Main menu

এডিটোরিয়াল: আর্টের ছিলছিলা

কেভিন কস্টনার আর কার্ট রাসেলের একটা ছিনামার নাম ‘থ্রি থাউজ্যান্ড মাইলস্ টু গ্রেসল্যান্ড’। এই ছিনামায় কস্টনারের একটা ছিনে হিচহাইকার এক মাইয়া ওঠে কস্টনারের গাড়িতে। তার পর গাড়ি চালাইয়া যাইতে থাকে কস্টনার; চালাইতে চালাইতে পেপারের একটা জরিপে মাল্টিপল চয়েছ কোশ্চেনে টিক দিতে থাকে। স্ক্রিনে দেখানো কোশ্চেনটা এমন: ডু ইউ মাস্টারবেট? কস্টনার টিক দেয়, ‘অলওয়েজ’। 

হিচহাইকার মাইয়াটা কস্টনারের গতর হাতায়, এরোটিক ইশারা দেয়, কস্টনার একটু বিরক্তই হয়, পরে মাইয়া কস্টনারকে ব্লোজব দেয়। দুইটা ব্যাপার মিলাইয়া এই ছিনের অর্থ খাড়াইতেছে এমন: মাস্টারবেশনের ব্যাপারে কস্টনারের একটা এসথেটিক ডিছিশন আছে, কিন্তু গাড়ি চালাইতে চালাইতে মাস্টারবেশন তো কঠিন, তাই দুধের স্বাদ মুতে মিটাইতে মাইয়ার ব্লোজব লইতেছে।

এখন এই সিনের লগে আমাদের ইলিয়াসের মাস্টারবেশন ভাবনার একটা তুলনা করেন। ইলিয়াসে মাস্টারবেশন হইলো ছিনেমায় কস্টানারের মাস্টারবেশন ভাবনার পুরা উল্টা, ইলিয়াসে মাস্টারবেশনই হইলো বরং ‘দুধের স্বাদ মুতে মিটানো’, এমনকি মাস্টারবেশন যেন সোশিওপ্যাথের কাম একটা।

আর্ট-কালচারের এই দুইটা নজিরেই মাস্টারবেশন পাইতেছেন, কিন্তু একটা (কস্টনার) পলিটিক্যালি মাস্টারবেশনরে প্রোমোট করে, সমাজকে ফুসলায় মাস্টারবেশন করায়, আরেকটা সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন হিসাবে মাস্টারবেশনের গাহেক বাড়াবার; আরেকটা (ইলিয়াস) মাস্টারবেশনকে ডিমরালাইজ করে। 

এখন ভাবেন তো, ইলিয়াস মাস্টারবেশনের বদলে নর্মাল/স্বাভাবিক সেক্স হিসাবে হোমোসেক্সুয়ালিটি নাকি হেটারো-সেক্সুয়ালিটিকে ভাবায়? তার মাস্টারবেশন ভাবনায় সেইটা ততো ক্লিয়ার হয় না। কিন্তু আমাদের পুরা আর্ট-কালচার লইয়া ভাইবা দেখেন তো, এগুলা কোন অরিয়েন্টেশনের গাহেক বাড়াইতে মদদ দিতে থাকে হরদম? রঠার গপ্পো ভাবেন বা জীবনানন্দের সুরঞ্জনা/বনলতা সেন, আমাদের নাটক-ছিনেমা? হেটারোসেক্সুয়ালিটি কিনা? কেবল অরিয়েন্টেশন না, কয়টা গপ্পো-কাহিনি-ছিনেমা-নাটকে দেখছেন পলিগ্যামিরে নর্মাল হিসাবে দেখানো হইছে? আমার দেখায় যতোটা মনে পড়ে, সবগুলাতেই আসলে হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামি প্রোমোট করা হইছে। বিভূতিভূষণের ইছামতি নামের এক কাহিনিতে এক বামুন পোলা একলগে ৩ বোনরে বিয়া করে; উল্টা কাহিনি তো নাই-ই, ইছামতিতেও নায়কের ৩ বউ থাকলেও সে আসলে মনে মনোগ্যামি, এক বউয়ের কাছেই তার মন পইড়া থাকে; বিভূতি আসলে একটা কেসস্ট্যাডি দিয়া দেখাইতেছেন যে, মানুষ নেচারালি মনোগ্যামাস। এবং ইছামতিতে পলিগ্যামি দেখাইলেও পোরটি বউয়ের লগে রিশতা কিন্তু ওয়ান-টু-ওয়ান, ৪ জনের একটা গ্রুপ কিন্তু না। আবার গপ্পো-কাহিনিতে পলিগ্যামি কোথাও পাইতেও পারেন, কিন্তু একটা পেমের গানও পাই নাই যেইটাতে দুই জনের পেমে পড়তেছে কেউ, তুমি-আমি বা দুই সিঙ্গেলের কায়-কারবার সব।

