Main menu

সাবভারশান

ইউরি বেজমেনভ একজন রাশিয়ান গুপ্তচর। স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে, ১৯৭০ সালে তিনি রাশিয়া থেকে আমেরিকা ডিফেক্ট করেন।

১৯৮৪ সালে দেয়া তার একটা বিখ্যাত লেকচার আছে, যেই খানে তিনি কেজিবি কিভাবে, গুপ্তচরবৃত্তিতে সাবভারশান ব্যবহার করে, তার একটা চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলছেন, অনেকে মনে করে,একটা দেশে কি অস্ত্র সস্ত্র আছে, গোপন তথ্য চুরি, গোপন স্থাপনার খবর নেয়া- এই গুলো হচ্ছে গুপ্তচর বৃত্তি। উনি বলছেন, এই গুলো হলিউডি জেমস বন্ড টাইপের ধারনা। কিন্ত এর কোন বাস্তবতা নাই।

তিনি বলেছেন, গুপ্তচর বৃত্তির সর্বোচ্চ আর্ট হচ্ছে, সাবভারশান। যেইটা আল্টিমেট পারপাস, যা একটা গুলি ছোড়া ছাড়া অর্জন করা যায়। সাবভারশানের মুল কাজ গুলো বৈধ। এবং এইটা রাষ্ট্রের নিজের নাগরিকদেরকে দিয়েই অর্জন করা হয়। গুপ্তচর লাগেনা।

তিনি বলছেন, সাবভারশনের চারটা স্টেজ আছে,

১। ডিমরালাইজেশান।

এই ডিমরালাইজ করতে ১৫ থেকে ২০ বছর লাগে। কেন ২০ বছর লাগে ? তিনি বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে একটা জেনারেশানের চিন্তাকে শেপ করা যায়, তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যায়।

ডিমরালাইজেশানে থাকে, ইনফিল্ট্রেশান বা প্রোপাগান্ডা বা বিভিন্ন ভাবে, ছয়টা জিনিষকে আক্রমন করা হয়

ক। ধর্ম। ধর্মীয় ভ্যালুকে ধ্বংস করা।

খ। এডুকেশান । শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে, প্রকৃত জ্ঞানকে ধ্বংস করা, সাইন্স, ফিজিক্স,বিদেশী ভাষা ক্যামিস্ট্রি ম্যাথমেটিক্সের বদলে ইতিহাস, যুদ্ধ, হোমইকনমিক্স, যৌন শিক্ষা ইত্যাদির উপরে গুরুত্ব নিয়ে আসা।

গ। সামাজিক জীবন।
স্বাভাবিক সামাজিক জিবনকে ধ্বংস করতে রাষ্ট্রের মধ্যে আদর্শিক বিরোধ তৈরি করা। এবং এমন একটা সমাজ সৃষ্টি করা যেখানে আদর্শিক কারনে, ক্রিমিনালকে সমাজ আর ক্রিমিনাল বলবে না,ক্রিমিনালকে কিছু লোক বা সমাজের বড় একটা অংশ শ্রদ্ধা করবে।

ঘ। ক্ষমতার বিন্যাস
জনগণের ইচ্ছায় ক্ষমতা নিরধারনকে ধ্বংস করে, অস্ত্র এবং শক্তি দিয়ে ক্ষমতার আরোহণ অবরোহণের পথ তৈরি করা। আরটিফিসিয়াল ক্ষমতা তৈরি করা যে অযোগ্য নেতৃত্বকে অধিষ্ঠিত করা । যে বলে দিবে, কে ভালো কে খারাপ। সমাজ নিজে থেকে সেই নিধারন করতে পারবেনা।

ঙ। শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক,
মালিক শ্রমিক সম্পর্কে বারগেনের বা নেগশিয়াশানের জায়গা নষ্ট করে, মালিক পক্ষের পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করা। বারগেনের মাধ্যমে কম্প্রমাইজের পরিবেশ নষ্ট করে, মালিক শ্রমিক সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস এবং ঘৃণা সৃষ্টি করা।
এবং শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পেলেও, শ্রমিকরা যেন লিভিং ওয়েজ পেতে না পারে।

