Main menu

পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ।। সৈয়দ মুজতবা আলী।। কিস্তি ১ ।।

১৯৪৭ সালের ৩০ শে নভেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়া আলাপ হয়, সৈয়দ মুজতবা আলী সেইখানে বাংলা ভাষার পক্ষে একটা লেকচার দেন। উনার এই লেকচার নিয়া অনেক তর্ক বিতর্ক হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী তখন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। বলা হয়, এই ঘটনার পরে উনার বিরোধীপক্ষ গর্ভমেন্টের কাছে বিচার দেন আর এডুকেশন মিনিস্ট্রি থিকা উনারে শোকজ করা হয়। উনার বড় ভাই সৈয়দ মুতর্জা আলী, যিনি এইটা নিয়া কথা কইতে গেছিলেন, তারেও তার পজিশন থিকা ডিমোশন দিয়া ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বানায়া চিটাগাংয়ে ট্রান্সফার কইরা দেয়। সৈয়দ মুজতবা আলী এইসব দেইখা ইন্ডিয়াতে চইলা যান।

পরে ১৯৫৬ সালে আল ইহসান পত্রিকায় উনার এই ভাষণ প্রবন্ধ হিসাবে ছাপা হয়। অই বছরই বই হিসাবেও ছাপা হয়, আলাদা কইরা।

মজার ব্যাপার হইলো, কলকাতার মিত্র অ্যান্ড ঘোষ পাবলিকেশন কোম্পানি থিকা ১১ খন্ডে সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনাসমগ্র ছাপানো হইছে, উনার পাবলিশড, আনপাবলিশড অনেক লেখা সেইখানে আছে, কিন্তু এই বইটা নাই। :)  মানে, রচনাসমগ্র দেইখা আপনার মনে হবে, সবকিছুই আছে এইখানে, কিন্তু সবকিছুর ভিতরে অল্প কিছু জিনিসরে যে গোপন করা হয়, সেইটা চাতুরির ঘটনা না খালি সাবভারসিভ একটা জিনিসও।

তো, পরে ২০০২ সালে ঢাকার একুশে পাবলিকেশন্স এই বইটা আবার রিপ্রিন্ট করে। মুশকিল হইলো, বইটাতে খালি লেখাটাই আছে, এর কনটেক্সট নিয়া তেমন কোন আলাপ নাই। যে কোন পুরান টেক্সট নতুন কইরা ছাপাইলে দুয়েকটা কথা বইলা নেয়া বেটার, কারণ যেই সিচুয়েশনে সৈয়দ মুজতবা আলী এই কথাগুলা বা আর্গুমেন্টগুলা দিছিলেন, এখনকার সিচুয়েশন একইরকম না। ১৯৪৭ সালের যেই কথা বা তর্ক, ১৯৫৬ সালে বই হিসাবে ছাপানোর সময়ও অনেক এডিট করছিলেন, একদম ফার্স্ট লাইনটা দেখলেই টের পাওয়া যায়। 

২.
সৈয়দ মুজতবা আলী যখন এই আর্গুমেন্টগুলা হাজির করতেছেন, তখন পাকিস্তান রাষ্ট্র যে বানানো হইছে, সেইটার ৬ মাসও হয় নাই। রাষ্ট্র নিয়া অবশ্যই অনেক এক্সপেক্টশন থাকতেছে তখন, নানান আলাপ চলতেছে নানান জায়গায়।

ব্রিটিশ আমলে ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রভাষা ছিল ইংলিশ, হিন্দি আর উর্দু। ১৯৪৭ সালে ইন্ডিয়া আর পাকিস্তান দুইটা রাষ্ট্র হওয়ার পরে, হিন্দিরে ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হইছিল, কিন্তু যেহেতু ইন্ডিয়ার সব জায়গায় হিন্দি চালু নাই, বলা হইছিল হিন্দির পাশাপাশি ইংলিশও থাকবো। তো, ইন্ডিয়াতে যেহেতু ইংলিশ বাদ দিয়া হিন্দি চইলা আসছে, পলিটিশিয়ানদের ধারণা ছিল, পাকিস্তানেও তো উর্দুই হওয়ার কথা!  