কিন্তু দেখেন, কস্টনারের ছিনে যেমন মাস্টারবেশনকে ফুসলানো এক নজরেই চোখে পড়ে, আমাদের সারা আর্ট-কালচারে একমাত্র হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামির জিকির থাকলেও এগুলারে আমরা হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামির প্রোপাগান্ডা কইতেছি না! অথচ আসলেই তো তাই! নর্মাল এইভাবেই নজরের বাইরে থাকে; কতটা বাইরে থাকে সেইটা আরেকটা ব্যাপারে মিডিয়ার খবরে বুঝবেন ভালো: আমেরিকায় ধরেন নিউজ পাইতেছেন এমন, পয়লা মোসলমান সিনেটর ইলহান ওমর; কিন্তু ৪৫ নম্বর খৃস্টান পেসিডেন হইলেন ট্রাম্প, এমন কোন নিউজ পাইছেন? নর্মাল এমনই, হয় আসলেই নর্মাল, অথবা সমাজ তারে নর্মাল বানাইতে চায় বইলা এমনভাবে নজরের বাইরে রাখে যে, কখনো খেয়াল করলে আপনের মনে হবে নর্মাল! যত বেশি কমন কইরা তোলা যাবে, ততোই নর্মাল লাগবে। সব ইউএস পেসিডেন খৃস্টান বইলা যেন এইটাই নর্মাল; তাই ইউএস পেসিডেনকে যে খৃস্টানই রাখতে চায় ইউএসএ, সেই এজেন্ডা ঐ বানানো কমনের নিচে চাপা পড়ে, যেন ঐটাই তো নর্মাল!

আর্ট-কালচারের পলিটিক্সও এমনই নর্মাল, এমনই নর্মাল যে আপনের নজরেই পড়ে না। এইটা কমন তো বটেই, এমনকি বানানো নর্মালও না, জেনুইন নর্মাল; কেননা, এর বাইরে অপশনই নাই, অন্য কিছু হইতেই পারবেন না! ভাষা সামাজিক বইলা ভাষায় শরিক হইলেই পলিটিক্সে নামলেন আপনে, আর্ট-কালচার করা মানে আপনের খাসলতই হইলো পলিটিক্স করা! অন্যদের তবু নিরুপায় দশা, সমাজের বাইরে কেমনে যাবে! কিন্তু আপনে বাই চয়েছ, নিজের হাউশেই পলিটিক্স করতেছেন।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

“মুসলমানী বাঙ্গালা” কি? ।। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ।।

১৯২০/৩০ এর দিকে (আগে বা পরেও) এই তর্কগুলা খুব চলতো যে, মুসলমানরাও বাঙালি কিনা বা কেমনে তাদেরও কন্ট্রিবিউশন আছে বাংলাভাষায়। এইটা আরো জোরদার হইছিল দীনেশচন্দ্র সেনের পুরান পুঁথিগুলা আবিষ্কারের পরে। দেখা গেল, আরে, মুসলমানরাও তো বাংলাভাষায় লিখছে আগে! নতুন নতুন লিখতে আইছে – এইরকম তো না! চিটাগাংয়ের আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ এই জায়গাটাতে আরো জোরদার কিছু তথ্য প্রমাণ হাজির করছিলেন যে, মুসলমানরাও বাংলাভাষায় লিখছেন!

তো, তখন রিলিভেন্ট তর্ক হাজির হইছিল যে, বাংলা-ভাষা কি হিন্দুয়ানি নাকি? বা মুসলমানী বাংলা তাইলে কি জিনিস? এখনকার সেক্যুলার দুনিয়ায় এইসব কোশ্চেন যতো ফানি-ই মনে হোক, এইসবকিছু নিয়া আলাপ হইতো বা হইছিল। এইটা এইরকমের একটা লেখা।

