Main menu

ফররুখ আহমদের ইন্টারভিউ: সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আমার পেশা নয় (১৯৬৮)

কপিরাইটের ব্যাপারটা নিয়া সন্দেহের ভিতরই থাকি আমরা, ১৯৬৮ সালে বই পত্রিকার জুন সংখ্যায় ফররুখ আহমদের এই ইন্টারভিউটা ছাপা হইছিলো। তো, বই পত্রিকার বা ফররুখ আহমদের টেক্সটের মালিকানা দাবি করতে পারেন, এইরকম কারো সাথে আমাদের যোগাযোগ নাই বইলা আগে থিকাই মাফ চাইয়া রাখতে হইতেছে। কেউ যে নাই, এইরকম মনেহয় না, বরং আমরা আসলে যোগাযোগ করতে পারতেছি না। এই কমিউনিকেশনের জায়গাটা ডেসরাপটেড হইছে আসলে।…

পরে এই ইন্টারভিউটা আবদুল মান্নান সৈয়দ ২০০৯ সালে উনার “ফররুখ আহমদ জীবন ও সাহিত্য“ বইয়ে রিপ্রিন্ট করছেন। মেবি ফররুখ আহমদের একমাত্র ইন্টারভিউ এইটা, যা এখনো এভেইলেবল। তো, উনার ঘাড় ত্যাড়ামিটা ভালোই টের পাওয়া যায়, এই আলাপে। ট্রাডিশন্যাল মিথগুলি নিয়াই তামাশা করছেন ফররুখ। লেখক প্রকাশকের জায়গায় যখন একটা ব্যালেন্সিংয়ের ট্রাই করতেছিলেন ইন্টারভিউয়ার তখন ফররুখ এক কাহিনি শোনান, ইরানে এক দরবেশ আছিলেন, যিনি আধমণ রুটি খাইয়া সারারাত ইবাদত বন্দেগি করতেন। তো, পাবলিশারদের আধমণ রুটির একটু আধটুও যদি রাইটাররা পাইতো, তাইলেও হইতো… এইরকম টাইপ আরেকটা কাহিনি আছে, সম্ভবত চীনদেশে এক রাজা এক আর্টিস্টরে ডাইকা পাঠাইলেন সুন্দর একটা ছবি আঁইকা দেয়ার লাইগা, তো আটিস্ট কইলো, তার ছবি আঁকতে পাঁচ বছর টাইম লাগবো, আর এই পাঁচ বছর তার থাকার থাকার লাইগা সুন্দর একটা বাড়ি, ৪/৫ জন চাকর-বাকর, ভালো খাবার-দাবার আর জামা-কাপড় লাগবো। তো, রাজা প্রায়ই খোঁজ-খবর নেন, আর্টিস্ট কিছুই করে না, পাঁচ বছর পরে রাজা তারে ধরলেন, ছবি কই? তখন আর্টিস্ট একটা কাগজ নিয়া দুই-তিন পোঁচ দিয়া একটা ছবি আঁইকা দিলো, যেইটা দেইখা সবাই তব্দা লাইগা গেলো! মানে, কবিতা লেখা বা আর্ট করা তো কোন কম্পিটিশনের ব্যাপার না! একটা নরমাল সোশ্যাল লাইফ তো তার দরকার, চলতে-ফিরতে পারার মতোন! তারে গরিব থাকতেই হবে – এর চে বাজে মিথ তো আর কিছু হইতে পারে না! কিন্তু রাইটারের বাঁইচা থাকাটা, অ্যাজ অ্যা রাইটার সারভাইব করাটা খুবই টাফ একটা ব্যাপার হয়া উঠতেছে, সোসাইটিতে। 

ফররুখের পারসোনাল লাইফের সেই ক্রাইসিসগুলি কিছুটা টের পাওয়া যায়, উনার এই ইন্টারভিউর কথা-বার্তায়। 

ই. হা. 
……………………………………………………………………………………….