সৈয়দ মুজতবা আলী এইসব কথা বলার আগে, ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তমুদ্দীন মজলিসের  পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু?  পাবলিকেশনে কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ ও প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমও পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা করার পক্ষে লেখেন। এরপরে ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখে জিন্নাহ ঢাকা ইউনির্ভাসিটিতে আইসা উর্দুরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বইলা ঘোষণা দেন, এক স্টুডেন্ট নো বলেন। আন্দোলন, মুভমেন্টের পরে ১৯৫৬ সালে উর্দুর লগে বাংলারেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়। এইগুলা নিয়া কমবেশি আলাপ তো চালু আছেই।

৩.
পুরা লেখাটা ৪/৫টা কিস্তিতে আপলোড করার ইচ্ছা আছে আমাদের।

ই.হা.
…………………………………………………………………..

পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা যে শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষাই হবে সে সম্বন্ধে আমাদের মনে কখনাে কোনাে সন্দেহ ছিল না এবং একথাও নিঃসন্দেহে জানি যে যদিও এখনকার মত বাংলার দাবী মেনে নেওয়া হয়েছে তবু উর্দুওয়ালারা আবার সুযােগ পেলেই মাথা খাড়া করে উঠতে পারেন। আমরা যে এতদিন এ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলােচনা করি নি তার প্রধান কারণ বাংলা-উর্দু-দ্বন্দু রাজনৈতিক রঙ ধরে নিয়ে। দলাদলির কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল; সে অবস্থায় সুস্থ মনে, শান্ত-চিত্তে বিচার করার প্রবৃত্তি কোনাে পক্ষেরই ছিল না। আবহাওয়া এখন ফের অনেকটা শান্ত হয়ে এসেছে; এইবেলা উভয় পক্ষের যুক্তিগুলাে ভালাে করে তলিয়ে দেখে নিলে ভবিষ্যতের অনেক তিক্ততা এবং অর্থহীন দ্বন্দ্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে। উর্দুওয়ালাদের প্রথম ও প্রধান যুক্তি এই : পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান অভিন্ন রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের কেন্দ্রে যে-ভাষা প্রচলিত পূর্ব পাকিস্তানে যদি সে ভাষা প্রচলিত না থাকে তবে রাজনৈতিক ও কৃষ্টিগত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। উত্তরে আমরা বলি, পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনসাধারণকে বাংলা ভুলিয়ে উর্দু শিখিয়ে যদি কেন্দ্রের সঙ্গে এক করে দেওয়া সম্ভবপর হত তা হলে যে এ বন্দোবস্ত উত্তম হত তাতে কোনাে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন, এ কাজ কি সােজা ? উত্তরে আমরা বলি একাজ অসম্ভব।

কেন অসম্ভব এ প্রশ্ন যদি শােধান তবে তার উত্তর দু’রকমের হতে পারে। প্রথম রকমের উত্তর দেওয়া যায় ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত দিয়ে। আমরা যদি একথা সপ্রমাণ করতে পারি যে পৃথিবীর ইতিহাসে কস্মিনকালেও এহেন কাণ্ড ঘটে নি এবং যতবার চেষ্টা করা হয়েছে ততবারই সে চেষ্টা নিষ্ফল হয়েছে তবে হয়তাে অনেকেই স্বীকার করে নেবেন যে, অসম্ভব কর্ম সমাধান করার চেষ্টা করে মূর্খ, বলদকে দোয়াবার চেষ্টা সেই করে যার বুদ্ধি বলদেরই ন্যায়।

