংগারের ক্ষেত্রে।
তারা একইরকম।

 

#নন্দনতত্ত্বের থিওরি

কমপক্ষে শিল্প আছে।
জগতে যে সৌন্দর্য বইলা কিছু আছে তা আমাদের স্মরণ করায়ে দিতে সব সময়ই এইটা আছে।
আর সে খুবই দুঃখিত
কিন্তু এখন আর তার মাথা গোঁজারও ঠাঁই নাই।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

চেয়ারে ভাতঘুমে ঢলে পড়া কবির চিঠি – নিকানোর পাররা।

নিকানোর পাররা এন্টিপোয়েম আর ইমারজেন্সি পোয়েম  লিখেছেন। চিলির লোক তিনি। গণিতবিদ হওয়ার কারণেই বিনয় মজুমদার হবেন তাও তো না। বিনয় মজুমদার গণিতে ডিগ্রীধারী ছিলেন। দুইজন একলোক না। যা ই হোক, এন্টিপোয়েম নিয়ে কোন সংজ্ঞার অবতারণা না করে বরং আমার আর নিকানোর পাররা বিষয়ে বলি।

নিকানোর পাররা কবি। আমি জীবাণুবিদ। তার কবিতা পড়তে গিয়ে দেখলাম তিনি কাব্যিক এসথেটিকস থেকে বেরিয়ে কেমন গদ্যধর্মী কবিতা লিখেছেন। কবিতাগুলো কেমন যেন ব্যানানা শেপ ফিমেল ফিগারের মত।  তো পাররার কবিতা পড়ে তর্জমা করছিলাম। কয়েকটা করার পর মনে হল, এর চাইতে ইছাশুটকি ভর্তা করে গরম ভাত দিয়ে খাওয়াই তো ভাল। তাই ওইটাই করলাম।

এরপর দিন যায়, রাত আসে। বেশ কিছুদিন পর, কবি নাসিফ আমিনের শরনার্থী শিবিরে গিয়ে আমি আশ্রয় নিই। তিনি বললেন, এইরকম চল আছে। তিনি এই তর্জমার নাম দিলেন ‘এক্সপেরিয়েন্সিং আ ফরেইন পয়েট টু মাই ল্যাংগুয়েজ’’। রেফারেন্স দিলেন ফিল্মমেকার রবিউল আলম রবি’র ‘হেডরুমে পিংক ফ্লয়েড’ লেখাটির। লাল জীপের ডায়েরীতে ছাপা হয়েছিল। তো, নিকানোর পাররার কবিতা আসল থেকে ইংরেজি ভার্শন (নকল) নিয়া আসেন ড্যাভিড আংগার। আমি ড্যাভিড আংগারকেই ভর্তাতে কিঞ্চিত মেখে মিশিয়েছি।

মঈন উদ্দিন

…………………………………………………………………………………….

 

চেয়ারে ভাতঘুমে ঢলে পড়া কবির চিঠি

 

এক।

 

আমার কথা রেলগাড়ির মত সোজা

হয়তো সেই সকাল থেইকাই রেলস্টেশনে কি কি ঘটতেছে তা জানি

অথবা দেখা গেল, স্টেশনে আসি নাই বইলা কি ঘটল কিছুই জানি না।

 

কিন্তু যেইখানেই রই না কেন

আল্লা আমাদের সোজাসুজি কথা বলার তৌফিক দিন।

 

দুই।

 

পুরাটা রাত আমি থাইকা থাইকা মেয়েলোক স্বপ্ন দেখছি

তাদের কেউ কেউ আমারে নিয়া রঙ্গ করতেছিল

বাকিরা খামছি দিতেছিল আমারে।

এরা ছাড়তেছিলই না।

স্বপ্নের শেষ পর্যন্ত এরা আমারে নাজেহাল করছে।

 

আমি তব্দা খাওয়া মুখ নিয়া ঘুম থেইকা উঠলাম

 

খোয়াবের অর্থ তাইলে কি আমি বরবাদ হয়া গেছি

নাকি এইটা আসলে মরন ভয় আছিল!

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

নাইন। এরিক জারোসিনস্কি। (১)

অনুবাদকের কথা

জার্মানি আর জার্মান ভাষা নিয়ে লেখা এফোরিজম বা জারোসিনস্কির নিজের মতে কৌতুকগুলা মূলত তার জীবনের খুব খারাপ একটা সময়ের বাই- প্রডাক্ট। কে এম রাকিব প্রথম আমাকে বইটা পড়তে দেন। প্রচলিত বা ভূতপূর্ব বা অভূতপূর্ব পরিবার সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থার উপর আমার অরুচির  তৎকালীন বা চিরন্তন যে  সুরতহাল সেটাই হয়তো তাকে এই কাজের কাজী করেছিলো। ট্যুইটার এ বিভিন্ন সময়ে দর্শন, শিল্প সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা জারোসিনস্কির ট্যুইট যে এমন সাড়া ফেলে দিবে তা তার নিজেরও ধারণা ছিল না।

নাইন কোয়ার্টার্লি শিরোনামে করা এই উইটি পানি ট্যুইটগুলা ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১২৫টি দেশের প্রায় ১ লাখ মানুষের কাছে রিচ করতে পারছে। হালের বিখ্যাত দার্শনিক স্লাভয় জিজেক নাইন সম্বন্ধে বলছেন যে, “ট্যুইটার আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি যে এটা নিষিদ্ধ করা উচিত। কিন্তু জারোসিনস্কির নাইন হচ্ছে অন্য জিনিস, মূলত এই একটা জিনিসই ট্যুইটাররে জাস্টিফাই করে! তারে মনে হয় সাইকো সিনেমার র‍্যাডিক্যাল নরম্যান বেটস এর মতো শুধু ছুরির বদলে ট্যুইট দিয়া দ্রুত কাটাকুটি চালায়া যাইতেছেন!”