যেইখানে আবদুল করিম সাহেব এনকাউন্টার করতেছেন এই কোশ্চেনটারে। মাসিক সওগাতে কেউ একজন আলাওলদের লেখারে মুসলমানী বাংলা বানায়া বলতে চাইতেছিলেন যে উনাদেরকে ইগনোর করা হইতেছে। এই জায়গাতে আবদুল করিম বলতেছেন, অইগুলা মুসলমানী বাংলা না! ‘মুসলমানী বাংলা’ হইতেছে পশ্চিম-বাংলার আবিষ্কার। (খুবই ইর্ম্পটেন্ট কথা এইটা।) এই মুসলমানী বাংলায় বাংলাদেশের লোকজন তো দূর কি বাত, পশ্চিম-বাংলার মুসলমানরাও বাতচিত করে না। তাইলে এইটা আইলো কই থিকা? সাহিত্যবিশারদের দাবি, এইটা আসছে বটতলা থিকা। আর বটতলার বইয়ের পুপলারিটি ভাষার কারণে না, কাহিনির কারণে। এই  ভাষার যেহেতু কোন সাহিত্যিক ভ্যালু নাই আর সোসাইটিতে কোন চল নাই, এই সো-কল্ড মুসলমানী ভাষা টিইকা থাকার কোন কারণ নাই।

আমার ধারণা, এইখানে সংস্কৃত কলেজের বাইরে মাদ্রাসায় পড়া মৌলবীদের টেনডেন্সিটারে উনি পলিটিক্যালি সংস্কৃত-পন্ডিতদের কাউন্টার হিসাবে দেখতে রাজি হন নাই। মানে, মেনশন করছেন মুসলমানরে হিন্দু বানায়া দেয়ার ব্যাপারটা, কিন্তু অই জায়গাতে কোন কনফ্রনটেশনে যান নাই। ভাষারে শুদ্ধ বা সহি রূপেই এবং হিস্ট্রিক্যালিও একটা লিনিয়ার ফর্ম হিসাবেই দেখতে চাইছেন। যার ফলে ভাষার নানান রকমের টেনডেন্সিগুলারে এক রকমের ডিস্টরশন বইলাই ভাবছেন। তখনকার সেক্যুলার আইডিয়ায় ইউনিফর্মিটিরেই তো পূজা করা হইতো আসলে, একটা ডেফিনেশন দিতে পারাটারে, তো, সেই জায়গা থিকা স্পেশাল কোন সম্মান বা টিটকারি নিতে যে রাজি হন নাই সাহিত্যবিশারদ, সেইটাও পজিটিভ একটা ঘটনাই।  

ভাষার হিস্ট্রিক্যাল জায়গাগুলারে নজরে রাখার লাইগা এই রকমের ইস্যুগুলারে মনে না রাখতে চাওয়াটা দরকারি কোন জিনিস বইলা মনেহয় না। এই কারণে, আবার মনে করাইতে চাইলাম।

এই লেখাটা আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি থিকা ১৯৯৭ সালে ছাপানো আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ রচনাবলী ১ম খন্ড বই থিকা নেয়া হইছে। ৫৩০ টু ৫৩৫ নাম্বার পেইজে আছে।

/ই.হা.

… কলোনিয়াল কোলকাতায় কম্যুনাল এবং রেসিয়াল এজেন্ডা থিকা আজব একটা বাংলা পয়দা করছিল পণ্ডিত-মুন্সিরা, আমজনতার বাংলারে যেই বাংলায় ধরা হইছে ভালগার বা বিদেশি! আসল বাংলা আসলে যেন সংস্কৃত, সংস্কৃত না জাইনা বাংলা জানতে পারেন না আপনে! পরে আরেক দল ঐ ঘটনার কম্যুনাল জবাব দিছেন, সংস্কৃতরে ফার্সি পিছায় খেদাইয়া! সেই ফ্যাসাদের আখেরি ফল এখন ফলতেছে, আরো সহি হইতে চাইয়া এখন ফার্সি খেদাইয়া দিতে চাইতেছে আরবীঅলারা!

এইটারে আমি কইতেছি কলোনিয়াল লিগেসি; এইটা এতোই পোক্ত যে, ঐ দুই-তিন দল তো যায়ই নাই, এমনকি মার্ক্সের তরিকার লোকেরাও বাংলার কম্যুনাল-রেসিয়াল বোঝাবুঝি উতরাইয়া আমজনতার কাছে যাইতে পারে নাই! বাংলা যে বাংলাই, সংস্কৃত বা ফার্সি বা ইংরাজি না জাইনাই তো আপনের বাংলা পারার কথা! ঐ কম্যুনাল-রেসিয়াল এজেন্ডার দখলে আপনের মন গেলে আপনে হয় সংস্কৃতরে ভাববেন দুশমন, বা ফার্সিরে বা ইংরাজিরে, ঘেন্নার চাষ হইতে থাকবে মনে! অথচ আপনে যদি আমজনতার বাংলা লন, গণতান্ত্রিক হন, দেখবেন, মানুষ আর আদম, পিছার লগে সাফ, নদী-আসমান-আকাশ-মেঘ-বিষ্টি-সাগর-মাছ-দরিয়া-তুফান-টেবিল-লেবার-আনারস-কুলা-হুদাই-ডিজিটাল-ঘাড়ত্যাড়া… এমন কত কত সোর্সের কত কত শব্দেরা বাংলার কানুনে নিজেদের সুরত বদলাইয়া পাশাপাশি শুইয়া আছে!