ইয়ােরােপ আমেরিকা থেকে উদাহরণ দেব না। উর্দুওয়ালারা এসে উদাহরণ মেনে নিতে স্বভাবতই গড়িমসি করবেন। তাই উদাহরণ নেব এমন সব দেশকে সাধারণত ‘পাক’ অর্থাৎ পবিত্র’ অর্থাৎ ইসলামী বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়। এসব দেশের ইতিহাস ও বর্তমান পরিসি উর্দুওয়ালাদের জানার কথা, না জানলে জানা উচিত।

আরব ও ইরানের (পারস্যের) মানচিত্রের দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন এ দু’দেশের মাঝখানে কোনাে তৃতীয় দেশ নেই। অর্থাৎ আরবদেশের পূর্ব সীমান্তে যেখানে আরবী ভাষা এসে শেষ হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই ফার্সী ভাষা হল হয়েছে। উত্তর পশ্চিম সীমান্তে ও যেখানে আরবী ভাষা শেষ হয়েছে সেখান থেকেই তুকী ভাষা আরম্ভ হয়েছে।

সকলেই জানেন খলিফা আবু বকরের আমলে মুসলিম আরবেরা অমুসলিম ইরান দখল করে। ফলে সমস্ত ইরানের লােক আগুন-পূজা ছেড়ে দিয়ে মুসলিম হয়। মুসলিম শিক্ষাদীক্ষা মুসলিম রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার কেন্দ্রভূমি তখন মদীনা কেন্দ্রের ভাষা আরবী এবং যে ভাষাতে কুরান নাজিল অর্থাৎ অবতীর্ণ হয়েছেন, হজরতের বাণী হদীসরূপে সেই ভাষায়ই পরিস্ফুট হয়েছে। কাজেই আমরা অনায়াসে ধরে নিতে পারি যে কেন্দ্রের সঙ্গে যােগসূত্র দৃঢ় করার বাসনায় ইরানে আরবী ভাষা প্রবর্তিত করার ব্যাপক চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা জানি বহু ইরানবাসী ইসলাম গ্রহণ করে, আরবী শিখে, মুসলিম জগতে নাম রেখে গিয়েছেন। আরাে জানি পরবর্তী যুগে অর্থাৎ আব্বাসীদের আমালে আরবী রাষ্ট্রকে ইরানের আরো কাছে চলে এসেছিল। ইরাকের বাগদাদ ইরানের অত্যন্ত কাছে ও আব্বাসী যুগে বহু ইরানী বাগদাদে বসবাস করে উচ্চাঙ্গের আরবী শিখতে সমর্থ হয়েছিলেন। সমস্ত ইরানদেশে তখন আরব গবর্ণর, রাজকর্মচারী, ব্যবসাদার, পাইকবরকন্দাজে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। ইরানের সর্বত্র তখন আরবী মক্তব-মাদ্রাসার ছড়াছড়ি, আরবী-শিক্ষিত মৌলবী-মৌলানায় ইরান তখন গমগম করত।

তবে কেন তিনশত বৎসর যেতে না যেতে ফার্সীভাষা মাথা খাড়া করে উঠল ? দশম শতাব্দীর শেষভাগে দেখতে পাই, ফার্সীভাষার নগজাগরণের চাঞ্চল্য সমস্ত ইরানভূমিকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। গল্প শুনি, ফিরদৌসীকে নাকি ফরমাইশ দেওয়া হয়েছিল ইরানের প্রাকমুসলিম সভ্যতার প্রশস্তি গেয়ে যেন কাব্য রচনা করা হয়, এবং ততােধিক গুরুত্বব্যঞ্জক (মুহিম্) ফরমাইশ, সে কাব্য যেন দেশজ ফার্সী কথায় রচিত হয়, তাতে যেন আরবী শব্দ বিলকুল ঢুকতে না পারে। গল্পটি কতদূর সত্য বলা কঠিন। কারণ ফিরদৌসীর মহাকাব্যে অনেক আরবী কথা আছে কিন্তু এ বিষয়ে কোনাে সন্দেহ নেই যে আরবী ভাষা যে-কোনো কারণেই হােক দেশের আপামর জনসাধারণকে তৃপ্ত করতে পারে নি বলেই ফার্সীর অভ্যুত্থান হল।