 

ইন্টারভিউয়ার: দীর্ঘকাল যাবত আপনি কবিতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। আপনার সদ্য পুরস্কার পাওয়া হাতেম তা’য়ী কাব্যও এইরকম পরীক্ষার ফল বলে সুধীমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। আপনি নিশ্চয় খুব পড়াশোনা করেন। তাই না?

ফররুখ: আমি যদি বলি যে, পড়াশোনা চিন্তা-ভাবনার পাট এখান থেকে প্রায় উঠেই গেছে, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি বিস্মিত হবেন।

ইন্টারভিউয়ার:  তা হব বৈকি!

ফররুখ: কথাটা বিস্ময়কর হলেও মর্মান্তিকভাবে সত্য।

ইন্টারভিউয়ার: আপনি বড় অদ্ভুত কথা বলছেন দেখি।

ফররুখ: অদ্ভুত কথা নয়। কাজের পরিচয় ফল দেখেই পাওয়া যায়।

ইন্টারভিউয়ার: কি রকম?

ফররুখ: দুনিয়ার আরো দশটা উন্নত দেশের চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক অথবা শিক্ষিত সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক আর শিক্ষিত সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট অবদানের তুলনা করে দেখুন, খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে, আমাদের পড়াশোনার বহর আর বিদ্যার দৌড় কতটুকু। আমাদের চিন্তাভাবনার পরিধি কতটুকু সে কথা বুঝতেও দেরি হবে না।

ইন্টারভিউয়ার: পড়াশোনার সঙ্গে আপনি কেন বারবার চিন্তাভাবনার কথা বলছেন?

ফররুখ: আমি স্বাধীন চিন্তার কথা বলছি।

ইন্টারভিউয়ার: কেন?

ফররুখ: স্বাধীন চিন্তা ভাবনার সঙ্গে গ্রহণ-বর্জন, হজম, বদহজমের যোগ আছে বলেই।

ইন্টারভিউয়ার: বুঝতে পারছি। কিন্তু আপনি আমাদের পড়াশোনা সর্ম্পকে যে-মন্তব্য করেছেন তাতে সায় দিতে পারছি না।

ফররুখ: কেন?

ইন্টারভিউয়ার: অনেকেই আমাকে একথা পরিস্কারভাবে বলেছেন যে না পড়লে তাদের ঘুম হয় না। এ কথা কি মিথ্যে?

ফররুখ: ডাহা ভাওতাবাজি। ঘুমানোর জন্য কেউ পড়াশোনা করে না। সত্যিকারের জ্ঞানান্বেষী পাঠক তো নয়-ই।

ইন্টারভিউয়ার: তবে কি মানুষ না ঘুমনোর জন্য পড়াশোনা করে?

ফররুখ: যে মানুষ পড়শোনা করে সে শুধু নিজেই জেগে থাকে না, অন্যকেও জাগায়, তাতে জাতি জাগ্রত হয়ে ওঠে। যারা ঘুমানোর জন্য পড়াশোনা করে তারা পাঠকই নয়।

ইন্টারভিউয়ার: তাহলে আপনি আমাদের পাঠক সম্প্রদায়কে সত্যিকারের পড়ুয়া মনে করেন না?

ফররুখ: যারা ঘুমানোর জন্য পড়ে তাদেরকে আমি পাঠক মনে করি না।

ইন্টারভিউয়ার: আর লেখক সম্প্রদায়কে?

ফররুখ: যে-সব লেখকের স্বকীয়তা আছে, যাদের চিন্তা-ভাবনায়, প্রকাশভঙ্গিতে মৌলিকতা আছে তাদেরকে আমি সত্যিকারের লেখক বলে মনে করি।

ইন্টারভিউয়ার: আমাদের দেশে কি এরকম লেখকের সংখ্যা বেশি?