চ। ল এন্ড অর্ডার ।
মানুষের বিচার পাওয়ার , কনফ্লিক্ট রেজুলিউশান হওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দেয়া, যেন, মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এবং

এই কাজ গুলো করে, দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ডিমরেলাইজ করা হচ্ছে, এই ফেজের উদ্দেশ্য। বেজমেনভের মতে এই কাজ গুলো কিন্ত, গুপ্তচরেরা করেনা। এই কাজ গুলো কিন্ত দেশের নাগরিকদের হাতেই সম্পন্ন করা হয়। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

জিজেকের জোকস

[ অনুবাদকের নোটঃ

প্রিয় রিডার, ভূমিকা সাধারণত বোরিং হয়। বোরড হওয়ার ভয়ে থাকলে এইটা স্কিপ করে সরাসরি জোকে চলে যান। 

জিজেকের চিন্তার সাথে একমত না এমন লোক পাওয়া যাবে প্রচুর। অথচ জিজেকের আলাপ বোরিং এমন দাবী করার লোক  খুঁজে পাওয়াই কঠিন। কারণ জিজেক আইডিওলজি, লাকার সাইকোএনালিসিস, হেগেলিয়ান ডায়লেক্টিক্স থেকে শুরু করে যাবতীয় দুর্বোধ্য জিনিস ইলাস্ট্রেইট করে হয় পপ কালচারের অনুসঙ্গ নাহয় জোকের  সাহায্যে।  ফলে জিজেক কমেডিয়ান না হইলেও  চিন্তক হিসাবে তার কথাবার্তা ইন্ট্রেস্টিং। 


 
এমআইটি প্রেস জিজেকের রচনায় প্রাপ্ত সমস্ত জোক একত্রে ‘জিজেক’স জোকস: ডিড ইউ হিয়ার দি ওয়ান এবাউট হেগেল এন্ড নেগেশন?’  নামে বই প্রকাশ করে। রাজনৈতিক, দার্শনিক দিক ইলাস্ট্রেইট করে এমন জোকের একটা সংকলন। জোকগুলার বেশিরভাগই স্বভাবে ভালগার আর অফেন্সিভ। 

এইখানে বইটা থেকে ২০ টা জোক বাছাই করে অনুবাদ করা হইছে। বাছাই করছেন ইমরুল হাসান।

(যদি এই জোকগুলার কোনোটার কারণে অফেন্ডেড হন, অফেন্সিভ ও ভালগার জোক এইখানে আছে,  ইমরুল হাসানকে ধরেন! অবশ্য তারেও দোষ  পুরাপুরি দেওয়া যায় না। নাটের গুরু জিজেক।  আর অফেন্ডেড হওয়ার আগে মনে করায়ে দিতে চাই দুনিয়ার বেশির ভাগ জোকই ভালগার ও ট্যাবুকেদ্রিক। স্পেশালী মজার জোকসকল।)  

উনি অনুবাদক খুঁজতেছিলেন। বইটা আমার আগেই পড়া ছিলো। তাছাড়া হিউমার জিনিসটায় আমার আগ্রহের মাত্রাটা অবসেশন পর্যায়ের। অরাজি হওয়ার কিছু নাই।  

এই জোকগুলির অনুবাদ বিষয়ে কয়েকটা কথা  বলে মুখবন্ধ করি।  

হিউমার বা হাসি-তামাশা ব্যাপারটা এতই কালচার ওরিয়েন্টেড ও সাবজেক্টিভ জিনিস যে একদেশে যা ফানি লাগে অন্য দেশে তা বিরক্তিকর লাগা  স্বাভাবিক ব্যাপার। এর ফলে সবচেয়ে কঠিন  হয় জোক বা যেকোনো হিউমারাস লেখার অনুবাদের কাজ।  