তারপর একদিন ফার্সী ইরানের রাষ্ট্রভাষা হয়ে গেল ।

উর্দওয়ালারা হয়তাে উত্তরে বলবেন যে ইরান শীয়া হয়ে গেল বলেই সুন্নী আরবের সঙ্গে কলহ করে ফার্সী চালাল। এ-উত্তরে আছে লােক ঠকানাের মতলব। কারণ ঐতিহাসিক মাত্রই জানেন ফিরদৌসীর পৃষ্ঠপােষক ছিলেন গজনীর সুলতান মাহমুদ এবং তিনি ছিলেন এতই কট্টর সুন্নী যে তিনি সিন্ধুদেশের হাজার হাজার করামিতাকে (ইসমাইলী শীয়া) কতল-ই-আমে অর্থাৎ পাইকারী হননেফীনারিজহানুম বা পরলােকে পাঠিয়েছিলেন। কাজেই বােঝা গেল যে এই আরবীবিরােধী ফার্সী আন্দোলনের পশ্চাতে শীয়া-সুন্নী দুই সম্প্রদায়ই ছিলেন।

হয় ইরান শীয়াই হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তুর্কীর বেলা কি? তুর্কীর আপামর জনসাধারণ সুন্নী এবং শুধু যে সুন্নী তাই নয় হানিফী সুন্নীও বটে। ইরানেরই মত একদিন তুর্কীতেও আরবী চালাবার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে-চেষ্টা সফল হয় নি। শেষ পর্যন্ত তুর্কী-ভাষাই তুর্কের রাষ্ট্রভাষা হল। উর্দুওয়ালাদের স্মরণ থাকতে পারে যে কয়েক বৎসর পূর্বে তুর্কী ও ইরান উভয় দেশে জোর জাতীয়তাবাদের ফলে চেষ্টা হয় তুর্কী ও ফার্সী থেকে বেবাক আরবী শব্দ তাড়িয়ে দেওয়ার। আমরা এ ধরনের উগ্রচণ্ডা জাতীয়তাবাদ ও ভাষা ‘বিশুদ্ধিকরণ’ বাইয়ের পক্ষপাতী নই; তবুও যে ঘটনাটির কথা উর্দুওয়ালাদের স্মরণ করিয়ে দিলুম তার একমাত্র কারণ, কেন্দ্রের সঙ্গে যােগসূত্র যতই মূল্যবান হােক না কেন তার জন্য মানুষ সব সময় সব কিছু বিসর্জন দিতে রাজী হয় না। (এস্থলে ঈষৎ অবান্তর হলেও একটি কথা বলে রাখা ভালাে—–পাছে উর্দুওয়ালারা আমাদের নীতি ঠিক বুঝতে না পারেন—আমরা ভাষা ‘শুদ্ধিকরণে বিশ্বাস করি না বলেই বাংলা থেকে সংস্কৃত শব্দ তাড়াতে চাইনে। তা হলে সেই পাগলামীর পুনরাবৃত্তি করা হবে মাত্র; আজকের দিনে কে না বুঝতে পারে ফোর্ট উইলিয়ামি পণ্ডিতরা বাংলা থেকে আরবী ফাসী শব্দ বর্জন করে কি আহাম্মুখিই না করেছিলেন।) পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

বইয়ের ইন্ট্রো: জীবনের মতোই আর্ট দিয়া সবাইরে খুশি করতে পারে না কেউ – পাবলো নেরুদা।

নভেম্বর ২০১৯ এ বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি পাবলিকেশনের ব্যানারে হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউর বইটা ছাপানো হইতেছে। বইয়ের অনুবাদক তানভীর হোসেনের ইন্ট্রো এইটা।