ফররুখ: কোনো দেশেই এরকম লেখকের সংখ্যা বেশি নয়। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

ও পোলা, ও পোলা রে–ও মাইয়া, ও মাইয়া রে

‘আমার বলার কিছু ছিল না, চেয়ে চেয়ে দেখলাম…’–হৈমন্তি শুক্লাদের কওয়ার কিছু কেন থাকে না? এনারা তো ‘বিশ্ব সাহিত্য’র লোক, কত কত দেশের কবিতা বা কেচ্ছা-কাহিনি খাইছেন এনারা, বানাইছেন কত কোটি কোটি শব্দের আর্ট-কালচার, কেন তবু এনারা কইবার কিছু পাইতেছেন না!

উল্টাদিকে, আরমান আলিফ বা মমতাজরা একই টাইপের ঘটনায় কত কি কইতেছেন! মমতাজদের বুকটা ফাইট্টা যায়, আলিফ কইতেছেন–ও মাইয়া, তুই অপরাধী রে!

হৈমন্তি শুক্লাদের ছাইড়া যাওয়া নাগরেরা নাগালের বাইরের কোন ‘ভালো’, ইনকম্প্যাটিবল বেটার; আলিফ বা মমতাজদের ছাইড়া যাওয়া নাগরেরা বেঈমান, পাপী, নেমকহারাম; খারাপ লোক এরা, তাই ভালো ছাইড়া গেছে!

হৈমন্তিরা যেন নেচারাল সিলেকশনে বাদ পড়তেছেন, বেটারের দিকে যাইতেছে তাগো নাগরেরা, সোনাবন্ধুর ছাইড়া যাওয়ায় হৈমন্তিরা স্যাড, নিজেদের ইনফিরিয়রিটি মালুম হইলো বইলা ডিপ্রেসড, কম্পিটিশনে ডাব্বা মারছেন এনারা, ‘বিশ্ব সাহিত্য’ তাগো মুখে বুলি দিতে পারতেছে না! আহা!

কিন্তু ‘ও মাইয়া, তুই অপরাধী রে…’ কইতেছেন আলিফ, টুম্পা খান নামে এক মাইয়া জবাব দিছেন, ‘ও পোলা, তুই অপরাধী রে…’। হৈমন্তিদের তুলনায় টুম্পা বা আলিফ বা মমতাজরা ভাবে পুরাই উল্টা! গানের কথার বাংলায় নজর দিলে দেখবেন, হৈমন্তিরা কোলকাতাই বাংলার কালচার্ড মিডল ক্লাস ধনী, টুম্পা-আলিফরা আম জনতার কমন বাংলার কমন গ্রাউন্ডের লোক, ক্লাসের সীমায় বন্দী নাই।

দেখা যাইতেছে, টুম্পাদের ইনফিরিয়রিটি নাই, হৈমন্তিদের মতো! এদের বিরহ আছে, দুঃখ আছে, ডিপ্রেশন নাই! আম বাংলায় বৈরাগিরও ডিপ্রেশন নাই, বরং মুক্ত আজাদ! পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীল সম্বন্ধে আলোচনা।। শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী ।।

১৯২৮ সালে (মানে, ৯০ বছর আগে) নীরদ সি চৌধুরী এই লেখাটা ছাপাইছিলেন, শনিবারের চিঠি নামের পত্রিকায়। ক্ল্যাসিক শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী বাংলা-সাহিত্যে গ্রাম্য অশ্লীলতা করার লাইগা আধুনিক কবি-সাহিত্যিকদেরকে বকা-ঝকা করছিলেন। উনার বলার পয়েন্টগুলি সামারি করলে অনেকটা এইরকম হইতে পারে –

১. অশ্লীলতা নতুন কোন জিনিস না। লাইফে তো এইটা আছেই আর আর্টেও অনেকদিন ধইরাই এইটা আছে।