সো, আপনে যদি ঐ লিগেসিতে থাকেন, আমজনতার কাছে যাইতেই পারবেন না, আপনের গণতন্ত্রের খায়েশ স্রেফ নিজেরে ভুলাবার মায়া হইয়াই থাকবে!

ঐ লিগেসি আপনারে আরো একটা প্রিজুডিসের দিকে লইয়া যায় প্রায়ই, হামবড়া হইয়া উঠতে পারেন আপনে! এমন হামবড়া ভাবের আসল লসটা হইলো, সমাজের ভিতর থিকা কোন এলেম লইতেই পারবেন না আপনে!…

/৭জুন ২০১৮, রক মনু

…………………………………………………………….

বাঙ্গালার প্রাচীন মুসলমান সাহিত্যের এক সুবৃহৎ অংশ “মুসলমানী বাঙ্গালা” (সাহিত্য) নামে অভিহিত হইয়া থাকে। হিন্দু কি মুসলমান — যিনিই এই নাম করুন না কেন – ভাষার দিক দিয়া বলতে গেলে, এই নামের অন্বর্থতা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। এই “মুসলমানীবাঙ্গালা” কি জিনিস,  সে সম্বন্ধে আমাদের শিক্ষিত সমাজের অনেকেরই সুস্পষ্ট ধারণা আছে বলিয়া বোধ হয় না। একটা দৃষ্টান্ত দিয়া পাঠকবর্গের নিকট কথাটা খোলসা করিতেছি। ১৩৪৭ সনে ফাল্গুন মাসে্র “সওগাতে” জনৈক মুসলমান লেখক “মর্সিয়া সাহিত্য” নামক প্রবন্ধে লিখিয়াছেন —“শেখ ফয়জুল্লাহ  … শমসের আলী প্রমুখ প্রখ্যাত নামা কবিগণের অক্লান্ত সাধনায় বাঙ্গালা সাহিত্যের ভাণ্ডার হইয়াছে সমৃদ্ধ। তাঁহাদের রচিত সাহিত্যকে কোনো স্বতন্ত্র নামে অভিহিত করা সঙ্গত নহে। * * * * কিন্তু বিশুদ্ধ ভাষা ও সুঠাম বর্ণনা-ভঙ্গীর দিক দিয়া কাজী দৌলৎ, সৈয়দ আলাওল প্রভৃতি ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের হিন্দু কবিগণ হইতে কোন অংশে ন্যূন নহেন।  একটু নমুনা দেই –

‘যৌবনকালেতে কন্যা বড় চিন্তা পায়।
অনঙ্গ-ভুজঙ্গ-বিষ সর্বাঙ্গে বেড়ায়।।
সে বিষ নামাতে নাহি ওঝার শক্তি।
স্বামী সে চিকিৎসা – হেতু ঔষধ সুরতি।।’

(দৌলতকাজী—‘লোরচন্দ্রানী)

‘দ্বিতীয়ার চন্দ্র জিনি ললাট শ্রীখণ্ড।
ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিম ভুরু কামেরকো দণ্ড।।
সুকোমল করতল পদ্মনাল-তুল।
চম্পক-কলিকা যিনি সুন্দর আঙ্গুল।।’

(ছৈয়দআলাওল—‘পদ্মাবতী)

এই ভাষাকে ‘মুসলমানী বাঙলা’ বলিয়া সাহিত্যের আসর হইতে দূরে ঠেকাইয়া রাখিবার প্রচেষ্টা কোনোদিন সমর্থনীয় হইতে পারে না।”

আধুনিক সাহিত্য উজাড় করিয়া কিছুদিন হইতে এই লেখক প্রাচীন সাহিত্যের প্রতি সুনজর দিয়াছেন এবং নিত্য নূতন নূতন অথ্যাবিষ্কার করিয়া পাঠকসমাজে পরিবেশন করিতেছেন। আলাওল ও দৌলত কাজীর ভাষাকে “মুসলমানী বাঙলা”র নমুনারূপে প্রচারও যে একটা নূতন আবিষ্কার, সে বিষয়ে সন্দেহ করিবে কে?