ধরেন, ‘অরণ্যে রোদন’ বাগধারাটা কোন বাক্যের মধ্যে ‘অরণ্যে চোদন’ বলে ইশারা করে গেলাম। এইটা হয়তো হালকা হিউমারাস লাগবে অনেকের কাছে। তো, কেউ যদি সেই বাংলা বাক্যটার ইংরেজি করতে চায়, ‘অরণ্যে চোদন’ এক্সপ্রেশনটার ভাষান্তর কঠিন কর্ম হবে।  কারণ, বাংলাভাষীদের মতো ইংরেজিভাষীদের ‘অরণ্য রোদন’ কথাটার সাথে পরিচয় নাই, অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ নাই। অথচ যেকোনো হিউমারাস বা ফানি এক্সপ্রেশন অডিয়েন্স দ্বারা এক্সেপ্টেড হইতে ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ বা সেই জোকের শেয়ারড এ্যাজাম্পশন সম্পর্কে ধারণা না থাকলে জোকের মজা পাওয়া সম্ভব না।

এইকারণে আনিসুল হক বা কেকা ফেরদৌসীর নুডলস নিয়া   জোকগুলা বিদেশীরা শ্রেফ মজাই পাবে না,  যত ভালো অনুবাদক তার তর্জমা করুক না কেন।  হুমায়ূন আহমেদের নাটক বা উপন্যাসের অনুবাদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটবে। কাজের লোকের ‘আফা আমি বিবাহ করবো মনস্থ করেছি। ইজাজত দেন’। ধরণের বাক্যের অন্যভাষায় অনুবাদে কমিক ইফেক্ট হারায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

তবে সব জোকের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা একরকম না। যেগুলায় ভাষাগত সূক্ষ্মতা, কারিকুরি বেশি, যা পান (pun)-নির্ভর তার অনুবাদ প্রায় অসম্ভব। বাকিগুলা যা মূলত ক্ষুদ্র গল্প, যাদের কাঠামোগত কন্ট্রাডিকশন স্পষ্ট,  সেইগুলার চলনসই অনুবাদ সম্ভব এবং অনূদিত জোকে মজা পাওয়াও সম্ভব।

কে এম রাকিব ]
………………………………………………

জিজেকেরই এক ওয়াজে এইরকমের একটা ঘটনা আছিলো যে, উনার যেই ক্রিটিক সে ফ্রাঞ্জ ফাঁনোরে মেনশন কইরা জিজেকের সমালোচনা করছে, তো, জিজেক চেইতা গিয়া কইতেছে, আরে ফাঁনো তো আমার হিরো, তুই ফাঁনোরে নিয়া কথা কওয়ার কেডা! তো, জোকসের ক্ষেত্রেও এইটা হয়, যেই জোক আপনি কইলেন, আপনিই সেইটার মালিক হইতে পারলেন! কিন্তু এইরকম না যে, জোকগুলির কোন মিনিং নাই, কিন্তু মিনিংগুলিরে ইউজ করা যায়, মোল্ড করা যায়, এক একটা কনটেক্সটে এক একরকমভাবে। তো, জিজেক যেই কনটেক্সটে ইউজ করছেন, সেইগুলি মোস্টলি মিসিংই, এইখানে। বরং উল্টাভাবে, উনার জোকস কম্পাইল করলে কোনকিছু স্পষ্ট হয় কিনা উনার টেক্সটের বা টেস্টের সেইটার একটা বিচার হইতে পারে হয়তো। কিন্তু এমনিতে জোকস হিসাবে পড়াটাই মেবি বেটার।

জোকস বাছাই করার সময় তেমন কোন প্রায়োরিটি ছিলো না, সাইজে ছোট হইলে ভালো, এইরকমটাই ভাবছি। রাকিব তার অনুবাদে যেহেতু এডিট করার পারমিশন দিছেন আমি এই সুযোগটা এনাফ নেয়ার ট্রাই করছি। মানে, এই অনুবাদ রাকিবই করছেন, আমি কিছু শব্দের জায়গায় উনারে আরো ফ্রিডম নেয়ার লাইগা ফুঁসলাইছি আর কিছু জায়গায় নিজেই করে দিছি। আর বইয়ে  জোকগুলির আলাদা আলাদা কোন হেডলাইন নাই, এই নাম দেয়ার মাতবরিটাও আমি করছি। তো, অনুবাদ অনুবাদ-ই, এইখানে কোন অরজিনিলাটি খুঁজতে যাওয়াটা একটা আজাইরা জিনিস বইলাই মনেহয়, মোস্টলি।

ও, জিজেক বা যে কেউই যে খালি ইন্টারেস্টিং হইতে চান, এইটা একটা একস্ট্রিম মনোটনিই মনেহয় আমার কাছে। বি বোরিং অ্যান্ড রিড সাম জোকস! :) 