২. অশ্লীলতা আর দুর্নীতি এক জিনিস না। দুর্নীতি হইলো ইথিক্সের মামলা। অশ্লীলতা হইলো এসথেটিকসের জিনিস, আরো কোর ব্যাপার।

৩. অশ্লীলতা করাটা খারাপ কিছু না, কিন্তু করতে পারতে হবে। বাস্তবে যেইটা ঘটে সেইটারে বলতে পারাটাই আর্ট না।

৪. আর্ট হইতেছে এক ধরণের এক ধরণের ট্রান্সফর্মেশন, রস সৃষ্টি, সত্যি কথা বলার কোন মিডিয়াম না। মানে, সত্যি কথা বলাটা আর্টের উদ্দেশ্য না।

৫. আমাদের আধুনিক লেখকরা (মানে ওই সময়ের লেখকরা) আর্ট যেহেতু করতে পারেন না, উনাদের অশ্লীলতাও হয় না।

আমার ধারণা, উনার এই পয়েন্টগুলিতে এতো বছর পরে আইসা এখনকার ‘আধুনিক’রা কোন না কোনভাবে সাবস্ক্রাইব করেন। যেই কারণে, আমাদের ঢাকার ‘আধুনিক’ সমাজে (এখনো সোসাইটি শব্দটা এনাফ বাংলা হইতে পারে নাই, বড়লোকি হিংসা রইয়া গেছে এর শরীরে) জেসপার নোয়েলের ‘লাভ’ সিনেমা নিয়া ‘অশ্লীল’ কিনা সেইটা নিয়া একটু কনফিউজড থাকলেও, পাওলি দামের সেক্সিনেসরে কোনভাবে ‘অশ্লীলতা’ বইলা মনে হইতে পারে না, কিন্তু মুনমুন বা মূয়রী’র বাংলাসিনেমা যে অবশ্যই ‘অশ্লীল’ এই ব্যাপারে কোন ডাউট থাকার কথা না। একটা ব্যাপার হইতে পারে যে, অ্যাজ অ্যা প্রসেস, ইন আর্ট, উই অ্যাকসেপ্ট ইন্টেলেকচুয়ালিটি থ্রু ডিনায়াল। খাজুরাহো বলেন আর হিন্দু বা গ্রীক মিথ বলেন বা লাস্ট সেঞ্চুরির ডি.এইচ.লরেন্সও তাদের নিজেদের টাইমে এতোটা অ্যাকসেপ্টেট হইতে পারেন নাই। টাইম লাগছে। শ্রীনীরদচন্দ্রের আর্টের এলিটিসজমও না মানতে মানতে এখন একভাবে অ্যাবরর্জভড হয়া গেছে, আমাদের আর্ট ভাবনার ভিতরে।

কারণ, আর্টের জায়গাটাতে ক্লাসের ব্যাপারটা নিয়া আমরা এখনো মেবি ক্রিটিক্যাল হইতে রাজি না। ‘ছোটলোকদের’ আর যা-ই হোক, আর্ট তো হয় না! মাস পিপল যদি বুইঝাই ফেলতে পারে, রস নিতে পারে তাইলে সেইটা আর আর্ট হইলো কেমনে! বা উল্টাটাও, মাস পিপল যেইটাতে রস পায়, আমিও যদি সেইটাতেই আর্টের রস পাইতে থাকি তাইলে সেইটা আর্ট হইতে পারে কিনা? মানে, অশ্লীলতার আলাপটা কোনভাবেই আর্টের আলাপটারে বাদ দিয়া আসতে পারে না।