নিউ ইয়র্কে থাকেন এরিক জারোসিনস্কি, নিজেরে পরিচয় দেন ব্যর্থ দার্শনিক হিসাবে। আধুনিক জার্মান সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রিটিক্যাল থিওরির প্রফেসরের দায়িত্ব ছেড়ে তিনি এখন এফোরিস্ট হয়ে উঠতে চাইতেছেন।

নাইনঃ আ মেনিফেস্টো মূলত ট্যুইটারে নাইন কোয়ার্টার্লি শিরোনামে পোস্টানো ওই জিনিসগুলারই একটা ভার্সন। মলাটের চশমাওলা মুখটা যার তিনি হইতেছেন থিওডর এডর্নো যারে নিয়া আমেরিকার নামীদামি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে  একটা চাকরি জোটাতে থিসিস পেপার খাড়া করতে চাইছিলেন জারোসিনস্কি। আর সেই একঘেঁয়ে যান্ত্রিক কাজকাম থিকা দুই দণ্ডের এসকেপ ছিলো সেই ট্যুইটগুলা।

দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য প্যারিস রিভিউ, ফ্র‍্যাংফুর্টার, ডার স্পিজেল, দ্য বিলিভার, দ্য ক্রনিকল অফ হায়ার এডুকেশন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, স্লেট ইত্যাদি হেভিওয়েট গণমাধ্যমে ছাপা হওয়া ও বিখ্যাত জারোসিনস্কির এই অসামান্য আকর্ষণীয় আর আগ্রহোদ্দীপক কাজগুলি বাংলা করতে গিয়া জার্মান কিছু শব্দ ছাড়া তেমন বিপাকে পড়তে হয় নাই আমার।

আর এর টেস্ট নিতে গিয়া আপনাদের ঠিক একই অভিজ্ঞতা হবে বলেই আমার ধারণা। হাজার হোক, শীতকাল, খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাবনা তাই তা পান করা থেকে বিরত থাইকা আসেন নাইন পান করি। কোন এক সকালে গ্রেগর সামসার আচমকা কীটে রূপান্তর হওয়া সত্ত্বেও প্রথমেই কাজে না যাইতে পারার আশংকা বা দুঃশ্চিন্তাকে যিনি বলছেন ডার্ক কৌতুক সেই ব্যক্তির নিজের কৌতুক আমাদের সবার একবার হলেও চেখে দেখা উচিত বলেই মনে করি আমি।

তানভীর হোসেন

 

 …………………………………………………………………………………………..

 

ভূমিকা

না বলাটা কোন ব্যাপার না। যুইতমতো বলাটাই হইলো ব্যাপার। মোক্ষম সময়ে। মোক্ষম জায়গায়।আর এইটা বইলা যাইতে পারাটা আরও কঠিন ব্যাপার বিশেষত যেখানে আমরা একটা হ-এ ভরা জগতে বাস করি। পুরাই হ-এ’র দৌরাত্ম। ফ্যামিলিরে হ। ফ্রেন্ডরে হ। যাবতীয় শর্তটর্তরে হ। কাজকামরে হ।খেলাধুলারে হ।। হ-এ ভরা জীবনটারেও হ, হ্যাঁ এবং শুধুই হ রে দয়াল। তবে আরেকটা জীবন আছে। অনিশ্চিত একটা জীবন। সে না’র জন্য গান গায়, না’রে নিয়া গান গায়, তারে গান নিবেদন করে। এটা আবার কোন আলতুফালতু “না” না বরং বর্তমান, ভবিষ্যত, অতীত সবসময়ের জন্যই “না”।

এইটা হইলো “নাইন(Nein)” এর “না”।

 

 

. নাইন নানা। নাইন “হ্যাঁ” না। নাইন হইলো নাইন

 

#ব্যাপারটা সাদাসিধা রাখেন

বর্তমানে জগতের সমস্যা হইলো দুইটা।

১. জগত নিজেই,

আর ২. বর্তমান।

অবশ্য তিনটাও হতে পারে যদি ভবিষ্যৎ গোনায় ধরেন।

 

#পাদটীকা

কোনদিন আমরা টার্মস পড়বো।

কন্ডিশনগুলা পড়বো।

আর অবাক হয়া ভাববো কেন আমরা এইগুলায় রাজী হইছিলাম।

আর হ’র বাক্সে টিক দিছিলাম।

 

 #সত্যের ঘাড়তেড়ামি

ভালো খবর।

আমাদের হারায়া ফেলা আশার খোঁজ পাওয়া গেছে।

খারাপ খবর।

সে আর ফিরতে চায় না।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য