ই.হা.
………………………………………………

মুর্গিটা কি জানে

এক লোক ভাবতো সে একটা দানার ভিত্রের শাঁস। তো,  মানসিক হাসপাতালে নিয়া গেলে  ডাক্তার তারে বুঝাইলো যে,  সে শস্যদানার শাঁস না, মানুষ।  যা-ই হোক, সে ভালো হয়া গেলে (যখন  বুঝলো সে শস্যদানার ভিত্রের শাঁস না, একজন মানুষ) তারে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হইলো।  কিন্তু বাইর হওয়ার সাথে সাথে ডরে সে কাঁপতে কাঁপতে ফিরা আইলো, দরজার বাইরে একটা মুর্গি খাড়ায়ে ছিলো, তার ভয় অইটা তারে খায়া ফেলবে। ডাক্তার কইলো, ‘দেখেন, আপনি ভালো কইরাই জানেন যে আপনি দানার ভিত্রের কোনো শাঁস না। আপনি তো একজন মানুষ’।  লোকটা কইলো, ‘অবশ্যই আমি জানি।  কিন্তু মুর্গিটা কি জানে?’

 

লাল কালি 

আগের দিনের পূর্ব জার্মানিতে এই জোকটা চালু ছিলো। এক জার্মান সাইবেরিয়াতে একটা চাকরি পাইছে।  সে জানতো তার সব চিঠি সেন্সরের  লোকজন দেখবো। সে তার দোস্তরে কইলো, আসো  আমরা একটা কোড ঠিক করি, যদি নীল কালিতে লেখি তাইলে সত্যি, আর যদি লাল  কালিতে লেখি তাইলে বুঝবি মিথ্যা। ‘ এক মাস পরে  তার দোস্ত চিঠি পাইলো, নীল কালিতে লেখা: এইখানে সবকিছু খুবই ভালো, দোকান সবসময় জিনিসপত্রে ভরা থাকে, অনেক খাবার-দাবার আছে, বিশাল বড় এপার্টমেন্ট আর হিটিং-এর ব্যবস্থা আছে, মুভি-থিয়েটারে ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখায়, অনেক সুন্দরী মেয়ে বইসা রইছে প্রেম করার লাইগা, খালি একটাই সমস্যা, লাল কালি কিনতে পাওয়া যায় না।

 

কথা ঘুরাইয়ো না

পুরানা একটা জোক আছে যেইখানে এক লোক নরমাল টাইমের একটু আগে বাসায় ফিরা দেখে তার ওয়াইফ অন্য এক লোকের সাথে ন্যাংটা হয়া শুইয়া আছে। ওয়াইফ তো পুরাই অবাক। সে হাসবেন্ডরে কইলো,  ‘তুমি এতো আগে ফিরা আসছো ক্যান?’

লোকটা ক্ষেইপা গেলো, ‘তুমি আরেক ব্যাটার লগে বিছনায় করতেছোটা কী?’

‘আমি তোমারে আগে জিগাইছি, কথা অন্যদিকে ঘুরানের চেষ্টা কইরো না’।

 

আই অ্যাম নাথিং

পুরানা একটা ইহুদি জোক আছে, দেরিদার পছন্দের, যেইটায় সিনাগগে  খোদার কাছে কয়েকজন ইহুদি নিজেদের তুচ্ছতা  প্রকাশ্যে স্বীকার করতেছিলো।

প্রথমে একজন র‍্যাবাই দাড়ায়ে কইলো, ‘হে খোদা,  জানি আমি অধমের অধম। আই এ্যাম নাথিং।’
র‍্যাবাইয়ের বলা শেষ হইলে একজন পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ী  দাঁড়ায়ে,  বুক চাপড়ায়ে কাইন্দা কাইন্দা কইলো, হে খোদা আমি অপদার্থ, দুনিয়াবি ধনসম্পদের মোহে কাতর, আই এ্যাম নাথিং’।

সবশেষে একজন বেচারা সাধারণ ইহুদি খাড়ায়ে বললো, ‘আই এ্যাম নাথিং’।

তখন ব্যবসায়ীটা র‍্যাবাইরে ঠোনা মাইরা কইলো: মালটা  কে যে বলে সেও  নাথিং!