শ্রীনীরদচন্দ্র অশ্লীলতার বিপক্ষে না, বরং আর্ট করার পক্ষে। আমাদের ‘আধুনিকদের’ অবস্থাও তার চাইতে আলাদা কিছু তো না! যে, আমরা অশ্লীলতা করতে চাই, কিন্তু হয় না। কিন্তু এই হওয়া বা না-হওয়াটারে কোন পাল্লা দিয়া আমরা মাপতে চাইতেছি, সেই জায়গাটাতে কনসানট্রেট করতে পারাটা মেবি বেটার ফোকাসের জায়গা হইতে পারে। আর্টে অশ্লীলতা জায়েজ কি না-জায়েজ এইটা কখনোই কোশ্চেন না, কোশ্চেনটা সবসময়ই এইটা যে, কোনটারে আর্ট বইলা মাইনা নিতে আমরা রাজি অথবা রাজি না।

তো, উনার এই পুরান লেখাটার সিগনিফেন্স মেবি এইটুকই যে, অশ্লীলতার প্রশ্নটারে সার্টেন ওয়ে’তে যে ডিল কইরা আসা হইতেছে অনেকদিন ধইরাই, মেইন কোশ্চেনটারে ডিল না করার ভিতর দিয়া, সেইটা আবার নতুন কইরা চোখে পড়তে পারে।

ই.হা.

…………………………………………………………………………….


সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীল সম্বন্ধে আলোচনা

(শনিবারের চিঠি, ১৩৩৪, চৈত্র;ইং ১৯২৮সন)

॥১॥

“The thing that hath been, it is that which shall be; and that which is done is that which shall be done; and there is now new thing under the sun.

“Is there anything where of it may be said.  see, this is new? It hath been already old time, which was before us.“

Ecclesiastes. Ch I, vv.9-10.

আজ আর আধুনিক বাঙালী সাহিত্যিকরা কিছু ন’ন একথা বলিবার জো নাই। তাঁহারা সাহিত্যের ক্ষেত্রে আনকোরা নতুন একটা তথ্যের আবিস্কার করিয়া ফেলিয়াছেন। এই নবাষ্কিৃত সত্যের তুলনায় আইনস্টানের বৈজ্ঞানিক গবেষণাও অতি পুরাতন কথার চর্বিত-চর্বণ মাত্র। বিদ্রোহপন্থীরা বলেন, সাহিত্য অশ্লীলতার স্থান আছে। তাঁহাদের প্রবন্ধাদি হইতে আর জানিতে পারিলাম, স্বয়ং কালিদাস নাকি তাঁহার কাব্যে সম্ভোগের বর্ণনা করিয়াছেন, এমন কি সেক্সপীয়রও নাকি সার টোবি বেলচের মারফৎ বলিয়াছেন- রুচিবাগীশেরা যাহাই বলুক মদ ও মেয়েমানুষ পৃথিবীতে বরাবরই ছিল, বরাবরই আছে, বরাবরই থাকিবে। এই আবিষ্কারের তরুন সাহিত্যকদের পৃষ্ঠপোষকমহলে ধণ্য ধন্য পড়িয়া গিয়াছে। কেহ তরুন বিপ্লববাদীদের গবেষণার প্রশংসা করিতেছেন, কেহ তাহাদের নব নব উন্মেষশালিনী বুদ্ধি ও মনীষার পরিচয় পাইয়া স্তম্ভিত হইয়া গিয়াছেন, কে বা তাঁহাদের স্পষ্টবাদিতা, সাহস ও সত্যনিষ্ঠা দেখিয়া অভিভূত হইয়া পড়িয়াছেন।

আজ আমার মুক্তকণ্ঠে বলিতে পারি, জননী বঙ্গভূমি। আর তোমার কিসের দুঃখ মা! তোমার সন্তানের তপস্যায় আজ দেশে শ্লীলের, নীতির, ধর্মের-ভূতের ভগবানের, ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্মে’র মোহ ঘুচিল।

“বিঘ্ন বিপদ দুঃখদহন তুচ্ছ করিল যারা
মৃত্যুগহন পার হইল টুটিল মোহকরা
দিন আগত ওই, ভারত তবু কই”