……………………………………………………………

রিকার্দো এলিয়াসার নেফতালি রেয়েস বাসোয়ালতোর জন্ম চিলিতে। এই নামে তারে সম্ভবতআপনেরাচেনেন না। চেনেন পাবলো নেরুদা নামে।

টিনেজেই কবি হিসাবে মোটামুটি সাড়া জাগাইছিলেন নেরুদা। আর মরার আগপর্যন্ত সেইটা ক্রমে বাড়তেই থাকছে। মরার পর বাড়ছে আরও বেশি।১৯৭৪ এ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর সান্তা মনিকা ক্লিনিকে মারা যান ১৯৭১ এ সাহিত্যে নোবেল পাওয়া পাবলো নেরুদা।

কবিতা বা মেনস্ট্রিম শিল্প- সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ, ডিপ্লোম্যাট, এক্টিভিস্ট। ১৯৭১ এর চিলিয়ান নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কম্যুনিস্ট পার্টি থিকা নমিনেশনও পাইছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ভোট করেন নাই। সালভাদর আলেন্দেরে সমর্থন জানান ফলে গণতান্ত্রিক উপায়ে চিলির প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন আলেন্দে।

কিন্তু ১৯৭৩ সালেই জেনারেল অগুস্তো পিনোশের করা সেনা অভ্যুত্থানে আলেন্দেরে হত্যা করা হয়। নেরুদার বাড়িতেও হামলা হয়। বইপত্র পুড়াইয়া ফেলা হয় তার। শোনা যায় সেনারা যখন তার বাড়িতে তল্লাশী চালাইতেছিল তখন নেরুদা বলছিলেন, “খোঁজো, খোঁজো এইখানে তোমাদের ভয় খাওয়ানোর মতো একটা জিনিসই আছে… কবিতা।”

প্যারিস রিভিউয়ে প্রকাশিত রিটা গিবার্টের নেয়া নেরুদার ইন্টারভিউটার ইংরেজি অনুবাদ করছিলেন রোনাল্ড ক্রাইস্ট আর আমি করছি সেইটার বাংলা।

তো ইন্টারভিউটার একটা ইন্ট্রো আছে যা শুরু হইছে নেরুদার একটা কথা দিয়া। কথাটা হইলো, “জীবনরে আমি কবিতা থিকা আলাদা কইরা দেখি নাই কখনও।” সান্তা মনিকায় মারা যাওয়ার দিন নেরুদা তার বউ মাতিলদেকে ফোন করেন, বলেন যে তারা মনে হয় আমারে মাইরা ফেলার জন্যে কিছু একটা দিছে।

এরপর দুনিয়ায় অনেক কিছুই ঘইটা গেছে। তার মধ্যে একটা হইলো ফোনটা করার সাড়ে ছয় ঘন্টা পর নেরুদার মৃত্যু। এরপর নানান সমায় তার মৃত্যুর কারণ খুঁজতে পোস্টমর্টেম করা হইছে। যার গড়পড়তা ফলাফল হইলো তারে ব্যাকটেরিয়া ইনজেক্ট কইরা মারাইছিল পিনোশে।

নেরুদার কবিতা বা কবিত্ব নিয়া এইখানে কিছু বলতে চাইতেছি না। সেইটা আপনেরাই যাচাই কইরা দেখতে পারবেন। তাই এইসব প্যাচাল। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

বইয়ের ইন্ট্রু: আমার মনেহয় একজন মানুষের ইমাজিনেশন তার রেসের ভিতর থেকে আসা অভিজ্ঞতার রেজাল্ট – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।।

নভেম্বর ২০১৯ এ বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি পাবলিকেশনের ব্যানারে হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউর বইটা ছাপানো হইতেছে। বইয়ের অনুবাদক তৌকির হোসেনের ইন্ট্রু এইটা।