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

ফিকশন: দেনা পাওনা (পার্ট ১)

ক.

এর পরে বাদল যাবে বেডরুমে; পিসিটা আগেই অন কইরা আসছে। বাট তার আগে মুনার মাস্টারের লগে কিছু আলাপ করা দরকার। ড্রয়িং রুমে বইছে ওরা, নিজের রুমেই বইতে চাইছিল মুনা, বাট বাদল আর চম্পা আগেই ঠিক কইরা রাখছিল ড্রইংরুমের ব্যাপারটা। একটু ড্যাম-শিট করছিল, নেট আওয়ার আধা ঘন্টা বাড়াইয়া দিতেই গোমড়া মুখে হইলেও মুনা কইলো ‘ওকে’। বাদল বুঝলো, এন্টিভাইরাসের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল কাম করতেছে ভালোই।

চম্পা, মানে শিরিন বাথরুমে, বের হবে যে কোন সময়ে। শিরিনরে শিরিন ডাকা যাইতেছে না আর; বাদল একদিন শিরিন ডাকতেই মুনার মা আর কামের মাইয়া–দুই জনেই হাজির! তার পর থেকে শিরিন হইয়া গেল চম্পা, কইলো, ভাতার চেঞ্জ করতে পারি না পারি, নামটা পাল্টাই এই সুযোগে! কবে যে আবার নিজের নামের ড্রাইভার আইসা পড়ে, চিন্তায় আছে বাদল।

এনিওয়ে, সেই শিরিন থাকতেই চম্পা এমন, বাথরুমে ঢোকে আর বাইর হয়, কেমনে যে কি করে আল্লা মালুম! দুয়েকজন কলিগের বউ শুনছি বেটার এই ব্যাপারে, বউ বাথরুমে থাকার টাইমে তারা একটু ফূর্তি-ফার্তিও করতে পারে চাইলে।

চম্পা বের হবার আগেই মুনার মাস্টারের লগে আলাপটা সাইরা ফেলতে হবে বাদলের; পিসিটা ওপেন হইয়া গেছে মনে হয় এতখনে, এসিটাও ছাইড়া আসছে বাদল। এসি যদিও লাগে না এখন, শীত আসি আসি করতেছে। তবু এসি ছাড়ার সুবিধা আছে কিছু, দরজা লাগানোটা তাইলে অড লাগে না আর; নাইলে এই সন্ধ্যার সময়ে দুয়ার দেওয়াটা একটু কেমন কেমন লাগারই কথা। চম্পা অবশ্য অল্টারনেটিভ বুদ্ধিতে চলে; সে দুয়ারে অটো-লকের সিস্টেম বানাইয়া নিছে; তবে না লাগলে দুয়ার খোলাই থাকে, পাল্লার নিচে একটা ঠেকনা দেওয়া থাকে। তাই এসি ছাড়াই ভাল।

ড্রইংরুমে ঢুইকা বাদল কইলো,

– স্যরি, ডিস্টার্ব করি একটু।

মুনা আর ওর মাস্টার এক লগেই চাইলো বাদলের দিকে। অবাক হইলো বাদল; আরে, মুনা আর ওর মাস্টারের চেহারায় এতো মিল! পরেই বুঝলো, নাহ্, মিল বেশি নাই; দুইজনেই একটু নাখোশ হইছে, প্রায় সমান; তাই এক রকম লাগতেছিল চেহারা। মুনার মাস্টার অবশ্য লগে লগেই লুকাইয়া ফেললো তার মন, হাসলো-মোলায়েম, কইলো,

– জ্বি বলেন।

– কী যেন নাম আপনের?

– অপরা।

– হ হ, অপরা। তো কোনটা দিয়া শুরু করলেন? পয়লা দিন না আজকে আপনের?