ভারত তবু কই? ভারত তবু কই, অন্তত বাংলাদেশে তবু কই বলিয়া আক্ষেপ করিবার অধিকার আর আমাদের নেই। বাঙালীর ছেলেও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিতে জানে। সে মৌলিক গবেষণা করিয়া প্রমান করিয়া দিয়েছে সাহিত্য অশ্লীলের স্থান আছে, কালিদাসে অশ্লীলতা আছে !!! আপনারা সকলে হাততালি দিন।

কি শুভ মুহুর্তেই পৃথিবীতে আসিয়াছিলাম। আজ বাঁচিয়া আছি বলিয়াই ত বাংলা সাহিত্য নবীনের, তরুণের, বিদ্রেহের, অশ্লীলের অভিষেক দেখিতে পাইলাম।

“Biss was in that dawn to be alive,
But to be young was very heaven!”

বয়সে অথবা বুদ্ধিতে শিশু হইবার একটা মস্ত বড় সুবিধা এই যে তখন আদেখলেপনা করিতে কোন লজ্জা বা সঙ্কোচ বোধ হয়না। সেই বয়সে ঝাড়ের তিনকোনা কাচ হইতে আরম্ভ করিয়া কুমারসম্ভাবের অষ্টম সর্গে হরগৌরীর মিলনের বর্ণনা পর্যন্ত যাহা-কিছু একটা দেখিয়া হাঁ হইয়া যাইবার একটা অপরসীম, অফুরন্ত, দুর্নিবার ক্ষমতা থাকে। পৃথিবীতে যতই দিন কাটে, যতই অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হইয়া উঠে, ততই অবাক হইয়া যাইবার ক্ষমতাটাও কমিয়া আসে, ততই রাজা সলোমানের মত মনে হয়, হায়! চিরতরুনী পৃথিবীতে চিরবৃদ্ধায় রূপান্তরিত করাই যদি মনের পরিনতির, জ্ঞানের অভিজ্ঞতার ফল হয় তবে এমন জ্ঞানের, এমন অভিজ্ঞতার, এমন মানসিক পরিনতির কি প্রয়োজন ছিল? জ্ঞান যে দুঃখের হেতু। আর এই জগৎ-Vanity of Vanities, all is Vanity!

বৃদ্ধ হিন্দু-সামজেরও এই মত। কিন্তু সাহিত্যিক পূর্বাশার কোলে অশ্লীল ঊষার প্রথমও সলজ্জ রক্তরাগ ফুটিয়া উঠিয়াছে দেখিয়া যাহার পাখীর মত আনন্দকাকলী করিয়া নতুন দিনের আহবান করিতেছেন, তাহাদের উৎসাহ দেখিায় মনে হইতেছে এতদিনে বুঝি হিন্দু সমাজের বৃদ্ধ অপবাদ ঘুচিতে চলিল। অলঙ্কার ও কামশাস্ত্রের নির্দেশমত হাজার বৎসর ধরিয়া কাব্যের পর কাব্য শত শত শ্লোকে নরনারীর অশ্লীলতার নেশা লাগিয়া উঠিতেছিল না। আজ কি সে নিজের জরা আর কাহারও ঘাড়ে চাপাইয়া যযাতির মত যৌবন ও ভোগের কামনা ফিরিয়া পাইল, না সে মরিয়াছে? চৌর-পঞ্চাশৎ, অমরুশতক, শৃঙ্গরতশতকের নির্জলা ব্যান্ডিতে যাহার নেশা হইত না, সে আজ এক পয়সার বিড়ি খাইয়া নেশা করি বলিয়া বড়াই করিয়া বেড়াইতেছে, এ কথাটা তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। বৃদ্ধ হিন্দু সমাজ আর বাঁচিয়া নাই। সে পাড় মাতাল মরিয়াছে। তাহারই পোশাক পরিয়া এক অর্বাচীন ছোকরা বাপের হুকায় চুরি করিয়া এক টান দিয়াই ঘুরিয়া পড়িয়াছে। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য