……………………………………………………………

হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউ নিছিলেন জর্জ প্লিম্পটন, ১৯৫৮ সালের বসন্তে। তার চার বছর আগে তিনি নোবেল পাইছিলেন, তিন বছর পরে তিনি শটগান দিয়া শুট কইরা সুইসাইড করবেন। মাঝখানের এই পিরিয়ডে হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ— প্যারিস রিভিউয়ের বদৌলতে নেয়া হইছিলো। রিভিউয়ের লোকজন ১৯৫০ থেকে শুরু করছেন বুড়া হইয়া যাইতেছে, হইতেছে, হইয়া গেছেন বা বিখ্যাত কিংবা এসটাবলিশড রাইটারদের ইন্টারভিউ নেওয়ার কাম। এই কাজ করতে করতে তেনারা দেখলেন, এই ইন্টারভিউগুলা একেকটা হইয়া উঠতেছে আর্ট। সেগুলা নেওয়ার ধরণ, রাইটারের বর্ণনা, এছাড়া কিভাবে একটা ফিকশন ‘হইয়া উঠে’ তার ব্যাপারে ইন ডেপথ এনালাইসিস, প্যারিস রিভিউয়ের এই সেগমেন্টের অন্যরকম লিটারেরি ভ্যালু তৈরি করছে। রাইটারের কথা কওনের সাইকোএনালাইসিসের ভিতর দিয়া আপনি দেখতে পারবেন কিভাবে আর্ট, আর্ট হইয়া উঠে।

সেই সুবাদে আমি এই দফায় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ ট্রান্সলেট করলাম আরকি। ট্রান্সলেট বললেই তো আর ট্রান্সলেট হইয়া যায় না। এইটা একটা প্রসেস। একটা লানলি প্রসেস। যেকোন লেখালিখিই, হেমিংওয়ের মতে লানলি একটা কাম। রেমন্ড কার্ভার, যার ইন্টারভিউ ১৯৮৩ তে নেয়া হইছিলো, তার ভাষায়, যখন আমি একটা শব্দ লিখি না বা লেখা হইতেছে না তখন আমার ঘুম হয় না ঠিকমতো, ভাল্লাগে না কোনকিছুই। যখন আমি একটা শব্দ লিখি, যখন অইটা লিখতেছি, সেই মোমেন্টটা খুব লানলি একটা সময়। একই জিনিস হেমিংওয়ের মধ্যে অন্যভাবে আমরা আবিষ্কার করি। সো, যখন আমি ট্রান্সলেট করতেছিলাম, তখন একটা লম্বা টাইমের জন্যে আমি হেমিংওয়ের সাথে ছিলাম, কী কী বলতেছেন তার একটা ভিডিও আমার চোখের সামনে ভাসতেছিলো। আমি ডুব দিছিলাম, হেমিংওয়ের ফিকশানে চিন্তা ক্যামনে কাজ করে সেই রিডিং-এর ভিতরে। এবং এই সময়ে আমারে একাই থাকতে হইছিলো।

হেমিংওয়ে, আর্ট বা যেকোন রাইটিং এর ব্যাপারে খুব পার্সোনাল। এই বিষয় তার কাছে একটা স্যাক্রেড বস্তু। পারতপক্ষে তিনি এই ইন্টারভিউ নেওনের ব্যাপারে রাজি ছিলেন না। পুরাটা টাইম আপনি তার বিরক্তি দেখতে পারবেন, রেজিস্ট্যান্স প্রতিটা কথায়। সরাসরি উত্তর দিতেছেন না, দূরে চলে যাইতেছেন কোন কোন প্রশ্নে। অনেক সময় এড়ায়ে অন্য কোন আন্সার দিতেছেন। কনশাসলি কোন কোন কথা বলতেছেন বা বলতেছেন না। একটা আলাদা পৃথিবী নিজের ভিতরে নিয়া হেমিংওয়ে লেখালিখি কইরা গেছেন। এবং এই কাজ তিনি ক্যামনে ক্যামনে করতেন এইটার একটাই উত্তর হইতে পারে— তিনি না কইরা থাকতে পারেন নাই।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য