– হ, আজ পয়লা; বাংলা দিয়াই শুরু করলাম।

– আচ্ছা, গুড। শোনেন অপরা, আপনের পড়ানোটা ম্যাক্সিমাইজ করতে চাই আমি, মানে, একটা সিস্টেম করছি; আপনে যখন নাই তখনো আপনে পড়াইতেছেন–এমন একটা সিস্টেম। আই মিন, আপনের এই পড়ানোটারে ভিডিও টিউটোরিয়াল বানাইয়া ফেলতে চাইছি।

উপরে দেখেন, সিসি-ক্যাম, টেবিলে আপনাদের দুইজনের কাছাকাছি মাইক্রোফোন লাগানো আছে, টেবিলে জুম করা থাকবে ক্যামেরা, খাতা বা বই পড়ার মতো ক্লিয়ার হবে পিকচার!

অপরার নাখুশি আরো বাড়লো মনে হয়, পাত্তা দিলো না বাদল, হাসা মুখে চাইয়া থাকলো অপরার দিকে। একটু পরেই অবশ্য নাখোশ মনে হইলো না আর,  হাসলো অপরাও। কইলো, আমারে একটা কপি দিয়েন, ব্যবসার সম্ভাবনা দেখতেছি :)। আলাপ আর আগাইলো না বাদল।

মুনাকে মনে হইলো, আগাগোড়াই নাখোশ! প্যারেন্টিং জিনিসটা খারাপ না, ভাবলো বাদল। এনগেজড থাকতে হয়, অকুপাই কইরা রাখে মাইয়া-পোলা, বাট অনেক পাওয়ারফুল লাগে নিজেরে। অপরার কাছে বিদায় নিলো বাদল। কইলো, ঠিক আছে পড়ান, কথা হবে। অপরাও হাসলো আবার।

“ড্রইংরুম থেকে বের হইয়া বাদল দেখলো, টিভির সামনে বসা শিরিন। টিভিতে কী দেখতেছে খেয়াল না কইরা শিরিনকে ডাকলো,

– শিরিন।

অর্ধেক মাথা ঘুরাইলো শিরিন, বেখেয়ালে মনে হয়। তারপর মাথা সোজা কইরা বসা থিকা খাড়াইলো, লগে পুরা বডি ঘুরাইয়া চাইলো বাদলের দিকে, কইলো,

– জ্বী, মামা।

– মুনার ম্যাডামরে চা-কফি দাও, লগে বিস্কিট বা মিস্টি যা আছে দাও।

-পাস্তা বানাইছি মামা, দিমু?

– আচ্ছা দাও।

– জ্বী, দিতেছি।

– আমাদেরো দাও, একটু পরে কফি। না, কফিও এক লগেই দাও, হট পটে দাও। আর দুইটা মগ।

– জ্বী, মামা।

ভিডিও টিউটোরিয়াল জিনিসটা বাদলের পছন্দ। আনারস দিয়া ওয়াইন বানাইছে বাদল, ফোনের ভাঙ্গা টাচস্কিন বদলাইতে শিখছে নিজে নিজে– এগুলি ভিডিও টিউটোরিয়ালের দৌলত। চম্পাও ভিডিও টিউটোরিয়ালের ফ্যান। ছোট কইরা ‘ভিটি’ কয় চম্পা-বাদল। জিন্দেগীর বহু সেক্টরেই হেল্প করতে পারে এই জিনিস।

বেডরুমে ঢুইকা গেল বাদল; ভাল একটা ওয়েবসাইট পাইছে সে, এইখানে সব ভিটি ফ্রি। তারচে বড় ব্যাপার পুরাটা থাকে–ভিটি’র অনেক ফ্রি সাইট থাকলেও পুরাটা কমই পাওয়া যায়, ভিডিও কোয়ালিটিও খারাপ বেশিরভাগ সাইটে। টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করে না বাদল, রিস্কি; ফাইলগুলি পিসিতে থাইকা যায়, হিস্ট্রি-টেম্প ফাইল থাকে, ভিডিও প্লেয়ারের প্লেলিস্টেও এন্ট্রি থাকে। সবগুলি ক্লিয়ার করায় টাইম লাগে,  দুয়েকটা মিসও হইতে পারে। ওদিকে, ক্রাইম হিসাবে টরেন্ট-সিডিং ধরা পইড়া যাবার মতোই। তারচে নেট ব্রাউজারে ‘ক্লিন অন এক্সিট’ ফিচার অন রাখলেই মামলা খতম, বা ইনকগনিটো মোডে ব্রাউজ করা। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য