এইত গেল এক পক্ষের কথা। অপর পক্ষে বটতলার পণ্ডিতেরা বিজ্ঞাপন দিয়া প্রচার করিতেছেন, “শ্রীযুক্ত ছৈয়েদ আলাওল সাহার কৃত এই পদ্মাবতি পুস্তক পারশি অক্ষরে চট্টগ্রামি ভাষায় ছিল।” এরকম দুইপক্ষের হেঁচকা টানে বেচারী বাঙ্গালা সাহিত্য একবারে লবে-জান! পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

জীবনানন্দ দাশের ‘সমারূঢ়’ নিয়া

বাংলা-কবিতার সমালোচনা নিয়া যে নেগেটিভ একটা ধারণা এগজিস্ট করে (যেমন, কবিতার কোন ক্রিটিক হয় না, এইটা খালি ফিল করার জিনিস, হাবিজাবি…), সেই জায়গাটাতে এই কবিতার কন্ট্রিবিউশন আছে। ডিটেইলসে আমার পয়েন্টগুলা বলার আগে, আসেন কবিতাটা পড়ি।


সমারূঢ়

‘বরং নিজেই তুমি লেখো নাকো একটি কবিতা –‘
বলিলাম ম্লান হেসে; ছায়াপিণ্ড দিলো না উত্তর;
বুঝিলাম সে তো কবি নয় – সে যে আরূঢ় ভণিতা:
পাণ্ডুলিপি, ভাষ্য, টীকা, কালি আর কলমের ‘পর
ব’সে আছে সিংহাসনে – কবি নয় – অজর, অক্ষর
অধ্যাপক, দাঁত নেই – চোখে তার অক্ষম পিচুঁটি;
বেতন হাজার টাকা মাসে – আর হাজার দেড়েক
পাওয়া যায় মৃত সব কবিদের মাংস কৃমি খুঁটি;
যদিও সে সব কবি ক্ষুধা প্রেম আগুনের সেঁক
চেয়েছিলো – হাঙরের ঢেউয়ে খেয়েছিলো লুটোপুটি।

(পেইজ: ২০৬, প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্র – জীবনানন্দ দাশ, আবদুল মান্নান সৈয়দ সংকলিত ও সম্পাদিত, ১৯৯৪)

জীবনানন্দ দাশ-এর সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থের ৩নম্বর কবিতা এইটা। কবিতার বইটা পাবলিশড হয় অগ্রহায়ণ ১৩৫৫ (ইংরেজী ১৯৪৮সনে)। লেখার সময়: বাংলা ১৩৩৫-১৩৫০ (ইংরেজী ১৯২৮-১৯৫০)।



‘সমারূঢ়’ শব্দটার ডিকশনারি মিনিং হইলো ‘সম্যক উপরে উপবিষ্ট; বিশেষভাবে অধিষ্ঠিত’। তার মানে উপরের পজিশন। ‘সমারূঢ়’ মানে তিনি, যিনি কিছুটা উপরে আছেন। উপরে কে আছেন? ধারণা করি, যারে বিভিন্ন সময় ‘ছায়াপিন্ড’ ‘আরূঢ় ভণিতা’ ‘অধ্যাপক’ হিসাবে উল্লেখ করছেন কবি, তিনি বা তারা-ই; তারা যে ‘কবি নয়’ এইটাও বলা আছে ২বার। ধরে নিতেছি, তারা ‘সমালোচক’, ‘ব’সে আছে সিংহাসনে’। এইগুলা ত আসলে এক ধরণের ক্রোধ  কবি’র দিক থিকা; উনি সেই মানুষটার বর্ণনা দিতেছেন যে কিনা নিজেরে উপরে আছে বইলা ভাবতেছে, কিন্তু আসলে উপরে নাই। সে কবিতা লিখতে চাইতো, এখন পারে না, কবিতার সমালোচনা লিখতেছে খালি। কবিতা লিখতে পারলে সে আর কবিতার সমালোচনা লিখতো নাকি! তার মানে সে যদিও নিচে আছে, কিন্তু যেহেতু কবিতা নিয়া বলতে পারে, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারে, কবির চে বেশি টাকা কামাইতে পারে, ভাবে যে সে উপরে আছে; কিন্তু সে ত কবিতা লিখতে পারে না, কবি-ই না সে, কবিতার সমালোচনা কেমনে করে! এই মিহি শ্লেষের টোনটা কবিতাতে আছে।

এই টোনটাই সমালোচনার একটা ধারা হিসাবে বাংলা-সাহিত্যে আছে এখনো। যে, একটু মকারি করলাম তারে নিয়া, যে আমার লেখার ক্রিটিক করলো, এতে কইরা তার ক্রিটিকের জবাব দেন দিতে পারলাম আমি! বা এইরকম মকারি করতে পারাটাই যেন ক্রিটিক করতে পারা।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য